সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

সিলেটে ‘বুঙ্গার চিনি’ ছিনতাই করতে গিয়ে বিএনপির ২ নেতা বহিস্কার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪ ১০৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

 সিলেটের ওসমানীনগরে ট্রাকভর্তি বুঙ্গার চিনি ছিনতাই করতে গিয়ে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন মহানগর বিএনপির দুই নেতা। একই সঙ্গে চিনি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার মধ্যরাতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তাদেরকে সাদিপুর সেতু এলাকা আটক করা হয়।

এ ঘটনার পর রাতেই ওই দুই নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। বুঙ্গার চিনি ছিনতাইয়ের চেষ্টার দায়ে আটক ও বহিস্কৃত বিএনপি নেতারা হলেন- মহানগরীর ২৫নং ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ সুরমার বারখলা রূপালি আবাসিক এলাকার মৃত ছানা মিয়ার ছেলে মো. সোলেমান হোসেন সুমন (৪২) এবং ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভার্থখলার সোনালী আবাসিক এলাকার মৃত দিলু মিয়ার ছেলে মো. আবদুল মান্নান (৪৩)।

এছাড়া চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে আটককৃতরা হলেন- সিলেট সদর উপজেলার বটেশ্বরের মলাইটিলার মৃত করম আলীর ছেলে মনির আহমদ (৩২), জৈন্তাপুরের বাঘেরখালের মমতাজ আলীর ছেলেতোফায়েল আহমদ (২৬), একই এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. শাহীন আহমদ (২৫) ও গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর তৃতীয়খণ্ডের মঈন উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২)।

ওসমানীনগর থানার ওসি (তদন্ত) আরাফাত জাহান চৌধুরী জানান, সাদিপুর সেতুর সামনে থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয়েছে ভারতীয় চিনিভর্তি একটি ট্রাক, দুটি মাইক্রোবাস ও দু’টি মোটর সাইকেল। এদের মধ্যে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত চারজন এবং চিনির চালান ছিনতাইয়ের চেষ্টার দায়ে দুইজন আটক করা হয়।

আটককৃতরা জানায়, জৈন্তাপুর থেকে ট্রাকে করে ভারতীয় ২৫০ বস্তা চিনি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাদের পেছনে কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে (বক্সি) করে ট্রাকটি অনুসরণ করছিলেন চারজন চোরাকারবারি। পথিমধ্যে চিনির চালান লুটের চেষ্ঠা করে একদল ছিনতাইকারী। তারা একটি মাইক্রোবাস (নোহা) ও দুইটি মোটরসাইকেল নিয়ে চিনিভর্তি ট্রাকটিকে ধাওয়া করে।

একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাদিপুর সেতুর সামনে থেকে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় পুলিশ চিনিভর্তি ট্রাক, দুইটি মাইক্রোবাস ও দুইটি মোটরসাইকেল আটক করে। এসময় ৬জনকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হলেও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সিলেট সীমান্ত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় চোরাই চিনির ট্রাকটি সিলেট থেকে পিছু ধাওয়া করেন আটক বিএনপির দুই নেতাসহ কয়েকজন। তারা শেরপুর এলাকায় পৌছার পর ট্রাকটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। জনতা বুঝতে পেরে তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেন। তখন আটক দু’জন নিজেদের বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দেন।

এদিকে, ভারতীয় ‘বুঙ্গার চিনি’ ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে আটকের পর রবিবার দিবাগত রাতে গণমাধ্যমে  বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলেমান আহমদ সুমন ও ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়।

বহিস্কারের কারণ হিসেবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে ‘বুঙ্গার চিনি’ ছিনতাই করতে গিয়ে বিএনপির ২ নেতা বহিস্কার

আপডেট সময় : ০৮:৩০:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার :

 সিলেটের ওসমানীনগরে ট্রাকভর্তি বুঙ্গার চিনি ছিনতাই করতে গিয়ে স্থানীয় জনতা ও পুলিশের হাতে ধরা পড়েছেন মহানগর বিএনপির দুই নেতা। একই সঙ্গে চিনি চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত আরও চারজনকে আটক করা হয়েছে। রোববার মধ্যরাতে সিলেট-ঢাকা মহাসড়কের তাদেরকে সাদিপুর সেতু এলাকা আটক করা হয়।

এ ঘটনার পর রাতেই ওই দুই নেতাকে দল থেকে বহিস্কার করেছে সিলেট মহানগর বিএনপি। বুঙ্গার চিনি ছিনতাইয়ের চেষ্টার দায়ে আটক ও বহিস্কৃত বিএনপি নেতারা হলেন- মহানগরীর ২৫নং ওয়ার্ড কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও দক্ষিণ সুরমার বারখলা রূপালি আবাসিক এলাকার মৃত ছানা মিয়ার ছেলে মো. সোলেমান হোসেন সুমন (৪২) এবং ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ভার্থখলার সোনালী আবাসিক এলাকার মৃত দিলু মিয়ার ছেলে মো. আবদুল মান্নান (৪৩)।

এছাড়া চোরাচালানে জড়িত থাকার অভিযোগে আটককৃতরা হলেন- সিলেট সদর উপজেলার বটেশ্বরের মলাইটিলার মৃত করম আলীর ছেলে মনির আহমদ (৩২), জৈন্তাপুরের বাঘেরখালের মমতাজ আলীর ছেলেতোফায়েল আহমদ (২৬), একই এলাকার জালাল উদ্দিনের ছেলে মো. শাহীন আহমদ (২৫) ও গোয়াইনঘাটের ফতেহপুর তৃতীয়খণ্ডের মঈন উদ্দিনের ছেলে নজরুল ইসলাম (৪২)।

ওসমানীনগর থানার ওসি (তদন্ত) আরাফাত জাহান চৌধুরী জানান, সাদিপুর সেতুর সামনে থেকে ছয়জনকে আটক করা হয়েছে। এ সময় জব্দ করা হয়েছে ভারতীয় চিনিভর্তি একটি ট্রাক, দুটি মাইক্রোবাস ও দু’টি মোটর সাইকেল। এদের মধ্যে চোরাচালানের সঙ্গে জড়িত চারজন এবং চিনির চালান ছিনতাইয়ের চেষ্টার দায়ে দুইজন আটক করা হয়।

আটককৃতরা জানায়, জৈন্তাপুর থেকে ট্রাকে করে ভারতীয় ২৫০ বস্তা চিনি নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। তাদের পেছনে কালো রঙের একটি মাইক্রোবাসে (বক্সি) করে ট্রাকটি অনুসরণ করছিলেন চারজন চোরাকারবারি। পথিমধ্যে চিনির চালান লুটের চেষ্ঠা করে একদল ছিনতাইকারী। তারা একটি মাইক্রোবাস (নোহা) ও দুইটি মোটরসাইকেল নিয়ে চিনিভর্তি ট্রাকটিকে ধাওয়া করে।

একপর্যায়ে রাত সাড়ে ১১টার দিকে সাদিপুর সেতুর সামনে থেকে স্থানীয় জনতার সহযোগিতায় পুলিশ চিনিভর্তি ট্রাক, দুইটি মাইক্রোবাস ও দুইটি মোটরসাইকেল আটক করে। এসময় ৬জনকে পুলিশ আটক করতে সক্ষম হলেও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত আরও কয়েকজন পালিয়ে যায়।

স্থানীয় সূত্র ও পুলিশ জানায়, সিলেট সীমান্ত থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা ভারতীয় চোরাই চিনির ট্রাকটি সিলেট থেকে পিছু ধাওয়া করেন আটক বিএনপির দুই নেতাসহ কয়েকজন। তারা শেরপুর এলাকায় পৌছার পর ট্রাকটি ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেন। জনতা বুঝতে পেরে তাদের আটক করে পুলিশকে খবর দেন। তখন আটক দু’জন নিজেদের বিএনপি নেতা হিসেবে পরিচয় দেন।

এদিকে, ভারতীয় ‘বুঙ্গার চিনি’ ছিনতাইয়ের চেষ্টার অভিযোগে আটকের পর রবিবার দিবাগত রাতে গণমাধ্যমে  বিজ্ঞপ্তি পাঠিয়ে ২৫নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সুলেমান আহমদ সুমন ও ২৬নং ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আবদুল মান্নানকে সংগঠন থেকে বহিস্কার করা হয়।

বহিস্কারের কারণ হিসেবে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট প্রমাণের কথা উল্লেখ করা হয়।