সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে হামের উপসর্গে প্রাণ গেল তিন শিশুর সিলেটে শুভ উপনয়ন-সংস্কার অনুষ্ঠান ১৯ জুন মৌলভীবাজারে প্রধানমন্ত্রীর অনুষ্ঠানে ‘জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু’ স্লোগান; যুবক আটক সিসিকের প্রশাসককে স্মারক উপহার দিল ইউএস বাংলা  সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলারপ্রতিবাদে সিলেটে মানববন্ধন সিলেট জেলা হাসপাতাল অবশেষে আনুষ্ঠানিক অনুমোদন, থাকছে যেসব সুবিধা সিলেটে আসেনি সালমান শাহ’র মরদেহ, উত্তোলনের আদেশ জাতীয় স্কুল ক্রিকেটে সিলেটে চ্যাম্পিয়ন সৈয়দ হাতিম আলী উচ্চ বিদ্যালয় ১০০ দিনে ৬০৫ খুন: টিআইবির পরিসংখ্যান নিয়ে যে ব্যাখ্যা পুলিশ সদর দপ্তরের হবিগঞ্জ চা শ্রমিকদের বকেয়া পরিশোধের দাবিতে ইউএনও’র কাছে স্মারকলিপি

সিলেটে অতিবৃষ্টিতে দুর্ভোগ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:৪৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

নিজস্ব প্রতিবেদক

 সিলেটে সোমবার  (১ জুলাই) দিনভর ঝরেছে বৃষ্টি। রবিবার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আড়াই শ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে। টানা বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে সোমবার সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসমুখী লোকজন যানবাহনের স্বল্পতায় বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। বাসায় ফিরেছেনও একইভাবে। বিশেষ করে বাইরের শ্রমজীবী মানুষদের ভোগান্তি হয়েছে বেশি।

দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় টানা এই বৃষ্টি হচ্ছে। একই কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় সঞ্চরণশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। মঙ্গলবারও (২ জুলাই) বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে, মাত্র ৩৫ দিনের মধ্যে   সিলেটে তৃতীয়বার বন্যার কবলে পড়লো সিলেট। দ্বিতীয় দফার বন্যায় ৭ লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দী। এরই মাঝে অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সোমবার (১ জুলাই) নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে জেলার ৩টি উপজেলায়। তবে মহানগরে এখনো হয়নি বন্যা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- আগামী ৪ দিন   সিলেটে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হলে সিলেটে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

সিলেটে গত ২৭ মে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই সপ্তাহ ব্যাপী স্থায়ী এ বন্যায় পানিবন্দী ছিলেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। প্রথম বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ১৫ জুন থেকে ফের বন্যা হয় সিলেটে। বিশেষ ঈদুল আযহার দিন ভোররাত থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অতিভারী বর্ষণে মহানগরসহ  সিলেটের সব উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ হয়ে পড়েন। পরবর্তী এক সপ্তাহ   সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি ছিলো ভয়াবহ। এরপর পানি নামতে শুরু করে। তবে সে গতি ছিলো খুব ধীর।

দ্বিতীয় দফা বন্যা শেষ হওয়ার আগেই সোমবার থেকে সিলেটে দেখা দেয় তৃতীয় দফা বন্যা। রবিবার (৩০ জুন) দিনভর   সিলেটে থেমে ও উজানে ভারী বৃষ্টির ফলে নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার এলাকা ফের প্লাবিত হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কানাইঘাটে সুরমা ও লোভা নদীর পানি দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। ফলে আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত সুরমা ডাইকের অন্তত ১৮টি স্থান দিয়ে সুরমা ও লোভা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রত্যন্ত জনপদ ফের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন করে প্লাবিত বাড়ি-ঘরের মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন বাজার তলিয়ে পানি ঢুকেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এতে নতুন করে ক্ষতিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া প্লাবিত হয়েছে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার এলাকা ফলে তৃতীয় দফা ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড  সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায়  সিলেটের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া   সিলেটে রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ২৬০ মিলিমিটার। আগামী ৪ দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। হলে বন্যা পরিস্থিতি   সিলেটে আবারও ভয়াবহ হবে।

পাউবো সূত্র জানায়, সোমবার বিকাল ৬টায় সিলেটে ৩টি নদীর পানি ৪ পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে ছিলো। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১০২ সে.মি., কুশিয়ারার পানি আমলশীদ পয়েন্টে ২৮ সে.মি, এ নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ৮৮ সে.মি ও সারী নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রবিবার এগুলোর মধ্যে শুধু কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ছিলো বিপৎসীমার উপরে।

সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিলো বলে জানায় পাউবো। এদিকে, রবিবার রাতে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়- এদিন সকাল পর্যন্ত   সিলেট মহানগর ও জেলার সদর ছাড়া বাকি ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ১৩৪টি গ্রামের ৭ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ পানিবন্দী। এসব উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ হাজার ৭১৩ জন মানুষ রয়েছেন। বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও প্রত্যেক উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে কন্ট্রোল স্থাপন করে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন করে বন্যার্ত অসুস্থ মানুষকে প্রদান করা হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে অতিবৃষ্টিতে দুর্ভোগ

আপডেট সময় : ০১:৪৭:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুলাই ২০২৪

নিজস্ব প্রতিবেদক

 সিলেটে সোমবার  (১ জুলাই) দিনভর ঝরেছে বৃষ্টি। রবিবার সকাল থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আড়াই শ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সিলেটে। টানা বৃষ্টিতে জনদুর্ভোগ বেড়েছে। বিশেষ করে সোমবার সকালে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অফিসমুখী লোকজন যানবাহনের স্বল্পতায় বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যে পৌঁছেছেন। বাসায় ফিরেছেনও একইভাবে। বিশেষ করে বাইরের শ্রমজীবী মানুষদের ভোগান্তি হয়েছে বেশি।

দক্ষিণ–পশ্চিম মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় টানা এই বৃষ্টি হচ্ছে। একই কারণে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় সঞ্চরণশীল মেঘমালা তৈরি হচ্ছে। এ ছাড়া বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। মঙ্গলবারও (২ জুলাই) বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস। এদিকে, মাত্র ৩৫ দিনের মধ্যে   সিলেটে তৃতীয়বার বন্যার কবলে পড়লো সিলেট। দ্বিতীয় দফার বন্যায় ৭ লক্ষাধিক মানুষ এখনো পানিবন্দী। এরই মাঝে অবিরাম বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে সোমবার (১ জুলাই) নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে জেলার ৩টি উপজেলায়। তবে মহানগরে এখনো হয়নি বন্যা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন- আগামী ৪ দিন   সিলেটে ও উজানে ভারী বৃষ্টিপাত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। হলে সিলেটে নতুন করে বন্যা পরিস্থিতি ভয়াবহ হবে।

সিলেটে গত ২৭ মে আগাম বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। দুই সপ্তাহ ব্যাপী স্থায়ী এ বন্যায় পানিবন্দী ছিলেন ১০ লাখেরও বেশি মানুষ। প্রথম বন্যার পানি পুরোপুরি নামার আগেই ১৫ জুন থেকে ফের বন্যা হয় সিলেটে। বিশেষ ঈদুল আযহার দিন ভোররাত থেকে মাত্র কয়েক ঘণ্টার অতিভারী বর্ষণে মহানগরসহ  সিলেটের সব উপজেলায় লাখ লাখ মানুষ হয়ে পড়েন। পরবর্তী এক সপ্তাহ   সিলেটে বন্যা পরিস্থিতি ছিলো ভয়াবহ। এরপর পানি নামতে শুরু করে। তবে সে গতি ছিলো খুব ধীর।

দ্বিতীয় দফা বন্যা শেষ হওয়ার আগেই সোমবার থেকে সিলেটে দেখা দেয় তৃতীয় দফা বন্যা। রবিবার (৩০ জুন) দিনভর   সিলেটে থেমে ও উজানে ভারী বৃষ্টির ফলে নতুন করে বন্যা দেখা দিয়েছে। জেলার জৈন্তাপুর, কানাইঘাট ও গোয়াইনঘাট উপজেলার এলাকা ফের প্লাবিত হয়েছে।

জানা যায়, সোমবার সকাল থেকে উজান থেকে নেমে আসা ঢলে কানাইঘাটে সুরমা ও লোভা নদীর পানি দ্রুত গতিতে বাড়তে থাকে। ফলে আগে থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত সুরমা ডাইকের অন্তত ১৮টি স্থান দিয়ে সুরমা ও লোভা নদীর পানি লোকালয়ে প্রবেশ করে উপজেলার ৯টি ইউনিয়ন ও পৌরসভার প্রত্যন্ত জনপদ ফের বন্যার পানিতে তলিয়ে গেছে। নতুন করে প্লাবিত বাড়ি-ঘরের মানুষ আশ্রয়কেন্দ্রে ছুটে যাচ্ছেন। এছাড়া বিভিন্ন বাজার তলিয়ে পানি ঢুকেছে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে। এতে নতুন করে ক্ষতিতে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা।

এছাড়া প্লাবিত হয়েছে গোয়াইনঘাট ও জৈন্তাপুর উপজেলার এলাকা ফলে তৃতীয় দফা ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষজন। পানি উন্নয়ন বোর্ড  সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস জানান, গত ৪৮ ঘণ্টায়  সিলেটের উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৫০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে। এছাড়া   সিলেটে রবিবার সকাল ৬টা থেকে সোমবার সন্ধ্যা পর্যন্ত বৃষ্টি হয়েছে ২৬০ মিলিমিটার। আগামী ৪ দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে। হলে বন্যা পরিস্থিতি   সিলেটে আবারও ভয়াবহ হবে।

পাউবো সূত্র জানায়, সোমবার বিকাল ৬টায় সিলেটে ৩টি নদীর পানি ৪ পয়েন্টে বিপৎসীমার উপরে ছিলো। এর মধ্যে সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে ১০২ সে.মি., কুশিয়ারার পানি আমলশীদ পয়েন্টে ২৮ সে.মি, এ নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ৮৮ সে.মি ও সারী নদীর পানি সারিঘাট পয়েন্টে ৩৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। রবিবার এগুলোর মধ্যে শুধু কুশিয়ারা নদীর ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে পানি ছিলো বিপৎসীমার উপরে।

সোমবার সকাল থেকে বিকাল পর্যন্ত পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিলো বলে জানায় পাউবো। এদিকে, রবিবার রাতে জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়- এদিন সকাল পর্যন্ত   সিলেট মহানগর ও জেলার সদর ছাড়া বাকি ১২টি উপজেলায় ১ হাজার ১৩৪টি গ্রামের ৭ লাখ ৩৬ হাজার মানুষ পানিবন্দী। এসব উপজেলার আশ্রয়কেন্দ্রে ১০ হাজার ৭১৩ জন মানুষ রয়েছেন। বন্যার্ত মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ অব্যাহত রয়েছে। এছাড়া জেলা প্রশাসন ও প্রত্যেক উপজেলা প্রশাসন কার্যালয়ে কন্ট্রোল স্থাপন করে বন্যা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। প্রতি ইউনিয়নে মেডিকেল টিম গঠন করে বন্যার্ত অসুস্থ মানুষকে প্রদান করা হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।