ঢাকা ০৯:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬, ২০ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সরকারি হাসপাতালে দালাল ঠেকাতে ৭ নির্দেশনা ১৬ মার্চ থেকে সরকারি চাকরিজীবীদের ঈদের ছুটি শুরু আটকেপড়াদের আনতে আবুধাবিতেও বিশেষ ফ্লাইট চালাবে ইউএস-বাংলা চাঁদাবাজ ও সন্ত্রাসীদের তালিকা তৈরি করে আইনের আওতায় আনা হবে- স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দেশের সব সরকারি পরিত্যক্ত ভবন চিকিৎসাকেন্দ্র করার নির্দেশ- প্রধানমন্ত্রীর মাধবপুরে ছড়া-নদী, কৃষি জমি থেকে বালু মাটি লুট – পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা সিলেটে কিশোর গ্যাং পুলিশের ‘অ্যাকশন’ সিলেটে বিভাগীয় পর্যায়ে ‘শ্রেষ্ঠ অদম্য নারী’ পুরস্কার প্রদান সিলেট সফরে এসে রিকশায় ঘুরছেন এনসিপির- নাহিদ ও সারজিস সিলেট জেলার পুলিশ সুপার বদলি, নবনিযুক্ত সাদেক

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিলেটে আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩ ১৪৩ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন:

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় সিলেটে আগামী কয়েকদিন ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এ নিয়ে প্রস্তুতি।এর প্রভাবে বন্যার আশংকা রয়েছে।এ অবস্থায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এ তথ্য জানানো হয়। বেলা ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো: মজিবর রহমান।

সভায় আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট থেকে জানানো হয় যে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।বৃহস্পতিবার ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সভায় এও বলা হয়, গতবছরের জুন মাসে সিলেটে ১৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। সিলেটে জুন মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৮১৮ মিলিমিটার।সভায় জেলার সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক সিলেট জানান, সিলেট অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহবান জানান।

সভায় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জেলার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন। এছাড়া, সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দপ্তর প্রধান/প্রতিনিধিগণ তাদের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন বিষয়াবলী উপস্থাপন করেন এবং বিস্তারিত আলোচনা করেন।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, সিলেট বন্যাকালীন উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করার জন্য পার্শ্ববর্তী জেলা হতে নৌযান নিয়ে আসার অনুরোধ করেন।তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে নৌযান প্রাপ্তির জন্য চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে।জেলা প্রশাসক মজুদের কথা জানতে চাইলে ৪১৯ মে.টন চাল এবং ২,৪০,০০০/- টাকা এবং ৪৬৬ বান্ডিল ঢেউটিন ও গৃহ মঞ্জুরি বাবদ ১৩,৯৮,০০০/- টাকা মজুদ আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক সিলেট আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেন। যেসব উপজেলায় পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোতে অতি বর্ষণের সময় পাহাড়ের পাদদেশ হতে সকলকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও শুকনো খাবার বিশ হাজার প্যাকেট/বস্তা মজুদের লক্ষ্যে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা, পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম গঠন করা, পর্যাপ্ত ঔষধ মজুদ রাখা এবং দুর্যোগের স্থায়ী আদেশাবলী অনুযায়ী স্ব স্ব দপ্তরকে বন্যা মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। খাদ্য গুদামের পানি নিষ্কাশনের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় পাম্প ক্রয়ের জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বলা হয়। বন্যা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী এবং অর্থ মজুদ আছে বলে জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,এসএমপি,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,পুলিশ সুপারের কার্যালয়,নির্বাহী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, নির্বাহী প্রকৌশলী,সিলেট সিটি কর্পোরেশন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক,প্রতিনিধি, কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সহকারী পরিচালক,ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণ সভায় জুম অ্যাপের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সিলেটে আশ্রয় কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার সিদ্ধান্ত

আপডেট সময় : ০৯:৩১:৫৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৬ জুন ২০২৩

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন:

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় সিলেটে আগামী কয়েকদিন ভারি বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে এ নিয়ে প্রস্তুতি।এর প্রভাবে বন্যার আশংকা রয়েছে।এ অবস্থায় আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির জরুরি সভায় এ তথ্য জানানো হয়। বেলা ৩টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলনকক্ষে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো: মজিবর রহমান।

সভায় আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেট থেকে জানানো হয় যে, বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২৭২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।বৃহস্পতিবার ১০২ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। সভায় এও বলা হয়, গতবছরের জুন মাসে সিলেটে ১৪০০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছিল। সিলেটে জুন মাসের স্বাভাবিক বৃষ্টিপাত ৮১৮ মিলিমিটার।সভায় জেলার সাম্প্রতিক অতিবৃষ্টি ও সম্ভাব্য বন্যা বিষয়ে আলোচনা করা হয়। সভায় জেলা প্রশাসক সিলেট জানান, সিলেট অঞ্চলে অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। ফলে বড় ধরনের বন্যার আশঙ্কা রয়েছে।এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় তিনি সকলকে নিজ নিজ অবস্থান থেকে আন্তরিকতার সাথে কাজ করার আহবান জানান।

সভায় জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা জেলার বন্যা পরিস্থিতির সর্বশেষ অবস্থা সম্পর্কে সকলকে অবহিত করেন। এছাড়া, সভায় অংশগ্রহণকারী বিভিন্ন দপ্তর প্রধান/প্রতিনিধিগণ তাদের অধিক্ষেত্রের আওতাধীন বিষয়াবলী উপস্থাপন করেন এবং বিস্তারিত আলোচনা করেন।জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা, সিলেট বন্যাকালীন উদ্ধারকাজ ত্বরান্বিত করার জন্য পার্শ্ববর্তী জেলা হতে নৌযান নিয়ে আসার অনুরোধ করেন।তিনি আরও উল্লেখ করেন, ইতোমধ্যে নৌযান প্রাপ্তির জন্য চাহিদা প্রেরণ করা হয়েছে।জেলা প্রশাসক মজুদের কথা জানতে চাইলে ৪১৯ মে.টন চাল এবং ২,৪০,০০০/- টাকা এবং ৪৬৬ বান্ডিল ঢেউটিন ও গৃহ মঞ্জুরি বাবদ ১৩,৯৮,০০০/- টাকা মজুদ আছে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

জেলা প্রশাসক সিলেট আশ্রয়কেন্দ্রগুলো প্রস্তুত রাখার পরামর্শ দেন। যেসব উপজেলায় পাহাড় ধসের সম্ভাবনা রয়েছে সেগুলোতে অতি বর্ষণের সময় পাহাড়ের পাদদেশ হতে সকলকে সরিয়ে নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয়ের ব্যবস্থা গ্রহণ করা এবং প্রয়োজনীয় খাদ্য ও পানীয় জলের ব্যবস্থা করার নির্দেশনা প্রদান করেন। এছাড়াও শুকনো খাবার বিশ হাজার প্যাকেট/বস্তা মজুদের লক্ষ্যে চাহিদাপত্র প্রেরণ করা, পর্যাপ্ত মেডিকেল টিম গঠন করা, পর্যাপ্ত ঔষধ মজুদ রাখা এবং দুর্যোগের স্থায়ী আদেশাবলী অনুযায়ী স্ব স্ব দপ্তরকে বন্যা মোকাবেলার জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা প্রদান করেন। খাদ্য গুদামের পানি নিষ্কাশনের নিমিত্তে প্রয়োজনীয় পাম্প ক্রয়ের জন্য জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রককে বলা হয়। বন্যা মোকাবিলায় পর্যাপ্ত খাদ্যসামগ্রী এবং অর্থ মজুদ আছে বলে জেলা প্রশাসক উল্লেখ করেন।সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,এসএমপি,অতিরিক্ত পুলিশ সুপার,পুলিশ সুপারের কার্যালয়,নির্বাহী প্রকৌশলী, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, নির্বাহী প্রকৌশলী,সিলেট সিটি কর্পোরেশন, জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক,প্রতিনিধি, কৃষিসম্প্রসারণ অধিদপ্তর, সহকারী পরিচালক,ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স, জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তাসহ প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকবৃন্দ।এছাড়াও উপজেলা নির্বাহী অফিসারগণ ও উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যানগণ সভায় জুম অ্যাপের মাধ্যমে সংযুক্ত ছিলেন।