সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শায়েস্তাগঞ্জ গরুসহ পিকআপ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বল্পমূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে- সিসিক প্রশাসক সিলেট পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেফতার ৫৩ জন সাধারণের অভিযোগ ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা, ২-৫ ঘন্টা অপেক্ষার পর দেখা মিলল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সিলেট মহানগরীতে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৯২ সিলেটের শিক্ষিকার ভিডিও তদন্ত কমিটি নিয়ে হয়নি সিদ্ধান্ত প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সাথে সিলেট জেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির মতবিনিময় সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি জনসেবা। সাংবাদিকরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করেন: বিভাগীয় কমিশনার  সিলেট তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দলের সাক্ষাৎ

সিলেটে একসাথে ১৫ শতাধিক মানুষের ইফতার

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪ ১৪৬ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন :

প্রতিদিন বিকেলে প্রায় চৌদ্দ থেকে পনেরো শত’ মানুষ জড়ো হন রিকাবীবাজার সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ফটকে। তারপর ধিরে ধিরে সবাই প্রবেশ করেন মোহাম্মদ আলী জিমনেসিয়ামের ভেতর ইফতার করতে। প্রতিদিন এভাবেই তারা একইস্থানে আসেন, ইফতার করেন। এতগুলো মানুষকে একসাথে ইফতারের এমন গণজমায়েত সিলেটে আগে কখনো দেখা যায়নি। মূল ফটকে আয়োজক হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থা নাম দেয়া হলেও সম্পূর্ণ নিজের অর্থে সেটি করছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম।

ইফতারের কিছু সময় পূর্বে জিমনেসিয়ামের ভেতর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, কোলাহল নেই। অদ্ভুদ এক নীরবতায় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো ইফতার সামনে রেখে প্রভুর আদেশের অপেক্ষায় বসে আছেন। আবার যে খাবারের সামনে বসে আছেন, সেগুলো অতি সাধারণ কিংবা নামমাত্র খাবারও নয়।সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সময় শৃঙ্খলা বজায়ে ব্যস্ত থাকা, প্রতিদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে এখানে রোজাদাররা চলে আসেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু, অনাথ, প্রতিবন্ধী, রিকশাচালক, খেটেখাওয়া, ভবঘুরে মানুষগুলোই আসেন।

প্রতিদিন বাসা থেকে আলাদা বাবুর্চি দিয়ে রান্না করা আখনি তাদের মধ্যে পরিবেশন করা হয়। সেই আখনি চিনিগুঁড়া ও কোন কোনোদিন কাটারীভোগ চাল দিয়ে তৈরি হয়। খাবারের তালিকায় একদিন মুরগি হলে আরেক দিন গরু কিংবা খাসির গোস্ত থাকছে নিয়মিত। আখনি ছাড়া আরো থাকে বাহারী মুখরোচকের সমাহার। খেজুর, পিঁয়াজু, জিলাপি, ছোলা, সালাদ তো আছেই। তৃষ্ণা মেঠাতে পানির সাথে রাখা হয সুস্বাদু শরবত। সমাজে এমনও মানুষ আছে যারা শুধু মুড়ি কিংবা পানি দিয়ে ইফতার করেন। সেই মানুষগুলোর ভাগ্যে এমন ভালো এবং উন্নত খাবার সবসময় জুটে না। তাই তারা খুশি। শুভকামনা করেছেন, দোয়া করেছেন মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম এর জন্য।

মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম এর সাথে ইফতার আয়োজন সম্পর্কে সাংবাকিদের জানান, ‘আরব দেশে এমন ইফতার সংস্কৃতি আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। সে চিত্র দেখে ইচ্ছে ছিলো নিজের দেশে করার। সেই স্বপ্ন কিংবা ইচ্ছে থেকে গত বছর থেকে এই আয়োজন। তিনি বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা পরিবারের চল্লিশজনের মতো সদস্য ইফতারে শৃঙ্খলায় কাজ করছেন। এক একদিন একেক রকম আইটেম থাকে। মঙ্গলবার মুরগি থাকলেও আজ বুধবার গরু জবাই করে আখনি হবে। পরের দিন করা হবে খাসির ব্যবস্থা। শেষ রমজান পর্যন্ত এই ইফতার অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

অনাথ অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য করা হলেও প্রতিদিন সুশীল সমাজের অনেকে সাধারণ মানুষের সারিতে বসে ইফতার করছেন। গেলো দিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান, এসপি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদসহ অনেকেই সেখানে ইফতার করেছেন।মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম বলেন, ভালো কিছু করার মধ্যে এক ধরনের সুখ থাকে। সেই সুখ অনেক দামি, আনন্দদায়ক।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে একসাথে ১৫ শতাধিক মানুষের ইফতার

আপডেট সময় : ১০:১৯:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২০ মার্চ ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ প্রতিবেদন :

প্রতিদিন বিকেলে প্রায় চৌদ্দ থেকে পনেরো শত’ মানুষ জড়ো হন রিকাবীবাজার সিলেট জেলা স্টেডিয়াম ফটকে। তারপর ধিরে ধিরে সবাই প্রবেশ করেন মোহাম্মদ আলী জিমনেসিয়ামের ভেতর ইফতার করতে। প্রতিদিন এভাবেই তারা একইস্থানে আসেন, ইফতার করেন। এতগুলো মানুষকে একসাথে ইফতারের এমন গণজমায়েত সিলেটে আগে কখনো দেখা যায়নি। মূল ফটকে আয়োজক হিসেবে জেলা ক্রীড়া সংস্থা নাম দেয়া হলেও সম্পূর্ণ নিজের অর্থে সেটি করছেন জেলা ক্রীড়া সংস্থার সাধারণ সম্পাদক, বিশিষ্ট ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম।

ইফতারের কিছু সময় পূর্বে জিমনেসিয়ামের ভেতর কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে যায়। কিন্তু কোনো বিশৃঙ্খলা নেই, কোলাহল নেই। অদ্ভুদ এক নীরবতায় সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষগুলো ইফতার সামনে রেখে প্রভুর আদেশের অপেক্ষায় বসে আছেন। আবার যে খাবারের সামনে বসে আছেন, সেগুলো অতি সাধারণ কিংবা নামমাত্র খাবারও নয়।সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসার সময় শৃঙ্খলা বজায়ে ব্যস্ত থাকা, প্রতিদিন বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে এখানে রোজাদাররা চলে আসেন। সমাজের সুবিধাবঞ্চিত, পথশিশু, অনাথ, প্রতিবন্ধী, রিকশাচালক, খেটেখাওয়া, ভবঘুরে মানুষগুলোই আসেন।

প্রতিদিন বাসা থেকে আলাদা বাবুর্চি দিয়ে রান্না করা আখনি তাদের মধ্যে পরিবেশন করা হয়। সেই আখনি চিনিগুঁড়া ও কোন কোনোদিন কাটারীভোগ চাল দিয়ে তৈরি হয়। খাবারের তালিকায় একদিন মুরগি হলে আরেক দিন গরু কিংবা খাসির গোস্ত থাকছে নিয়মিত। আখনি ছাড়া আরো থাকে বাহারী মুখরোচকের সমাহার। খেজুর, পিঁয়াজু, জিলাপি, ছোলা, সালাদ তো আছেই। তৃষ্ণা মেঠাতে পানির সাথে রাখা হয সুস্বাদু শরবত। সমাজে এমনও মানুষ আছে যারা শুধু মুড়ি কিংবা পানি দিয়ে ইফতার করেন। সেই মানুষগুলোর ভাগ্যে এমন ভালো এবং উন্নত খাবার সবসময় জুটে না। তাই তারা খুশি। শুভকামনা করেছেন, দোয়া করেছেন মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম এর জন্য।

মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম এর সাথে ইফতার আয়োজন সম্পর্কে সাংবাকিদের জানান, ‘আরব দেশে এমন ইফতার সংস্কৃতি আমাকে খুব আকৃষ্ট করে। সে চিত্র দেখে ইচ্ছে ছিলো নিজের দেশে করার। সেই স্বপ্ন কিংবা ইচ্ছে থেকে গত বছর থেকে এই আয়োজন। তিনি বলেন, জেলা ক্রীড়া সংস্থা পরিবারের চল্লিশজনের মতো সদস্য ইফতারে শৃঙ্খলায় কাজ করছেন। এক একদিন একেক রকম আইটেম থাকে। মঙ্গলবার মুরগি থাকলেও আজ বুধবার গরু জবাই করে আখনি হবে। পরের দিন করা হবে খাসির ব্যবস্থা। শেষ রমজান পর্যন্ত এই ইফতার অব্যাহত থাকবে বলে তিনি জানান।

অনাথ অবহেলিত সুবিধাবঞ্চিতদের জন্য করা হলেও প্রতিদিন সুশীল সমাজের অনেকে সাধারণ মানুষের সারিতে বসে ইফতার করছেন। গেলো দিন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেটের জেলা প্রশাসক শেখ রাসেল হাসান, এসপি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আশফাক আহমদসহ অনেকেই সেখানে ইফতার করেছেন।মাহি উদ্দিন আহমদ সেলিম বলেন, ভালো কিছু করার মধ্যে এক ধরনের সুখ থাকে। সেই সুখ অনেক দামি, আনন্দদায়ক।