সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

এমসি’র ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের গণধর্ষণের ৪ বছরে ও শুরু হয়নি বিচারকাজ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৩৪:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ১২৫ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রাইভেটকারে করে স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী ঘুরতে গিয়েছিলেন সিলেটের শাহপরাণ (রাহ.)-এর মাজারে। ফিরতি পথে হয় সন্ধ্যা। এমসি কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে তারা থামেন মহানগরের টিলাগড়ে। আর তখনই নবদম্পতির স্বপ্নীল সন্ধ্যা রূপ নেয় বিভীষিকাময় সময়ে।

এমসি কলেজের ফটক থেকে স্বামী-স্ত্রীকে ধরে নিয়ে যান কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা। তাদের প্রাইভেটকারসহ নিয়ে যাওয়া হয় ছাত্রাবাসের ভেতরে। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে (১৯) গাড়ির ভেতরেই ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের ৬ জন। সিলেটসহ সারা দেশে তোলপাড় করা ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এই ৪ বছরেও শুরু হয়নি এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বিচারকাজ।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জৈনপুর এলাকার এক যুবক তার নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে শাহপরাণ মাজারে ঘুরতে যান। সন্ধ্যার দিকে তারা এমসি কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার লক্ষ্যে এর প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে নবদম্পতিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের প্রাইভেটকারে তুলেই কলেজের ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে প্রাইভেটকারের ভেতরেই ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের ৬ নেতা।

ঘটনার সময়ের বিবরণ দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, ওই দিন সন্ধ্যার পর রাতে বেশ কিছুক্ষণ এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ভেতর থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন তারা। এক পর্যায়ে নারী কণ্ঠের চিৎকার শুনতে পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রাবাস এলাকার ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রলীগের নেতারা বাঁধা দেন। এসময় হোস্টেলের পাশের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে কর্মচারীরা এবং খবর পেয়ে পুলিশ আসলে নির্যাতিতা স্ত্রীকে নিয়ে তার স্বামী সব খুলে বলেন। ওই রাতেই নির্যাতিতা নববধূকে  সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাতেই তার স্বামী বাদী হয়ে সিলেট শাহপরাণ থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও ৩ দিনের মধ্যে ৬ আসামিসহ আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব ও পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা ছিলেন- সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার তাহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (২৮), হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), জকিগঞ্জের আটগ্রামের মৃত অমলেন্দু লস্কর ওরফে কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৬), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির (গাছবাড়ী) সালিক আহমদের ছেলে মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), সিলেট নগরীর গোলাপবাগ আবাসিক এলাকার (বাসা নম্বর-৭৬) মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নটেশ্বর গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের ছেলে মিজবাউল ইসলাম রাজনকে (২৭)। তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার দুই মাস ৮ দিন পর- ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর এই আটজনকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। এতে বলা হয়- আসামিদের মধ্যে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, মিজবাহুল ইসলাম রাজন ও আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল সেদিন ওই নারীকে সরাসরি ধর্ষণ করেন। আর রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম ধর্ষণকারীদের সহযোগিতা করেন।

গ্রেফতারের পর আট আসামির সবাই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সিলেট ওসমানী মেডিকেলের ওসিসির মাধ্যমে ডিএনএ সংগ্রহ করে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠায় পুলিশ। নমুনা সংগ্রহের প্রায় দুই মাস পর ডিএনএ রিপোর্ট আসে। রিপোর্টে ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর ও মাহবুবুর রহমান রনির ডিএনএ ‘ম্যাচিং’ পাওয়া যায়। আট আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন। মামলায় ৫২ জনকে সাক্ষী রাখা হয়।

এক পর্যায়ে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গঠিত জেলা মনিটরিং কমিটি ধর্ষণ মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ধর্ষিতার স্বামী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০২২ সালেল ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে আদেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু মামলা স্থানান্তর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গেজেট প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করার নিয়ম। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি করা হয়নি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী সিলেটভিউ-কে বলেন, মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে মামলা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়। এখন পর্যন্ত সেটি না হওয়ায় মামলাটির স্থানান্তর প্রক্রিয়া থমকে আছে।

তিনি আরও বলেন- এর মধ্যে উচ্চ আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে সরকারের পক্ষে ‘অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড’ হরিপদ পাল কর্তৃক লিভ টু আপিল করা হয় বলে মামলার বাদিকে নোটিশ করা হয়। নোটিশ গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আমরা পাই। এই বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি আদালত।

অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী একপ্রকার অভিযোগের স্বরে বলেন- জানাতে পেরেছি, মামলার বাদীকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা চলছে। মনে হচ্ছে- তাকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। বাদী এখন আমার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন। সার্বিক বিষয়ে জানতে মামলার বাদীর মুঠোফোনে বার বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মামলার বিচারকাজ নিয়ে সিলেট নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের এপিপি ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী সিলেটভিউ-কে বলেন- প্রজ্ঞাপনটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে দুই বার লিখিতভাবে আবদেন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়নি। ফলে মামলাও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে না, বিচারকাজও শুরু হচ্ছে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এমসি’র ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের গণধর্ষণের ৪ বছরে ও শুরু হয়নি বিচারকাজ

আপডেট সময় : ০১:৩৪:৪০ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক :

প্রাইভেটকারে করে স্বামীর সঙ্গে স্ত্রী ঘুরতে গিয়েছিলেন সিলেটের শাহপরাণ (রাহ.)-এর মাজারে। ফিরতি পথে হয় সন্ধ্যা। এমসি কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখতে তারা থামেন মহানগরের টিলাগড়ে। আর তখনই নবদম্পতির স্বপ্নীল সন্ধ্যা রূপ নেয় বিভীষিকাময় সময়ে।

এমসি কলেজের ফটক থেকে স্বামী-স্ত্রীকে ধরে নিয়ে যান কয়েকজন ছাত্রলীগ নেতা। তাদের প্রাইভেটকারসহ নিয়ে যাওয়া হয় ছাত্রাবাসের ভেতরে। সেখানে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে (১৯) গাড়ির ভেতরেই ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের ৬ জন। সিলেটসহ সারা দেশে তোলপাড় করা ঘটনাটি ঘটে ২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর। কিন্তু এই ৪ বছরেও শুরু হয়নি এই ঘটনায় দায়েরকৃত মামলার বিচারকাজ।

২০২০ সালের ২৫ সেপ্টেম্বর বিকালে সিলেটের দক্ষিণ সুরমার জৈনপুর এলাকার এক যুবক তার নববিবাহিত স্ত্রীকে নিয়ে শাহপরাণ মাজারে ঘুরতে যান। সন্ধ্যার দিকে তারা এমসি কলেজ ক্যাম্পাস ঘুরে দেখার লক্ষ্যে এর প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান করছিলেন। এ সময় ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী তাদের ঘিরে ধরে। একপর্যায়ে নবদম্পতিকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে তাদের প্রাইভেটকারে তুলেই কলেজের ছাত্রাবাসের ভেতরে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে স্বামীকে আটকে রেখে স্ত্রীকে প্রাইভেটকারের ভেতরেই ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের ৬ নেতা।

ঘটনার সময়ের বিবরণ দিতে গিয়ে স্থানীয়রা জানান, ওই দিন সন্ধ্যার পর রাতে বেশ কিছুক্ষণ এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের ভেতর থেকে চিৎকার চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলেন তারা। এক পর্যায়ে নারী কণ্ঠের চিৎকার শুনতে পেয়ে স্থানীয় কয়েকজন ছাত্রাবাস এলাকার ভেতরে প্রবেশ করতে গেলে ছাত্রলীগের নেতারা বাঁধা দেন। এসময় হোস্টেলের পাশের স্টাফ কোয়ার্টার থেকে কর্মচারীরা এবং খবর পেয়ে পুলিশ আসলে নির্যাতিতা স্ত্রীকে নিয়ে তার স্বামী সব খুলে বলেন। ওই রাতেই নির্যাতিতা নববধূকে  সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় এবং রাতেই তার স্বামী বাদী হয়ে সিলেট শাহপরাণ থানায় ৬ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেন।

ঘটনার পর আসামিরা পালিয়ে গেলেও ৩ দিনের মধ্যে ৬ আসামিসহ আরও ২ জনকে গ্রেফতার করে র‍্যাব ও পুলিশ। গ্রেফতারকৃতরা ছিলেন- সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার চান্দাইপাড়ার তাহিদ মিয়ার ছেলে সাইফুর রহমান (২৮), হবিগঞ্জ জেলার সদর উপজেলার বাগুনীপাড়ার শাহ জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), সুনামগঞ্জের শান্তিগঞ্জ উপজেলার উমেদনগরের মৃত রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), জকিগঞ্জের আটগ্রামের মৃত অমলেন্দু লস্কর ওরফে কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৬), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুরের দেলোয়ার হোসেনের ছেলে রবিউল ইসলাম (২৫), কানাইঘাট উপজেলার লামা দলইকান্দির (গাছবাড়ী) সালিক আহমদের ছেলে মাহফুজুর রহমান মাসুম (২৫), সিলেট নগরীর গোলাপবাগ আবাসিক এলাকার (বাসা নম্বর-৭৬) মৃত সোনা মিয়ার ছেলে আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল (২৬) ও বিয়ানীবাজার উপজেলার নটেশ্বর গ্রামের মৃত ফয়জুল ইসলামের ছেলে মিজবাউল ইসলাম রাজনকে (২৭)। তারা সবাই ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

ঘটনার দুই মাস ৮ দিন পর- ২০২০ সালের ৩ ডিসেম্বর এই আটজনকে অভিযুক্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলার ১৭ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র আদালতে দাখিল করেন তদন্তকারী কর্মকর্তা শাহপরাণ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইন্দ্রনীল ভট্টাচার্য। এতে বলা হয়- আসামিদের মধ্যে সাইফুর রহমান, শাহ মাহবুবুর রহমান রনি, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর, মিজবাহুল ইসলাম রাজন ও আইনুদ্দিন ওরফে আইনুল সেদিন ওই নারীকে সরাসরি ধর্ষণ করেন। আর রবিউল ইসলাম ও মাহফুজুর রহমান মাসুম ধর্ষণকারীদের সহযোগিতা করেন।

গ্রেফতারের পর আট আসামির সবাই আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। পরে ৮ জনের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়। সিলেট ওসমানী মেডিকেলের ওসিসির মাধ্যমে ডিএনএ সংগ্রহ করে ঢাকায় সিআইডির ফরেনসিক ল্যাবে পাঠায় পুলিশ। নমুনা সংগ্রহের প্রায় দুই মাস পর ডিএনএ রিপোর্ট আসে। রিপোর্টে ছাত্রলীগ কর্মী সাইফুর রহমান, তারেকুল ইসলাম তারেক, অর্জুন লস্কর ও মাহবুবুর রহমান রনির ডিএনএ ‘ম্যাচিং’ পাওয়া যায়। আট আসামি বর্তমানে কারাগারে আছেন। মামলায় ৫২ জনকে সাক্ষী রাখা হয়।

এক পর্যায়ে দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য গঠিত জেলা মনিটরিং কমিটি ধর্ষণ মামলা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। কিন্তু কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ধর্ষিতার স্বামী হাইকোর্টে রিট করেন। ২০২২ সালেল ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর করতে আদেশ দেন হাইকোর্ট। কিন্তু মামলা স্থানান্তর করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে গেজেট প্রকাশ করে প্রজ্ঞাপন জারি করার নিয়ম। কিন্তু এখন পর্যন্ত সেটি করা হয়নি।

বাদীপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী সিলেটভিউ-কে বলেন, মামলার কোনো অগ্রগতি নেই। বাদীপক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে উচ্চ আদালত ২০২২ সালের ১৫ ডিসেম্বর মামলাটি দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে প্রেরণের নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে মামলা স্থানান্তরের ক্ষেত্রে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করতে হয়। এখন পর্যন্ত সেটি না হওয়ায় মামলাটির স্থানান্তর প্রক্রিয়া থমকে আছে।

তিনি আরও বলেন- এর মধ্যে উচ্চ আদালতের এ আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে সরকারের পক্ষে ‘অ্যাডভোকেট অন রেকর্ড’ হরিপদ পাল কর্তৃক লিভ টু আপিল করা হয় বলে মামলার বাদিকে নোটিশ করা হয়। নোটিশ গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে আমরা পাই। এই বিষয়েও কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি আদালত।

অ্যাডভোকেট শহীদুজ্জামান চৌধুরী একপ্রকার অভিযোগের স্বরে বলেন- জানাতে পেরেছি, মামলার বাদীকে প্রলুব্ধ করার চেষ্টা চলছে। মনে হচ্ছে- তাকে দুর্বল করে ফেলা হয়েছে। বাদী এখন আমার সঙ্গে যোগাযোগ কমিয়ে দিয়েছেন। সার্বিক বিষয়ে জানতে মামলার বাদীর মুঠোফোনে বার বার কল দিলেও তিনি রিসিভ করেননি।

মামলার বিচারকাজ নিয়ে সিলেট নারী ও শিশু ট্রাইব্যুনালের এপিপি ইশতিয়াক আহমদ চৌধুরী সিলেটভিউ-কে বলেন- প্রজ্ঞাপনটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে দুই বার লিখিতভাবে আবদেন করা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত প্রজ্ঞাপনটি জারি করা হয়নি। ফলে মামলাও দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে যাচ্ছে না, বিচারকাজও শুরু হচ্ছে না।