সিলেটে কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি আজ
- আপডেট সময় : ০৪:২৮:১৯ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬ ৮ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার :
জলাতঙ্ক রোগ থেকে নগরবাসীকে সুরক্ষা দিতে গত সোমবার (১২ অক্টোবর) সিলেটে শুরু হচ্ছে কুকুরের টিকাদান কর্মসূচি।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সহযোগিতা করবে প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর। নগরের ৪২টি ওয়ার্ডে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে। বেওয়ারিশ কুকুর ছাড়াও ব্যক্তিগত কুকুরও টিকাদানের আওতায় আসবে। টিকাদানের পর প্রতিটি কুকুরকে রঙ দিয়ে চিহ্নিত করা হবে; যাতে একটি কুকুরও টিকা থেকে বাদ না পড়ে।
সোমবার সকাল ১১টায় নগরের মির্জাজাঙ্গালে অবস্থিত জেলা ভেটেরিনারি হাসপাতালে এ কার্যক্রমের উদ্বোধন করা হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
প্রতিটি কুকুরকে জলাতঙ্কের টিকা প্রদান করা সম্ভব হলে মানুষের মধ্যে জলাতঙ্ক সংক্রমণের ঝুঁকি অনেকটাই কমবে বলে জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. মো. জাহিদুল ইসলাম। প্রাথমিকভাবে চার হাজার কুকুরকে টিকাদানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে বলে তিনি জানিয়েছেন।
তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ উদ্বোধনকালে সিসিক প্রশাসক
উপযুক্ত পরিবারগুলো যেন ফ্যামিলি কার্ড পায়।
ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সুবিধা যাতে প্রকৃত উপযুক্ত পরিবারগুলোর কাছে পৌঁছায়, তা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহের ক্ষেত্রে নির্ভুলতা, নিরপেক্ষতা ও দায়িত্বশীলতা বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
তিনি বলেছেন, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা দল-মত বিবেচনা না করে যোগ্য পরিবারগুলোকে চিহ্নিত করতে হবে। তথ্য সংগ্রহ ও যাচাইয়ে ভুলভ্রান্তি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনতে হবে, যাতে সরকারি অর্থে পরিচালিত এ কর্মসূচির সুফল প্রকৃত উপযুক্ত ব্যক্তিদের কাছে পৌঁছায়।
রোববার (১১ অক্টোবর) দুপুরে নগরীর শেখঘাটে সমাজসেবা কমপ্লেক্সে ফ্যামিলি কার্ড বাস্তবায়নের লক্ষ্যে মাঠপর্যায়ের তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের প্রশিক্ষণ কর্মসূচির উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। শহর সমাজসেবা কার্যালয় এ প্রশিক্ষণের আয়োজন করে।
আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতির অংশ। নির্বাচনের আগে বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি বাস্তবায়নের অঙ্গীকার করা হয়েছিল। জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে সরকার গঠনের পর সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। দেশের বিভিন্ন জেলা, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ইতোমধ্যে এ কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়েছে। সিলেটে কিছুটা দেরিতে কার্যক্রম শুরু হলেও তা সুষ্ঠু ও সফলভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে।
তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজারদের উদ্দেশে সিসিক প্রশাসক বলেন, উপযুক্ত ব্যক্তি ও পরিবারকে চিহ্নিত করে তাদের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়াই এ কর্মসূচির মূল লক্ষ্য। এ জন্য মাঠপর্যায়ে দায়িত্বপ্রাপ্তদের সম্পূর্ণ নিরপেক্ষতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করতে হবে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ফ্যামিলি কার্ড বিতরণে তথ্যের নির্ভুলতার ওপর বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছেন। তাই তথ্য সংগ্রহ, যাচাই-বাছাই ও তালিকা প্রণয়নের প্রতিটি ধাপে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে।
তিনি বলেন, এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে সরকার উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করছে। প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার মাধ্যমে নির্বাচিত হয়ে তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজাররা এ দায়িত্ব পেয়েছেন। কয়েকশ প্রার্থীর মধ্য থেকে বাছাই হয়ে আসা এসব কর্মীকে মাঠপর্যায়ের কাজে নিজেদের মেধা, যোগ্যতা ও দায়িত্বশীলতার পরিচয় দিতে হবে।
নারীর ক্ষমতায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়ে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিতে নারীদের বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে নারীরা পরিবার ও সমাজে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখার সুযোগ পাবেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা সমাজসেবা কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. আব্দুর রফিক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন শহর সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. শাহিনুর আলম। সমাজসেবা কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা ও প্রশিক্ষকরা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
















