সিলেটে দুর্গত মানুষের ভোগান্তি বাড়লেও এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে
- আপডেট সময় : ০২:১১:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৩ জুলাই ২০২৪ ১১৭ বার পড়া হয়েছে
গত সোমবার (১ জুলাই) জেলার বিভিন্ন উপজেলা প্লাবিত হয়েছে। সিলেট মহানগরে এখনো বন্যা পরিস্থিতি হয়নি। উজান থেকে নেমে আসা ঢল ও ভারী বৃষ্টিতে তৃতীয়বারের মতো বন্যার কবলে পড়েছে সিলেট। তবে কিছু এলাকায় ভারি বৃষ্টির কারণে জলাবদ্ধতা তৈরী হয়েছে। এতে দুর্গত মানুষের ভোগান্তি বাড়লেও এখন কিছুটা উন্নতি হয়েছে ।
আবহাওয়া অধিদফতর বলছে, জুলাই মাস পুরোটাজুড়েই বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস রয়েছে। সিলেটবাসীর এই ভোগান্তি চলতি জুলাইজুড়ে থাকার শঙ্কা রয়েছে। এতে জুলাই মাস পুরোটাজুড়েই বৃষ্টি ও বন্যার ভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে। স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি বৃষ্টিপাত হতে পারে জুলাই মাসে। এছাড়া দেশের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বন্যার আশঙ্কার কথাও জানিয়েছে বন্যা সতর্কীকরণ কেন্দ্র।
আবহাওয়া অধিদফতরের আবহাওয়াবিদ মনোয়ার হোসেন জানান, ‘এবারের বর্ষায় বৃষ্টি বেশি হবে এমন পূর্বাভাস আগেই দেওয়া হয়েছিল। জুনে বেশ ভালোই বৃষ্টি হয়েছে। জুলাই মাসের প্রায় পুরো সময়জুড়ে সারাদেশে থেমে থেমে মাঝারি থেকে ভারী বৃষ্টি চলতে পারে।’এদিকে সিলেট জেলা প্রশাসকের তথ্য মতে, জেলার ১৩ উপজেলায় ৯৭টি ইউনিয়ন বন্যায় প্লাবিত। ১ হাজার ১৮৪টি গ্রামের ৭ লাখ ১১ হাজার ২২৬ জন মানুষ বন্যায় আক্রান্ত। জেলার ৬৫৩টি আশ্রয় কেন্দ্রে এখন পর্যন্ত ৮ হাজার ৪০৭ জন মানুষ আশ্রয় নিয়েছেন।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর ৫টি পয়েন্টের পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১১৬ সে.মি. কুশিয়ারার পানি আমলশীদ পয়েন্টে ৮৩ সে.মি, এ নদীর শেওলা, ফেঞ্চুগঞ্জ ও শেরপুর পয়েন্টে পানি ২৪, ৯৭ ও ১৫ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
মঙ্গলবার সকালে সারি ও সারিগোয়ান নদীর পানি বিপৎসীমার উপর দিয়ে প্রবাহিত হলে সন্ধ্যায় তা কমেছে। কমেছে অন্যান্য পয়েন্টের পানিও। আর রবিবার এগুলোর মধ্যে শুধু কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ছিলো বিপৎসীমার উপরে।সিলেট আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, সিলেট গত ২৪ ঘন্টায় ২৯৮ মি.মি বৃষ্টিপাত হয়েছে। আগামী ৪ দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। এমনটি হলে বন্যা পরিস্থিতি সিলেটে আবারও ভয়াবহ হবে।
প্রসঙ্গত- দুই সপ্তাহ ব্যাপী স্থায়ী এ বন্যায় পানিবন্দী ছিলেন প্রায় ১০ লাখ মানুষ। সিলেটে গত ২৭ মে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। প্রথম বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ১৫ জুন থেকে ফের বন্যার কবলে পড়ে এই জনপদ। বিশেষ করে ঈদুল আযহার দিন ভোররাত থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অতিভারী বর্ষণে পানিবন্দি হন মহানগরসহ পুরো জেলার লাখ লাখ মানুষ। পরবর্তী এক সপ্তাহ বন্যা পরিস্থিতি ছিলো ভয়াবহ। এরপর পানি নামতে শুরু করে। তবে সে গতি ছিলো খুব ধীর।
গত সোমবার থেকে সিলেটে ধাক্কা দেয় তৃতীয় দফা বন্যা। দ্বিতীয় দফা বন্যা শেষ হওয়ার আগেই রবিবার (৩০ জুন) দিনভর সিলেটে থেমে ও উজানে ভারী বৃষ্টির ফলে নতুন করে তৃতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে।
























