সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান কাষ্টঘর সুইপার কলোনিতে সিসিক প্রশাসক 🚔 সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ এর অভিযানে ৩২ ঘন্টায় ১৩৯ জন গ্রেফতার এবং ট্রাফিক পুলিশের অভিযানে ২১৯ টি যানবাহনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উদ্যোগে মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় মাদকবিরোধী র‍্যালি ও সমাবেশ অনুষ্ঠিত সিলেট (এসএমপি) ডিবি পুলিশের অভিযানে ৩,৩৭,০০০ টাকার ভারতীয় Nestle Kitkat চকলেট ও ১টি সিএনজিসহ গ্রেফতার ৩ সিলেট পূর্ব শাপলাবাগে মতবিনিময় সভায় সিসিক প্রশাসক জগন্নাথ দেবের রথযাত্রা উৎসবের আলোচনা সভায় সিসিক প্রশাসক চালিবন্দর শ্মশান কমপ্লেক্স উদ্বোধন অনুষ্ঠানে আরিফুল হক চৌধুরী সিলেট শাহপরাণ(রহঃ) থানা পুলিশের অভিযানে ৭০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেফতার ০১ সিলেটের নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে গ্রীণ ডিসএ্যাবল্ড ফাউন্ডেশনের সাক্ষাত ও মতবিনিময় সিলেটে নবাগত জেলা প্রশাসকের সাথে সোসাইটি অব জাতীয় গণমাধ্যম কমিশনের শুভেচ্ছা ও মতবিনিময়

কাষ্টঘর সুইপার কলোনিতে সিসিক প্রশাসক

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬ ১০ বার পড়া হয়েছে

হরিজন সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপের ঘোষণা

সিলেট নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন তারা। শহরের আবর্জনা সরানো, নালা-ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পেছনে রয়েছে তাদের নীরব শ্রম। অথচ সেই শ্রমিকদের অনেকেই বছরের পর বছর কাটিয়েছেন ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। অবশেষে তাদের দুর্দশা দেখতে সরাসরি কাষ্টঘর সুইপার কলোনিতে গেলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে কাষ্টঘর সুইপার কলোনি পরিদর্শন করে তিনি হরিজন সম্প্রদায়ের বসবাসের পরিবেশ, পানি ও বিদ্যুতের সংকট এবং সামগ্রিক জীবনমান সরেজমিনে দেখেন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।পরিদর্শনকালে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন জানান, সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে নির্মিত এই কলোনিতে বর্তমানে ৪২৪ জন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করছেন। এর মধ্যে ১১১ জন সিসিকে কর্মরত, অন্যত্র ২৫ জন চাকরি করেন, আর ১১৯ জন বর্তমানে বেকার।
কলোনির সরু গলি, অপর্যাপ্ত আবাসন, পানির সীমাবদ্ধতা এবং অনিরাপদ পরিবেশ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, “নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে হরিজন সম্প্রদায়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাদের জীবনমান অত্যন্ত খারাপ। অতীতে তাদের উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
তিনি দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, চাকরিকালীন সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে বেকার সদস্যদের কর্মসংস্থানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমাদের দায়িত্ব যারা বেকার তাদের কাজে যুক্ত করা। আর যারা কাজ করছেন, তাদের মর্যাদা ও সুবিধা বাড়ানো। সবচেয়ে বড় কথা, তারা যেন মানুষের মতো সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কলোনিতে নিরাপদ পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ঘিঞ্জি পরিবেশ থেকে বাসিন্দাদের পর্যায়ক্রমে উন্নত আবাসনে পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।এ সময় আবেগঘন মুহূর্তও তৈরি হয়। কলোনির বাসিন্দারা প্রশাসককে ঘিরে নিজেদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তাদের একজন বলেন, “অতীতে সিটি কর্পোরেশন থেকে কোনো মেয়র বা কর্মকর্তা আমাদের দেখতে আসেননি। আপনি নিজে এসে আমাদের কথা শুনেছেন, এটাই আমাদের জন্য বড় বিষয়।” প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাসিন্দারা বলেন, তারা আশা করছেন এবার সত্যিই তাদের জীবন বদলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।পরিদর্শনের সময় সামাজিক সচেতনতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন সিসিক প্রশাসক। তিনি কলোনিবাসীদের মাদক গ্রহণ ও মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নিজেদের ভবিষ্যৎ ও নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।” এ সময় বাসিন্দারা মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিনের অবহেলার পর প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন সরাসরি উপস্থিতি হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কাষ্টঘর সুইপার কলোনিতে সিসিক প্রশাসক

আপডেট সময় : ০৪:৪৯:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬

হরিজন সম্প্রদায়ের জীবনমান উন্নয়নে দ্রুত পদক্ষেপের ঘোষণা

সিলেট নগরকে পরিচ্ছন্ন রাখতে প্রতিদিন ভোর থেকে রাত পর্যন্ত অক্লান্ত পরিশ্রম করেন তারা। শহরের আবর্জনা সরানো, নালা-ড্রেন পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করার পেছনে রয়েছে তাদের নীরব শ্রম। অথচ সেই শ্রমিকদের অনেকেই বছরের পর বছর কাটিয়েছেন ঘিঞ্জি ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে। অবশেষে তাদের দুর্দশা দেখতে সরাসরি কাষ্টঘর সুইপার কলোনিতে গেলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।

সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে কাষ্টঘর সুইপার কলোনি পরিদর্শন করে তিনি হরিজন সম্প্রদায়ের বসবাসের পরিবেশ, পানি ও বিদ্যুতের সংকট এবং সামগ্রিক জীবনমান সরেজমিনে দেখেন। দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত এই জনগোষ্ঠীর জন্য দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।পরিদর্শনকালে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লে. কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন জানান, সিটি কর্পোরেশনের অর্থায়নে নির্মিত এই কলোনিতে বর্তমানে ৪২৪ জন হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করছেন। এর মধ্যে ১১১ জন সিসিকে কর্মরত, অন্যত্র ২৫ জন চাকরি করেন, আর ১১৯ জন বর্তমানে বেকার।
কলোনির সরু গলি, অপর্যাপ্ত আবাসন, পানির সীমাবদ্ধতা এবং অনিরাপদ পরিবেশ দেখে উদ্বেগ প্রকাশ করেন সিসিক প্রশাসক। তিনি বলেন, “নগর পরিচ্ছন্ন রাখতে হরিজন সম্প্রদায়ের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে তাদের জীবনমান অত্যন্ত খারাপ। অতীতে তাদের উন্নয়নে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। আমরা দ্রুত বাস্তবসম্মত পদক্ষেপ গ্রহণ করব।”
তিনি দৈনিক মজুরি বৃদ্ধি, চাকরিকালীন সুযোগ-সুবিধা সম্প্রসারণ এবং কর্মরত শ্রমিকদের কল্যাণে বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়ার ঘোষণা দেন। একই সঙ্গে বেকার সদস্যদের কর্মসংস্থানের আওতায় আনার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানান। আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, “আমাদের দায়িত্ব যারা বেকার তাদের কাজে যুক্ত করা। আর যারা কাজ করছেন, তাদের মর্যাদা ও সুবিধা বাড়ানো। সবচেয়ে বড় কথা, তারা যেন মানুষের মতো সম্মানজনক জীবনযাপন করতে পারেন, সেই ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে হবে।”
তিনি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কলোনিতে নিরাপদ পানি ও বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন। পাশাপাশি ঘিঞ্জি পরিবেশ থেকে বাসিন্দাদের পর্যায়ক্রমে উন্নত আবাসনে পুনর্বাসনের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন।এ সময় আবেগঘন মুহূর্তও তৈরি হয়। কলোনির বাসিন্দারা প্রশাসককে ঘিরে নিজেদের দীর্ঘদিনের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। তাদের একজন বলেন, “অতীতে সিটি কর্পোরেশন থেকে কোনো মেয়র বা কর্মকর্তা আমাদের দেখতে আসেননি। আপনি নিজে এসে আমাদের কথা শুনেছেন, এটাই আমাদের জন্য বড় বিষয়।” প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বাসিন্দারা বলেন, তারা আশা করছেন এবার সত্যিই তাদের জীবন বদলের উদ্যোগ নেওয়া হবে।পরিদর্শনের সময় সামাজিক সচেতনতার বিষয়েও গুরুত্বারোপ করেন সিসিক প্রশাসক। তিনি কলোনিবাসীদের মাদক গ্রহণ ও মাদক ব্যবসা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নিজেদের ভবিষ্যৎ ও নতুন প্রজন্মকে রক্ষা করতে সবাইকে মাদকের বিরুদ্ধে অবস্থান নিতে হবে।” এ সময় বাসিন্দারা মাদকমুক্ত পরিবেশ গড়ে তোলার প্রতিশ্রুতি দেন।সিলেট সিটি কর্পোরেশনের এই উদ্যোগকে স্থানীয়রা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। দীর্ঘদিনের অবহেলার পর প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের এমন সরাসরি উপস্থিতি হরিজন সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার করেছে।