সিলেটে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠন
- আপডেট সময় : ১১:১৪:১৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ ডিসেম্বর ২০২৫ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে
নিজস্ব প্রতিবেদক :
‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫ অধ্যাদেশের ১৩ ধারায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে সিলেটে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠন করেছে সরকার। এসব ট্রাইব্যুনালে গুমের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বিচার হবে। ইতোমধ্যে আইন মন্ত্রণালয়ের আইন ও বিচার বিভাগ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করেছে।
এদিকে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ। ফলে গুম হওয়া ব্যক্তি অন্যূন ৫ বছর ধরে গুম থাকলে এবং জীবিত ফিরে না এলে ট্রাইবুন্যাল তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ডিসাপিয়ার্ড’ বা ‘গুম’ ঘোষণা করতে পারবে।
আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের স্পেশাল কনসালট্যান্ট ব্যারিস্টার তানিম হোসেন শাওন বলেন, গুমের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলা গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনালে বিচার হবে। তবে অভিযোগটি যদি মানবতাবিরোধী অপরাধ হয়, তাহলে সেটির বিচার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে হবে।
জানা যায়, বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলী ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল রাজধানী থেকে গাড়িচালক আনসার আলীসহ গুম হন। ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকার উত্তরা থেকে গুম হন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার ও তার বন্ধু ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদ।
আইন মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেন, আইন অনুযায়ী এখন গুম কমিশন মানে মানবাধিকার কমিশন। কিন্তু এই কমিশন গঠন করতে সময় লাগবে। এমন প্রেক্ষাপটে সরকার গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনালগুলোকে দ্রুত কার্যকর করার উদ্যোগ নিয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আটটি ট্রাইব্যুনাল গঠিত হয়েছে। ওই কর্মকর্তা আরও বলেন, গুমের শিকার ব্যক্তিদের পরিবার যাতে গুম হওয়া ব্যক্তির সম্পদ ব্যবহার করতে পারেন, ওয়ারিশ সনদ পেতে পারেন এবং গুম হওয়া ব্যক্তির ব্যাংক অ্যাকাউন্ট থেকে অর্থ উত্তোলন করতে পারেন এ জন্য আইন সংশোধন করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার উপদেষ্টা পরিষদ গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৫ এর খসড়া নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দিয়েছে।
গুমের মামলা বিচারে আট বিভাগে আটটি গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল গঠন এবং ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারধীন এলাকাও নির্ধারণ করা হয়েছে।
আটটি ট্রাইব্যুনাল হলো- গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল (সিলেট বিভাগ মেট্রো এলাকাসহ),গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল, ঢাকা ( ঢাকা বিভাগ মেট্রো এলাকাসহ), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল, চট্টগ্রাম (চট্টগ্রাম বিভাগ মেট্রো এলাকাসহ), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল, ময়মনসিংহ (ময়মনসিংহ বিভাগ মেট্রো এলাকাসহ), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল, রাজশাহী (রাজশাহী বিভাগ মেট্রো এলাকাসহ) গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল, রংপুর (রংপুর বিভাগ মেট্রো এলাকাসহ), গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল, খুলনা (খুলনা বিভাগ মেট্রো এলাকাসহ), বরিশাল গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনাল এবং বরিশাল (বরিশাল বিভাগ মেট্রো এলাকাসহ)।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার নিশ্চিত করতে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনালে গুমের যে কোনো মামলা অভিযোগ গঠনের ১২০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করতে বাধ্যবাধকতা দেওয়া হয়েছে। আইন মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী সপ্তাহে গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার ট্রাইব্যুনালে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু হবে। এ ছাড়া ট্রাইব্যুনালের কার্যালয়সহ অন্যান্য কার্যক্রমও দ্রুত শেষ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
জানা যায়, ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ ২০২৫ এর ১৩ এবং ২৩ ধারার ৩, ৪ ও ৫ উপধারার সংশোধনের খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেয়। অধ্যাদেশ অনুযায়ী ‘গুম হওয়া ব্যক্তি’ অর্থ সেই ব্যক্তি, যিনি গুম কমিশনের অনুসন্ধান কার্যক্রমে, অথবা অত্র অধ্যাদেশ বা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের অধীন দায়েরকৃত কোনো মামলায় গৃহীত তদন্ত প্রতিবেদনে বা প্রদত্ত রায়ে গুম হয়েছেন- মর্মে সাব্যস্ত হয়েছেন এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃক এই ধারার অধীন আদেশ প্রদানের পূর্ব পর্যন্ত জীবিত ফিরে আসেনি- এমন ব্যক্তিকে বোঝাবে।
গত ১ ডিসেম্বর সরকার গুমের অভিযোগের বিচারের জন্য ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ-২০২৫’ নামে অধ্যাদেশ প্রণয়ন করে। এতে কাউকে গুম করে হত্যার দায়ে সর্বোচ্চ মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশ অনুযায়ী, গুমকে চলমান অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করে এর সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে। গোপন আটক কেন্দ্র, যা ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত, স্থাপন ও ব্যবহারকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ ঘোষণা করা হয়েছে। জাতীয় মানবাধিকার কমিশনকে গুম-সংক্রান্ত অভিযোগ গ্রহণ ও তদন্ত করার ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে।























