সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে হামের উপসর্গে প্রাণ গেল তিন শিশুর সিলেটে শুভ উপনয়ন-সংস্কার অনুষ্ঠান ১৯ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান; যুবক আটক সিসিকের প্রশাসককে স্মারক উপহার দিল ইউএস বাংলা  সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলারপ্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি

ওসমানীনগরে দাফনের ১৭ দিন পর কিশোরকে জীবিত উদ্ধার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫ ৬২ বার পড়া হয়েছে

ওসমানীনগর প্রতিনিধি :

সিলেটের ওসমানীনগরের এক কিশোরকে ‘দাফনের’ ১৭ দিন পর জীবিত অবস্থায় তার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে কুলাউড়া থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া কিশোরের নাম রবিউল ইসলাম নাঈম (১৪)। সে উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গদিয়ারচর গ্রামের কনাই মিয়ার ছেলে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আফছার। 

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সে জীবিত থাকলেও বিনা অপরাধে হত্যা মামলার প্রধান আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বগুড়ার শিবগঞ্জের বাসিন্দা বুলবুল ফকির। 

জানা যায়, ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় বুলবুল ফকিরের রেস্টুরেন্টে কাজ করত নাঈম। গত ২৪ জুলাই সে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। নাঈমের মা ছেলেকে নিখোঁজ উল্লেখ করে ওসমনীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানা এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত কিশোরের লাশ উদ্ধার হয়। সেই লাশটি নাঈমের বলে চিহ্নিত করে পুলিশের কাছ থেকে গ্রহণ করে তার পরিবার। পরে ৫ আগস্ট তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এদিকে প্রথমে কুলাউড়া ও পরে ওসমানীনগর থানায় মামলা করতে চাইলে দুই থানার পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৬ আগস্ট লাশ নিয়ে রবিউলের মা ও স্বজনরা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

এ ঘটনায় রবিউলের পরিবারের পক্ষ থেকে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রধান আসামি দোকান মালিক বুলবুল ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত তিনি এ মামলায় কারাভোগ করছেন। 

অবশেষে শুক্রবার (২২ আগস্ট) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় রবিউলকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় তার নানার বাড়ি। পরিবারের লোকজনই তাকে খুঁজে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার এসআই মুস্তাফিজুর রহমান রবিউলকে থানায় নিয়ে আসেন শনিবার। এদিনই মৌলভীবাজার আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠায়।

কিশোরকে জীবিত অবস্থায় আত্মীয় বাড়ি থেকে উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, মিথ্যা অপবাদে একজন নিরপরাধ মানুষ হাজতবাস করছে, যা অন্যায়।

কুলাউড়া থানার এসআই মুস্তাফিজ বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে কিশোর নাঈমকে তার আত্মীয় জুবেলের বাড়ি থেকে উদ্ধার করার পর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিশোরের মা এবং মামা আদালতে রয়েছেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, রবিউল আত্মগোপনে ছিল। পরিবারের সদস্যরা তাকে পেয়ে খবর দেওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে নেয়।

তিনি বলেন, আগের লাশ উদ্ধার ও দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে জানতে নাঈমের পরিবারের একাধিক সদস্যের সাথে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ওসমানীনগরে দাফনের ১৭ দিন পর কিশোরকে জীবিত উদ্ধার

আপডেট সময় : ১১:১৯:৪৪ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৪ অগাস্ট ২০২৫

ওসমানীনগর প্রতিনিধি :

সিলেটের ওসমানীনগরের এক কিশোরকে ‘দাফনের’ ১৭ দিন পর জীবিত অবস্থায় তার আত্মীয়ের বাড়ি থেকে উদ্ধার করেছে কুলাউড়া থানার পুলিশ। উদ্ধার হওয়া কিশোরের নাম রবিউল ইসলাম নাঈম (১৪)। সে উপজেলার গোয়ালাবাজার ইউনিয়নের গদিয়ারচর গ্রামের কনাই মিয়ার ছেলে।

শনিবার (২৩ আগস্ট) হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের এক আত্মীয়ের বাড়ি থেকে তাকে উদ্ধার করে জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে প্রেরণ করে পুলিশ। 

বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আফছার। 

এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে। সে জীবিত থাকলেও বিনা অপরাধে হত্যা মামলার প্রধান আসামি হয়ে কারাগারে রয়েছেন রেস্টুরেন্ট ব্যবসায়ী বগুড়ার শিবগঞ্জের বাসিন্দা বুলবুল ফকির। 

জানা যায়, ওসমানীনগরের গোয়ালাবাজারের ব্রাহ্মণগ্রাম এলাকায় বুলবুল ফকিরের রেস্টুরেন্টে কাজ করত নাঈম। গত ২৪ জুলাই সে হঠাৎ উধাও হয়ে যায়। নাঈমের মা ছেলেকে নিখোঁজ উল্লেখ করে ওসমনীনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর ৩ আগস্ট মৌলভীবাজারের কুলাউড়া থানা এলাকা থেকে এক অজ্ঞাত কিশোরের লাশ উদ্ধার হয়। সেই লাশটি নাঈমের বলে চিহ্নিত করে পুলিশের কাছ থেকে গ্রহণ করে তার পরিবার। পরে ৫ আগস্ট তার দাফন সম্পন্ন হয়।

এদিকে প্রথমে কুলাউড়া ও পরে ওসমানীনগর থানায় মামলা করতে চাইলে দুই থানার পুলিশ মামলা নিতে গড়িমসি করে। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে ৬ আগস্ট লাশ নিয়ে রবিউলের মা ও স্বজনরা সিলেট-ঢাকা মহাসড়ক অবরোধ করেন।

এ ঘটনায় রবিউলের পরিবারের পক্ষ থেকে কুলাউড়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। সেই মামলার প্রধান আসামি দোকান মালিক বুলবুল ফকিরকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এখন পর্যন্ত তিনি এ মামলায় কারাভোগ করছেন। 

অবশেষে শুক্রবার (২২ আগস্ট) হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার সৈয়দপুর এলাকায় রবিউলকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া যায়। পুলিশ জানিয়েছে, ওই এলাকায় তার নানার বাড়ি। পরিবারের লোকজনই তাকে খুঁজে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন। খবর পেয়ে এ হত্যা মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কুলাউড়া থানার এসআই মুস্তাফিজুর রহমান রবিউলকে থানায় নিয়ে আসেন শনিবার। এদিনই মৌলভীবাজার আদালতে তার জবানবন্দি রেকর্ডের জন্য পাঠায়।

কিশোরকে জীবিত অবস্থায় আত্মীয় বাড়ি থেকে উদ্ধারের খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়ার পর কৌতুহলের সৃষ্টি হয়েছে। অনেকেই বলছেন, মিথ্যা অপবাদে একজন নিরপরাধ মানুষ হাজতবাস করছে, যা অন্যায়।

কুলাউড়া থানার এসআই মুস্তাফিজ বলেন, তদন্ত করতে গিয়ে কিশোর নাঈমকে তার আত্মীয় জুবেলের বাড়ি থেকে উদ্ধার করার পর জবানবন্দি গ্রহণের জন্য আদালতে পাঠানো হয়েছে। কিশোরের মা এবং মামা আদালতে রয়েছেন।

কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ওমর ফারুক জানান, রবিউল আত্মগোপনে ছিল। পরিবারের সদস্যরা তাকে পেয়ে খবর দেওয়ার পর পুলিশ হেফাজতে নেয়।

তিনি বলেন, আগের লাশ উদ্ধার ও দায়েরকৃত মামলার বিষয়ে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

এ ব্যাপারে জানতে নাঈমের পরিবারের একাধিক সদস্যের সাথে মুঠোফোনে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও কেউ ফোন রিসিভ করেননি।