সিলেটের বন্যায় ত্রাণ বিতরনে জেলা প্রশাসন
- আপডেট সময় : ০৩:৫১:০৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪ ১২০ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন :
সিলেটে গত মঙ্গলবার থেকে বন্যা পরিস্থিতি দেখা দিয়েছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত জেলার সব উপজেলায়ই ছড়িয়ে পড়ে বন্যার পানি। তবে এর মধ্যে ভয়াবহ অবস্থা বিরাজ করছে সিলেট জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, গোয়াইনঘাট, জকিগঞ্জ ও কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায়। বাকিগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।
তবে বন্যা আসতেই পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রস্তুতি নেয় জেলা প্রশাসন। বন্যা দুর্গত এলাকায় খোলা হয় আশ্রয়কেন্দ্র। বরাদ্দ দেওয়া হয় চাল, নগদ টাকা, শুকনো খাবার, শিশু ও গো-খাদ্য।
জেলা প্রশাসন সূত্রে শনিবার (১ জুন) বিকালে জানায়, সিলেট ৫ উপজেলায় ভয়াবহ বন্যা থাকলেও বরাদ্দ দেওয়া সবগুলোতে। শুক্রবার পর্যন্ত জেলার ১৩টি উপজেলায় ৪০০ মেট্রিক টন চাল, নগদ ১৫ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা ও ১ হাজার ২৫০ বস্তা শুকনো খাবার এবং শিশুখাদ্যের জন্য ৯ লক্ষ ও গো-খাদ্যের জন্য আরও ৯ লক্ষ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। জানা যায়, মহানগরের অন্ততঃ ১৫ টি এলাকা ও জেলার ৭টি উপজেলার মানুষ পানিবন্দী। তবে টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে ঢল বন্ধ হওয়ায় শনিবার সকাল থেকে বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হতে শুরু করেছে।
সুরমা নদীতে পানি বাড়ায় গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যার পর থেকে সিলেট মহানগরে হঠাৎ বাড়তে শুরু করে পানি। শুক্রবার সকাল পর্যন্ত নগরের ১৫টি এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়। এতে অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। নগরের তেরোরতন, সাদারপাড়, সোবহানীঘাট, কুশিঘাট, শাহজালাল উপশহর, তালতলা ও জামতলা এলাকায় জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে। ফলে এসব এলাকার রাস্তা তলিয়ে গেছে। তালতলা এলাকার ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনেও পানি ঢুকেছে। বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে পড়ায় অনেকের আসবাব-পত্র নষ্ট হয়েছে। এ অবস্থায় অনেকে নিরাপদ স্থানে চলে গেছেন।
সিসিক সূত্র জানায়, সুরমা নদীর সঙ্গে সংযোগ স্থাপনকারী বিভিন্ন ছড়া ও খাল দিয়ে পানি ঢুকে নগরের অন্তত ২০ হাজার মানুষ পানিবন্দী হয়ে পড়েছেন। সব মিলিয়ে প্রায় ৪ হাজার পরিবার পানিবন্দী। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় নগরের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে কিশোরীমোহন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। এ ছাড়া বিদ্যালয়ের পাশের একটি পাঁচতলা ভবনে ৪০টি পরিবার আশ্রয় নিয়েছে। অন্যান্য ওয়ার্ডেও আশ্রয়কেন্দ্র চালুর প্রস্তুতি চলছে। আশ্রয়কেন্দ্রে পর্যাপ্ত খাবার ও বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ করা হয়েছে।
ভারতের উজান থেকে পাহাড়ি ঢল নামতে শুরু ও পাশাপাশি সিলেটে ভারী বৃষ্টি হওয়ায় এতে নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সবচেয়ে বেশি প্লাবিত হয় জেলার গোয়াইনঘাট, কোম্পানীগঞ্জ, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও জকিগঞ্জ উপজেলা। জেলার প্রধান দুটি নদী সুরমা ও কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি উপচে একের পর এক এলাকা প্লাবিত হয়। ডুবে যায় ফসলের খেত, ভেসে যায় পুকুরের মাছ। অসংখ্য বাসাবাড়িতেও পানি ঢুকে। এখন পর্যন্ত জেলার ৬ লাখের অধিক মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন। শনিবার সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হয়েছে।




























