সকল ষড়যন্ত্র রুখে দেওয়া হবে : সিলেটে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সমন্বয়ক
- আপডেট সময় : ০২:৩৫:২০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ অগাস্ট ২০২৪ ১২৫ বার পড়া হয়েছে
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়
নিজস্ব প্রতিবেদক :
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের সিলেটের সমন্বয়করা সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় করেছেন। বুধবার (১৪ আগস্ট) বিকাল ৬টায় মহানগরের পূর্ব জিন্দাবাজারের একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও নিবন্ধিত সংবাদমাধ্যমের সাংবাদিকদের সঙ্গে তারা মতবিনিময় করেন।
এসময় সম্বয়করা বলেন- ‘ছাত্র-জনতার এক মাস বিপ্লবের মধ্যদিয়ে দীর্ঘ ১৫ বছরের স্বৈরাচার সরকার শেখ হাসিনার পতন ঘটানো হয়েছে। ঢাকার পর আন্দোলন বেশি বেগবান হয় বিভাগীয় শহর সিলেটে। আন্দোলনে ছাত্র-জনতার সঙ্গে সাংবাদিকসহ সিলেটের সর্বস্তরের মানুষ অংশগ্রহণ করেন। এসময় পুলিশের গুলিতে নিহত হন সিলেটের সাংবাদিক এটিএম তুরাব। এছাড়া পুলিশের ধাওয়ায় পানিতে পড়ে মৃত্যুবরণ করেন শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্র রুদ্র সেন। আমরা তাদের আত্মত্যাগ শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি এবং সিলেটবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। বিপ্লবের মাধ্যমে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর নতুন করে দেশ বিনির্মাণের কাজ করছে ছাত্র-জনতা। ছাত্রদের প্রস্তাবিত বর্তমান সরকার একটি দুর্নীতিমুক্ত, বৈষম্যহীন ও প্রকৃত স্বাধীন দেশ গড়তে চায়। এতে সহযোগিতা করছে ছাত্র-জনতা। কিন্তু হাসিনার পতনের পর পার্শ্ববর্তী দেশের ষড়যন্ত্রে গুজব রটিয়ে সাধরণ হিন্দু সম্প্রদায়কে উস্কে দেওয়া হচ্ছে। প্রতিবিপ্লবের নামে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে এ সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করা হচ্ছে। কিন্তু এ সরকার ১৭ জনের নয়, কোটি ছাত্র-জনতাসহ দেশের ১৮ কোটি মানুষ সরকারের সঙ্গে রয়েছেন। বিশৃঙ্খলাকারীদের কঠোরভাবে রুখে দেওয়া হবে।
মতিবিনিময়কালে সমন্বয়করা আরও বলেন- ‘সংখ্যলঘু বলতে কোনো শব্দ নেই। সারা দেশের মানুষ একই পরিবারের সদস্য। আমরা সবাই বাঙালি-বাংলাদেশি। ৫ আগস্ট থেকে ছাত্র-জনতা, মাদরাসার ছাত্র, বিভিন্ন সামাজিক-রাজনৈতিক সংগঠন এবং সাধারণ মানুষ হিন্দুদের বাসা-বাড়ি ও মন্দির পাহারা দিচ্ছেন। হিন্দু-বৌদ্ধ-খৃষ্টান সংগঠনের নেতারাও ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সঙ্গে একাত্মতা পোষণ করেছেন এবং এ সরকারের সঙ্গে রয়েছেন।’
সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) মেয়র আওয়ামী লীগ নেতা আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, সকল দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তা-কর্মচারী ও কাউন্সিলরকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দিয়ে সমন্বয়করা বলেন- ‘বৃহস্পতিবার (১৫ আগস্ট) দুপুরের মধ্যে তারা সবাই পদত্যাগ না করলে নগরভবন ঘেরাও করা হবে। বর্তমানে দেশের প্রতিটি সেক্টরকে দুর্নীতিমুক্ত করার আন্দোলন চালাচ্ছি। তাই স্বৈরাচারের অধীনে যত প্রহসনমূলক নির্বাচন হয়েছে এবং এসব নির্বাচনে যারা বিজয়ীরূপে বিভিন্ন চেয়ারে বসেছে তাদের আমরা আর চেয়ারে দেখতে চাই না। এরই ধারবাহিকতায় সিসিক মেয়রসহ পরিষদের সবাইকে ২৪ ঘণ্টা সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছে।
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সমন্বয়করা বলেন- সিলেটে আন্দোলন চলাকালে আহত সবার তালিকা প্রস্তুত করা হচ্ছে। পরে সেটি যাচাই-বাছাই করে প্রকাশ করা হবে। এখন পর্যন্ত আহত যারা আমাদের সহযোগিতা চেয়েছেন আমরা সহযোগিতা করেছি। এছাড়া সরকারের নির্দেশে সিলেটের হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসাধীন সকল আহতের তালিকা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সরকারের কাছে যাবে। আহতদের সহযোগিতা করবে সরকার। আরেক প্রশ্নের জবাবে তারা বলেন- আমরা সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সঙ্গে দেখা করে গুলির নির্দেশতদাতা ও গুলিবর্ষণকারী পুলিশদের বরখাস্ত এবং শাস্তির দাবি জানিয়েছি। পুলিশ কমিশনার আমাদের এ ব্যাপারে আশ্বস্থ করেছেন।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সহ-সমন্বয়ক ও সিলেটের প্রধান সমন্বয়ক শাবিছাত্র আসাদুল্লাহ আল-গালিব, সিলেটের অন্যতম সমন্বয়ক শাবিছাত্র মো. গোলাম মর্তুজা সেলিম ও দেলওয়ার হোসেন শিশির, সিলেটের সহ-সমন্বয়ক শাবিছাত্র ফয়ছল হোসেন, শাবি সমন্বয়ক হাফিজুর রহমান ও জহিরুল ইসলাম।
























