ঢাকা ০২:৫৫ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে নাগরিকদেরসম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি-সিসিক প্রশাসক হামে আক্রান্ত শিশুকে যা খাওয়াবেন পাকিস্তান ছাড়ল ইরানি প্রতিনিধিদল ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’ সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়: প্রধানমন্ত্রী হবিগঞ্জ চুনারুঘাটে বিজিবির অভিযানে সীমান্তে ৮টি ভারতীয় গরু জব্দ হবিগঞ্জ বাহুবলের হরিতলায় অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন , পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা জরিমানা ২১ হাজার টাকা,ভোজ্য তেলের সরবরাহ নিশ্চিতে র‍্যাব-৯ এর অভিযান, সিলেটে আটক যানবাহন ছেড়ে দিবে পুলিশ, মহানগর এলাকায় যানবাহনগুলো চালানো যাবে না সিলেটে সংস্কৃতি-যাত্রার ৩০ বছর উদযাপন করলো ‘চারুবাক’

৪০-জনের নাম খয়রাত করে বিজ্ঞাপন কেন দিতে হলো:প্রধানমন্ত্রী

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মার্চ ২০২৩ ২৫২ বার পড়া হয়েছে

শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড.মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে ৪০ বিশ্বনেতার দেওয়া খোলাচিঠি নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেছেন,দেশে কতগুলো আইন আছে।সে অনুযায়ী সব চলে।কেউ আইন ভঙ্গ করলে শ্রম আদালত সেটা দেখেন।এ ক্ষেত্রে সরকারপ্রধান হিসেবে আমার তো কিছু করার নেই। কাজেই এখানে আমাকেই বা কেন বলা হলো?তাও বিদেশি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কেন?কাতার সফর নিয়ে আজ সোমবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।সেখানে ইউএনবির সম্পাদক ফরিদ হোসেন প্রশ্ন করে বলেন,আপনি যখন কাতারে ছিলেন,তখন ৪০ জন বিদেশি নাগরিক একটি বিবৃতি বা আপিল করেছেন,সেটা আপনি পেয়েছেন কি না জানতে চাই।সেটা ওয়াশিংটন পোস্টে বিজ্ঞাপন হিসেবেও প্রকাশিত হয়েছে।এই বিবৃতি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য আশা করছি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আপনি একটা ভুল করছেন, সেটা ঠিক বিবৃতি নয়।এটা একটা অ্যাডভারটাইজমেন্ট (বিজ্ঞাপন)।৪০ জনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে,সেটা আমাদের বিশেষ একজন ব্যক্তির পক্ষে।এর উত্তর কী দেব, জানি না।তবে আমার একটা প্রশ্ন আছে,সেটা হলো, যিনি এত নামীদামি নোবেল প্রাইজপ্রাপ্ত,তাঁর জন্য এই ৪০ জনের নাম খয়রাত করে এনে অ্যাডভারটাইজমেন্ট দিতে হবে কেন?তাও আবার বিদেশি পত্রিকায়। বিজ্ঞাপন কেন দিতে হলো?দেশে কতগুলো আইন আছে,সে অনুযায়ী সব চলে এবং চলবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। আমরা শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ করি। যাঁরা ট্যাক্স ঠিকমতো দেয়,সেটা আলাদা বিভাগ আছে,ট্যাক্স আদায় করে।কেউ যদি এখন এ সমস্ত বিষয়ে কোনো রকম আইন ভঙ্গ করে বা শ্রমিকদের কোনো অধিকার কেড়ে নেয়,শ্রম আদালত আছে, সেটা দেখেন।

এ ক্ষেত্রে আমার তো কিছু করার নেই সরকারপ্রধান হিসেবে। কাজেই এখানে আমাকেই বা কেন বলা হলো?এর বাইরে আমি আর কী বলব?পদ্মা সেতু কিন্তু করে ফেলেছি। খালি এটুকু সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলাম,বলেন প্রধানমন্ত্রী।৭ মার্চ রাজনীতি,কূটনীতি,ব্যবসা,শিল্পকলা ও শিক্ষাক্ষেত্রের ৪০ বিশ্বনেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি খোলাচিঠি পাঠান।সেটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টে পূর্ণ পাতাজুড়ে বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশিত হয়।চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন,আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডির ছেলে টেড কেনেডি জুনিয়রের মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের নাম ছিল।

চিঠিতে বলা হয়,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,আমরা বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে আপনাকে লিখছি,যাঁরা আপনার দেশের জনগণের সাহস ও উদ্ভাবনী দক্ষতার প্রশংসা করে। আমাদের মধ্যে সরকারি কর্মচারী,ব্যবসায়ী,সুশীল সমাজের নেতা ও সমাজসেবক আছেন।বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মতো আমরাও বাংলাদেশে উদ্ভাবিত ও সারা বিশ্বে গৃহীত উদ্ভাবনগুলো দ্বারা অনুপ্রাণিত।আপনার দেশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই আমরা আপনাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের একজন,শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী ড.মুহাম্মদ ইউনূসের মহান অবদানকে সমর্থন ও স্বীকৃতি দিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে আপনাকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখছি।’

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

৪০-জনের নাম খয়রাত করে বিজ্ঞাপন কেন দিতে হলো:প্রধানমন্ত্রী

আপডেট সময় : ০৪:৩২:২৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ মার্চ ২০২৩

শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড.মুহাম্মদ ইউনূসকে নিয়ে ৪০ বিশ্বনেতার দেওয়া খোলাচিঠি নিয়ে কথা বলেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।তিনি বলেছেন,দেশে কতগুলো আইন আছে।সে অনুযায়ী সব চলে।কেউ আইন ভঙ্গ করলে শ্রম আদালত সেটা দেখেন।এ ক্ষেত্রে সরকারপ্রধান হিসেবে আমার তো কিছু করার নেই। কাজেই এখানে আমাকেই বা কেন বলা হলো?তাও বিদেশি পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দিয়ে কেন?কাতার সফর নিয়ে আজ সোমবার বিকেলে গণভবনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন।সেখানে ইউএনবির সম্পাদক ফরিদ হোসেন প্রশ্ন করে বলেন,আপনি যখন কাতারে ছিলেন,তখন ৪০ জন বিদেশি নাগরিক একটি বিবৃতি বা আপিল করেছেন,সেটা আপনি পেয়েছেন কি না জানতে চাই।সেটা ওয়াশিংটন পোস্টে বিজ্ঞাপন হিসেবেও প্রকাশিত হয়েছে।এই বিবৃতি সম্পর্কে আপনার মন্তব্য আশা করছি।

জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন,আপনি একটা ভুল করছেন, সেটা ঠিক বিবৃতি নয়।এটা একটা অ্যাডভারটাইজমেন্ট (বিজ্ঞাপন)।৪০ জনের নাম ব্যবহার করা হয়েছে,সেটা আমাদের বিশেষ একজন ব্যক্তির পক্ষে।এর উত্তর কী দেব, জানি না।তবে আমার একটা প্রশ্ন আছে,সেটা হলো, যিনি এত নামীদামি নোবেল প্রাইজপ্রাপ্ত,তাঁর জন্য এই ৪০ জনের নাম খয়রাত করে এনে অ্যাডভারটাইজমেন্ট দিতে হবে কেন?তাও আবার বিদেশি পত্রিকায়। বিজ্ঞাপন কেন দিতে হলো?দেশে কতগুলো আইন আছে,সে অনুযায়ী সব চলে এবং চলবে বলে মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী।তিনি বলেন, ‘আমাদের বিচার বিভাগ সম্পূর্ণরূপে স্বাধীন। আমরা শ্রমিকদের অধিকার সংরক্ষণ করি। যাঁরা ট্যাক্স ঠিকমতো দেয়,সেটা আলাদা বিভাগ আছে,ট্যাক্স আদায় করে।কেউ যদি এখন এ সমস্ত বিষয়ে কোনো রকম আইন ভঙ্গ করে বা শ্রমিকদের কোনো অধিকার কেড়ে নেয়,শ্রম আদালত আছে, সেটা দেখেন।

এ ক্ষেত্রে আমার তো কিছু করার নেই সরকারপ্রধান হিসেবে। কাজেই এখানে আমাকেই বা কেন বলা হলো?এর বাইরে আমি আর কী বলব?পদ্মা সেতু কিন্তু করে ফেলেছি। খালি এটুকু সবাইকে স্মরণ করিয়ে দিলাম,বলেন প্রধানমন্ত্রী।৭ মার্চ রাজনীতি,কূটনীতি,ব্যবসা,শিল্পকলা ও শিক্ষাক্ষেত্রের ৪০ বিশ্বনেতা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে একটি খোলাচিঠি পাঠান।সেটি যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাবশালী পত্রিকা ওয়াশিংটন পোস্টে পূর্ণ পাতাজুড়ে বিজ্ঞাপন হিসেবে প্রকাশিত হয়।চিঠিতে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটন, দেশটির সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট আল গোর, জাতিসংঘের সাবেক মহাসচিব বান কি মুন,আয়ারল্যান্ডের সাবেক প্রেসিডেন্ট মেরি রবিনসন, প্রয়াত মার্কিন সিনেটর এডওয়ার্ড এম কেনেডির ছেলে টেড কেনেডি জুনিয়রের মতো আন্তর্জাতিক ব্যক্তিত্বদের নাম ছিল।

চিঠিতে বলা হয়,মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,আমরা বাংলাদেশের বন্ধু হিসেবে আপনাকে লিখছি,যাঁরা আপনার দেশের জনগণের সাহস ও উদ্ভাবনী দক্ষতার প্রশংসা করে। আমাদের মধ্যে সরকারি কর্মচারী,ব্যবসায়ী,সুশীল সমাজের নেতা ও সমাজসেবক আছেন।বিশ্বের কোটি কোটি মানুষের মতো আমরাও বাংলাদেশে উদ্ভাবিত ও সারা বিশ্বে গৃহীত উদ্ভাবনগুলো দ্বারা অনুপ্রাণিত।আপনার দেশের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা থেকেই আমরা আপনাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিকদের একজন,শান্তিতে নোবেল পুরস্কারজয়ী ড.মুহাম্মদ ইউনূসের মহান অবদানকে সমর্থন ও স্বীকৃতি দিতে ইতিবাচক পদক্ষেপ নিতে আপনাকে অনুরোধ জানিয়ে চিঠি লিখছি।’