সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে হামের উপসর্গে প্রাণ গেল তিন শিশুর সিলেটে শুভ উপনয়ন-সংস্কার অনুষ্ঠান ১৯ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান; যুবক আটক সিসিকের প্রশাসককে স্মারক উপহার দিল ইউএস বাংলা  সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলারপ্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি

সিলেটের যে স্থান ‘সব গাড়ির নতুন-পুরাতন যন্ত্রাংশের জন্য নির্ভরযোগ্য স্থান’

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৩:১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৪ ১৭৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটের চাঁদনীঘাট সুরমা নদীর দক্ষিণ তীরঘেষা এই জায়গা যানবাহন বা গাড়িসংশ্লিষ্টদের কাছে ‘ঢাকার ধোলাইখালের ন্যায় সিলেট চাঁদনীঘাট এখানে প্রায় অন্তত ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। মোটরসাইকেল থেকে বাস-ট্রাক; সব গাড়িরই নতুন-পুরাতন যন্ত্রাংশের জন্য নির্ভরতার জায়গা সিলেট চাঁদনীঘাট। প্রায় হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চাঁদনীঘাটে রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এখানে পুরাতন বা অচল গাড়ি, এসবের যন্ত্রাংশ কেনা-বেচা, সংস্কার ও মেরামত। প্রতিটি দোকানে সব ধরনের গাড়ির বিভিন্ন প্রকার নাটবল্টু ডালায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দেয়ালে ও ছাদের প্রায় সবখানে মালার মতো গাঁথা নাটবল্টু। থরে থরে সাজানো নতুন-পুরাতন সব ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ। অনেক দোকানের পেছনে রয়েছে ওয়ার্কশপ। এসব ওয়ার্কশপে দক্ষ কারিগররা পুরাতন গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্র ‘সিস্টেম’ বা সংস্কার করছেন। কাটছেন অচল গাড়ি।

চাঁদনীঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, ৯০ দশক থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত চলাচলকারী বাস, ট্রাক, ট্রাক্টর, কৃষিকাজে ব্যবহৃত সব ধরনের মেশিন বা গাড়ি, মাইক্রোবাস, কার, জিপ, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান্ত্রিক বাহনের নতুন-পুরাতন যন্ত্রাংশ চাঁদনীঘাটে পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ কেনাবেচা হয় পুরাতন বা গাড়ির রিকন্ডিশন যন্ত্রপাতি। মাঝেমধ্যে কোনো পার্স পাওয়া যায় না সেটি ঢাকার ধোলাইখাল থেকে অর্ডার করে নিয়ে আসা হয়। এছাড়া এখানের অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকেও মালামাল আমদানি করে নিয়ে আসেন। অনেক মাল আসে চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা থেকেও। সব মালই মূলত জাপান থেকে আসে।

চাঁদনীঘাটে বেশি কেনাবেচা হয় পুরাতন গাড়ির ইঞ্জিন। এছাড়া বিক্রি হয় হেডলাইট, ব্যাকলাইট, হ্যান্ডেল, স্ক্রু থেকে শুরু করে সব ধরনের নাট-বল্টু, লুকিং গ্লাস, ফোগ লাইট, মাস্টার সুইচ, গাড়ির গ্রিল, ক্লাচ, গিয়ারবক্স, প্রপেলার শ্যাফ্ট, এক্সেল, ব্রেক, ব্যাটারি ও স্টিয়ারিং ইত্যাদি। বিশেষ করে টয়োটা, নিশান, হোন্ডা, মিৎসুবিশি, সুজুকি, মারুতির যন্ত্রাংশ বেশি। বাস ও ট্রাকের মধ্যে বেডফোর্ড, ইসুজু, নিশান, হিনো, ভলবো, টাটা, অশোক লেল্যান্ড, টারসেল, আইয়ার, ক্যান্টার প্রভৃতি গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান এখানে মেয়াদোত্তীর্ণ বা দুর্ঘটনায় অচল হয়ে পড়া গাড়িগুলো কিনেন। পরে সেগুলো কেটে পার্সগুলো আলাদা করে বিক্রি করেন। বডি বিক্রি করেন আলাদা। তার মতো চাঁদনীঘাটের আরও অনেক ব্যবসায়ী এ কাজ করেন। তবে কেউ অচল গাড়ি বিক্রি করতে গেলেও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে হয়। এ বিষয়ে চাঁদনীঘাটের ব্যবসায়ী কমিটি কোনো ছাড় দেয় না। এখানে দৈনিক কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এই ব্যবসায় দৈনিক নির্দিষ্ট কোনো লাভ নেই। কোনো দিন দুই হাজার টাকা লাভ হয়, আবার কোনো দিন ৫ হাজার টাকাও হয়। মাঝে-মধ্যে ৫০ হাজার টাকাও লাভ হয়। এটা আসলে বেচাকেনার উপর নির্ভর করে। তবে সব মিলিয়ে খরচ বাদে মাসে লাখ টাকার বেশি আয় হয়।’

অনেকে পুরাতন মডেলের অনেক পার্সের জন্য হন্য হয়ে ঘুরেন। দেখা গেলো- সেই পার্স এখন আর মার্কেটে নেই। তখন সেটার সঙ্গে সাদৃশ্য কোনো পার্সকে সিস্টেম (মডিফাই) করে হুবহু ওটার মতো করে গাড়িতে ফিটিং করে দেয়া হয় এবং সেটি শতভাগ কাজ করে। চাঁদনীঘাটে পার্টসের দোকানে কাজ করা একজন শ্রমিক  দৈনিক হাজার থকে ৫০০-১০০০ টাকা আয় করেন। এখানে অনেক ছাত্রও কাজ করে। এই কাজ করতে গিয়ে শরীরে, চেহারায় কালি লেগে থাকে। এ জন্য অনেকে এই কাজকে ছোট মনে করে, অন্য চোখে দেখে। অথচ একজন যুবক এই কাজ করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা প্রতি মাসে অনায়াসে ইনকাম করতে পারে।’

৫ আগস্টের পর ব্যবসায় কিছুটা মন্দা চলছে বলে জানিয়েছেন চাঁদনীঘাটের ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বেচাবিক্রি কমে গেছে। কাটার জন্য পুরাতন গাড়ি আসছে কম। এ অবস্থায় অনেক ব্যবসায়ীর কর্মচারী বেতন ও ঘরভাড়া দিয়ে চলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটের যে স্থান ‘সব গাড়ির নতুন-পুরাতন যন্ত্রাংশের জন্য নির্ভরযোগ্য স্থান’

আপডেট সময় : ০৩:১২:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ নভেম্বর ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটের চাঁদনীঘাট সুরমা নদীর দক্ষিণ তীরঘেষা এই জায়গা যানবাহন বা গাড়িসংশ্লিষ্টদের কাছে ‘ঢাকার ধোলাইখালের ন্যায় সিলেট চাঁদনীঘাট এখানে প্রায় অন্তত ৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থান রয়েছে। মোটরসাইকেল থেকে বাস-ট্রাক; সব গাড়িরই নতুন-পুরাতন যন্ত্রাংশের জন্য নির্ভরতার জায়গা সিলেট চাঁদনীঘাট। প্রায় হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান চাঁদনীঘাটে রয়েছে। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এখানে পুরাতন বা অচল গাড়ি, এসবের যন্ত্রাংশ কেনা-বেচা, সংস্কার ও মেরামত। প্রতিটি দোকানে সব ধরনের গাড়ির বিভিন্ন প্রকার নাটবল্টু ডালায় সাজিয়ে রাখা হয়েছে। দেয়ালে ও ছাদের প্রায় সবখানে মালার মতো গাঁথা নাটবল্টু। থরে থরে সাজানো নতুন-পুরাতন সব ধরনের গাড়ির যন্ত্রাংশ। অনেক দোকানের পেছনে রয়েছে ওয়ার্কশপ। এসব ওয়ার্কশপে দক্ষ কারিগররা পুরাতন গাড়ির বিভিন্ন যন্ত্র ‘সিস্টেম’ বা সংস্কার করছেন। কাটছেন অচল গাড়ি।

চাঁদনীঘাটের ব্যবসায়ীরা জানান, ৯০ দশক থেকে শুরু করে এখন পর্যন্ত চলাচলকারী বাস, ট্রাক, ট্রাক্টর, কৃষিকাজে ব্যবহৃত সব ধরনের মেশিন বা গাড়ি, মাইক্রোবাস, কার, জিপ, মোটরসাইকেলসহ সব ধরনের যান্ত্রিক বাহনের নতুন-পুরাতন যন্ত্রাংশ চাঁদনীঘাটে পাওয়া যায়। তবে বেশিরভাগ কেনাবেচা হয় পুরাতন বা গাড়ির রিকন্ডিশন যন্ত্রপাতি। মাঝেমধ্যে কোনো পার্স পাওয়া যায় না সেটি ঢাকার ধোলাইখাল থেকে অর্ডার করে নিয়ে আসা হয়। এছাড়া এখানের অনেক ব্যবসায়ী সরাসরি সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাই থেকেও মালামাল আমদানি করে নিয়ে আসেন। অনেক মাল আসে চট্টগ্রাম এবং কুমিল্লা থেকেও। সব মালই মূলত জাপান থেকে আসে।

চাঁদনীঘাটে বেশি কেনাবেচা হয় পুরাতন গাড়ির ইঞ্জিন। এছাড়া বিক্রি হয় হেডলাইট, ব্যাকলাইট, হ্যান্ডেল, স্ক্রু থেকে শুরু করে সব ধরনের নাট-বল্টু, লুকিং গ্লাস, ফোগ লাইট, মাস্টার সুইচ, গাড়ির গ্রিল, ক্লাচ, গিয়ারবক্স, প্রপেলার শ্যাফ্ট, এক্সেল, ব্রেক, ব্যাটারি ও স্টিয়ারিং ইত্যাদি। বিশেষ করে টয়োটা, নিশান, হোন্ডা, মিৎসুবিশি, সুজুকি, মারুতির যন্ত্রাংশ বেশি। বাস ও ট্রাকের মধ্যে বেডফোর্ড, ইসুজু, নিশান, হিনো, ভলবো, টাটা, অশোক লেল্যান্ড, টারসেল, আইয়ার, ক্যান্টার প্রভৃতি গাড়ির যন্ত্রাংশ পাওয়া যায়।

ব্যবসায়ীরা জানান এখানে মেয়াদোত্তীর্ণ বা দুর্ঘটনায় অচল হয়ে পড়া গাড়িগুলো কিনেন। পরে সেগুলো কেটে পার্সগুলো আলাদা করে বিক্রি করেন। বডি বিক্রি করেন আলাদা। তার মতো চাঁদনীঘাটের আরও অনেক ব্যবসায়ী এ কাজ করেন। তবে কেউ অচল গাড়ি বিক্রি করতে গেলেও বৈধ কাগজপত্র দেখাতে হয়। এ বিষয়ে চাঁদনীঘাটের ব্যবসায়ী কমিটি কোনো ছাড় দেয় না। এখানে দৈনিক কোটি কোটি টাকার ব্যবসা হয়। এই ব্যবসায় দৈনিক নির্দিষ্ট কোনো লাভ নেই। কোনো দিন দুই হাজার টাকা লাভ হয়, আবার কোনো দিন ৫ হাজার টাকাও হয়। মাঝে-মধ্যে ৫০ হাজার টাকাও লাভ হয়। এটা আসলে বেচাকেনার উপর নির্ভর করে। তবে সব মিলিয়ে খরচ বাদে মাসে লাখ টাকার বেশি আয় হয়।’

অনেকে পুরাতন মডেলের অনেক পার্সের জন্য হন্য হয়ে ঘুরেন। দেখা গেলো- সেই পার্স এখন আর মার্কেটে নেই। তখন সেটার সঙ্গে সাদৃশ্য কোনো পার্সকে সিস্টেম (মডিফাই) করে হুবহু ওটার মতো করে গাড়িতে ফিটিং করে দেয়া হয় এবং সেটি শতভাগ কাজ করে। চাঁদনীঘাটে পার্টসের দোকানে কাজ করা একজন শ্রমিক  দৈনিক হাজার থকে ৫০০-১০০০ টাকা আয় করেন। এখানে অনেক ছাত্রও কাজ করে। এই কাজ করতে গিয়ে শরীরে, চেহারায় কালি লেগে থাকে। এ জন্য অনেকে এই কাজকে ছোট মনে করে, অন্য চোখে দেখে। অথচ একজন যুবক এই কাজ করে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা প্রতি মাসে অনায়াসে ইনকাম করতে পারে।’

৫ আগস্টের পর ব্যবসায় কিছুটা মন্দা চলছে বলে জানিয়েছেন চাঁদনীঘাটের ব্যবসায়ীরা। তারা জানান, দেশে রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বেচাবিক্রি কমে গেছে। কাটার জন্য পুরাতন গাড়ি আসছে কম। এ অবস্থায় অনেক ব্যবসায়ীর কর্মচারী বেতন ও ঘরভাড়া দিয়ে চলা কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।