ঢাকা ১০:৩৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬, ২৮ চৈত্র ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ খোয়াই নদীতে অবাধে মাটি-বালু উত্তোলন – ভাঙন আতঙ্ক দেশে সিন্ডিকেটের মাধ্যমে আর বাজার নিয়ন্ত্রিত হবে না: বাণিজ্যমন্ত্রী সিলেটের হাসপাতালে সাপ্লাই বন্ধ, বিপাকে রোগীরা সিলেট সীমান্তে অর্ধকোটি টাকার ভারতীয় পণ্য জব্দ সিলেট মোটরসাইকেল চোরচক্রের ‘প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি’ গ্রেফতার সিলেটকে একটি আধুনিক পর্যটন নগর হিসেবে গড়ে তোলা হবে, নগরভবনে উন্নয়ন বিষয়ক সভায় বাণিজ্যমন্ত্রী সুবিধাবঞ্চিত এলাকায় গিয়ে মানুষের দুর্ভোগ দেখলেন সিসিক প্রশাসক হবিগঞ্জ জমিজমা বিরোধে সংঘর্ষ- মাধবপুরে বৃদ্ধ নিহত, আহত অন্তত ৩০ সিলেটে সুরঞ্জিত সেনের বিস্ফোরক মামলায় হাজিরা দিলেন আরিফ, গউছ, বাবর সিলেটে শান্তিপূর্ণভাবে পরীক্ষা নিশ্চিত করতে গণবিজ্ঞপ্তি, অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে হুঁশিয়ারি

হবিগঞ্জ খোয়াই নদীতে অবাধে মাটি-বালু উত্তোলন – ভাঙন আতঙ্ক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬ ২ বার পড়া হয়েছে

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ সদর থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত খোয়াই নদীর বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দেদারছে বালু উত্তোলন চলছে। একই সঙ্গে এক্সেভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে নদীর পাড় ও আশপাশের মাটি। এতে করে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সদরের কামড়াপুর, গরু বাজার, গোবিন্দপুর, রামপুর, ইনাতাবাদ, মাছুলিয়া, তেতৈয়া, মশাজান, পাইকপাড়া এবং শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর, আলাপুর, পূর্ব লেঞ্জাপাড়া ও লস্করপুরসহ অন্তত একাধিক স্থানে বিকট শব্দে দিনভর চলছে ড্রেজার মেশিন। নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে একটি প্রভাবশালী চক্র সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ট্রাক্টর, যার কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সড়কের পিচ উঠে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসী জানান, গত বছরের আগস্ট মাসে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর ও লেঞ্জাপাড়া এলাকার দুটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন দিন-রাত আতঙ্কে কাটিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বালুভর্তি বস্তা ফেলে কোনোমতে রক্ষা করে নদীর তীরবর্তী বাঁধ। কিন্তু সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন, যা নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, খোয়াই নদীর এই অংশসহ বিভিন্ন এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এলাকাবাসী বারবার বালু উত্তোলন বন্ধের অনুরোধ জানালেও প্রভাবশালী বালুখেকোরা তা আমলে নিচ্ছে না। উল্টো প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, এমনকি হামলা ও মামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, উপজেলা প্রশাসন থেকেও একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি ও অজ্ঞাত কারণে এসব অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের দাবি, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই নির্দিষ্ট একটি অংশ থেকে বালু উত্তোলন করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমতির কথা বলে নদীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান থেকেও বালু তোলা হচ্ছে, যা আইনবিরোধী। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং তীরভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে খোয়াই নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তপে কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী রায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হবিগঞ্জ খোয়াই নদীতে অবাধে মাটি-বালু উত্তোলন – ভাঙন আতঙ্ক

আপডেট সময় : ০২:৪৯:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ১১ এপ্রিল ২০২৬

হবিগঞ্জ প্রতিনিধি :

হবিগঞ্জ সদর থেকে শায়েস্তাগঞ্জ পর্যন্ত খোয়াই নদীর বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় অবৈধভাবে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে দেদারছে বালু উত্তোলন চলছে। একই সঙ্গে এক্সেভেটর দিয়ে কাটা হচ্ছে নদীর পাড় ও আশপাশের মাটি। এতে করে নদীভাঙনের ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় আতঙ্কে দিন কাটছে স্থানীয় বাসিন্দাদের।

সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সদরের কামড়াপুর, গরু বাজার, গোবিন্দপুর, রামপুর, ইনাতাবাদ, মাছুলিয়া, তেতৈয়া, মশাজান, পাইকপাড়া এবং শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার কলিমনগর, আলাপুর, পূর্ব লেঞ্জাপাড়া ও লস্করপুরসহ অন্তত একাধিক স্থানে বিকট শব্দে দিনভর চলছে ড্রেজার মেশিন। নদীর তলদেশ থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের ফলে ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি স্থানে নদীর তীরে ভাঙন দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অমান্য করে একটি প্রভাবশালী চক্র সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত একাধিক ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু উত্তোলন করছে। এসব বালু পরিবহনে ব্যবহার করা হচ্ছে অবৈধ ট্রাক্টর, যার কারণে গ্রামীণ সড়কগুলো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। অনেক জায়গায় সড়কের পিচ উঠে গর্ত সৃষ্টি হয়েছে, ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এলাকাবাসী জানান, গত বছরের আগস্ট মাসে ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে শায়েস্তাগঞ্জ উপজেলার আলাপুর ও লেঞ্জাপাড়া এলাকার দুটি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উপক্রম হয়েছিল। তখন দিন-রাত আতঙ্কে কাটিয়েছেন তারা। স্থানীয়দের সহযোগিতায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী বালুভর্তি বস্তা ফেলে কোনোমতে রক্ষা করে নদীর তীরবর্তী বাঁধ। কিন্তু সেই আতঙ্ক কাটতে না কাটতেই আবার শুরু হয়েছে বালু উত্তোলন, যা নতুন করে ভাঙনের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, খোয়াই নদীর এই অংশসহ বিভিন্ন এলাকা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত। এলাকাবাসী বারবার বালু উত্তোলন বন্ধের অনুরোধ জানালেও প্রভাবশালী বালুখেকোরা তা আমলে নিচ্ছে না। উল্টো প্রতিবাদকারীদের ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে, এমনকি হামলা ও মামলার হুমকিও দেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, উপজেলা প্রশাসন থেকেও একাধিকবার নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হলেও তা কার্যকর হচ্ছে না। প্রশাসনের নজরদারির ঘাটতি ও অজ্ঞাত কারণে এসব অবৈধ কার্যক্রম অব্যাহত থাকায় জনমনে ক্ষোভ বাড়ছে। তবে বালু উত্তোলনের সঙ্গে জড়িতদের দাবি, তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিয়েই নির্দিষ্ট একটি অংশ থেকে বালু উত্তোলন করছেন।

স্থানীয়দের অভিযোগ, অনুমতির কথা বলে নদীর বিভিন্ন স্পর্শকাতর স্থান থেকেও বালু তোলা হচ্ছে, যা আইনবিরোধী। বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিকল্পিতভাবে নদী থেকে বালু উত্তোলন করলে নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হয় এবং তীরভাঙন তীব্র আকার ধারণ করে। এতে বসতবাড়ি, ফসলি জমি ও অবকাঠামো মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়ে। দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে খোয়াই নদীর তীরবর্তী বিস্তীর্ণ এলাকা বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখে পড়তে পারে।

এ ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তপে কামনা করেছেন এলাকাবাসী। তারা অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধ, দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং নদী রায় স্থায়ী পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।