ফেনীতে দুই যুবলীগ নেতা-কর্মীর লাশ উদ্ধার
- আপডেট সময় : ১২:১০:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০২৪ ১২৫ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :
ফেনীতে যুবলীগের দুই নেতা-কর্মীর লাশ উদ্ধার হয়েছে। আজ মঙ্গলবার ফেনী সদর ও সোনাগাজী উপজেলা থেকে দুজনের লাশ উদ্ধার হয়।
সোনাগাজীতে উদ্ধার হওয়া লাশটি মুশফিকুর রহমানের। তিনি ফেনী সদর উপজেলার ধলিয়া ইউনিয়ন যুবলীগের দপ্তর সম্পাদক পদে ছিলেন। দুপুরে উপজেলার আমিরাবাদ ইউনিয়নের সাহেবেরহাট এলাকার একটি খাল থেকে তাঁর লাশ উদ্ধার করা হয়। তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা স্থানীয় বাসিন্দাদের।
স্থানীয় লোকজন জানান, সকালে সাহেবেরহাট এলাকায় খালের পানিতে লাশটি ভেসে আসে। পরে একটি সেতুর নিচে এসে লাশটি ঝোপের মধ্যে আটকা পড়ে। খবর পেয়ে দুপুরে স্বজনেরা লাশটি উদ্ধার করে নিয়ে যান।
উপজেলার নবাবপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. জহিরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, লাশের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানো হলেও কেউ লাশ উদ্ধারে আসেননি। পরে তিনি স্বজনদের ডেকে লাশটি বুঝিয়ে দিয়েছেন।
এদিকে ফেনী সদর উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নে বাদশা মিয়া ওরফে কানা বাদশা (৪০) নামের যুবলীগের এক কর্মীর মরদেহ উদ্ধার হয়েছে। তাঁর মাথায় ও হাতে জখমের চিহ্ন রয়েছে। তাঁকে পিটিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা এলাকাবাসীর।
আজ সকালে উপজেলার বালিগাঁও ইউনিয়নের আফতাব বিবি বাজারে একটি করাতকলের (স মিল) সামনে থেকে বাদশার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। নিহত বাদশা মিয়া বালিগাঁও ইউনিয়নের মধুয়্যাই গ্রামের ব্যাপারী বাড়ির আবুল খায়েরের ছেলে।
স্থানীয় এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সকালে মরদেহটি দেখতে পেয়ে এলাকাবাসী নিহত বাদশার পরিবারে খবর দেন। পরে স্বজনেরা লাশটি উদ্ধার করে বাড়িতে নিয়ে যান।
দিনাজপুরে হিন্দুদের ৪০ দোকানপাটে ভাঙচুর–লুটপাট

দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ঈশানিয়া ইউনিয়নের চৌরঙ্গী বাজারে গতকাল সোমবার সংখ্যালঘুদের দোকানপাট ভাঙচুর করা হয়।
দিনাজপুরের বোচাগঞ্জ উপজেলার ঈশানিয়া ইউনিয়নের চৌরঙ্গী বাজারে সংখ্যালঘুদের অন্তত ৪০টি দোকানপাটে ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। গতকাল সোমবার বিকেলে অন্তত ১০০ জন দলবদ্ধ হয়ে বাজারে ঢুকে অতর্কিত হামলা চালিয়েছেন। পরে বাজারসংলগ্ন সহসপুর গ্রামের দিকে অগ্রসর হলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ তাঁদের বাধা দেন। পরে বাড়ি ছাড়ার হুমকি দিয়ে তাঁরা চলে যান।
প্রত্যক্ষদর্শী সহসপুর গ্রামের বাসিন্দা হৃদয় রায় বলেন, ‘বাজারে ঢুকেই ভাঙচুর শুরু করে হামলাকারীরা। বেছে বেছে আমাদের দোকানগুলো ভাঙচুর করা হয়েছে। হামলাকারীদের হাতে লাঠি ও ধারালো অস্ত্র ছিল। দোকান ছেড়ে পালিয়েছি। পরে চোখের সামনে মালামালগুলো লুট করে নিয়ে গেছে। গ্রামের দিকে যাচ্ছিল। ওই সময় আমরা পাড়ার সবাই সামনে দাঁড়ালে ওরা চলে যায়।’
এদিকে দিনাজপুর সদর উপজেলায় ফুলতলা শ্মশানঘাট এলাকায় মাঠে নির্মাণাধীন হরিসভা ঘর, দুর্গামন্দির ভাঙচুর করা হয়েছে।
গতকাল বিকেল থেকে ভোররাত পর্যন্ত দিনাজপুরের সব মন্দির ও হরিসভা বাসরে পাহারা বসিয়েছেন সংখ্যালঘুরা। তাঁদের সঙ্গে কয়েকটি জায়গায় মুসলমানরা ছিলেন। রাত থেকে বিভিন্ন মসজিদের মাইকে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন ও ভাঙচুর না করতে প্রচারণা চালানো হয়েছে।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক উত্তম রায় বলেন, জেলায় হিন্দুদের অন্তত ১০-১৫টি বাড়িঘর ভাঙচুর ও লুটপাট করা হয়েছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। সবাই আতঙ্কে আছেন।
গতকাল বিকেল থেকে দিনাজপুরের বিভিন্ন জায়গায় আওয়ামী লীগের নেতা–কর্মীদের বাড়িঘর ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের খবর পাওয়া গেছে। জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়েছে। বোচাগঞ্জ থানায় অগ্নিসংযোগ, ভাঙচুর করে অন্তত ৫০টি অস্ত্র লুট করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন থানার পুলিশের এক সদস্য।



























