সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

মরতে বসেছে সুনামগঞ্জের শতাধিক নদী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৪০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫ ৯২ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সুনামগঞ্জ জেলায় ছোট-বড় ১০৬টি নদী রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও পলি ভরাটে প্রায় সব নদীই কম-বেশি ভরাট হয়েছে। পলি ভরাটে প্রায় মৃত রূপ ধারণ করেছে পুরাতন সুরমা নদী। তবে নদী রক্ষায় এরইমধ্যে নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

শুধু পুরাতন সুরমা নয়, একই অবস্থা জেলার ১০৬টি নদীর। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের ১২০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত জাদুকাটা, রক্তি, বৌলাই ও পাটলাই নদীতে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বালিমাটি ও পলি জমে নদী ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ১৩৬ কিলোমিটার নৌপথজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম নাব্য সংকট। এতে আটকা পড়ে আছে শতাধিক মালবাহী বাল্কহেড।

নদী তীরবর্তী বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, এক সময় জেলার এই নদীপথে জাহাজ, লঞ্চ ও বড় বড় নৌকা চলাচল করত। নদীতে মাছ ধরা যেত। পাশাপাশি নদী কেন্দ্রিক ব্যবসাও ছিল জমজমাট। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পলি ভরাটের ফলে নদীগুলো মৃত রূপ ধারণ করেছে।

আজাদ মিয়া বলেন, আমরা চাই সুনামগঞ্জের প্রতিটি নদী যেন দ্রুত খনন করা হয়। এতে নদীগুলো তাদের যৌবন ফিরে পাবে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জের প্রতিটি নদী রক্ষায় এরইমধ্যে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত এগুলো খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসব নদী খননে দ্রুত উদ্যোগ নিলে একদিকে যেমন নদীগুলো তার পুরোনো যৌবন ফিরে পাবে, অন্যদিকে আবারো নৌপথ কেন্দ্রিক ব্যবসা বাণিজ্য জমজমাট হবে। চাঙ্গা হবে জেলার অর্থনীতি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নদীমাতৃক বাংলাদেশে এক সময় যেসব খরস্রোতা নদীগুলো ছিল, এখন সেগুলো আর দেখা যায় না। পলিমাটি ও বালি পড়ে অনেক নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে নদীপথে নাব্যসঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম সুনামগঞ্জের পুরাতন সুরমা নদী। ৭২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই নদীটি সুনামগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নেত্রকোনার ধনু নদীতে মিশেছে।

একসময় এই নদী দিয়ে কার্গো জাহাজ, লঞ্চ চলাচল করলেও বর্তমানে পলিমাটি ও বালি পড়ে ভরাট হওয়ায় ডিঙি নৌকা চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তলদেশ ভরাট হওয়ায় স্থানীয়রা ধান চাষ, গবাধিপশু চরানোসহ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শুধু পুরাতন সুরমা নয়, একই অবস্থা জেলার ১০৬টি নদীর। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের ১২০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত জাদুকাটা, রক্তি, বৌলাই ও পাটলাই নদীতে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বালিমাটি ও পলি জমে নদী ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ১৩৬ কিলোমিটার নৌপথজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম নাব্য সংকট। এতে আটকা পড়ে আছে শতাধিক মালবাহী বাল্কহেড।

নদী তীরবর্তী বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, এক সময় জেলার এই নদীপথে জাহাজ, লঞ্চ ও বড় বড় নৌকা চলাচল করত। নদীতে মাছ ধরা যেত। পাশাপাশি নদী কেন্দ্রিক ব্যবসাও ছিল জমজমাট। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পলি ভরাটের ফলে নদীগুলো মৃত রূপ ধারণ করেছে।

আজাদ মিয়া বলেন, আমরা চাই সুনামগঞ্জের প্রতিটি নদী যেন দ্রুত খনন করা হয়। এতে নদীগুলো তাদের যৌবন ফিরে পাবে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জের প্রতিটি নদী রক্ষায় এরইমধ্যে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত এগুলো খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসব নদী খননে দ্রুত উদ্যোগ নিলে একদিকে যেমন নদীগুলো তার পুরোনো যৌবন ফিরে পাবে, অন্যদিকে আবারো নৌপথ কেন্দ্রিক ব্যবসা বাণিজ্য জমজমাট হবে। চাঙ্গা হবে জেলার অর্থনীতি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

মরতে বসেছে সুনামগঞ্জের শতাধিক নদী

আপডেট সময় : ১০:৪০:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৯ মার্চ ২০২৫

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সুনামগঞ্জ জেলায় ছোট-বড় ১০৬টি নদী রয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও পলি ভরাটে প্রায় সব নদীই কম-বেশি ভরাট হয়েছে। পলি ভরাটে প্রায় মৃত রূপ ধারণ করেছে পুরাতন সুরমা নদী। তবে নদী রক্ষায় এরইমধ্যে নানা প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড।

শুধু পুরাতন সুরমা নয়, একই অবস্থা জেলার ১০৬টি নদীর। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের ১২০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত জাদুকাটা, রক্তি, বৌলাই ও পাটলাই নদীতে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বালিমাটি ও পলি জমে নদী ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ১৩৬ কিলোমিটার নৌপথজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম নাব্য সংকট। এতে আটকা পড়ে আছে শতাধিক মালবাহী বাল্কহেড।

নদী তীরবর্তী বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, এক সময় জেলার এই নদীপথে জাহাজ, লঞ্চ ও বড় বড় নৌকা চলাচল করত। নদীতে মাছ ধরা যেত। পাশাপাশি নদী কেন্দ্রিক ব্যবসাও ছিল জমজমাট। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পলি ভরাটের ফলে নদীগুলো মৃত রূপ ধারণ করেছে।

আজাদ মিয়া বলেন, আমরা চাই সুনামগঞ্জের প্রতিটি নদী যেন দ্রুত খনন করা হয়। এতে নদীগুলো তাদের যৌবন ফিরে পাবে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জের প্রতিটি নদী রক্ষায় এরইমধ্যে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত এগুলো খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসব নদী খননে দ্রুত উদ্যোগ নিলে একদিকে যেমন নদীগুলো তার পুরোনো যৌবন ফিরে পাবে, অন্যদিকে আবারো নৌপথ কেন্দ্রিক ব্যবসা বাণিজ্য জমজমাট হবে। চাঙ্গা হবে জেলার অর্থনীতি।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, নদীমাতৃক বাংলাদেশে এক সময় যেসব খরস্রোতা নদীগুলো ছিল, এখন সেগুলো আর দেখা যায় না। পলিমাটি ও বালি পড়ে অনেক নদীর তলদেশ উঁচু হয়ে নদীপথে নাব্যসঙ্কট সৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে অন্যতম সুনামগঞ্জের পুরাতন সুরমা নদী। ৭২ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের এই নদীটি সুনামগঞ্জ, শান্তিগঞ্জ, দিরাই ও শাল্লা উপজেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে নেত্রকোনার ধনু নদীতে মিশেছে।

একসময় এই নদী দিয়ে কার্গো জাহাজ, লঞ্চ চলাচল করলেও বর্তমানে পলিমাটি ও বালি পড়ে ভরাট হওয়ায় ডিঙি নৌকা চলাচলও অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তলদেশ ভরাট হওয়ায় স্থানীয়রা ধান চাষ, গবাধিপশু চরানোসহ খেলার মাঠ হিসেবে ব্যবহার করছেন।

শুধু পুরাতন সুরমা নয়, একই অবস্থা জেলার ১০৬টি নদীর। বিশেষ করে সুনামগঞ্জের ১২০ কিলোমিটার সীমান্তজুড়ে ভারতের মেঘালয় পাহাড় থেকে উৎপত্তি হয়ে জেলার তাহিরপুর, বিশ্বম্ভরপুর, জামালগঞ্জ উপজেলা দিয়ে প্রবাহিত জাদুকাটা, রক্তি, বৌলাই ও পাটলাই নদীতে পাহাড়ি ঢলের সঙ্গে বালিমাটি ও পলি জমে নদী ভরাট হয়ে গেছে। ফলে ১৩৬ কিলোমিটার নৌপথজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম নাব্য সংকট। এতে আটকা পড়ে আছে শতাধিক মালবাহী বাল্কহেড।

নদী তীরবর্তী বাসিন্দা আরিফুর রহমান বলেন, এক সময় জেলার এই নদীপথে জাহাজ, লঞ্চ ও বড় বড় নৌকা চলাচল করত। নদীতে মাছ ধরা যেত। পাশাপাশি নদী কেন্দ্রিক ব্যবসাও ছিল জমজমাট। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পলি ভরাটের ফলে নদীগুলো মৃত রূপ ধারণ করেছে।

আজাদ মিয়া বলেন, আমরা চাই সুনামগঞ্জের প্রতিটি নদী যেন দ্রুত খনন করা হয়। এতে নদীগুলো তাদের যৌবন ফিরে পাবে।

তবে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মামুন হাওলাদার বলেন, সুনামগঞ্জের প্রতিটি নদী রক্ষায় এরইমধ্যে প্রায় ২ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে। দ্রুত এগুলো খননের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

এসব নদী খননে দ্রুত উদ্যোগ নিলে একদিকে যেমন নদীগুলো তার পুরোনো যৌবন ফিরে পাবে, অন্যদিকে আবারো নৌপথ কেন্দ্রিক ব্যবসা বাণিজ্য জমজমাট হবে। চাঙ্গা হবে জেলার অর্থনীতি।