ঢাকা ০৮:৪২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৫ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান পরিচ্ছন্ন নগর গড়তে নাগরিকদেরসম্মিলিত সহযোগিতা জরুরি-সিসিক প্রশাসক হামে আক্রান্ত শিশুকে যা খাওয়াবেন পাকিস্তান ছাড়ল ইরানি প্রতিনিধিদল ‘হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি ইরানের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে’ সশস্ত্র বাহিনী কোনো ব্যক্তি, দল বা পরিবারের সম্পদ নয়: প্রধানমন্ত্রী হবিগঞ্জ চুনারুঘাটে বিজিবির অভিযানে সীমান্তে ৮টি ভারতীয় গরু জব্দ হবিগঞ্জ বাহুবলের হরিতলায় অবৈধ সিলিকা বালু উত্তোলন , পরিবেশ বিপর্যয়ের শঙ্কা জরিমানা ২১ হাজার টাকা,ভোজ্য তেলের সরবরাহ নিশ্চিতে র‍্যাব-৯ এর অভিযান, সিলেটে আটক যানবাহন ছেড়ে দিবে পুলিশ, মহানগর এলাকায় যানবাহনগুলো চালানো যাবে না সিলেটে সংস্কৃতি-যাত্রার ৩০ বছর উদযাপন করলো ‘চারুবাক’

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা সাঈদীর চিকিৎসা নিয়ে যা বলল বিএসএমএমইউ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৩ ১৪১ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন: অনলাইন সংস্করণ

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চিকিৎসা যথাযথ প্রটোকল মেনেই হয়েছে বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে সাঈদীর রোগের ধরন, চিকিৎসা ও সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে তার ছেলে মাসুদ সাঈদী অবগত ছিলেন বলেও জানিয়েছে তারা।বুধবার বিএসএমএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

সাঈদীর চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত এক চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকির পর সাধারণ ডায়েরির (জিডি) প্রেক্ষাপটে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরল।এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের অধ্যাপক এসএম মোস্তফা জামান ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেন। এরপর সাঈদীর চিকিৎসা নিয়ে বুধবার বেলা তিনটায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে পরে তা বাতিল করে বিএসএমএমইউ। বিকালে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৮৪ বছর বয়সী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ১৩ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টায় বিএসএমএমইউর জরুরি বিভাগে আনা হয়। তার ভর্তি থেকে শুরু করে পরবর্তী সব চিকিৎসা বিধিসম্মতভাবে আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিস অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়। তার চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকরা সঠিকভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। পরদিন ১৪ আগস্ট বিকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে তার সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। অ্যাডভান্স কার্ডিয়াক লাইফ সাপোর্ট প্রটোকল অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলতে থাকে; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাত ৮টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। এই রোগের গতিপ্রকৃতি, চিকিৎসা ও সম্ভাব্য পরবর্তী পরণতি সম্পর্কে তার সন্তান মাসুদ সাঈদী অবগত আছেন।রোববার কাশিমপুর কারাগারে বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে সাঈদীকে গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। সেখানে হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক চৌধুরী মেশকাত আহমেদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ আগস্ট রাত ৮টা ৪০ মিনিটে মৃত্যু হয় সাঈদীর। তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলে ছিলেন ডা. এসএম মোস্তফা জামান।

এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় ডা. মোস্তফা জামানকে। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেন ডা. মোস্তফা। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘কতিপয় ব্যক্তি’ সামাজিক মাধ্যম এবং ইউটিউবে বিভিন্ন আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ করছে। মেসেঞ্জারে বিভিন্ন গ্রুপে এবং ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডিতে ‘ভয়-ভীতি’ দেখাচ্ছে এবং ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দিচ্ছে। তাতে তিনি ‘ভীত, শঙ্কিত’।থানায় জিডির পর সাংবাদিকদের মোস্তফা জামান বলেন- হাসপাতালে যে রোগীই আসুক, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষ সবাইকে সমান চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা পেশার যে মূল আদর্শ, সেটাকে সমুন্নত রেখেই সেবা করেন তারা। এখানেও (সাঈদীর ক্ষেত্রে) সেইমতো কাজ করা হয়েছে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি এবং আমরা রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছি, কোনো ভুল চিকিৎসা বা অপচিকিৎসার যেরকম প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে, সেরকম হয়নি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা সাঈদীর চিকিৎসা নিয়ে যা বলল বিএসএমএমইউ

আপডেট সময় : ০২:৩৩:২৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৬ অগাস্ট ২০২৩

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন: অনলাইন সংস্করণ

একাত্তরে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্ত জামায়াত নেতা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর চিকিৎসা যথাযথ প্রটোকল মেনেই হয়েছে বলে জানিয়েছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ) কর্তৃপক্ষ। হাসপাতালে ভর্তি থাকাকালে সাঈদীর রোগের ধরন, চিকিৎসা ও সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে তার ছেলে মাসুদ সাঈদী অবগত ছিলেন বলেও জানিয়েছে তারা।বুধবার বিএসএমএমইউর রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ডা. মোহাম্মদ হাফিজুর রহমানের স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব কথা জানানো হয়েছে।

সাঈদীর চিকিৎসার সঙ্গে জড়িত এক চিকিৎসককে প্রাণনাশের হুমকির পর সাধারণ ডায়েরির (জিডি) প্রেক্ষাপটে বিএসএমএমইউ কর্তৃপক্ষ তাদের বক্তব্য তুলে ধরল।এর আগে মঙ্গলবার রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের হৃদরোগ বিভাগের অধ্যাপক এসএম মোস্তফা জামান ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেন। এরপর সাঈদীর চিকিৎসা নিয়ে বুধবার বেলা তিনটায় সংবাদ সম্মেলন ডেকে পরে তা বাতিল করে বিএসএমএমইউ। বিকালে গণমাধ্যমে সংবাদ বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ৮৪ বছর বয়সী দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীকে ১৩ আগস্ট রাত সাড়ে ১০টায় বিএসএমএমইউর জরুরি বিভাগে আনা হয়। তার ভর্তি থেকে শুরু করে পরবর্তী সব চিকিৎসা বিধিসম্মতভাবে আন্তর্জাতিক প্র্যাকটিস অনুসরণ করে সম্পন্ন হয়। তার চিকিৎসার দায়িত্বে নিয়োজিত বিশেষজ্ঞ অধ্যাপকরা সঠিকভাবে তাদের পেশাগত দায়িত্ব পালন করেন। পরদিন ১৪ আগস্ট বিকাল ৬টা ৪৫ মিনিটে তার সাডেন কার্ডিয়াক অ্যারেস্ট হয়। অ্যাডভান্স কার্ডিয়াক লাইফ সাপোর্ট প্রটোকল অনুযায়ী তার চিকিৎসা চলতে থাকে; কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত রাত ৮টা ৪০ মিনিটে তিনি মারা যান। এই রোগের গতিপ্রকৃতি, চিকিৎসা ও সম্ভাব্য পরবর্তী পরণতি সম্পর্কে তার সন্তান মাসুদ সাঈদী অবগত আছেন।রোববার কাশিমপুর কারাগারে বন্দি অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে সাঈদীকে গাজীপুরের তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। পরে বিএসএমএমইউতে আনা হয়। সেখানে হৃদরোগ বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক চৌধুরী মেশকাত আহমেদের তত্ত্বাবধানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৪ আগস্ট রাত ৮টা ৪০ মিনিটে মৃত্যু হয় সাঈদীর। তার চিকিৎসার দায়িত্বে থাকা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দলে ছিলেন ডা. এসএম মোস্তফা জামান।

এরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয় ডা. মোস্তফা জামানকে। এর প্রেক্ষিতে মঙ্গলবার রাতে ধানমণ্ডি থানায় জিডি করেন ডা. মোস্তফা। জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, ‘কতিপয় ব্যক্তি’ সামাজিক মাধ্যম এবং ইউটিউবে বিভিন্ন আইডি থেকে তার বিরুদ্ধে ‘অপপ্রচার’ করছে। মেসেঞ্জারে বিভিন্ন গ্রুপে এবং ফেসবুকে তার ব্যক্তিগত আইডিতে ‘ভয়-ভীতি’ দেখাচ্ছে এবং ‘প্রাণনাশের হুমকি’ দিচ্ছে। তাতে তিনি ‘ভীত, শঙ্কিত’।থানায় জিডির পর সাংবাদিকদের মোস্তফা জামান বলেন- হাসপাতালে যে রোগীই আসুক, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র, রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষ সবাইকে সমান চিকিৎসা দেওয়া হয়। চিকিৎসা পেশার যে মূল আদর্শ, সেটাকে সমুন্নত রেখেই সেবা করেন তারা। এখানেও (সাঈদীর ক্ষেত্রে) সেইমতো কাজ করা হয়েছে কোনো ব্যত্যয় ঘটেনি এবং আমরা রোগীকে সর্বোচ্চ চিকিৎসা দিয়েছি, কোনো ভুল চিকিৎসা বা অপচিকিৎসার যেরকম প্রপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে, সেরকম হয়নি।