সব সরকারি-বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন নির্দেশনা
- আপডেট সময় : ০৩:৩৪:২০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৪ জুলাই ২০২৫ ১৭৯ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :
জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত বেসরকারি কলেজে নিয়োগপ্রাপ্ত স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্সের (অনার্স-মাস্টার্স) নিয়মিত ও কর্মরত শিক্ষকরা দীর্ঘ ৩২ বছর পর এমপিওভুক্ত হচ্ছেন।
বুধবার সচিবালয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে (স্কুল ও কলেজ) জনবলকাঠামো ওএমপিও নীতিমালা-২০২১ শীর্ষক পর্যালোচনা সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের সিনিয়র সচিব সিদ্দিক জোবায়েরের সভাপতিত্বে সভায় শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভা শেষে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা সাংবাদিকদের জানান, বেসরকারি কলেজের অনার্স কোর্সের শিক্ষকদের এমপিও প্রদানের বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় অর্থ অনুমোদনের জন্য শিগগিরই অর্থ মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠানো হবে।
বঞ্চিত অনার্স কোর্সের শিক্ষক ও বাংলাদেশ বেসরকারি কলেজ অনার্স-মাস্টার্স শিক্ষক ফেডারেশনের সহ-সভাপতি মো. জমির হোসেন জানান, সারা দেশে মোট ৪৯৫টি কলেজে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ জন শিক্ষক কর্মরত রয়েছেন। যারা ১৯৯২ সালে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পর থেকে দীর্ঘ ৩২ বছর ধরে কোনো প্রকার বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না ।
তিনি বলেন, একই কলেজে এইচএসসি ও ডিগ্রি পাস কোর্সের শিক্ষকরা এমপিওভুক্ত হলেও স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষকরা এমপিও পায় না। তার মতে বার্ষিক মাত্র ১১১ কোটি টাকা হলেই এ সব শিক্ষকের এমপিওভুক্তি সম্ভব।
শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, দীর্ঘ ৩২ বছর বেতন না পাওয়া একজন শিক্ষকের জন্য অনেক কষ্ট ও বঞ্চনার। শিক্ষা উপদেষ্টা ড. সিআর আবরার এ বিষয়ে মানবিক হয়ে বঞ্চিত শিক্ষকদের এমপিও অনুমোদনের জন্য সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে, এ বিষয়ে হয়তো অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন লাগবে।
এদিকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপ-সচিব তাজকির উজ জামান বলেন, বেসরকারি কলেজের অনার্স-মাস্টার্স কোর্সের শিক্ষকদের এমপিওর জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়ে ১১২ কোটি টাকা চেয়ে শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি পাঠানো হবে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন পেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরবর্তী ব্যবস্থা নেবে।
কারিগরি ও মাদ্রাসা শিক্ষা বিভাগের সচিব, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের সচিব, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বেসরকারি শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যয়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) চেয়ারম্যান, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, মাদ্রাসা শিক্ষা অধিদপ্তর মহাপরিচালক, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বোর্ড ঢাকার চেয়ারম্যানসহ বঞ্চিত বিভিন্ন বেসরকারি কলেজের স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর কোর্সের শিক্ষকরা সভায় উপস্থিত ছিলেন।
‘বিশেষ সুবিধা’ পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা
এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি মাদ্রাসা ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত শিক্ষক-কর্মচারীরা বিশেষ সুবিধা পাবেন। এ ‘বিশেষ সুবিধা’ হবে মূল বেতনের ১০ থেকে ১৫ শতাংশ।
এ সুবিধার আওতায় এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন বাড়বে কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ টাকা।
সোমবার অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগের উপসচিব (প্রবিধি-৩) মোসা. শরীফুন্নেসা স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশ থেকে এ তথ্য জানা যায়।
এতে বলা হয়, এমপিওভুক্ত বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বেসরকারি মাদ্রাসা ও বেসরকারি কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরত জাতীয় বেতন স্কেলের তুলনীয় গ্রেড-৯ হতে তদূর্ধ্ব গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ১ জুলাই হতে প্রতিবছর ১ জুলাই তারিখে প্রাপ্য মূল বেতনের ১০% হারে বিশেষ সুবিধা পাবেন।
আরও বলা হয়, গ্রেড-১০ থেকে তদনিম্ন গ্রেডে অন্তর্ভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীরা আগামী ১ জুলাই থেকে প্রতিবছর ১ জুলাই তারিখে প্রাপ্য মূল বেতনের ১৫% হারে, তবে ১,৫০০ (এক হাজার পাঁচশত) টাকার কম নয়, ‘বিশেষ সুবিধা’ প্রাপ্য হবেন।
এর আগে পৃথক এক অফিস আদেশে বিশেষ সুবিধায় বৃদ্ধির কথা জানায় অর্থমন্ত্রণালয়। এতে স্বাক্ষর করেন অর্থ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (অর্থ বিভাগ) দিলরুবা শাহীনা। এতে বলা হয়, সরকারি চাকরিজীবীদের বিশেষ সুবিধা বৃদ্ধি করে কমপক্ষে ১ হাজার ৫০০ টাকা, অবসরভোগীদের ৭৫০ টাকা করা হবে। আগে যা ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ও ৫০০ টাকা।
এমপিও হলো মান্থলি পে-অর্ডার বা মাসিক বেতন আদেশ। এমপিওভুক্ত হওয়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা প্রতি মাসে বেতনের মূল অংশ ও কিছু ভাতা সরকার থেকে পেয়ে থাকেন। আর বাকি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারীরা সরকার থেকে কোনো আর্থিক সুবিধা পান না।
বর্তমানে দেশে এমপিওভুক্ত স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ২৯ হাজার ১৬৪টি। এগুলোর মধ্যে স্কুল ও কলেজ ২০ হাজার ৪৩৭টি, বাকিগুলো মাদ্রাসা ও কারিগরি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান। এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন সাড়ে ৫ লাখের মতো।




























