কানাডা হাইকমিশনের সেই দুই নারী কর্মকর্তা ‘উধাও’
- আপডেট সময় : ০৪:৩৩:৫৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৪ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
কূটনৈতিক ডেস্ক : অনলাইন সংস্করণ
অপর্ণা রাণী পাল ও মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা নামে দুই নারীকে কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশনে কাউন্সেলর নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল রাজনৈতিক বিবেচনায়। ৫ আগস্ট অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর তাদের দুজনের চুক্তি বাতিল করা হয়। তাদেরকে ৩১ আগস্টের মধ্যে দেশে ফেরার নির্দেশ দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
কিন্তু ১৪ আগস্ট চুক্তি বাতিলের চিঠি পাওয়ার আগে থেকেই তারা মিশনের সঙ্গে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছেন। এখন তাদের কোনো খোঁজ নেই। বিষয়টি কানাডায় বাংলাদেশ হাইকমিশন থেকে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, অপর্ণা রাণী পাল ও মিথিলা চুক্তি বাতিলের আগেই তাদের অনুকূলে থাকা কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের আবেদন করেন। অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার দিনে তাদের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের চিঠি ইস্যু করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
কানাডায় নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার নাহিদা সোবহান রোববার সন্ধ্যায় জানান, অপর্ণা রাণী পাল ও মিথিলার চুক্তি বাতিল নিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের চিঠি পাওয়ার পর মিশনে তাদের দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। কিন্তু চিঠি পাওয়ার আগে থেকেই তারা হাইকমিশনে আসা বন্ধ করেছেন এবং মিশনের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ রাখেননি। ফলে তাদের বর্তমান অবস্থানের বিষয়ে হাইকমিশনের কাছে কোনো তথ্য নেই।
চুক্তি বাতিলের চিঠি ওই দুই কর্মকর্তা কীভাবে পেয়েছেন-এমন প্রশ্নে নাহিদা সোবহান জানান, তাদের দুজনকে ই–মেইলে চিঠি পাঠানো হয়।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সূত্রগুলো বলছে, ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর দ্রুততম সময়ে পাসপোর্ট বাতিলের জন্য তারা দুজন তদবিরও করেন। শেখ হাসিনার সরকারের পতনের পর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয় ৮ আগস্ট রাতে। এই সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে ওই দিন অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে অপর্ণা রাণী পাল ও মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা ও তার স্বামী এবং ছেলের কূটনৈতিক পাসপোর্ট বাতিলের নির্দেশ দেওয়া হয়।
এ–সংক্রান্ত নথিতে দেখে গেছে, পররাষ্ট্রসচিব মাসুদ বিন মোমেনের অনুমোদনের জন্য অপর্ণা রাণী পালের এবং মোবাশ্বিরা ফারজানা মিথিলা, তাঁর স্বামী ও ছেলের অনুকূলে থাকা পাসপোর্ট বাতিলের জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (প্রশাসন অনুবিভাগ) ডি এম সালাউদ্দিন আহমেদ ফাইলটি উত্থাপন করেন। ফাইলে পররাষ্ট্রসচিবের অনুমোদন পাওয়ার পর কূটনৈতিক পাসপোর্ট চারটি বাতিলের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে তিনি কনস্যুলার অনুবিভাগকে পরামর্শ দেন।


























