নারী কর্মকর্তার সঙ্গে পরকীয়া, সেই এসপি মোক্তারকে শাস্তি
- আপডেট সময় : ০২:৪৫:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৭ মে ২০২৪ ১১৮ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক : অনলাইন সংস্করণ
জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে গিয়ে অধিনস্ত এক নারী কর্মকর্তার সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়ে দুই ধাপ অবনমিত হলেন এসপি মোক্তার হোসেন। তিনি ২৪ বিসিএসের কর্মকর্তা।
সর্বশেষ পিবিআইয়ে (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিশন) কক্সবাজারে এসপি পদে দায়িত্বরত ছিলেন মোক্তার। নারী পুলিশ কর্মকর্তার অভিযোগের পর দীর্ঘ তদন্ত শেষে এই পুলিশ কর্মকর্তাকে দুই বছরের জন্য নিম্ন পদে নামিয়ে গুরুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। গত ৮ মে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপনে স্বাক্ষর করেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. মোস্তাফিজুর রহমান।
তথ্যানুসন্ধানে জানা যায়, ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত জাতিসংঘ শান্তি রক্ষা মিশনে ছিলেন মো. মোক্তার হোসেন। সেখানে আরও একবছর আগে থেকে ছিলেন অভিযোগকারী নারী ইন্সপেক্টর। সেখানে জোরপূর্বক তাকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়। এরপর বিয়ের প্রলোভনে তাদের মধ্যে অনৈতিক সম্পর্ক তৈরি হয়। উভয়ে ছুটিতে ঢাকায় এসেও অনৈতিক সম্পর্ক বজায় রাখেন। একপর্যায়ে বিয়ে না করায় ২০২১ সালের ১৩ এপ্রিল ওই নারী কর্মকর্তা পুলিশের আইজির কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। শান্তিরক্ষা মিশনে কন্টিনজেন্টের কমান্ডার থাকাবস্থায় ক্ষমতার অপব্যবহার করে নারী সদস্যদের উত্যক্ত করারও অভিযোগ করেন ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা। দীর্ঘ তদন্ত শেষে এসপি মোক্তারকে শাস্তি দেওয়া হলো।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে মো. মোক্তার হোসেনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তার ব্যক্তিগত ফোন নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়।
এসপির বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা নারী সহকর্মীর : রাজধানীর উত্তরা পূর্ব থানাকে তদন্তের নির্দেশ —
পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) পুলিশ সুপার (এসপি) মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা করেছেন এক নারী পুলিশ পরিদর্শক।
ঢাকার সপ্তম নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মোছা. কামরুন্নাহারের আদালতে বৃহস্পতিবার মামলাটি করা হয়।
আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে অভিযোগটি উত্তরা পূর্ব থানার ভ্যারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) এজাহার হিসাবে গ্রহণ করে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বাদীপক্ষের আইনজীবী সালাহ উদ্দিন খান যুগান্তরকে এসব তথ্য জানিয়েছেন।
ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) আফরোজা আহমেদ গণমাধ্যমকে বলেন, বিয়ের আশ্বাস দিয়ে ধর্ষণের অভিযোগে এসপি মোক্তার হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা নেওয়ার আবেদন করেন পুলিশ পরিদর্শক পদমর্যাদার একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তা। আদালত বাদীর জবানবন্দি, অন্যান্য তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করে ওই নারীর অভিযোগে এজাহার হিসাবে নেওয়ার জন্য উত্তরা-পূর্ব মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন। পিপি আরও জানান, অভিযুক্ত পুলিশ সুপার মোক্তার হোসেন এখন বাগেরহাটে পিবিআইতে কর্মরত।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে মোক্তার হোসেনকে কয়েক দফা ফোন করা হলেও তিনি ধরেননি। তবে পিবিআই প্রধান বনজ কুমার মজুমদার যুগান্তরকে বলেন, আদালতের নির্দেশে মামলা হয়েছে, সে অনুযায়ী তদন্ত হবে। তদন্তেই সব জানা যাবে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ওই নারী পুলিশ পরিদর্শক মামলা করার আগে পিবিআইতে কোনো অভিযোগ করেননি।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, এসপি মোক্তার হোসেন ২০১৯ সালের মে মাসে সুদানে জাতিসংঘের শান্তি মিশনে বাংলাদেশ পুলিশের কন্টিনজেন্টের কমান্ডার হিসাবে নিযুক্ত হন। আর ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা আগের থেকেই মিশনে কর্মরত ছিলেন। এ কারণে মিশন সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে বাদীর পূর্ব অভিজ্ঞতা ছিল। সেই অজুহাতে সহযোগিতার কথা বলে মোক্তার হোসেন ওই নারী কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এক পর্যায়ে বিভিন্ন অজুহাতে তার বাসায় যাতায়াত শুরু করেন বলে বাদীর ভাষ্য।
আর্জিতে বাদী বলেছেন, ২০১৯ সালের ২০ ডিসেম্বর দুপুরে তার বাসায় তাকে ধর্ষণ করেন মোক্তার হোসেন। ওই ঘটনা কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দিয়ে সেদিন চলে যান মোক্তার। পরে ২২ ডিসেম্বর আবারও ওই বাসায় গিয়ে প্রথমে ‘ভুল হয়েছে; বলে ক্ষমা চান এবং তারপরই আবারও ‘ধর্ষণ’ করেন।
আর্জিতে বলা হয়েছে, বাদীকে ‘মুখে মুখে কলেমা পড়ে বিয়ের প্রলোভন’ দেখিয়েছিলেন আসামি। পরে ছুটিতে দেশে ফিরে ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি রাতে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ঢাকার উত্তরার একটি হোটেলে নিয়ে তাকে আবারও ধর্ষণ করেন। পরে ওই বছরের ২৬ জুন থেকে ৩০ জুন সুদানের খার্তুমের একটি হোটেলে এবং ১০ নভেম্বর থেকে ১৩ নভেম্বর ঢাকার উত্তরার ওই হোটেলে ৩০৬ নম্বর কক্ষে আবারও তাকে ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন বাদী।
তিনি আর্জিতে লিখেছেন, দেশে ফেরার পর তিনি বিয়ে নিবন্ধনের তাগিদ দিলে আসামি টালবাহানা শুরু করেন। ২০২১ সালের ১২ এপ্রিলে বাদী রাজারবাগে আসামির বাসায় উপস্থিত হয়ে বিয়ে রেজিস্ট্রি ও কাবিননামা সম্পন্ন করতে বললে আসামি তাতে অস্বীকৃতি জানান। আসামির বাসায় তার স্ত্রী এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে সেদিন বাদীকে মারধর করেন বলেও আর্জিতে অভিযোগ করা হয়েছে। মহামারিতে আদালত বন্ধ থাকায় মামলা করতে বিলম্ব হয়েছে বলে আর্জিতে উল্লেখ করেছেন বাদী।
























