সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে হামের উপসর্গে প্রাণ গেল তিন শিশুর সিলেটে শুভ উপনয়ন-সংস্কার অনুষ্ঠান ১৯ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান; যুবক আটক সিসিকের প্রশাসককে স্মারক উপহার দিল ইউএস বাংলা  সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলারপ্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি

সদ্যসাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৩ মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:৩৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

ফেসবুক আইডিতে তিন মিনিটের একটি ভিডিও আপলোড করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সদ্যসাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। শনিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এই ভিডিওটি প্রকাশ করেন। এতে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করে নিজের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান আনোয়ারুজ্জামান।

২৪ আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে ১৮ মিনিট কথা বলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সদ্যসাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সেই ভিডিওতেও তিনি ড. ইউনূস সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। গত ১৯ আগস্ট সিলেটসহ দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করা হয়। তাদের অপসারণের পর সব সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশ মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের বদলে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার সিসিক প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর পরই সিলেটের অনেক আওয়ামী লীগ নেতা এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আনোয়ারুজ্জামানও লাপাত্তা হয়ে যান। সম্প্রতি খবর পাওয়া যায়- দেশ ছেড়ে লন্ডনে চলে গিয়েছেন তিনি। তবে তিনি কবে ও কীভাবে লন্ডনে গেছেন তা জানা যায়নি।

একটি সূত্র বলছে- সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে চলে যান। সেখান থেকে যান লন্ডনে। গত শুক্রবার রাতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুকের কাছে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর লন্ডনে আসার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আনোয়ারুজ্জামান লন্ডনে চলে এসেছেন এবং তাঁর সঙ্গে আমার দেখাও হয়েছে। আনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকার পরও তিনি কবে ও কীভাবে দেশ থেকে বের হলেন, জানতে চাইলে সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সিলেটে প্রথম মামলা হয়েছে ১৯ আগস্ট। এটি হত্যা মামলা। সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আখালিয়া এলাকায় পানিতে পড়ে মারা যান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্র রুদ্র সেন। এ ঘটনায় ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মোমেনের আদালতে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শাবিপ্রবির সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম। এই মামলায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এরপর আরও ৮টি হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে তাকে। আর মোট মামলা ১৩টি বলে শনিবারের ভিডিওতে নিজেই জানিয়েছেন আনোয়ারুজ্জামান।

উল্লেখ্য, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী একজন ব্রিটিশ নাগরিক ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গত বছরের ২১ জুন অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশনের পঞ্চম নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন। 

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সদ্যসাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধে ১৩ মামলা

আপডেট সময় : ০৬:৩৩:২৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১ সেপ্টেম্বর ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার :

ফেসবুক আইডিতে তিন মিনিটের একটি ভিডিও আপলোড করেছেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সদ্যসাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। শনিবার (৩১ আগস্ট) সন্ধ্যা পৌনে ৭টার দিকে এই ভিডিওটি প্রকাশ করেন। এতে তিনি বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যাপক সমালোচনা করে নিজের বিরুদ্ধে ১৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে বলে জানান আনোয়ারুজ্জামান।

২৪ আগস্ট বিকাল ৫টার দিকে নিজের ফেসবুক আইডিতে লাইভে এসে ১৮ মিনিট কথা বলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সদ্যসাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সেই ভিডিওতেও তিনি ড. ইউনূস সরকারের কড়া সমালোচনা করেন। গত ১৯ আগস্ট সিলেটসহ দেশের ১২টি সিটি কর্পোরেশনের মেয়রকে অপসারণ করা হয়। তাদের অপসারণের পর সব সিটিতে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। স্থানীয় সরকার বিভাগের নির্দেশ মেয়র আনোয়ারুজ্জামানের বদলে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনার সিসিক প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

৫ আগস্ট শেখ হাসিনা সরকার পতনের পর পরই সিলেটের অনেক আওয়ামী লীগ নেতা এবং জনপ্রতিনিধির সঙ্গে আনোয়ারুজ্জামানও লাপাত্তা হয়ে যান। সম্প্রতি খবর পাওয়া যায়- দেশ ছেড়ে লন্ডনে চলে গিয়েছেন তিনি। তবে তিনি কবে ও কীভাবে লন্ডনে গেছেন তা জানা যায়নি।

একটি সূত্র বলছে- সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে তিনি ভারতে চলে যান। সেখান থেকে যান লন্ডনে। গত শুক্রবার রাতে যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ ফারুকের কাছে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর লন্ডনে আসার ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আনোয়ারুজ্জামান লন্ডনে চলে এসেছেন এবং তাঁর সঙ্গে আমার দেখাও হয়েছে। আনোয়ারুজ্জামানের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা থাকার পরও তিনি কবে ও কীভাবে দেশ থেকে বের হলেন, জানতে চাইলে সে ব্যাপারে কোনো মন্তব্য করতে চাননি তিনি।

আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর বিরুদ্ধে সিলেটে প্রথম মামলা হয়েছে ১৯ আগস্ট। এটি হত্যা মামলা। সিলেটে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে ১৮ জুলাই সন্ধ্যায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে আখালিয়া এলাকায় পানিতে পড়ে মারা যান শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্র রুদ্র সেন। এ ঘটনায় ১৯ আগস্ট সিলেটের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট আবদুল মোমেনের আদালতে বাদী হয়ে হত্যা মামলা করেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন শাবিপ্রবির সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম। এই মামলায় সিলেট সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীকে ৬ নম্বর আসামি করা হয়েছে। এরপর আরও ৮টি হত্যা মামলার আসামি করা হয়েছে তাকে। আর মোট মামলা ১৩টি বলে শনিবারের ভিডিওতে নিজেই জানিয়েছেন আনোয়ারুজ্জামান।

উল্লেখ্য, আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী একজন ব্রিটিশ নাগরিক ও যুক্তরাজ্য আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক। গত বছরের ২১ জুন অনুষ্ঠিত সিলেট সিটি করপোরেশনের পঞ্চম নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বিজয়ী হন। এ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী ছিলেন।