সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান স্মরণসভায় সিসিক প্রশাসক সিলেট চেম্বারের প্রশাসকের সাথে ভারত থেকে আগত বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের মতবিনিময় খুলনার কুখ্যাত সন্ত্রাসী এরশাদের সহযোগী জয়নাল গ্রেপ্তার সিলেটে ২৪ ঘণ্টা অবরুদ্ধ, অধ্যক্ষ শিক্ষক আন্দোলনে উত্তাল ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ হবিগঞ্জের শায়েস্তাগঞ্জ থেকে ৭ হাজার কেজি ভারতীয় পণ্যসহ আটক ২ সিলেটে দুই বেকারিতে অভিযান, ৪০ হাজার টাকা জরিমানা সিলেটে অনিয়ম-অপরাধ নিয়ন্ত্রণে কঠোর অবস্থানে প্রশাসন, ৫৩৬ মামলায় জরিমানা ২৪ লাখ সিলেট হযরত শাহজালাল (রহ:) মাজারে ৩ পদে চাকরির সুযোগ সিলেটে সেমিনারে সিসিক প্রশাসক সিলেট থেকে শুরু ‘রবি বোলারহান্ট’-এর ট্রায়াল শুরু

সিলেটে উৎসবমুখর পরিবেশে মহাঅষ্টমী ও নবমী উদযাপিত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪ ১৯৭ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী ও নবমী । নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, ষোলো উপাদান আর ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে শুক্রবার সকাল ৭টা ১৬ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী পরে মহানবমী পূজা শুরু হবে।

চন্ডীপাঠ, ঢাকের বোল, মন্ত্র, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি, অঞ্জলী, পূষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ সব মিলিয়ে প্রতিটি মন্ডপেই ছিল উৎসবের সমারোহ। সকাল থেকেই বিহিতপূজার মাধ্যমে শুরু হয়েছে মহাঅষ্টমী, মহাঅষ্টমী পূজা পরে মহানবমী পূজা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সিলেটের পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চণার মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে মহাঅষ্টমী ও মহানবমী। দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হবে। প্রতি বছর এই পূজাতে সিলেট নগরীতে নতুন নতুন সাজ-সজ্জা দেখা চোখে পড়ে। সম্প্রীতির নগর সিলেটে হিন্দু হিন্দুধর্মালম্বীদের এই পূজাতে সকল ধর্মের মানুষকেই আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায়।

নবমী নিশীথে উৎসবের রাত শেষ হয়। নবমী রাত তাই বিদায়ের অমোঘ পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয়। এসব বিবেচনা করে অনেকেই মনে করেন, নবমীর দিন আধ্যাত্মিকতার চেয়েও অনেক বেশি লোকায়ত ভাবনায় ভাবিত থাকে মন। আজ সকালে বিহিত পূজার মাধ্যমে মহাঅষ্টমী ও মহানবমী পূজা এবং আগামী রবিবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আবার কেউ কেউ শনিবারে প্রতিমা বিসর্জন করবেন।

সারাদেশসহ সিলেটজুড়ে পালন করা হচ্ছে সনাতনী ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শাস্ত্রমতে অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবীকে চামুণ্ডারূপে পূজা করা হয়। মহিষাসুর নিধনের সময় দেবী দুর্গা প্রচণ্ড ক্রোধে কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেছিলেন। অর্থাৎ যিনি চামুণ্ডের বিনাশিনী। পূজার এ মুহূর্তটি আরও একটি কারণে স্মরণীয় কেননা দেবী দুর্গার আশির্বাদ নিয়ে শ্রীরাম এই মুহূর্তটিতেই রাবনকে বধ করেছিলেন।

দেবী দুর্গার কাছে নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেয়া হয় আহুতি। শাস্ত্রমতে ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে এই যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুল সম্পদ লাভ করে। সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার দোলায় (পালকি) চড়ে স্বর্গালোক থেকে মর্ত্যলোকে আসবেন। দেবী বিদায় নেবেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে। এ প্রেক্ষাপটে এবারের দুর্গোৎসব বেশ শুভফল বয়ে আনবে না বাঙালির জীবনে।

এদিকে, দুর্গাপূজায় সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, র‍্যাব, আনসার-ভিডিপি ও পুলিশ প্রশাসন।এছাড়া পূজাকালীন নিরাপত্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রাখছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া কোনো গুজবে কান না দিয়ে যে কোনো প্রয়োজনে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পূজা মণ্ডপ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার।বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী- এ বছর সিলেটে জেলায় ৪৪১টি এবং মহানগরে ১৫৪টি মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শ্রী শ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা আগামী বুধবার (১৬ অক্টোবর) ও বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) শ্রী শ্রী শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে উৎসবমুখর পরিবেশে মহাঅষ্টমী ও নবমী উদযাপিত

আপডেট সময় : ০১:০৫:১৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১১ অক্টোবর ২০২৪

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে চলছে সনাতন ধর্মালম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় অনুষ্ঠান শারদীয় দুর্গোৎসব। আজ শারদীয় দুর্গাপূজার মহাঅষ্টমী ও নবমী । নবপত্রিকা প্রবেশ ও স্থাপন, ষোলো উপাদান আর ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদানের মধ্য দিয়ে শুক্রবার সকাল ৭টা ১৬ মিনিটের মধ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছে দুর্গোৎসবের মহাঅষ্টমী পরে মহানবমী পূজা শুরু হবে।

চন্ডীপাঠ, ঢাকের বোল, মন্ত্র, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনি, অঞ্জলী, পূষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ সব মিলিয়ে প্রতিটি মন্ডপেই ছিল উৎসবের সমারোহ। সকাল থেকেই বিহিতপূজার মাধ্যমে শুরু হয়েছে মহাঅষ্টমী, মহাঅষ্টমী পূজা পরে মহানবমী পূজা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার তৃতীয় দিন।

শুক্রবার (১১ অক্টোবর) সিলেটের পূজামণ্ডপগুলোতে পূজা-অর্চণার মাধ্যমে উদযাপিত হচ্ছে মহাঅষ্টমী ও মহানবমী। দেবীর মহাষ্টমী কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজা শুরু হবে। প্রতি বছর এই পূজাতে সিলেট নগরীতে নতুন নতুন সাজ-সজ্জা দেখা চোখে পড়ে। সম্প্রীতির নগর সিলেটে হিন্দু হিন্দুধর্মালম্বীদের এই পূজাতে সকল ধর্মের মানুষকেই আনন্দ ভাগ করে নিতে দেখা যায়।

নবমী নিশীথে উৎসবের রাত শেষ হয়। নবমী রাত তাই বিদায়ের অমোঘ পরোয়ানা নিয়ে হাজির হয়। এসব বিবেচনা করে অনেকেই মনে করেন, নবমীর দিন আধ্যাত্মিকতার চেয়েও অনেক বেশি লোকায়ত ভাবনায় ভাবিত থাকে মন। আজ সকালে বিহিত পূজার মাধ্যমে মহাঅষ্টমী ও মহানবমী পূজা এবং আগামী রবিবার সকালে দর্পণ বিসর্জনের পর প্রতিমা বিসর্জনের মাধ্যমে শেষ হবে পাঁচ দিনের দুর্গাপূজার আনুষ্ঠানিকতা। আবার কেউ কেউ শনিবারে প্রতিমা বিসর্জন করবেন।

সারাদেশসহ সিলেটজুড়ে পালন করা হচ্ছে সনাতনী ধর্মালম্বীদের ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। শাস্ত্রমতে অষ্টমী ও নবমীর সন্ধিক্ষণে দেবীকে চামুণ্ডারূপে পূজা করা হয়। মহিষাসুর নিধনের সময় দেবী দুর্গা প্রচণ্ড ক্রোধে কৃষ্ণবর্ণ ধারণ করেছিলেন। অর্থাৎ যিনি চামুণ্ডের বিনাশিনী। পূজার এ মুহূর্তটি আরও একটি কারণে স্মরণীয় কেননা দেবী দুর্গার আশির্বাদ নিয়ে শ্রীরাম এই মুহূর্তটিতেই রাবনকে বধ করেছিলেন।

দেবী দুর্গার কাছে নবমী পূজায় যজ্ঞের মাধ্যমে দেয়া হয় আহুতি। শাস্ত্রমতে ১০৮টি বেল পাতা, আম কাঠ, ঘি দিয়ে এই যজ্ঞের আয়োজন করা হয়। ভক্তদের বিশ্বাস, নবমী পূজার মাধ্যমে মানবকুল সম্পদ লাভ করে। সনাতন বিশ্বাস ও পঞ্জিকামতে, জগতের মঙ্গল কামনায় দেবী দুর্গা এবার দোলায় (পালকি) চড়ে স্বর্গালোক থেকে মর্ত্যলোকে আসবেন। দেবী বিদায় নেবেন ঘোটকে (ঘোড়া) চড়ে। এ প্রেক্ষাপটে এবারের দুর্গোৎসব বেশ শুভফল বয়ে আনবে না বাঙালির জীবনে।

এদিকে, দুর্গাপূজায় সিলেটে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করেছে প্রশাসন। নিয়মিত পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করছে বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা, র‍্যাব, আনসার-ভিডিপি ও পুলিশ প্রশাসন।এছাড়া পূজাকালীন নিরাপত্তা ও বিভিন্ন বিষয়ে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতৃবৃন্দের সাথে যোগাযোগ রাখছেন বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তাবৃন্দ। এছাড়া কোনো গুজবে কান না দিয়ে যে কোনো প্রয়োজনে প্রশাসনের সঙ্গে যোগাযোগ করতে পূজা মণ্ডপ সংশ্লিষ্টদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন বিভাগীয় কমিশনার।বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদের তথ্য অনুযায়ী- এ বছর সিলেটে জেলায় ৪৪১টি এবং মহানগরে ১৫৪টি মণ্ডপ তৈরি করা হচ্ছে।

উল্লেখ্য, শ্রী শ্রী কোজাগরী লক্ষ্মীপূজা আগামী বুধবার (১৬ অক্টোবর) ও বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) শ্রী শ্রী শ্যামাপূজা অনুষ্ঠিত হবে।