মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে জাল মৃত্যুসনদের মামলা,৭ দিনের রিমান্ড চাইবে ডিবি
- আপডেট সময় : ০৭:৩২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২ মে ২০২৪ ১৩০ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ : অনলাইন সংস্করণ
চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার আশ্রমের মৃতদের জাল মৃত্যুসনদ দেওয়ার অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে মামলা করেছে পুলিশ। সেই মামলায় তাকে আদালতে পাঠিয়ে ৭ দিনের রিমান্ড চাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। এই মামলা ছাড়াও তার বিরুদ্ধে মানবপাচার ও অবৈধভাবে আটক রাখার অভিযোগে আরও দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা মিরপুর বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মানস কুমার পোদ্দার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেছেন, ‘কিছুক্ষণের মধ্যে রিমান্ড আবেদনসহ মিল্টন সমাদ্দারকে ডিবি কার্যালয় থেকে আদালতে তোলা হবে।এর আগে, বুধবার সন্ধ্যায় মিরপুর থেকে মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেফতার করে পুলিশ। গ্রেফতারের পর তাকে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়।
সড়কে পড়ে থাকা অসহায় বৃদ্ধ কিংবা শিশুদের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকার ব্যবস্থা করার ছবি-ভিডিও শেয়ার করে সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন সময়ে আলোচনায় আসেন মিল্টন সমাদ্দার। গত কয়েক দিন ধরে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে আশ্রয়কেন্দ্রের নামে তার অনিয়মের খবর প্রকাশ হতে থাকলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। পরে তাকে গ্রেফতার করে ডিবি পুলিশ।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) অতিরিক্ত কমিশনার (ডিবি) হারুন অর রশীদ বলেন, ‘মূলত সংবাদমাধ্যমে মিল্টনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে গ্রেফতার করা হয়। মামলা দায়েরের পর রিমান্ডে নিয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তার বিরুদ্ধে অসংখ্য অভিযোগ আছে। আমরা সব অভিযোগের পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্ত করব।যেসব ভয়ংকর অভিযোগ উঠেছে মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে
‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এইজ কেয়ার’ আশ্রমের চেয়ারম্যান মিল্টন সমাদ্দারকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।বুধবার (১ মে) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে ডিবি পুলিশের একটি দল রাজধানীর মিরপুর থেকে তাকে গ্রেফতার করেছে।ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (গোয়েন্দা) মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
মিল্টন সমাদ্দার মানবতার সেবক হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে তার সেবামূলক কর্মকাণ্ডের রয়েছে ব্যাপক প্রচারণা। যেখানে দেখা যায়, অসহায়-দুস্থ মানুষের সেবায় তিনি গড়ে তুলেন ‘চাইল্ড অ্যান্ড ওল্ড এজ কেয়ার’ নামের একটি বৃদ্ধাশ্রম। রাস্তা থেকে অসুস্থ ও ভবঘুরেদের কুড়িয়ে ওই বৃদ্ধাশ্রমে আশ্রয় দিতেন।
গুরুতর অসুস্থদের হাসপাতালে না নিয়ে নিজ প্রতিষ্ঠানে আটকে রাখা, ভুয়া ডাক্তার কর্তৃক মৃত্যুর সার্টিফিকেট তৈরি করা কিংবা মৃত লাশের শরীরে কাটাছেঁড়ার যে তথ্য প্রতিবেদনে উঠে এসেছে তার যথাযথ তদন্ত হওয়া উচিত মর্মে কমিশন মনে করে।তবে মানবিকতার আড়ালে মিল্টন সমাদ্দারের বিরুদ্ধে ওঠে প্রতারণার তীব্র অভিযোগ। বিশেষ করে তিনি অসহায় মানুষকে আশ্রয় দেওয়ার নামে তাদের কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে বিক্রি করতেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এই বিষয়ে গত ২৫ এপ্রিল দেশের একটি জাতীয় দৈনিকে খবর প্রকাশ পায়।
প্রতিবেদনে বলা হয়, রাজধানীর দক্ষিণ পাইকপাড়ায় মিল্টন সমাদ্দারের বৃদ্ধাশ্রমের কাছেই বায়তুল সালাম জামে মসজিদ। বৃদ্ধাশ্রমে মারা যাওয়া ব্যক্তিদের একসময় এই মসজিদেই বিনামূল্যে গোসল করানো হতো। তার মানবিক কাজে উদ্বুদ্ধ হয়ে মসজিদ কর্তৃপক্ষ তাকে এই সুবিধা দিয়েছিল। তবে গোসল করানোর সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিরা প্রায় প্রতিটি মরদেহের বিভিন্ন স্থানে কাটাছেঁড়ার দাগ শনাক্ত করেন।
মিল্টন সমাদ্দারকে দীর্ঘদিন ধরে চেনেন স্থানীয় একটি মাদ্রাসার পরিচালক তোফাজ্জল হোসেন। তিনি ওই গণমাধ্যমকে বলেন, ‘মিল্টন এক সময় বাসা ভাড়া শোধ করতে পারতেন না। এখন তিনি এগুলো করে কোটি কোটি টাকার মালিক। দামি গাড়িতে চড়েন। আড়ালে মানুষের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ চুরি করেন। আমাদের বায়তুল সালাম মসজিদে ওর মরদেহ ফ্রি গোসল করিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছিল। কিছু মরদেহ গোসল করানোর পর দেখা যায়, সবগুলোর শরীরে কাটা দাগ। এ বিষয়ে মিল্টনকে প্রশ্ন করা হলে তিনি মরদেহ পাঠানো বন্ধ করে দেন।’
প্রতিবদনে আরও বলা হয়, মানুষের কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কেটে বিক্রির মতো ভয়ংকর অপকর্মের পাশাপাশি রয়েছে বহু অভিযোগ রয়েছে মিল্টনের বিরুদ্ধে।প্রতিবেদনে বলা হয়, তার আবেদনে সাড়া দিয়ে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের ১৬টির বেশি নম্বর এবং তিনটি ব্যাংক হিসাবে প্রতি মাসে প্রায় কোটি টাকা জমা হয়। এর বাইরে অনেকেই তার প্রতিষ্ঠানে সরাসরি অনুদান দিয়ে আসেন। মানবিক কাজের জন্য এখন পর্যন্ত তিনটি রাষ্ট্রীয় পুরস্কারও পেয়েছেন মিল্টন সমাদ্দার। যদিও কয়েকটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিয়ে তার বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেন মিল্টন সমাদ্দার।


























