সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ মাধবপুরে বিজিবির অভিযানে ৬০ কেজি গাঁজা উদ্ধার জালালাবাদ এসোসিয়েশনের নির্বাচনে অধ্যাপক কামরুল হাসান সভাপতি ও অ্যাডভোকেট জসিম সম্পাদক নির্বাচিত রাষ্ট্রায়ত্ত ৪৪ শিল্পপ্রতিষ্ঠান বিক্রির উদ্যোগ বা/তিলের দাবি বাসদের সিলেট সীমান্তে ৭৮ লক্ষ টাকার চোরাই পণ্য জব্দ সিলেটে সুদূর চীন থেকে বাংলাদেশে এসে প্রিয় মানুষকে বিয়ে করলেন এক চীনা যুবক সিলেট গোলাপগঞ্জে ইয়াবাসহ গ্রেফতার ৩ সিলেটসহ সারা দেশে গণপরিবহনের জন্য নির্দেশ গ্লোবাল পজিশনিং সিস্টেম (জিপিএস) ডিভাইস সংযুক্ত বাধ্যতামূলক নাতি-নাতনিদের সঙ্গ বাড়াতে পারে আয়ু, মানতে হবে যেসব শর্ত শনিবার থেকে সব বাসে জিপিএস বাধ্যতামূলক ইউপি নির্বাচনে এসএসসি-এইচএসসি সনদ বাধ্যতামূলক হয়েছে কিনা, যা জানা গেল

হেতিমগঞ্জ-ঢাকা দক্ষিণ সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:০৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪ ১৪৮ বার পড়া হয়েছে

হেতিমগঞ্জ প্রতিনিধি :

পিচ খোয়া উঠে গিয়ে পুরোটাই বড় বড় গর্তে ক্ষতবিক্ষত, গর্তে আটকা পড়ছে গাড়ি, স্থানে স্থানে ধসে পড়ছে পার্শের মাটি, এমন কোন অংশ নেই যেখানে সড়কটি ভালো আছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছে যে সড়কটি যেন নিজেই এখন সংস্কারের জন্য অসহায় হয়ে কান্না করছে। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ হেতিমগঞ্জ-ঢাকাদক্ষিণ সড়ক (দেওয়ান সড়ক) নিয়ে এমন মন্তব্য স্থানীয়দের। সীমাহীন দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ সড়কটি সংস্কারে দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসলেও কোন কাজ হচ্ছে না। নিত্যদিনের দুর্ভোগ-যন্ত্রণায় মানুষ চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানান তারা।

সিলেট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম ফারুক হোসেন জানান, ‘দেওয়ানের পুল’ বাদে পুরো সড়কের কাজের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেয়া আছে। প্রস্তাব পাশ হলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া সড়কের হেতিমগঞ্জ থেকে কোনাচর পর্যন্ত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজ চলছে। বৃষ্টির কারণে বন্ধ আছে। তবে সড়কে যাতে পানি না জমতে পারে সে জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেবেন বলে জানান তিনি।
গোলাপগঞ্জ উপজেলাসহ বিয়ানীবাজার, বড়লেখাসহ আশপাশের উপজেলার মানুষের সিলেট শহরের সাথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হেতিমগঞ্জ-ঢাকাদক্ষিণ সড়ক। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় দাবি জানাতে থাকলে ২০২২ সালে সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। এসময় ঐতিহাসিক ‘দেওয়ানের পুল’ ভেঙে ফেলাকে কেন্দ্র করে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কোন কাজ না হওয়ায় পুরো সড়কটিই গর্ত ও খানা-খন্দের সমাহারে পরিণত হয়। ফলে ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ-রোগী, গ্রামবাসীসহ স্থানীদের যাতায়াতে সীমাহীন ভোগান্তি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়কের মছকাপুর অংশের পাশেই অবস্থিত উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ আতহারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষাথীদের দুর্ভোগ সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে জানান শিক্ষক-অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। সড়কের হেতিমগঞ্জ থেকে কোনাচর অংশে কিছুদিন পূর্বে কাজ শুরু হয়ে আবারো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানিতে সড়কের গর্তগুলো এখন ছোট পুকুরে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন এসব গর্তে গাড়ি আটকা পড়ছে। অনেক সময় উল্টে গিয়ে ছিটতে পড়ে আহত হচ্ছেন শিক্ষার্থী, নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ। সড়কটি দিয়ে পাঁয়ে চলাচলই দুষ্কর হয়ে উঠেছে বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। আতহারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মো. বদরুল আলম মোহন জানান, সড়কটি দিয়ে স্বাভাবিক যান চলাচল অনেকদিন থেকেই প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে হাজারো শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে পায়ে হেঁটে স্কুলে আসা-যাওয়া করতেই শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ঘুরো পথে অথবা দুর্ভোগ নিয়েই পরীক্ষার হলে যাচ্ছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হেতিমগঞ্জ-ঢাকা দক্ষিণ সড়কের বেহাল দশা, জনদুর্ভোগ চরমে

আপডেট সময় : ১২:০৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুলাই ২০২৪

হেতিমগঞ্জ প্রতিনিধি :

পিচ খোয়া উঠে গিয়ে পুরোটাই বড় বড় গর্তে ক্ষতবিক্ষত, গর্তে আটকা পড়ছে গাড়ি, স্থানে স্থানে ধসে পড়ছে পার্শের মাটি, এমন কোন অংশ নেই যেখানে সড়কটি ভালো আছে। পরিস্থিতি এমন জায়গায় গিয়েছে যে সড়কটি যেন নিজেই এখন সংস্কারের জন্য অসহায় হয়ে কান্না করছে। সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার গুরুত্বপূর্ণ হেতিমগঞ্জ-ঢাকাদক্ষিণ সড়ক (দেওয়ান সড়ক) নিয়ে এমন মন্তব্য স্থানীয়দের। সীমাহীন দুর্ভোগে সাধারণ মানুষ সড়কটি সংস্কারে দীর্ঘদিন থেকে দাবি জানিয়ে আসলেও কোন কাজ হচ্ছে না। নিত্যদিনের দুর্ভোগ-যন্ত্রণায় মানুষ চরমভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন বলে জানান তারা।

সিলেট স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী কেএম ফারুক হোসেন জানান, ‘দেওয়ানের পুল’ বাদে পুরো সড়কের কাজের জন্য একটি প্রকল্প প্রস্তাব দেয়া আছে। প্রস্তাব পাশ হলেই দ্রুত কাজ শুরু হবে বলে জানান তিনি। এছাড়া সড়কের হেতিমগঞ্জ থেকে কোনাচর পর্যন্ত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত অংশে কাজ চলছে। বৃষ্টির কারণে বন্ধ আছে। তবে সড়কে যাতে পানি না জমতে পারে সে জন্য ঠিকাদারকে নির্দেশ দেবেন বলে জানান তিনি।
গোলাপগঞ্জ উপজেলাসহ বিয়ানীবাজার, বড়লেখাসহ আশপাশের উপজেলার মানুষের সিলেট শহরের সাথে যোগাযোগের অন্যতম মাধ্যম হেতিমগঞ্জ-ঢাকাদক্ষিণ সড়ক। চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত সড়কটি সংস্কারের জন্য স্থানীয় দাবি জানাতে থাকলে ২০২২ সালে সড়কটি সংস্কার ও প্রশস্তকরণের উদ্যোগ নেয় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর। এসময় ঐতিহাসিক ‘দেওয়ানের পুল’ ভেঙে ফেলাকে কেন্দ্র করে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর কোন কাজ না হওয়ায় পুরো সড়কটিই গর্ত ও খানা-খন্দের সমাহারে পরিণত হয়। ফলে ব্যবসায়ী, চাকুরিজীবী, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, বৃদ্ধ-রোগী, গ্রামবাসীসহ স্থানীদের যাতায়াতে সীমাহীন ভোগান্তি নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

সড়কের মছকাপুর অংশের পাশেই অবস্থিত উপজেলার অন্যতম বিদ্যাপীঠ আতহারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের শিক্ষাথীদের দুর্ভোগ সীমা ছাড়িয়ে যাচ্ছে বলে জানান শিক্ষক-অভিভাবক, শিক্ষার্থীসহ এলাকাবাসী। সড়কের হেতিমগঞ্জ থেকে কোনাচর অংশে কিছুদিন পূর্বে কাজ শুরু হয়ে আবারো বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বৃষ্টির পানিতে সড়কের গর্তগুলো এখন ছোট পুকুরে পরিণত হয়ে যাচ্ছে। প্রতিদিন এসব গর্তে গাড়ি আটকা পড়ছে। অনেক সময় উল্টে গিয়ে ছিটতে পড়ে আহত হচ্ছেন শিক্ষার্থী, নারী-শিশুসহ সাধারণ মানুষ। সড়কটি দিয়ে পাঁয়ে চলাচলই দুষ্কর হয়ে উঠেছে বলে জানান ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা। আতহারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের গভর্নিং বডির সদস্য মো. বদরুল আলম মোহন জানান, সড়কটি দিয়ে স্বাভাবিক যান চলাচল অনেকদিন থেকেই প্রায় বন্ধ হয়ে আছে। প্রতিদিন সড়কটি দিয়ে হাজারো শিক্ষার্থী যাতায়াত করে। কিন্তু সড়কের বেহাল দশার কারণে পায়ে হেঁটে স্কুলে আসা-যাওয়া করতেই শিক্ষার্থীদের চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হচ্ছে। এইচএসসি পরীক্ষার্থীরা ঘুরো পথে অথবা দুর্ভোগ নিয়েই পরীক্ষার হলে যাচ্ছেন।