সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

চাঁদাবাজির কারণে একদল ঘৃণা কুঁড়িয়েছে, আরেকদল সর্ব শক্তি নিয়ে নেমেছে – ড. শফিকুর রহমান

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫ ৪৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

চাঁদাবাজির কারণে একদল ঘৃণা কুড়িয়েছে, আরেকদল সর্ব শক্তি নিয়ে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মানুষ এখনো সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেননি। ফ্যাসিস্টরা দেশ থেকে পালালেও ফ্যাসিজমের কালো ছায়া এখনো কাটেনি। একদল অপকর্ম করে পালিয়েছে, আরেকদল সেই অপকর্মের দায় কাঁধে তুলে নিয়েছে। কেউ চাঁদাবাজি করে জনগণের ক্ষোভের কারণ হয়েছে, আবার কেউ আরও বেশি শক্তি নিয়ে একই কাজ করছে। একদল দখলদার হয়ে জনগণের ঘৃণা কুড়িয়েছে, আর আরেকদল বেপরোয়া দখলদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে ইসলামী ও সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমীর আব্দুল বাছিত আজাদ।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন দেশব্যাপী হত্যা–নির্যাতনের তাণ্ডব চালিয়েছিল, তখন সিলেটবাসী তাদের লাল কার্ড দেখিয়েছিল। পরবর্তীতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। বর্গিরা চলে যাওয়ার পরও দেশে যারা সুযোগ পেয়েছে, তারা জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। কেউ দেশে–বিদেশে ‘বেগম পাড়া’ বানিয়েছে, কেউ পালাতে গিয়ে খাল–বিলে লুকিয়েছে, আবার কেউ সিলেটবাসীর কাছে ধরা খেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘একসময় বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও আলেম–ওলামাদের জেল, নির্যাতন, ফাঁসি ও দেশছাড়া করার যে প্রবণতা ছিল, তা এখনো বন্ধ হয়নি। যারা আমাদের বিভিন্ন দেশের ভয় দেখাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই—আমরা কাউকে ভয় পাই না, কাউকে পাত্তাও দিই না।

চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারাই চাঁদাবাজি করছেন, দখলবাজি করছেন, মানুষের উপর জুলম করছেন তারা এসব বন্ধ করুন। নয়তো অচিরেই আপনাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর যারা এই বাংলাদেশকে জিম্মি করে রেখেছিল, আজ তারা নিজেরা নিজেদের কাছে নিরাপদ নয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ তারা নিজেরা নিজেদের খেয়ে ফেলছে। লক্ষ লক্ষ দলীয় নেতাকর্মী যুগ যুগ ধরে তাদের জীবনকে বিপন্ন করেছে জেলের মধ্যে।’ তিনি ৫দফা দাবির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল, জুলাই- ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান। দেশকে সুন্দর করার জন্য সংস্কার করা হবে। এই গুমকারীদের, খুনিদের, টাকা পাচারকারীদের দৃশ্যমান বিচার হবে এবং পরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু আজকে আমরা হতোবাক! আমাদের সংস্কারে বাধা। অপরাধীদের দৃশ্যমান বিচারে বাধা দেয়া হচ্ছে। একদল পাগল হয়ে গেছে, নির্বাচনকে পেছানোর জন্যে। যতই শয়তানির পরিকল্পনা করবেন ততোই আপনারা বাংলাদেশের জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন।

বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়ন-নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে খেলাফতে মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তি বিতাড়িত হওয়ার পরও বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির বাংলাদেশি কিরণরা আবারও নতুন ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দিতে চাইছে। বাংলার মাটিতে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদকে জায়গা দেওয়া হবে না। এই দেশের ইসলামী আন্দোলনের নেতারা রক্ত দিয়েছেন, ফাঁসির কাস্টে উঠেছেন, কিন্তু অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেন নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচন শুধু প্রতীক নির্বাচন নয়, এটি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক ধরনের গণভোটও। তাই আট দলের নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানের শেষে সকলে দেশ ও জাতীর কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চাঁদাবাজির কারণে একদল ঘৃণা কুঁড়িয়েছে, আরেকদল সর্ব শক্তি নিয়ে নেমেছে – ড. শফিকুর রহমান

আপডেট সময় : ১২:৫১:০৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার :

চাঁদাবাজির কারণে একদল ঘৃণা কুড়িয়েছে, আরেকদল সর্ব শক্তি নিয়ে নেমেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ড. শফিকুর রহমান। তিনি বলেছেন, ‘বাংলাদেশের স্বাধীনতার ৫৪ বছর পেরিয়ে গেলেও দেশের মানুষ এখনো সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে পারেননি। ফ্যাসিস্টরা দেশ থেকে পালালেও ফ্যাসিজমের কালো ছায়া এখনো কাটেনি। একদল অপকর্ম করে পালিয়েছে, আরেকদল সেই অপকর্মের দায় কাঁধে তুলে নিয়েছে। কেউ চাঁদাবাজি করে জনগণের ক্ষোভের কারণ হয়েছে, আবার কেউ আরও বেশি শক্তি নিয়ে একই কাজ করছে। একদল দখলদার হয়ে জনগণের ঘৃণা কুড়িয়েছে, আর আরেকদল বেপরোয়া দখলদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।

শনিবার (৬ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেটের আলিয়া মাদরাসা মাঠে ইসলামী ও সমমনা আট দলের বিভাগীয় সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন খেলাফত মজলিসের আমীর আব্দুল বাছিত আজাদ।

ড. শফিকুর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ যখন দেশব্যাপী হত্যা–নির্যাতনের তাণ্ডব চালিয়েছিল, তখন সিলেটবাসী তাদের লাল কার্ড দেখিয়েছিল। পরবর্তীতে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় থেকেও তাদের বিদায় নিতে হয়েছে। বর্গিরা চলে যাওয়ার পরও দেশে যারা সুযোগ পেয়েছে, তারা জনগণের সম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে। কেউ দেশে–বিদেশে ‘বেগম পাড়া’ বানিয়েছে, কেউ পালাতে গিয়ে খাল–বিলে লুকিয়েছে, আবার কেউ সিলেটবাসীর কাছে ধরা খেয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘একসময় বিরোধী রাজনৈতিক নেতা ও আলেম–ওলামাদের জেল, নির্যাতন, ফাঁসি ও দেশছাড়া করার যে প্রবণতা ছিল, তা এখনো বন্ধ হয়নি। যারা আমাদের বিভিন্ন দেশের ভয় দেখাচ্ছেন, তাদের উদ্দেশে বলতে চাই—আমরা কাউকে ভয় পাই না, কাউকে পাত্তাও দিই না।

চাঁদাবাজ ও দখলবাজদের হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা যারাই চাঁদাবাজি করছেন, দখলবাজি করছেন, মানুষের উপর জুলম করছেন তারা এসব বন্ধ করুন। নয়তো অচিরেই আপনাদের কঠিন পরিণতি ভোগ করতে হবে।

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, ‘বিগত ১৭ বছর যারা এই বাংলাদেশকে জিম্মি করে রেখেছিল, আজ তারা নিজেরা নিজেদের কাছে নিরাপদ নয়। দীর্ঘ ১৭ বছর পর আজ তারা নিজেরা নিজেদের খেয়ে ফেলছে। লক্ষ লক্ষ দলীয় নেতাকর্মী যুগ যুগ ধরে তাদের জীবনকে বিপন্ন করেছে জেলের মধ্যে।’ তিনি ৫দফা দাবির কথা উল্লেখ করে বলেন, ‘আমাদের দাবি ছিল, জুলাই- ৫ আগস্টের অভ্যুত্থান। দেশকে সুন্দর করার জন্য সংস্কার করা হবে। এই গুমকারীদের, খুনিদের, টাকা পাচারকারীদের দৃশ্যমান বিচার হবে এবং পরে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে। কিন্তু আজকে আমরা হতোবাক! আমাদের সংস্কারে বাধা। অপরাধীদের দৃশ্যমান বিচারে বাধা দেয়া হচ্ছে। একদল পাগল হয়ে গেছে, নির্বাচনকে পেছানোর জন্যে। যতই শয়তানির পরিকল্পনা করবেন ততোই আপনারা বাংলাদেশের জনগন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাবেন।

বাংলাদেশে ইসলাম প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নেতাকর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে নিপীড়ন-নির্যাতন ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন উল্লেখ করে খেলাফতে মজলিসের আমীর মাওলানা মামুনুল হক বলেছেন, ‘জুলাই বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদী শক্তি বিতাড়িত হওয়ার পরও বিদেশি আধিপত্যবাদী শক্তির বাংলাদেশি কিরণরা আবারও নতুন ফ্যাসিবাদ চাপিয়ে দিতে চাইছে। বাংলার মাটিতে নতুন কোনো ফ্যাসিবাদকে জায়গা দেওয়া হবে না। এই দেশের ইসলামী আন্দোলনের নেতারা রক্ত দিয়েছেন, ফাঁসির কাস্টে উঠেছেন, কিন্তু অন্যায়ের সামনে মাথা নত করেন নি।’ তিনি আরও বলেন, ‘আগামী নির্বাচন শুধু প্রতীক নির্বাচন নয়, এটি ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এক ধরনের গণভোটও। তাই আট দলের নেতাকর্মীদের ঘরে ঘরে গিয়ে জনগণকে দলীয় প্রতীকের পাশাপাশি ‘হ্যাঁ’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। অনুষ্ঠানের শেষে সকলে দেশ ও জাতীর কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয়।