সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ
- আপডেট সময় : ১২:২১:৩৫ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬ ৪ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার :
সিলেটে সালমান শাহর মরদেহ উত্তোলনের ব্যাপারে আদালতের আদেশ এখনও আসেনি। আদালতের নির্দেশনার কোন কাগজপত্র না আসায় কবর থেকে সালমান শাহ’র মরদেহ উত্তোলনের আনুষ্ঠানিকতা অনেকটা থমকে আছে। চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের জন্য মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানার আদালত গত ২৪ মে এই আদেশ দেন।
সালমান শাহর জন্ম ১৯৭১ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলায়। সালমানের দাদার বাড়ি সিলেট শহরের শেখঘাটে আর নানার বাড়ি দাঁড়িয়াপাড়ায়। নানার বাড়ির নাম এখন ‘সালমান শাহ হাউস’।
সিলেটের অতিরিক্ত ম্যাজিস্ট্রেট পিংকি সাহা জানান, চিত্রনায়ক সালমান শাহ’র মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করার জন্য আদালত আদেশ দিয়েছিলেন বলে শুনেছি। কিন্তু এখনও আমাদের কাছে কোন আদেশের কাগজপত্র আসেনি।
আদালত সূত্র জানায়, গত ২০ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) পরিদর্শক (নিরস্ত্র) মো. জিয়াউল মোর্শেদ সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন, সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং এ কাজে একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োগের আবেদন করেন।
পুলিশের আবেদনে বলা হয়, মামলার বাদী মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম আদালতে জানান, তিনি সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে আবেদনটি করেছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে নীলা চৌধুরী, তাঁর স্বামী প্রয়াত কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ছেলে শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের ইস্কাটন প্লাজায় সালমান শাহর বাসায় যান। সেখানে স্ত্রী সামিরা হক ও গৃহকর্মী আবুল তাঁদের জানান, সালমান শাহ ঘুমিয়ে আছেন। পরে তাঁরা গ্রিন রোডের বাসায় ফিরে যান।
বাদী আরও জানান, এর কিছু সময় পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে ফোন করে জানানো হয়, তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হয়েছে। দ্রুত বাসায় গিয়ে তাঁরা দেখেন, সালমান শাহ শয়নকক্ষের খাটের ওপর অচেতন অবস্থায় পড়ে আছেন। পরে তাঁকে প্রথমে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। ময়নাতদন্ত শেষে তাঁকে সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারসংলগ্ন কবরস্থানে দাফন করা হয়। ওই দিনই রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছিল।
পুলিশের আবেদনে আরও বলা হয়, ঘটনার প্রায় ২৯ বছর পর আদালতের নির্দেশে রমনা থানায় হত্যা মামলা দায়ের হয়েছে। মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সালমান শাহর মরদেহ আবার কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত, ময়নাতদন্ত সম্পন্ন এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিবেদন পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।
সালমান শাহ ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর মারা যান। দীর্ঘদিন ধরে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ নিয়ে নানা জল্পনা রয়েছে। ২৯ বছর পর গত ২০ অক্টোবর মধ্যরাতে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তাঁর ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম রমনা থানায় হত্যা মামলা মামলা করেন।
এ মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, সামিরার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী আজিজ মোহাম্মদ ভাই, চলচ্চিত্র অভিনেতা ডন, ডেভিড, জাভেদ, ফারুক, রুবী, আ. ছাত্তার, সাজু ও রেজভি আহমেদ ওরফে ফরহাদকে আসামি করা হয়।























