সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

সিলেট পুলিশের লুট হওয়া ২১টি ও লাইসেন্সের মধ্যে ৩৬টি অ স্ত্র জমা হয়নি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:২১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১১৪ বার পড়া হয়েছে

সিলেট প্রতিনিধি :

সিলেট বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ২১টি এবং গত ১৫ বছরে লাইসেন্স করা ২৪৬টি অস্ত্রের মধ্যে জমাযোগ্য ৩৬টি অস্ত্র এখনো জমা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার মধ্যে এসব অস্ত্র নিকটস্থ থানায় জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিধি মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের পর এসব অস্ত্র অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব অস্ত্র উদ্ধারে আজ বুধবার থেকে যৌথ অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ সূত্র ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার পতনের পর সিলেট নগরের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল ১০১টি। সঙ্গে গোলাবারুদও লুট হয়েছিল। এর মধ্যে বুধবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত জমা ও উদ্ধার হয়েছে ৮০টি। তবে গোলাবারুদের সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে এখনো ২১টি অস্ত্রের হদিস পায়নি পুলিশ।

এ ছাড়া গত ১৫ বছরে মহানগর এলাকায় অস্ত্রের লাইসেন্স করা হয়েছে ২৪৬টি। এর মধ্যে লাইসেন্স নিয়েও অস্ত্র কেনেননি ১০ জন। এর বাইরে ৪৩টি অস্ত্র বিভিন্ন ব্যাংকের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়। মহানগর এলাকায় জমাযোগ্য অস্ত্রের সংখ্যা ১৯৩। এর মধ্যে জমা হয়েছে ১৫৭টি। জমা হয়নি ৩৬টি আগ্নেয়াস্ত্র। সূত্র জানায়, লুট হওয়া ও লাইসেন্স করা অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে অভিযান চালানোর কথা ছিল। তবে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুনু মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর থানা থেকে লুট হওয়া একটি পিস্তল, লামাবাজার ফাঁড়ি থেকে একটি শটগান, বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে একটি রাইফেল ও একটি শটগান এখনো ফেরত আসেনি। এ ঘটনার পর একাধিকবার মাইকিং করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, ২০০৯ থেকে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত মহানগর এলাকায় যে ব্যক্তিরা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজন। সিলেট জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেই লাইসেন্সকারীদের নাম-পরিচয় নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁরা বলছেন, সেগুলো এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না। গত ১৫ বছরের মধ্যে সিলেটে একাধিকবার অস্ত্র প্রদর্শন করে মহড়া দিয়েছেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়েও অনেকে মহড়া দিয়েছেন। সেগুলোর উদ্ধার তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তেমন ভূমিকা দেখা মেলেনি।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দেওয়ার ব্যাপারে একাধিকবার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রজ্ঞাপন জারি করে লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে লাইসেন্সধারীদের কাছে যেসব অস্ত্র আছে, সেগুলো অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তালিকা ধরেই অভিযান চালানো হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেট পুলিশের লুট হওয়া ২১টি ও লাইসেন্সের মধ্যে ৩৬টি অ স্ত্র জমা হয়নি

আপডেট সময় : ০৪:২১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৪

সিলেট প্রতিনিধি :

সিলেট বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া ১০১টি আগ্নেয়াস্ত্রের মধ্যে ২১টি এবং গত ১৫ বছরে লাইসেন্স করা ২৪৬টি অস্ত্রের মধ্যে জমাযোগ্য ৩৬টি অস্ত্র এখনো জমা হয়নি। গতকাল মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টার মধ্যে এসব অস্ত্র নিকটস্থ থানায় জমা দেওয়ার সময় নির্ধারণ করে দিয়েছিল বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। বিধি মোতাবেক নির্ধারিত সময়ের পর এসব অস্ত্র অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হওয়ার কথা জানিয়েছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এসব অস্ত্র উদ্ধারে আজ বুধবার থেকে যৌথ অভিযান চালানোর কথা জানিয়েছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

পুলিশ সূত্র ও খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনে সরকার পতনের পর সিলেট নগরের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে আগ্নেয়াস্ত্র লুট হয়েছিল ১০১টি। সঙ্গে গোলাবারুদও লুট হয়েছিল। এর মধ্যে বুধবার সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত জমা ও উদ্ধার হয়েছে ৮০টি। তবে গোলাবারুদের সঠিক তথ্য পাওয়া যায়নি। লুট হওয়া অস্ত্রের মধ্যে এখনো ২১টি অস্ত্রের হদিস পায়নি পুলিশ।

এ ছাড়া গত ১৫ বছরে মহানগর এলাকায় অস্ত্রের লাইসেন্স করা হয়েছে ২৪৬টি। এর মধ্যে লাইসেন্স নিয়েও অস্ত্র কেনেননি ১০ জন। এর বাইরে ৪৩টি অস্ত্র বিভিন্ন ব্যাংকের নিরাপত্তার জন্য ব্যবহৃত হয়। মহানগর এলাকায় জমাযোগ্য অস্ত্রের সংখ্যা ১৯৩। এর মধ্যে জমা হয়েছে ১৫৭টি। জমা হয়নি ৩৬টি আগ্নেয়াস্ত্র। সূত্র জানায়, লুট হওয়া ও লাইসেন্স করা অস্ত্রের তালিকা প্রস্তুত করে রাখা হয়েছে। ঘোষণা অনুযায়ী আজ থেকে অভিযান চালানোর কথা ছিল। তবে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত অস্ত্র উদ্ধারের অভিযানের তথ্য পাওয়া যায়নি।

সিলেট কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুনু মিয়া সাংবাদিকদের বলেন, তাঁর থানা থেকে লুট হওয়া একটি পিস্তল, লামাবাজার ফাঁড়ি থেকে একটি শটগান, বন্দরবাজার ফাঁড়ি থেকে একটি রাইফেল ও একটি শটগান এখনো ফেরত আসেনি। এ ঘটনার পর একাধিকবার মাইকিং করা হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে আরও জানা গেছে, ২০০৯ থেকে চলতি বছরের ৫ আগস্ট পর্যন্ত মহানগর এলাকায় যে ব্যক্তিরা আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্স পেয়েছেন, তাঁদের অধিকাংশই আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত লোকজন। সিলেট জেলা ও পুলিশ প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করেই লাইসেন্সকারীদের নাম-পরিচয় নেওয়া সম্ভব হয়নি। তাঁরা বলছেন, সেগুলো এখনই প্রকাশ করতে চাচ্ছেন না। গত ১৫ বছরের মধ্যে সিলেটে একাধিকবার অস্ত্র প্রদর্শন করে মহড়া দিয়েছেন তৎকালীন ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা। এর মধ্যে অবৈধ অস্ত্র নিয়েও অনেকে মহড়া দিয়েছেন। সেগুলোর উদ্ধার তৎপরতায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের তেমন ভূমিকা দেখা মেলেনি।

মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, মহানগর পুলিশের বিভিন্ন থানা ও ফাঁড়ি থেকে লুট হওয়া অস্ত্র ও লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দেওয়ার ব্যাপারে একাধিকবার আহ্বান জানানো হয়েছে। এ ছাড়া প্রজ্ঞাপন জারি করে লাইসেন্স করা অস্ত্র জমা দেওয়ার জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে। বর্তমানে লাইসেন্সধারীদের কাছে যেসব অস্ত্র আছে, সেগুলো অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবে। তিনি বলেন, অভিযানের জন্য প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তালিকা ধরেই অভিযান চালানো হবে।