সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে হামের উপসর্গে প্রাণ গেল তিন শিশুর সিলেটে শুভ উপনয়ন-সংস্কার অনুষ্ঠান ১৯ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান; যুবক আটক সিসিকের প্রশাসককে স্মারক উপহার দিল ইউএস বাংলা  সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলারপ্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি

সিলেটে হঠাৎ বেড়েছে অস্থিরতা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৫২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪ ১৩৩ বার পড়া হয়েছে

সরকার পতনের পর এক মাসে অন্তত ১৯ হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনা-

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সিলেট বিভাগজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে সহিংসতার ঘটনা। মহানগরী কিংবা গ্রাম-গঞ্জ সবখানে খুন-হামলা ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। অহরহ নানা অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিষয় ঘটছে। পাশাপাশি মামলা- পাল্টা মামলাও হচ্ছে অনেক জায়গায়। শুধু অক্টোবর মাসেই সিলেট বিভাগে অন্তত ১৯টি হত্যা ও আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

মা-ছেলে জবাই করে হত্যা, অগ্নিদগ্ধ হয়ে চার শিশু সন্তানসহ বাবা-মা নিহত, আধিপত্য বিস্তারে কিশোর খুন, দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রীর হাতে ইমাম খুন, রাতের আধারে তুলে নিয়ে অন্যস্থানে খুন, মাদ্রাসা ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, সুরমায় অর্ধগলিত লাশ এরকম ঘটনা শিরোনাম হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। আত্মহত্যা কিংবা খুনের পরে বীভৎস লাশগুলো নাড়িয়ে দিচ্ছে মানুষের বিবেক। এছাড়া গত পাঁচ আগস্টের পর থেকে ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভাগের সর্বত্রই ঘটছে নানা অপরাধ। চারপাশে অস্থিরতার সৃষ্টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। এই অস্থিরতা বিভিন্ন অপরাধকে উসকে দিচ্ছে। ঘটনা খুন পর্যন্তও গড়াচ্ছে।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদগুলো বিশ্লেষণ করে জানা যায়-  অক্টোবর মাসে সিলেট বিভাগে খুন, ধর্ষণ, হত্যা, মারামারি, চুরি, ছিনতাই, আত্মহত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৩০টিরও বেশী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবাদমাধ্যমে অপ্রকাশিত ঘটনাগুলো গণনায় নিয়ে আসলে এই সংখ্যা আরো বেশী হবে।

এসব ঘটনার মধ্যে ১ অক্টোবর মধ্যরাতে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে সুনামগঞ্জে। এ জেলার ধর্মপাশায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চার শিশু সন্তানসহ বাবা-মা নিহত হন। এটি আদৌ দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু সেটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। মাসের শুরুতে ছয় মৃত্যুর ঘটনায় সুনামগঞ্জ আলোচিত থাকলেও মাসে শেষে ২৯ অক্টোবর ফের আলোচনায় আসে সুনামগঞ্জ। এদিন সকাল ৮টার দিকে শহরের এসপি বাংলা এলাকার বাসা থেকে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। নিহতরামৃত শহিদুল মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগম (৫০) ও তার ছেলে মিনহাজ (২০)। 

পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদা বেগম তার ছেলের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন। একই বাড়ির অন্য এক কক্ষে তার খালাতো বোন ও বোনের ছেলে ভাড়া থাকতেন। এছাড়া ২০ অক্টোবর সিলেটের গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হিলালপুর গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে ভাতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ খাটের নিচে ইট দিয়ে লুকিয়ে রাখেন তিনি। এ ঘটনায় প্রথম স্ত্রী নাদিয়া বেগমকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। নিহত মাওলানা রুহুল আমীন (৩৭) সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ডৌবাড়ি ইউনিয়নের ডেমি গ্রামের শহিদুর রহমানের ছেলে। তিনি হিলালপুর গ্রামের একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন।

১৭ অক্টোবর সিলেটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে শাওন আহমেদ (১৭) নামের এক কিশোর খুন হন।১৮ অক্টোবর রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই কিশোর। শাওন বনকলাপাড়ার বাসিন্দা ও হবিগঞ্জ সদরের মোহাম্মদ পুরের সেলিম মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে নগরের বাগবাড়ি ও সাগরদিঘি পাড়ের কিশোরদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন আগে কিশোরদের বয়োজ্যেষ্ঠরা সমাধান করে দিলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ ছিল একটি পক্ষের। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাগবাড়ির কয়েকজন সাগরদীঘির পাড়ে এসে শাওনকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে যায়।

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আত্মহত্যা করেছেন এক হাজতি। নিহত হাজতি ফজল আমিন (৫৮) সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থানার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের দৃমন খাঁর ছেলে। তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। 

১৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মহদিকোনা জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার হিফজ শাখার ছাত্র ছাব্বির আহমদের (১১) মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে মাদ্রাসার ছাত্রাবাস থেকে ওই ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছাব্বির বড়লেখা পৌরসভার হাটবন্দ এলাকার শাহ আলমের ছেলে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।

১৫ অক্টোবর সিলেট মহানগরের আওতাধীন দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়া এলাকায় সুরমা নদী থেকে মো. কাওসার আহমদ (৩৫) নামের এক ইটভাটা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কাওসার আহমদ সিলেটের জকিগঞ্জের উত্তর লোহারমহলের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজারে একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। সেখানেই একটি বাসায় তিনি ভাড়া থাকতেন। তবে এটি খুন না স্বাভাবিক মৃত্যু- এখনই বলতে পারছে না পুলিশ।

২৭ অক্টোবর মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সুহেল আহমদ (৩০) নামে এক রাজমিস্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।  শয়নকক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক কোনো চাপে সুহেল আত্মহত্যা করেছেন। তবে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত কোনো হত্যা এ নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা হয়।

২২ অক্টোবর মৌলভীবাজারে মাকসুদ আহমদ শামীম (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জেলা শহরের লাইফ লাইন হাসপাতালের পাশে রাজ্জাক ভবনের ২য় তলা থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। মাকসুদ আহমদ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে।

১৭ অক্টোবর হবিগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর হোসাইনুর রহমান নাহিদ (১০) নামে এক মাদরাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সকালে শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাহিদ হবিগঞ্জ পৌরসভার নিউ মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার মিছবাহউর রহমান ফরহাদের পুত্র। সে হবিগঞ্জ শহরের একটি মাদরাসার ২য় শ্রেণীর ছাত্র।

১৯ অক্টোবর সুনামগঞ্জে হাওর থেকে আব্দুল আলিম (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জেলার সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের পাশের হিলুয়ার হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আব্দুল আলিম সুরমা ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবনগর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। মৃতদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

২৩ অক্টোবর  সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মো. সেকুল মিয়া (৪৩) নামে একজন আত্মহত্যা করেছেন।  রাত ১টার দিকে নিজ শয়নকক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেকুল মিয়া দক্ষিণ সুরমার লতিপুর (ছিটা হাজরাই) গ্রামের  মৃত আব্দুল বারীর ছেলে।  ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

সর্বশেষ ২৯ অক্টোবর সিলেটে সুরমা নদী থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে মোগলাবাজার থানা পুলিশ। বর্তমানে পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। মহানগরীর আলমপুর সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পিছনে সুরমা নদীর দক্ষিণ অংশে পানিতে ভাসছিলো ঐ লাশটি। পরে স্থানীয়রা দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসামনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করে।

এসআই আলমগীর জানান, মৃত ব্যক্তির শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঐ ব্যক্তি আনুমানিক বয়স ৪০ থেকে ৪৫ হবে। তার পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে হঠাৎ বেড়েছে অস্থিরতা

আপডেট সময় : ১২:৫২:০৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ নভেম্বর ২০২৪

সরকার পতনের পর এক মাসে অন্তত ১৯ হত্যা-আত্মহত্যার ঘটনা-

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সিলেট বিভাগজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে সহিংসতার ঘটনা। মহানগরী কিংবা গ্রাম-গঞ্জ সবখানে খুন-হামলা ও আত্মহত্যার ঘটনা ঘটছে। অহরহ নানা অপরাধ সংশ্লিষ্ট বিষয় ঘটছে। পাশাপাশি মামলা- পাল্টা মামলাও হচ্ছে অনেক জায়গায়। শুধু অক্টোবর মাসেই সিলেট বিভাগে অন্তত ১৯টি হত্যা ও আত্মহত্যার খবর পাওয়া গেছে।

মা-ছেলে জবাই করে হত্যা, অগ্নিদগ্ধ হয়ে চার শিশু সন্তানসহ বাবা-মা নিহত, আধিপত্য বিস্তারে কিশোর খুন, দ্বিতীয় বিয়ে করায় প্রথম স্ত্রীর হাতে ইমাম খুন, রাতের আধারে তুলে নিয়ে অন্যস্থানে খুন, মাদ্রাসা ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার, সুরমায় অর্ধগলিত লাশ এরকম ঘটনা শিরোনাম হয়েছে সংবাদ মাধ্যমে। আত্মহত্যা কিংবা খুনের পরে বীভৎস লাশগুলো নাড়িয়ে দিচ্ছে মানুষের বিবেক। এছাড়া গত পাঁচ আগস্টের পর থেকে ধর্ষণ, চুরি, ডাকাতি ও ছিনতাইসহ বিভাগের সর্বত্রই ঘটছে নানা অপরাধ। চারপাশে অস্থিরতার সৃষ্টি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মানুষের মধ্যে অস্থিরতা বেড়েছে। এই অস্থিরতা বিভিন্ন অপরাধকে উসকে দিচ্ছে। ঘটনা খুন পর্যন্তও গড়াচ্ছে।

বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদগুলো বিশ্লেষণ করে জানা যায়-  অক্টোবর মাসে সিলেট বিভাগে খুন, ধর্ষণ, হত্যা, মারামারি, চুরি, ছিনতাই, আত্মহত্যা ও রহস্যজনক মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে প্রায় ৩০টিরও বেশী। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সংবাদমাধ্যমে অপ্রকাশিত ঘটনাগুলো গণনায় নিয়ে আসলে এই সংখ্যা আরো বেশী হবে।

এসব ঘটনার মধ্যে ১ অক্টোবর মধ্যরাতে সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ঘটে সুনামগঞ্জে। এ জেলার ধর্মপাশায় আশ্রয়ণ প্রকল্পের ঘরে অগ্নিদগ্ধ হয়ে চার শিশু সন্তানসহ বাবা-মা নিহত হন। এটি আদৌ দুর্ঘটনা নাকি অন্য কিছু সেটি এখনও তদন্তাধীন রয়েছে। মাসের শুরুতে ছয় মৃত্যুর ঘটনায় সুনামগঞ্জ আলোচিত থাকলেও মাসে শেষে ২৯ অক্টোবর ফের আলোচনায় আসে সুনামগঞ্জ। এদিন সকাল ৮টার দিকে শহরের এসপি বাংলা এলাকার বাসা থেকে মা ও ছেলের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তাদের কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে বলে পুলিশের ধারণা। নিহতরামৃত শহিদুল মিয়ার স্ত্রী ফরিদা বেগম (৫০) ও তার ছেলে মিনহাজ (২০)। 

পুলিশ ও স্বজনদের তথ্য অনুযায়ী, ফরিদা বেগম তার ছেলের সঙ্গে ওই বাসায় থাকতেন। একই বাড়ির অন্য এক কক্ষে তার খালাতো বোন ও বোনের ছেলে ভাড়া থাকতেন। এছাড়া ২০ অক্টোবর সিলেটের গোলাপগঞ্জের ফুলবাড়ি ইউনিয়নের হিলালপুর গ্রামে দ্বিতীয় বিয়ে করায় স্বামীকে ভাতের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে খাইয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগ উঠেছে প্রথম স্ত্রীর বিরুদ্ধে। হত্যার পর মরদেহ খাটের নিচে ইট দিয়ে লুকিয়ে রাখেন তিনি। এ ঘটনায় প্রথম স্ত্রী নাদিয়া বেগমকে (৪০) আটক করেছে পুলিশ। নিহত মাওলানা রুহুল আমীন (৩৭) সিলেটের গোয়াইনঘাট থানার ডৌবাড়ি ইউনিয়নের ডেমি গ্রামের শহিদুর রহমানের ছেলে। তিনি হিলালপুর গ্রামের একটি মসজিদের ইমাম ছিলেন।

১৭ অক্টোবর সিলেটে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ছুরিকাঘাতে শাওন আহমেদ (১৭) নামের এক কিশোর খুন হন।১৮ অক্টোবর রাতে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান ওই কিশোর। শাওন বনকলাপাড়ার বাসিন্দা ও হবিগঞ্জ সদরের মোহাম্মদ পুরের সেলিম মিয়ার ছেলে।

জানা যায়, বেশ কিছুদিন ধরে নগরের বাগবাড়ি ও সাগরদিঘি পাড়ের কিশোরদের মধ্যে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিরোধ চলে আসছিল। বিষয়টি নিয়ে কয়েকদিন আগে কিশোরদের বয়োজ্যেষ্ঠরা সমাধান করে দিলেও ভেতরে ভেতরে ক্ষোভ ছিল একটি পক্ষের। শুক্রবার সন্ধ্যায় বাগবাড়ির কয়েকজন সাগরদীঘির পাড়ে এসে শাওনকে ছুরিকাঘাত করে ফেলে যায়।

শুক্রবার (৩০ আগস্ট) বিকেলে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আত্মহত্যা করেছেন এক হাজতি। নিহত হাজতি ফজল আমিন (৫৮) সুনামগঞ্জ জেলার মধ্যনগর থানার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের দৃমন খাঁর ছেলে। তিনি একটি হত্যা মামলার আসামি ছিলেন। 

১৮ অক্টোবর মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার মহদিকোনা জামেয়া ইসলামিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসার হিফজ শাখার ছাত্র ছাব্বির আহমদের (১১) মৃত্যু নিয়ে রহস্য সৃষ্টি হয়। বৃহস্পতিবার (১৭ অক্টোবর) রাতে মাদ্রাসার ছাত্রাবাস থেকে ওই ছাত্রের ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। ছাব্বির বড়লেখা পৌরসভার হাটবন্দ এলাকার শাহ আলমের ছেলে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ এটিকে আত্মহত্যা বলে ধারণা করছে।

১৫ অক্টোবর সিলেট মহানগরের আওতাধীন দক্ষিণ সুরমার ঝালোপাড়া এলাকায় সুরমা নদী থেকে মো. কাওসার আহমদ (৩৫) নামের এক ইটভাটা শ্রমিকের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। কাওসার আহমদ সিলেটের জকিগঞ্জের উত্তর লোহারমহলের আতাউর রহমানের ছেলে। তিনি সিলেটের দক্ষিণ সুরমা উপজেলার মোগলাবাজারে একটি ইটভাটায় কাজ করতেন। সেখানেই একটি বাসায় তিনি ভাড়া থাকতেন। তবে এটি খুন না স্বাভাবিক মৃত্যু- এখনই বলতে পারছে না পুলিশ।

২৭ অক্টোবর মৌলভীবাজারের বড়লেখায় সুহেল আহমদ (৩০) নামে এক রাজমিস্ত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ।  শয়নকক্ষ থেকে লাশটি উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, মানসিক কোনো চাপে সুহেল আত্মহত্যা করেছেন। তবে, ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি পরিকল্পিত কোনো হত্যা এ নিয়ে এলাকায় নানা জল্পনা-কল্পনা হয়।

২২ অক্টোবর মৌলভীবাজারে মাকসুদ আহমদ শামীম (৫০) নামের এক ব্যক্তির মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জেলা শহরের লাইফ লাইন হাসপাতালের পাশে রাজ্জাক ভবনের ২য় তলা থেকে মৃতদেহটি উদ্ধার করা হয়। মাকসুদ আহমদ মৌলভীবাজার সদর উপজেলার কামালপুর এলাকার মৃত গোলাম মোস্তফার ছেলে।

১৭ অক্টোবর হবিগঞ্জে নিখোঁজের একদিন পর হোসাইনুর রহমান নাহিদ (১০) নামে এক মাদরাসা ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সকালে শহরের তিনকোনা পুকুরপাড় সংলগ্ন একটি পুকুর থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নাহিদ হবিগঞ্জ পৌরসভার নিউ মুসলিম কোয়ার্টার এলাকার মিছবাহউর রহমান ফরহাদের পুত্র। সে হবিগঞ্জ শহরের একটি মাদরাসার ২য় শ্রেণীর ছাত্র।

১৯ অক্টোবর সুনামগঞ্জে হাওর থেকে আব্দুল আলিম (৪৫) নামের এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। জেলার সদর উপজেলার ইব্রাহিমপুর গ্রামের পাশের হিলুয়ার হাওর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। আব্দুল আলিম সুরমা ইউনিয়নের পশ্চিম সাহেবনগর গ্রামের মৃত সোলেমান মিয়ার ছেলে। মৃতদেহে ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

২৩ অক্টোবর  সিলেটের দক্ষিণ সুরমায় মো. সেকুল মিয়া (৪৩) নামে একজন আত্মহত্যা করেছেন।  রাত ১টার দিকে নিজ শয়নকক্ষ থেকে তার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সেকুল মিয়া দক্ষিণ সুরমার লতিপুর (ছিটা হাজরাই) গ্রামের  মৃত আব্দুল বারীর ছেলে।  ঘরের সিলিং ফ্যানের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেছেন।

সর্বশেষ ২৯ অক্টোবর সিলেটে সুরমা নদী থেকে অজ্ঞাত এক ব্যক্তির লাশ উদ্ধার করেছে মোগলাবাজার থানা পুলিশ। বর্তমানে পুলিশ তার পরিচয় শনাক্তে কাজ করছে। মহানগরীর আলমপুর সিলেট রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ের পিছনে সুরমা নদীর দক্ষিণ অংশে পানিতে ভাসছিলো ঐ লাশটি। পরে স্থানীয়রা দেখে পুলিশকে খবর দিলে পুলিশ লাশটি উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসামনী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ময়না তদন্তের জন্য প্রেরণ করে।

এসআই আলমগীর জানান, মৃত ব্যক্তির শরীরে কোন আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়নি। ঐ ব্যক্তি আনুমানিক বয়স ৪০ থেকে ৪৫ হবে। তার পরিচয় শনাক্তে পুলিশ কাজ করছে।