সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি হবিগঞ্জ বাহুবল-রাজাপুর সড়ক সংস্কারে অনিয়ম সিলেট হাম ও হাম উপসর্গ নিয়ে এক শিশুর মৃত্যু সিলেট পুলিশের অভিযানে বিভিন্ন অপরাধে গ্রেফতার ১৭১ সিলেট চোরাই পণ্য বালুর ট্রাক ও প্রাইভেট কারসহ আটক ১ সিলেট-ঢাকা মহাসড়কে যাত্রীবাহী একটি বাস নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে নিহত ৪ প্রতিদিন রাতে গরম দুধের সঙ্গে খেজুর খেলে মিলবে যেসব উপকার ৪০ বছর পর বাংলাদেশ জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি ড. খলিলুর রহমান

সিলেটে সাংবাদিক হত্যায়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ২৬৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:০০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০২৪ ১৫২ বার পড়া হয়েছে

রুহুল আমীন তালুকদার :

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিলেট নগরীতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকরত অবস্হায় সাংবাদিক এটিএম তুরাব পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

এই ঘটনায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার উত্তর (ক্রাইম) সাদেক দস্তগীর কাউসার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখসহ ১৮জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সকালে নিহত সাংবাদিক তুরাব (ভিকটিম)’র ভাই আবুল আহছান মোঃ আযরফ জাবুর বাদী হয়ে সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।

বাদীর এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের টার্গেটকৃত গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক এটিএম তোরাব।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে ও উস্কানীতে সিলেটের সাংবাদিক তুরাবসহ সারাদেশে অসংখ্য হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়।

ওইদিন সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ মধুবন সুপার মার্কেটের সামনে প্রেস জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় দায়িত্বরত স্হানীয় দৈনিক জালালাবাদ ও জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তের সাংবাদিক এটিএম তুরাব ( ভিকটিম)’র বুকে এজাহার নামীয় আসামী আজবাহার আলী শেখ এর নির্দেশে আসামী সাদেক দস্তগীর কাউসার গুলি করেন।

এসময় এজাহার নামীয় ৪-৮ ও ১৫-১৮নং আসামীগণ সরাসরি সাংবাদিক তুরাব (ভিকটিম)’র গায়ে এলোপাথারি গুলি বর্ষণ করেন।এর পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

মামলার এজাহারে উল্লেখিত অন্যান্য আসামীরা হলেন, কোতোয়ালী মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান, কোতোয়ালী মডেল থানার তৎকালীন কর্মরত অফিসার ইনচার্জ মঈন উদ্দিন, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ফজলুর রহমান, বন্দরবাজার পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) কল্লোল গোস্বামী, সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) কাজী রিপন সরকার, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আপ্তাব হোসেন খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পীযুষ কান্তি দে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পিএস ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর, ৩২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, শিবলু আহমদ, সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) সেলিম মিয়া, আজহার, ফিরোজ, উজ্জ্বল।

মামলার বাদী সাংবাদিক এটিএম তুরাব (ভিকটিম)’র ভাই আবুল আহছান মোঃ আযরফ জাবুর বলেন, আমি ঘটনার দিন উক্ত ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করতে গেলে পুর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা ২-৫নং আসামীগণ আমাকে মামলা না করতে জানায় করলে আমাকেও আমার ভাই তুরাব (ভিকটিম)’র মত হত্যা করার হুমকি দেন এবং তৎকালীন থানায় কর্মরত অফিসার ইনচার্জ মামলা গ্রহন করতে অপারগতা প্রকাশ করায়, ন্যায় ও সুবিচারের স্বার্থে আদালতে এসে মামলা দায়ের করি। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এজাহার গণ্যে রুজু করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ’কে নির্দেশ প্রদান করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে সাংবাদিক হত্যায়, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ ২৬৮ জনের বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ০৪:০০:১১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অগাস্ট ২০২৪

রুহুল আমীন তালুকদার :

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন চলাকালে সিলেট নগরীতে পেশাগত দায়িত্ব পালনকরত অবস্হায় সাংবাদিক এটিএম তুরাব পুলিশের গুলিতে নিহত হন।

এই ঘটনায় সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট মেট্টোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার উত্তর (ক্রাইম) সাদেক দস্তগীর কাউসার, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার আজবাহার আলী শেখসহ ১৮জনের নাম উল্লেখ করে ও অজ্ঞাতনামা আরও ২৫০ জনকে আসামী করে হত্যা মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ আগস্ট) সকালে নিহত সাংবাদিক তুরাব (ভিকটিম)’র ভাই আবুল আহছান মোঃ আযরফ জাবুর বাদী হয়ে সিলেটের অতিরিক্ত চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এই মামলা দায়ের করেন।

বাদীর এজাহারে উল্লেখ করা হয়, গত ১৯ জুলাই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় পেশাগত দায়িত্ব পালনকালে পুলিশের টার্গেটকৃত গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক এটিএম তোরাব।

সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামালের নির্দেশে ও উস্কানীতে সিলেটের সাংবাদিক তুরাবসহ সারাদেশে অসংখ্য হত্যাযজ্ঞ সংঘটিত হয়।

ওইদিন সিলেট নগরীর বন্দরবাজারস্থ মধুবন সুপার মার্কেটের সামনে প্রেস জ্যাকেট পরিহিত অবস্থায় দায়িত্বরত স্হানীয় দৈনিক জালালাবাদ ও জাতীয় দৈনিক নয়া দিগন্তের সাংবাদিক এটিএম তুরাব ( ভিকটিম)’র বুকে এজাহার নামীয় আসামী আজবাহার আলী শেখ এর নির্দেশে আসামী সাদেক দস্তগীর কাউসার গুলি করেন।

এসময় এজাহার নামীয় ৪-৮ ও ১৫-১৮নং আসামীগণ সরাসরি সাংবাদিক তুরাব (ভিকটিম)’র গায়ে এলোপাথারি গুলি বর্ষণ করেন।এর পরই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তিনি।

মামলার এজাহারে উল্লেখিত অন্যান্য আসামীরা হলেন, কোতোয়ালী মডেল থানার সহকারী পুলিশ কমিশনার মিজানুর রহমান, কোতোয়ালী মডেল থানার তৎকালীন কর্মরত অফিসার ইনচার্জ মঈন উদ্দিন, অফিসার ইনচার্জ (তদন্ত) ফজলুর রহমান, বন্দরবাজার পুলিশ ফাড়িঁর ইনচার্জ সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) কল্লোল গোস্বামী, সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) কাজী রিপন সরকার, সিলেট মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সাবেক কাউন্সিলর আপ্তাব হোসেন খান, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পীযুষ কান্তি দে, সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের পিএস ও জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর, ৩২নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, শিবলু আহমদ, সাব ইন্সপেক্টর (এসআই) সেলিম মিয়া, আজহার, ফিরোজ, উজ্জ্বল।

মামলার বাদী সাংবাদিক এটিএম তুরাব (ভিকটিম)’র ভাই আবুল আহছান মোঃ আযরফ জাবুর বলেন, আমি ঘটনার দিন উক্ত ঘটনার বিষয়ে সংশ্লিষ্ট থানায় মামলা করতে গেলে পুর্ব থেকে ওৎপেতে থাকা ২-৫নং আসামীগণ আমাকে মামলা না করতে জানায় করলে আমাকেও আমার ভাই তুরাব (ভিকটিম)’র মত হত্যা করার হুমকি দেন এবং তৎকালীন থানায় কর্মরত অফিসার ইনচার্জ মামলা গ্রহন করতে অপারগতা প্রকাশ করায়, ন্যায় ও সুবিচারের স্বার্থে আদালতে এসে মামলা দায়ের করি। আদালতের বিচারক মামলাটি আমলে নিয়ে এজাহার গণ্যে রুজু করার জন্য সংশ্লিষ্ট থানার অফিসার ইনচার্জ’কে নির্দেশ প্রদান করেন।