৬ দফা দাবিতে শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ- মাইলস্টোনে ১০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ দুই উপদেষ্টা
- আপডেট সময় : ০৫:০৩:৫১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৩ জুলাই ২০২৫ ১২৭ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :
উত্তরার মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে এসে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েন আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল ও শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার। মঙ্গলবার সকাল পৌন ১০টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। ওই সময় তাদের সঙ্গে ছিলেন-প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম, উপ-প্রেসসচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদার, সিনিয়র সহকারী প্রেসসচিব ফয়েজ আহম্মদ এবং সহকারী প্রেসসচিব সুচিস্মিতা তিথি। এরপর তাদের প্রায় ১০ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখা হয়। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে তারা পতাকাবিহীন সরকারি গাড়িতে চেপে সামনে-পেছনে কয়েকশ পুলিশের পাহারা নিয়ে স্কুল ক্যাম্পাস থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু স্কুলের বাইরে চত্বরে কয়েকশ শিক্ষার্থীর অবস্থানের কারণে তারা আবার ভেতরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ফিরে যান। রাত সাড়ে ৭টা পর্যন্ত তারা সেখানে অবরুদ্ধ ছিলেন। ৭টা ৩৩ মিনিটে কড়া পুলিশ প্রহরায় তারা ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।
সরেজমিন দেখা গেছে, স্কুল ক্যাম্পাসে সোমবারের বিমান দুর্ঘটনায় হতাহতের ঘটনায় ক্ষতিপূরণসহ ছয় দাবিতে মঙ্গলবার সকাল থেকে বিক্ষোভ শুরু করে শিক্ষার্থীরা। সকাল পৌনে ১০টায় আইন ও শিক্ষা উপদেষ্টাসহ অন্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। এ সময় তাদের দেখে শিক্ষার্থীরা ‘ভুয়া, ভুয়া’ স্লোগান দেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গাড়ি দেখেও একই স্লোগান দেন বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। তারা ‘উই ওয়ান্ট, জাস্টিস’, ‘আমার ভাই মরল কেন, প্রশাসন জবাব চাই’ প্রভৃতি স্লোগান দেন। পরে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে বৈঠকে বসেন আইন উপদেষ্টা। শিক্ষা উপদেষ্টা সিআর আবরার এবং প্রধান উপদেষ্টার প্রেসসচিব শফিকুল আলম এবং উপ-প্রেসসচিব মোহাম্মদ আবুল কালাম আজাদ মজুমদারসহ অন্য সদস্যরা এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন। ওই বৈঠকের পর বেলা সাড়ে ১২টার দিকে বেরিয়ে এসে আসিফ নজরুল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের সব দাবি ‘মেনে নেওয়ার’ আশ্বাস দেন। তিনি বলেন, ‘আপনারা যে দাবিগুলো করেছেন, ছয় দফা দাবি সেটার সঙ্গে আমরা সম্পূর্ণ একমত। আপনারা যে দাবি করেছেন তা অত্যন্ত যৌক্তিক। আমি সরকারের পক্ষ থেকে আপনাদের আশ্বাস দিচ্ছি, আমরা আপনাদের প্রতিটি দাবি পূরণ করব। আমাদের ওপর আপনারা বিশ্বাস রাখেন। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে ‘যারা খারাপ ব্যবহার করেছেন’ তাদের বিরুদ্ধেও ‘ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে’ আশ্বাস দেন আইন উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, এছাড়া আপনাদের সঙ্গে যে বাহিনীরা খারাপ ব্যবহার করেছে, সরকারের পক্ষ থেকে আমরা ক্ষমা চাচ্ছি। এই ব্যাপারে আমরা উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করব। আইন উপদেষ্টা কথা শেষ হওয়ার পরপরই তাদের দিকে তেড়ে যায় বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীরা। পরে পুলিশ তাদের সরিয়ে দেয়। এ সময় দুই উপদেষ্টা এবং প্রেস সচিবসহ অন্যরা মাইলস্টোনের ৫নং ভবনে অবস্থান করেন। এরপর বিভিন্ন শ্রেণির শিক্ষার্থীরা মাঠে জড়ো হতে থাকেন। শিক্ষার্থীরা তখন ‘লাশ নিয়ে রাজনীতি, চলবে না চলবে না’, ‘আমার ভাই মরল কেন, জবাব চাই জবাব চাই’, ‘উই ওয়ান্ট জাস্টিস’, ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান ধরেন। এরপর দুই উপদেষ্টা যে ভবনে অবস্থান করছিলেন, সেখান থেকে শিক্ষার্থীদের শান্ত করার চেষ্টা করেন। আইন উপদেষ্টা কথা বলতে চাইলে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে থামিয়ে দেন। একইসঙ্গে তার পদত্যাগ দাবি করেন। এরপর শিক্ষার্থীরা ৫ নম্বর ভবনের কাচ ভাঙচুর শুরু করে। তখন উপদেষ্টারা ভবনটির পাঁচ তলায় অবস্থান নেন।
পরে দুপুর সোয়া দুইটার দিকে উপদেষ্টারা বের হবেন শোনার পর শিক্ষার্থীদের একটি দল মূল ফটক আটকে দেয়। এ সময় পুলিশের একটি ডাবল কেবিন পিকআপও ভাঙচুরও করা হয়। এ সময় কয়েক প্লাটুন দাঙ্গা পুলিশ আসতে দেখা যায়। বিকাল ৩টার দিকে এক প্লাটুন এপিবিএন, কয়েক প্লাটুন ডিএমপির রিজার্ভ পুলিশ, এক প্লাটুন এটিইউ আসে মাইলস্টোন ক্যাম্পাসে। শিক্ষকরা এ সময় শিক্ষার্থীদের দূরে সরিয়ে দেন এবং বের হয়ে যেতে বলেন। বাড়তি পুলিশের উপস্থিতির মধ্যে বিক্ষোভ থামিয়ে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাস ছাড়লেও কিছুক্ষণ পর তারা স্কুলের বাইরে চত্বরে অবস্থান নেন। বেলা সাড়ে ৩টার দিকে উপদেষ্টাদের গাড়ি মূল ফটক থেকে বের হলে সেখানেই শিক্ষার্থীরা আটকে দেন। ১৫ মিনিট সেখানেই অবস্থানের পর তাদের গাড়ি ফের স্কুলের ভেতর ঢুকতে দেখা যায়। শিক্ষার্থীরা চত্বরেই সড়ক অবরোধ করে বসে তাদের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। তাদের পেছনে সতর্ক অবস্থানে ছিল পুলিশের সদস্যরা।
শিক্ষার্থীদের ছয় দাবি হলো-নিহতদের সঠিক নাম ও তথ্য প্রকাশ করা, আহতদের সম্পূর্ণ ও নির্ভুল তালিকা প্রকাশ করা, শিক্ষক লাঞ্ছিতের ঘটনায় জনসম্মুখে সেনা সদস্যদের নিঃশর্ত ক্ষমা চাওয়া, নিহত প্রত্যেক শিক্ষার্থীর পরিবারকে বিমানবাহিনীর পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণ দেওয়া, বিমানবাহিনীর ব্যবহৃত ঝুঁকিপূর্ণ ও পুরোনো উড়োজাহাজ বাতিল করে আধুনিক উড়োযান চালু করা, বিমানবাহিনীর প্রশিক্ষণ পদ্ধতি ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র পরিবর্তন করে আরও ‘মানবিক ও নিরাপদ ব্যবস্থা’ চালু করা।
























