সাংবাদিককে হত্যার হুমকীর মামলায় শেওলাইউপি মেম্বার এরশাদের কারা ও অর্থদন্ড
- আপডেট সময় : ০৬:১৫:৪৮ অপরাহ্ন, রবিবার, ২ জুন ২০২৪ ১৭৮ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার :
বাংলাদেশ প্রেসক্লাব, সিলেট জেলা শাখার দপ্তর সম্পাদক, দৈনিক সিলেটের হালচাল পত্রিকার নির্বাহী সম্পাদক এবং দৈনিক সিলেটের দিনকাল, দৈনিক সোনালী সিলেটের সাবেক স্টাফ রিপোর্টার রুহুল আমীন তালুকদারকে হত্যার হুমকীর মামলায় বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়ন পরিষদের ২নং ওয়ার্ড মেম্বার একাধিক মামলার আসামী মাহমুদুল হাসান এরশাদ-কে এক মাসের কারাদণ্ড, অন্যথায় দুই হাজার টাকা জরিমানার রায় দিয়েছেন আদালত।
৩০ মে-২০২৪ইং দুপুরে সিলেটের মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ১ম আদালতের বিচারক সুমন ভূইয়া এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মাহমুদুল হাসান এরশাদ সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা ইউনিয়নের দিগলবাক গ্রামের বাসিন্দা মৃত সজ্জাদ আলীর ছেলে। মামলার রায় ঘোষণার সময় আসামী এরশাদ আদালতে অনুপস্থিত ছিল। মামলার এজহার সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের ৯ জুন বিয়ানীবাজার উপজেলার শেওলা দিগলবাক গ্রামের বাসিন্দা মৃত হাজী ময়না মিয়ার ছেলে গৌছ উদ্দিন শিপনের বাড়িতে স্থাপিত একটি পাঞ্জেগানা মসজিদের ভূমির মালিকানা নিয়ে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী এরশাদ গংরা, গৌছ উদ্দিন শিপন গংদের সাথে রক্তক্ষয়ি সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে মামলা/মোকাদ্দমা হয়।
এসব মামলা/ মোকদ্দমা সংক্রান্তে তৎকালীন সময় দৈনিক সিলেটের দিনকাল পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেন সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদার। এরই জের ধরে ২০২১ সালের ২৮ জুলাই সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদারের উপর দেশীয় ধারালো অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অতর্কিত হামলা চালায় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মাহমুদুল হাসান এরশাদ ও তার সহযোগিরা। হামলায় সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদার গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদার বাদী হয়ে ২০২১ সালের ১৪ সেপ্টেম্বর দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মাহমুদুল হাসান এরশাদ ও তার সহযোগী শরীফ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়ের করেন। যাহা বিয়ানীবাজার সিআর মামলা নং ১৫৯/২১। বর্তমানে মামলাটি অতিরিক্ত চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
উক্ত মামলায় ২০২২ সালের ১৯ মে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তারিখ ছিল। আদালতে বাদী ও আসামী উভয় পক্ষ হাজিরা শেষে বাদী সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদার বিকাল ৩টায় তার পত্রিকা অফিস দক্ষিণ সুরমাস্থ ভার্থখলা সামছ উদ্দিন মার্কেটে যাওয়ার সময় ক্বীন ব্রিজের দক্ষিণ মুখে পৌছামাত্র পূর্ব থেকে অপেক্ষামান দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী এরশাদ ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী এরশাদের বিরুদ্ধে দায়েরী মামলা তুলে নিতে এবং তার সকল অপকর্মের প্রকাশিত সংবাদগুলো প্রত্যাহা করে নিতে সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদারকে ভয়-ভীতি সহ তাকে হত্যা করে লাশগুম করে ফেলার হুমকী দেয় দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী এরশাদ ও তার সহযোগী অজ্ঞাতনামা দুষ্কৃতিকারীরা। এ সময় কতেক পথচারী লোকজন উপস্থিত থাকায় কোন অনাকাঙ্খিত ঘটনা ঘটাতে পারেনি তারা।
হুমকীর ঘটনায় সাংবাদিক রুহুল আমীন তালুকদার ও তার স্ত্রী, সন্তানাদির জানমালের নিরাপত্তার স্বার্থে দণ্ডপ্রাপ্ত এরশাদ সহ তার সহযোগি দুষ্কৃতিকারী অজ্ঞাত নামাদের বিরুদ্ধে ২০২২ সালের ১৯ মে সিলেটের মেট্রোপলিটন পুলিশের দক্ষিণ সুরমা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরী করেন। যাহা থানার সাধারণ ডায়েরী নং ৮৭৯। থানার অফিসার ইনচার্জ সাধারণ ডায়েরী প্রাপ্ত হয়ে উল্লেখিত ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নিতে দক্ষিণ সুরমার কদমতলী পুলিশ ফাঁড়ির টু আই সিকে দায়িত্ব দেন। তদন্তকারী কর্মকর্তা টুআইসি শশধর বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট আদালতের অনুমতিক্রমে সরে জমিনে ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করেন। তদন্তে ঘটনার বিষয়ে সত্যতা পেয়ে তিনি দণ্ডবিধি আইনের ৫০৬(২) ধারা মতে দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী এরশাদ এর বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আদালতে প্রসিকিউকশন দাখিল করেন। যাহা থানার ননএফআইআর নং- ৮৬, উদ্ভোদ দক্ষিণ সুরমা ননজিআর নং ১৫/২০২২ইং। দীর্ঘ শুনানীর পর ৩০ মে-২০২৪ইং এক মাসের কারাদণ্ড, অন্যথায় দুই হাজার টাকা জরিমানার রায় ঘোষণা করেন বিচারক। প্রাপ্ত তথ্যে আরো জানা গেছে, দণ্ডপ্রাপ্ত মাহমুদুল হাসান এরশাদ অত্যান্ত উগ্র, দাঙ্গাবাজ, ভূমিখেকো, চরিত্রহীন, নারীলিপ্সু ও দলবদ্ধ মাস্তান প্রকৃতির লোক। সে ধনে-জনে, বলে বলিয়ান ও এলাকার প্রভাবশালী এবং পাশাপাশি ইউপি সদস্য হওয়ায় ক্ষমতার অপব্যবহার সহ আইন-কানুনের তোয়াক্কা না করে এলাকায় একের পর এক অপরাধ, অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
সে বিভিন্ন অপরাধে জড়িত থাকায় তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে। শেওলা ইউনিয়ন ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের নামধারী দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী মাহমুদুল হাসান এরশাদ এর বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার আমলনামা তুলে ধরা হলো :-
বিয়ানীবাজার জিআর-০৯/১৯, নারী ও শিশু ৫১৬/১৯, ৫৬৯/২৩, সিআর ১৫৯/২১, জিআর ৬৮/১৮ইং নং মামলা গুলো সিলেটের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল আদালত সহ বিভিন্ন আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
ইতিমধ্যে একাধিক বার কারাভোগও করেছে আওয়ামীলীগ নামধারী দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী এরশাদ মেম্বার। সে অত্যন্ত জঘন্য ও ভয়ংকর প্রকৃতির লোক্ তৃণমূল পর্যায়ে আওয়ামীলীগ নামধারী এমন ঘৃণিত ইউপি মেম্বার দণ্ডপ্রাপ্ত আসামী এরশাদ এর কাছ থেকে জনসাধারণ সেবা পাওয়া তো দূরের কথা বরং ক্ষতি সাধিত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।




























