সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেট শহরের প্রতিটি স্কুলে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচেতনতামূলক কার্যক্রম চালানো হবে: সিসিক প্রশাসক সিলেটে মৃত্যু ১, একদিনে হাসপাতালে ভর্তি আক্রান্ত রোগী ২০০ সিলেট সীমান্ত থেকে একাত্তর লক্ষ টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ সিলেটে কাজলশাহ বাধন আবাসিক হোটেল থেকে ৬ নারী-পুরুষ আটক সাংবাদিক তুহিনের মৃত্যুতে সিসিক প্রশাসকের শোক বিশ্ব হার্ট দিবসের আলোচনায় আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী পরিবেশ দূষণ রোধে দেয়াল লিখন প্রতিযোগিতা স্মরণসভায় সিসিক প্রশাসক সিলেট চেম্বারের প্রশাসকের সাথে ভারত থেকে আগত বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদের সহযোগী জয়নাল গ্রেপ্তার

লোকচক্ষুর আড়ালে শাহজালালের ঐতিহাসিক নিদর্শন ১ইটের মসজিদ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫ ১১৩ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ডেস্ক :

সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার ভূমি’র আধ্যাত্মিক নগরী বলা হয়ে থাকে। এই অঞ্চলে রয়েছে সুফি-দরবেশদের অসংখ্য স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনা আর ঐতিহাসিক নানা নিদর্শন। এমনই এক নিদর্শন যা সিলেটবাসীর অনেকের কাছে রয়েছে এখনো অজানা। সিলেট নগরের নাইওরপুল পয়েন্টের পাশেই প্রায় ৭০০ বছর ধরে ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনা ‘এক ইটের মসজিদ’। 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় তিন দিকে ইটের প্রাচীর আর এক দিকে লোহার গেইট, ফ্লোর এবং পশ্চিমের দেয়ালে টাইস লাগানো খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।

জানাযায়, ১৩০৩ সালে সিলেটে ইসলাম বিজয়ের সময় নগরীর নাইওরপুল পয়েন্টে ইবাদত বন্দেগির জন্য এক ইটের এক মসজিদ নির্মান করেন হজরত শাহজালাল (রহ)। সাতশো বছরের পুরনো হলেও এই মসজিদ কিংবা এই মসজিদের সম্পর্কে নেই তেমন কোনো ধারণা সিলেটবাসীর। স্থানীয় কিছু লোকজন আর মসজিদের তদারকি করা মোতাওয়াল্লী পরিবার ছাড়া এই মসজিদ সম্পর্কে জানেন খুবই কম লোকে। প্রচার আর প্রচারণার অভাব থাকায় আজও লোক চক্ষুর আড়ালে শাহজালাল (রহ.) এর এক ইটের মসজিদ।

মসজিদের পাশে থাকা একটি দোকানের লোকজন যেটার দেখাশোনা করেন। কেউ চাইলে নামাজ পড়তে দেওয়া হয় এখানে। তবে এটি এমনই এক মসজিদ যেখানে উপরে নাই ছাদ কিংবা প্রতিদিনকার নিয়মমাফিক দেওয়া হয়না আজান।

এখানকার বাসিন্দা শরিফ উদ্দিন নামক একজন জানান, বিগত ৩৫ বছরের অধিক সময় ধরে আছি এখানে। শুনেছি হযরত শাহজালাল (রহ.) সিলেট আসার পরে প্রথমেই ঐতিহাসিক এই স্থানে একটি ইট রেখে নামাজ আদায় করেছিলেন সেই থেকেই এই নাম। আদিল নামের একজন বলেন, ঐতিহাসিক এই নিদর্শন অনেকেরই অজানা। চাইলেই এখানে নামাজ আদায় করা যায়, প্রতি শুক্রবার পরিচ্ছন্নতার কাজও করা হয়।মোতোয়াল্লি পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ খালেদ উদ্দিন জানান, 

বাপ দাদারা এক সময় দেখাশোনা করতেন এখন নিজেই যতটুকু সম্ভব দেখাশোনা করেন। বাবা মারা যাওয়ার পর চাচা এবং তিনি নিজেই এখানকার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তিনি বলেন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের বার্ষিক ওরস এর প্রধান গিলাফ আমাদের মাধ্যমেই দেওয়া হয়। ওরস কেন্দ্রিক দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শতশত গিলাফ আসলেও আমাদেরটা গ্রহনের পর সিরিয়াল শুরু হয়। তিনি জানান সরকারের নজর কিংবা সহযোগিতা পেলে ছাদ দিয়ে পুর্নাঙ্গ ভাবে এটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষা করে সংস্কার করা হলে এখানে মুসল্লি যেমন বাড়বে, তেমনি দর্শনার্থীরাও জানতে পারবে ইসলামি ঐতিহ্য- এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

লোকচক্ষুর আড়ালে শাহজালালের ঐতিহাসিক নিদর্শন ১ইটের মসজিদ

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৫ মার্চ ২০২৫

ভিউ নিউজ ৭১ডেস্ক :

সিলেটকে ৩৬০ আউলিয়ার ভূমি’র আধ্যাত্মিক নগরী বলা হয়ে থাকে। এই অঞ্চলে রয়েছে সুফি-দরবেশদের অসংখ্য স্মৃতি বিজড়িত স্থাপনা আর ঐতিহাসিক নানা নিদর্শন। এমনই এক নিদর্শন যা সিলেটবাসীর অনেকের কাছে রয়েছে এখনো অজানা। সিলেট নগরের নাইওরপুল পয়েন্টের পাশেই প্রায় ৭০০ বছর ধরে ঐতিহ্যের স্মারক হিসেবে দাঁড়িয়ে আছে মুসলমানদের ধর্মীয় স্থাপনা ‘এক ইটের মসজিদ’। 

সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় তিন দিকে ইটের প্রাচীর আর এক দিকে লোহার গেইট, ফ্লোর এবং পশ্চিমের দেয়ালে টাইস লাগানো খোলা আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে আছে একটি ঐতিহাসিক নিদর্শন।

জানাযায়, ১৩০৩ সালে সিলেটে ইসলাম বিজয়ের সময় নগরীর নাইওরপুল পয়েন্টে ইবাদত বন্দেগির জন্য এক ইটের এক মসজিদ নির্মান করেন হজরত শাহজালাল (রহ)। সাতশো বছরের পুরনো হলেও এই মসজিদ কিংবা এই মসজিদের সম্পর্কে নেই তেমন কোনো ধারণা সিলেটবাসীর। স্থানীয় কিছু লোকজন আর মসজিদের তদারকি করা মোতাওয়াল্লী পরিবার ছাড়া এই মসজিদ সম্পর্কে জানেন খুবই কম লোকে। প্রচার আর প্রচারণার অভাব থাকায় আজও লোক চক্ষুর আড়ালে শাহজালাল (রহ.) এর এক ইটের মসজিদ।

মসজিদের পাশে থাকা একটি দোকানের লোকজন যেটার দেখাশোনা করেন। কেউ চাইলে নামাজ পড়তে দেওয়া হয় এখানে। তবে এটি এমনই এক মসজিদ যেখানে উপরে নাই ছাদ কিংবা প্রতিদিনকার নিয়মমাফিক দেওয়া হয়না আজান।

এখানকার বাসিন্দা শরিফ উদ্দিন নামক একজন জানান, বিগত ৩৫ বছরের অধিক সময় ধরে আছি এখানে। শুনেছি হযরত শাহজালাল (রহ.) সিলেট আসার পরে প্রথমেই ঐতিহাসিক এই স্থানে একটি ইট রেখে নামাজ আদায় করেছিলেন সেই থেকেই এই নাম। আদিল নামের একজন বলেন, ঐতিহাসিক এই নিদর্শন অনেকেরই অজানা। চাইলেই এখানে নামাজ আদায় করা যায়, প্রতি শুক্রবার পরিচ্ছন্নতার কাজও করা হয়।মোতোয়াল্লি পরিবারের সদস্য মোহাম্মদ খালেদ উদ্দিন জানান, 

বাপ দাদারা এক সময় দেখাশোনা করতেন এখন নিজেই যতটুকু সম্ভব দেখাশোনা করেন। বাবা মারা যাওয়ার পর চাচা এবং তিনি নিজেই এখানকার দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। তিনি বলেন হযরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের বার্ষিক ওরস এর প্রধান গিলাফ আমাদের মাধ্যমেই দেওয়া হয়। ওরস কেন্দ্রিক দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে শতশত গিলাফ আসলেও আমাদেরটা গ্রহনের পর সিরিয়াল শুরু হয়। তিনি জানান সরকারের নজর কিংবা সহযোগিতা পেলে ছাদ দিয়ে পুর্নাঙ্গ ভাবে এটি তৈরির পরিকল্পনা রয়েছে।

ঐতিহাসিক স্মৃতি বিজড়িত মসজিদের ঐতিহ্য রক্ষা করে সংস্কার করা হলে এখানে মুসল্লি যেমন বাড়বে, তেমনি দর্শনার্থীরাও জানতে পারবে ইসলামি ঐতিহ্য- এমনটাই জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।