অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হলেন যারা
- আপডেট সময় : ০৫:০৪:৫৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৮ অগাস্ট ২০২৪ ১৫৭ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ : অনলাইন সংস্করণ

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ড. ইউনূস ছাড়া এই সরকারে আর কারা থাকছেন- তা নিয়ে গত দুদিন ধরে কৌতূহলের শেষ ছিল না দেশবাসীর মনে। তবে অবশেষে বৃহস্পতিবার শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই সরকারের ১৬ উপদেষ্টার নাম প্রকাশ্যে আসে। আজ রাতে বঙ্গভবনে শপথ নেন তারা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। বাকি ১৬ জন উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন আইনজীবী ও পরিবেশকর্মী সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। উপদেষ্টার পদটি মন্ত্রী পদমর্যাদার।
সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের পৈতৃক বাড়ি হবিগঞ্জ। যদিও তিনি জন্মেছেন ঢাকার ধানমন্ডিতে ১৯৬৮ সালের ১৫ জানুয়ারি। বাবা সৈয়দ মহিবুল হাসান ও মা সুরাইয়া হাসান। বাবা-মায়ের একমাত্র কন্যা তিনি এবং পরিবারে সবার ছোট। পরবর্তীতে সহপাঠী আইনবিদ ও ব্যবসায়ী আবু বকর সিদ্দিকের সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন তিনি। বর্তমানে তিন সন্তানের জননী রিজওয়ানা হাসান। মেয়ে নেহলা, দুই ছেলে যাবির ও জিদান।
রিজওয়ানা হাসান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাশ করেন। এরপর হলিক্রস কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রথমে লোকপ্রশাসন বিভাগে ভর্তি হলেও আইনের প্রতি আগ্রহ থেকে পরে বিভাগ পরিবর্তন করে আইন বিভাগে ভর্তি হন। সেখান থেকে ব্যাচেলর ও মাস্টার্স ডিগ্রি অর্জন করেন তিনি। ১৯৯৩ সালে এলএলএম সম্পন্ন করার পর বাংলাদেশের বাইরে বেশ কয়েকটি ফেলোশিপ কোর্স সম্পন্ন করেছেন তিনি। ২০০৭ সালে তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে আইজেনহাওয়ার ফেলোশিপ করেন।
শিক্ষাজীবন শেষে ১৯৯৩ সালের জুলাই মাসে যোগ দেন বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবী সমিতিতে (বেলা)। এরপর ১৯৯৭ সালে বেলার সংগঠক ও প্রধান মহিউদ্দিন ফারুক মৃত্যুবরণ করলে রিজওয়ানা হাসান বেলার প্রধান নির্বাহীর দায়িত্ব নেন। তিনি বেলার প্রধান নির্বাহী ছাড়াও ফেডারেশন অব এনজিওস ইন বাংলাদেশের সহসভাপতি, এনজিও এরডিআরএস’র সভাপতি। এ ছাড়া তিনি ‘জেরা করি’ সংগঠন ও অ্যাসোসিয়েশন অব ল্যান্ড রিফর্মস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের একজন সদস্য।
বেসরকারি এসব কাজ ছাড়াও রিজওয়ানা হাসান সরকার কর্তৃক গঠিত বিভিন্ন কমিটির সদস্য। এ ছাড়া তিনি আন্তর্জাতিকভাবে ফ্রেন্ডস অব আর্থ ইন্টারন্যাশনালের নির্বাহী সদস্য; এনভায়রনমেন্টাল ল’ এলায়েন্স ওয়ার্ল্ডওয়াইড এবং এনভায়রনমেন্টাল ল’ কমিশন অব দ্য আইইউসিএন’র সদস্য। এ ছাড়া তিনি দিকনির্দেশক হিসেবে কাজ করছেন সম্প্রতি প্রতিষ্ঠিত সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অব এনভায়রনমেন্টাল এক্টিভিস্টে।
উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা সম্পর্কে যা জানা গেল

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন হলো অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টাসহ নতুন এ সরকারের সদস্য সংখ্যা ১৭। প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টারা বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টায় বঙ্গভবনে শপথ নেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এ সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আছেন সাবেক রাষ্ট্রদূত ও পার্বত্য চট্টগ্রাম উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান সুপ্রদীপ চাকমা। ২০২৩ সালে ২৪ জুলাই তাকে নিয়োগ দেওয়া হয়।
যদিও এ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না উপদেষ্টা পরিষদের অন্যতম সদস্য সুপ্রদীপ চাকমা। তিনি বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
জানা গেছে, উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা একজন বিসিএস (পররাষ্ট্র) ক্যাডারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও সাবেক রাষ্ট্রদূত। চাকরিকালে তিনি মেক্সিকো ও ভিয়েতনামে রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়াও তিনি রাবাত, ব্রাসেলস, আঙ্কারা ও কলম্বোতে বাংলাদেশ দূতাবাসে বিভিন্ন কূটনৈতিক দায়িত্ব পালন করেছেন।
সুপ্রদীপ চাকমার বাড়ি খাগড়াছড়ি জেলা সদরের কমলছড়ি গ্রামে। তার জন্ম ১৯৬১ সালে। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের ছাত্র ছিলেন। তিনি সপ্তম বিসিএসের মাধ্যমে সরকারি চাকরিতে যোগ দেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা কে এই বিধান রঞ্জন রায়

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন হলো অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টাসহ নতুন এ সরকারের সদস্য সংখ্যা ১৭। প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টারা বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টায় বঙ্গভবনে শপথ নেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এ সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আছেন জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায়।
যদিও এ শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন না তিনি। ডা. বিধান রঞ্জন রায় বর্তমানে ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় শপথ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হতে পারেননি বলে জানায় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
তিনি এর আগে ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের মনোরোগবিদ্যা বিভাগের প্রধান হিসাবে দায়িত্ব পালন করছিলেন।
অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার ১৯৬৩ সালে সুনামগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি সুনামগঞ্জ সরকারি জুবিলি হাইস্কুল থেকে ১৯৭৯ সালে এসএসসি ও ১৯৮১ সালে ঢাকা কলেজ থেকে এইচএসসি পাস করেন। পরে স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ থেকে ১৯৮৮ সালে এমবিবিএস সম্পন্ন করেন।
মনোচিকিৎসার পাশাপাশি অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার লেখালেখির সঙ্গেও জড়িত। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে সামাজিক চেতনার মনস্ত্বত্ত (২০১৬), এপিকুরস, আধুনিকতা ও আমরা (২০১৮), সিগমুন্ড ফ্রয়েড এবং অফ্রয়েডীয় ফ্রয়েডবাদীগণ (২০২০)।
উপদেষ্টা ফরিদা আখতার সম্পর্কে যা জানা গেল

ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন হলো অন্তর্বর্তী সরকার। প্রধান উপদেষ্টাসহ নতুন এ সরকারের সদস্য সংখ্যা ১৭। প্রধান উপদেষ্টা এবং উপদেষ্টারা বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৯টায় বঙ্গভবনে শপথ নেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, নতুন এ সরকারের উপদেষ্টাদের মধ্যে আছেন গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রাস্টি ও নারী আন্দোলনের নেত্রী ফরিদা আখতার।
ফরিদা আখতারের জন্ম চট্টগ্রাম জেলার চন্দনাইশ থানার হারলা গ্রামে। চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতিতে পড়াশোনা করেছেন। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চলের দরিদ্র মানুষের অবস্থা জানা এবং পরিবর্তনের জন্য নীতিনির্ধারণী গবেষণা ও লেখালেখিই তার কাজের প্রধান জায়গা।
নারী উন্নয়ন, স্বাস্থ্য, কৃষি, মৎস্য সম্পদ, তাঁত শিল্প, গার্মেন্টস শিল্প ও শ্রমিক, জনসংখ্যা এবং উন্নয়নমূলক বিষয়ে নিবিড়ভাবে দীর্ঘ প্রায় তিন দশক ধরে কাজ করছেন।
জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের নামে পরিচালিত কার্যক্রমের মারাত্মক কুফল ও নারী স্বাস্থ্যের ওপর এর ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে লেখালেখি এবং প্রতিকার আন্দোলের জন্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পরিসরে সুপরিচিত ফরিদা আখতার। তিনি বাংলাদেশের নারী আন্দোলনের সঙ্গে সক্রিয়ভাবে জড়িত।
গণ বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্যতম এই ট্রাস্টি বর্তমানে উবিনীগের (উন্নয়ন বিকল্পের নীতি নির্ধারণী গবেষণা) নির্বাহী পরিচালকের দায়িত্ব পালন করছেন। তার প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে নারী ও গাছ, কৈজুরী গ্রামের নারী ও গাছের কথা।
সমন্বয়ক থেকে সরকারের উপদেষ্টা কে এই নাহিদ ইসলাম

কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র অন্যতম সমন্বয়ক ছিলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী মো. নাহিদ ইসলাম ফাহিম। মাত্র ২৬ বছর বয়সে জাতির ‘কাণ্ডারি’ হয়ে স্বৈরাচারের কবল থেকে ১৬ কোটি জনগণকে মুক্ত করেছেন তিনি। ‘মুক্তিদাতা’ হয়ে উঠেছেন বাংলাদেশের মানুষের কাছে।
শেখ হাসিনা সরকারের পতনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করা কে এই নাহিদ ইসলাম? কিভাবে সাধারণ আন্দোলনকারী থেকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হলেন, চলুন জেনে নেই-
মিষ্টভাষী ও মিশুক প্রকৃতির যুবক নাহিদ। বক্তব্য দানে বেশ পটিয়সী। কর্মসূচির নাম নির্ধারণে বেশ বৈচিত্র্য দেখিয়েছেন তিনি। আন্দোলনে সুশৃঙ্খলভাবে সমন্বয় করতে পেরে সবার প্রশংসা কুড়িয়েছেন নাহিদ।
নাহিদ ইসলামের ডাকনাম ‘ফাহিম’। সরকারি বিজ্ঞান কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেছেন তিনি। আর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞান বিভাগ থেকে মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। জন্ম ১৯৯৮ সালে ঢাকায়। বাবা শিক্ষক। মা ঘর সামলে সন্তানদের মানুষ করেছেন। ছোট এক ভাই রয়েছে তার। নাহিদ বিবাহিত।
মাসখানেক আগেও বাংলাদেশের হাতেগোনা কয়েকজন মানুষই জানতেন নাহিদের নাম। সেই নাহিদই এখন বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে পরিচিত নাম হয়ে উঠেছেন।
গত মাসে যখন কোটাবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল তখন প্রাথমিকভাবে নাহিদ ততটা পরিচিত মুখ ছিলেন না। কিন্তু জুলাইয়ের মাঝামাঝি সময় নাহিদকে ‘অপহরণ’ করার পর থেকেই বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এই সমন্বয়কের নাম ছড়িয়ে পড়তে থাকে।
কোটাবিরোধী আন্দোলন ঘিরে তাকে দু’বার আটক করা হয়। প্রথমবার, ১৯ জুলাই সাদা পোশাকধারী বেশ কয়েকজন লোক তার এক বন্ধুর বাড়ি থেকে তাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। চোখে কাপড় বেঁধে, হাতকড়া পরিয়ে তার উপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হয়। দু’দিন পর পূর্বাচলে একটি ব্রিজের তলায় নিজেকে আবিষ্কার করেন নাহিদ। এরপর নিজেই কোনোরকমে একটি রিক্সায় উঠে বাড়িতে ফেরেন। দ্বিতীয়বার, ২৬ জুলাই ধানমণ্ডির গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে তাকে অপহরণ করা হয়। পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক ডিবিপ্রধান হারুন জানান, নিরাপত্তার স্বার্থে তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
আন্দোলনকারী ছাড়াও নাহিদ ইসলামের রয়েছে রাজনৈতিক পরিচয়। তিনি গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় নেতা। ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ থেকে বেরিয়ে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে গড়ে তোলা হয়েছিল গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি।
তথ্যসূত্র: বিবিসি বাংলা, দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া, হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা
অন্তর্বর্তী সরকারের নবীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম এবং আলোচিত সমন্বয়ক আসিফ মাহমুদ। আন্দোলনের সময় সামাজিকমাধ্যমে বেশ সরব দেখা গেছে তাকে। বিভিন্ন সময় ফেসবুক লাইভে এসে আন্দোলনকারীদের নির্দেশনা দিয়েছেন আসিফ।
পুরো নাম আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া। কোটা সংস্কার আন্দোলনের প্ল্যাটফর্ম ‘বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন’র সমন্বয়ক থেকে ‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা’ হয়েছেন তিনি।
আসিফ মাহমুদের বাড়ি কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার আকুবপুর গ্রামে। তার পিতার নাম মোঃ বিল্লাল হোসেন ও মাতার নাম রোকসানা বেগম। আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের সাবেক শিক্ষার্থী ও কলেজটির বিএনসিসি ক্লাবের প্লাটুন সার্জেন্ট ছিলেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাষাবিজ্ঞান বিভাগের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
আসিফ ‘গণতান্ত্রিক ছাত্রশক্তি’র কেন্দ্রীয় নেতা। ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেনের নেতৃত্বে ২০২৩ সালের ৪ অক্টোবর আত্মপ্রকাশ করে দলটি।
অন্তর্বর্তী সরকারে ড. আসিফ নজরুল

শেখ হাসিনা সরকারের পদত্যাগের ৪ দিনের মাথায় গঠিত হচ্ছে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। শান্তিতে নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সরকারে প্রধান উপদেষ্টার শপথ নিয়েছে। বৃহস্পতিবার ৯টায় বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের কাছ থেকে শপথ নেন প্রধান উপদেষ্টা ও অন্য উপদেষ্টারা।
১৬ উপদেষ্টার তালিকায় আছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ড. আসিফ নজরুল। তরুণ ছাত্রদের নেতৃত্বে সংগঠিত গণঅভ্যুত্থানে আন্দোলনকারীদের অভিভাবক হিসেবে সব সময় সামনের সারিতে দেখা গেছে ঢাবির এই শিক্ষককে। বিশেষ করে আন্দোলনকরত কয়েকজন শিক্ষার্থীকে পুলিশ গ্রেফতার করলে অভিভাবকের ভূমিকায় থানা থেকে শিক্ষার্থীদের ছাড়িয়ে নিয়ে আসেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক প্রশংসিত হন আসিফ নজরুল। তাছাড়াও বৈষম্যবিরোদী আন্দোলনের প্রতিটি কর্মসূচিতে সোচ্চার ছিলেন তিনি।
এছাড়াও দেশের অনেক শিক্ষার্থীর আদর্শের পাশাপাশি সুশীল সমাজেরও একজন তিনি। ১৯৬৬ সালের ১২ জানুয়ারি জন্মগ্রহণ করেন আসিফ নজরুল। তিনি একাধারে লেখক, ঔপন্যাসিক, রাজনীতি-বিশ্লেষক, সংবিধান বিশেষজ্ঞ ও কলামিস্ট। বেশ কিছু গ্রন্থের রচয়িতাও তিনি।
আসিফ নজরুল ঢাবির আইন বিভাগ থেকে ১৯৮৬ সালে স্নাতক ও ১৯৮৭ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। ১৯৯৯ সালে সোয়াস (স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজ) ইউনিভার্সিটি অব লন্ডন থেকে তার পিএইচডি সম্পন্ন করেন। পরবর্তীতে জার্মানীর বন শহরের ইনভায়রনমেন্টাল ল’ সেন্টার থেকে তিনি পোস্ট ডক্টরেট ফেলোশিপ অর্জন করেন। তিনি স্কুল অফ ওরিয়েন্টাল অ্যান্ড আফ্রিকান স্টাডিজে একজন কমনওয়েলথ ফেলো হিসেবে কাজ করেছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক হিসেবে যোগদানের পূর্বে ১৯৯১ সাল থেকে আসিফ নজরুল একটি বহুল প্রচারিত সাপ্তাহিক পত্রিকা বিচিত্রায় প্রতিবেদক হিসাবে কাজ করতেন। পরে বিচিত্রার উত্তরসূরি সাপ্তাহিক ২০০০-এ প্রদয়ক সম্পাদক হিসাবে কাজ করেন। তিনি কিছু সময় বাংলাদেশ সরকারের একজন সরকারি কর্মকর্তা (ম্যাজিস্ট্রেট) হিসেবে কাজ করেছেন। জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন মিডিয়ায় তাকে প্রায়ই দেখা যায়।
২০১২ সালে আসিফ নজরুলকে তলব করেছিলেন হাইকোর্ট। ১২ মার্চ ২০১২ তারিখে একটি টেলিভিশন চ্যানেলে টক শোতে দেওয়া বক্তব্যে অগণতান্ত্রিক শক্তিকে উসকানি দেওয়া হয়েছে বলে একটি রিট আবেদন করলে আদালত এই আদেশ দেন। ২০১৩ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে তার অফিসকক্ষ কেরোসিন তেল দিয়ে জ্বালিয়ে দেওয়া হয়েছিল। আসিফ নজরুলকে ২০১৩ সালের মে মাসে টেলিফোন করে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ধারণা করা হয়, সরকারের সমালোচনা করার জন্যই তাকে এই হুমকি দেওয়া হয়েছিল। ২০১৭ সালে মাদারীপুর আদালতে আসিফ নজরুলের বিরুদ্ধে ৫০০ ও ৫০১ নম্বর ধারায় মানহানির মামলা হয়।
আসিফ নজরুল লিখিত প্রবন্ধ-প্রতিবেদন-গবেষণার তালিকায় রয়েছে, ‘১/১১ সুশাসন বিতর্ক’, ‘যুদ্ধাপরাধীর বিচার: জাহানারা ইমামের চিঠি’, ‘আওয়ামী লীগের শাসনকাল’, ‘সংবিধান বিতর্ক ১৯৭২: গণপরিষদের রাষ্ট্রভাবনা’। তার লিখিত স্মৃতিচারণমূলক গ্রন্থের নাম ‘পিএইচডির গল্প’। আফিস নজরুলের বেশ কিছু উপন্যাসও রয়েছে। সেগুলো হলো, ‘নিষিদ্ধ কয়েকজন’, ‘ক্যাম্পাসের যুবক’, ‘আক্রোশ’, ‘পাপ’, ‘উধাও’, ‘অন্য আলোর দিন’, ‘দখল’, ‘অন্যপক্ষ’, ‘তাদের একটি রাত’, ‘ছোঁয়া’, ‘অসমাপ্তির গল্প’, ‘বেকার দিনের প্রেম’ ও ‘আমি আবু বকর’।
ব্যক্তি জীবনে আসিফ নজরুল প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের কন্যা শীলা আহমেদের স্বামী।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হলেন সাবেক গভর্নর সালেহউদ্দিন

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ড. ইউনূস ছাড়া এই সরকারে আর কারা থাকছেন- তা নিয়ে গত দুদিন ধরে কৌতূহলের শেষ ছিল না দেশবাসীর মনে। তবে অবশেষে বৃহস্পতিবার শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই সরকারের ১৬ উপদেষ্টার নাম প্রকাশ্যে আসে। আজ রাতে বঙ্গভবনে শপথ নেন তারা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। বাকি ১৬ জন উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। উপদেষ্টার পদটি মন্ত্রী পদমর্যাদার।
বিশ্বস্ত একটি সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ অন্তর্বর্তীকালীন এ সরকারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে যাচ্ছেন।
ড. সালেহউদ্দিন ছিলেন বাংলাদেশ ব্যাংকের নবম গভর্নর। ড. ফখরুদ্দীন আহমদ দায়িত্ব ত্যাগের পর তিনি ২০০৫ সালের ১ মে গভর্নর হিসাবে দায়িত্ব লাভ করেন এবং ২০০৯ সালের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত এই পদে দায়িত্ব পালন করেন।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার নবীনগর উপজেলার শ্রীরামপুর (দরিশ্রীরামপুর) গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন।
ঢাকা কলেজিয়েট স্কুল থেকে ১৯৬৩ সালে এবং ঢাকা কলেজ থেকে ১৯৬৫ সালে বিজ্ঞান বিভাগ থেকে যথাক্রমে এসএসসি ও এইচএসসি পাশ করেন। ১৯৬৮ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে বিএ অনার্স পাশ করেন এবং ১৯৬৯ সালে একই বিষয়ে এমএ পাশ করেন। ১৯৭০ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্থনীতির লেকচারার হিসেবে যোগ দেন। তৎকালীন পাকিস্তানের কেন্দ্রীয় প্রশাসনে সিভিল সার্ভিস অব পাকিস্তান (সিএসপি) ক্যাডারে যোগ দেন। ১৯৭৮ সালে কানাডার হ্যামিল্টন শহরে অবস্থিত ম্যাকমাস্টার বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে পিএইচডি ডিগ্রি লাভ করেন।
বিধান রঞ্জনসহ ৩ উপদেষ্টা যে কারণে শপথ নেননি

ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন মোট ১৭ জন। এর মধ্যে তিন উপদেষ্টা আজ শপথ নিতে পারেননি। তারা হলেন: সুপ্রদিপ চাকমা, ফারুক–ই–আজম ও বিধান রঞ্জন রায়। তবে তারা শিঘ্রই শপথ নেবেন বলে জানা গেছে।
মন্ত্রীপরিষদ সচিব মো. মাহবুব হোসেন শপথ অনুষ্ঠানের সময় জানান, তারা আজ ঢাকার বাইরে অবস্থান করায় শপথগ্রহণ অনুষ্ঠানে হাজির হতে পারেননি।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হলেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত হোসেন

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠিত হতে যাচ্ছে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। ড. ইউনূস ছাড়া এই সরকারে আর কারা থাকছেন- তা নিয়ে গত দুদিন ধরে কৌতূহলের শেষ ছিল না দেশবাসীর মনে। তবে অবশেষে বৃহস্পতিবার শপথ নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে এই সরকারের ১৬ উপদেষ্টার নাম প্রকাশ্যে আসে। আজ রাতে বঙ্গভবনে শপথ নেন তারা।
ড. মুহাম্মদ ইউনূস এই সরকারের প্রধান উপদেষ্টা। বাকি ১৬ জন উপদেষ্টাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন। উপদেষ্টার পদটি মন্ত্রী পদমর্যাদার।
এম সাখাওয়াত হোসেন একজন সামরিক ব্যক্তিত্ব, বুদ্ধিজীবী, লেখক ও সাবেক নির্বাচন কমিশনার। তিনি ২০০৭-২০১২ সাল পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের কমিশনার ছিলেন। তিনি বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর একজন অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল। তিনি বিভিন্ন দেশি ও বিদেশি পত্রিকায় কলাম লেখেন। তাছাড়া তিনি ২০টির অধিক বই লিখেছেন।
সাখাওয়াত হোসেন ১৯৪৮ সালের ১ ফেব্রুয়ারি বরিশাল জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। তেজগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে প্রাথমিক শিক্ষা শুরু করেন। তিনি করাচি থেকে ১৯৬৩ সালে এসএসসি ও ১৯৬৫ সালে করাচির ইসলামিয়া বিজ্ঞান কলেজ থেকে এইচএসসি পাশ করেন। করাচি বিশ্ববিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগে অধ্যায়নকালে সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৬৬ সালে কমিশন লাভ করেন এবং ১৯৭১ সাল পর্যন্ত তিনি শিয়ালকোটে ছিলেন।
সাখাওয়াত হোসেন ১৯৬৬ সালে পাকিস্তান সেনাবাহিনীতে যোগ দেন। ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ স্বাধীন হলে ১৯৭৩ সালে তিনি বাংলাদেশে ফিরে আসেন এবং বাংলাদেশ সেনাবাহিনীতে মেজর পদে কুমিল্লা সেনানিবাসে যোগ দেন।
তিনি বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ বাণিজ্যিক ব্যাংক সোনালী ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন দুই বছর।
চাকরি ও নির্বাচন কমিশন থেকে অবসরের পর তিনি জাতীয় নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা বিষয়ে গবেষণার কাজ করছেন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পত্রিকার কলামলিস্ট এবং নিরাপত্তা বিশ্লেষক।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা কে এই নূর জাহান বেগম?

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সদস্য সংখ্যা হচ্ছে ১৭ জন। বৃহস্পতিবার এ সরকারের সদস্যের নাম প্রকাশ্যে এসেছে। তাদের মধ্যে একজন নূর জাহান বেগম।
চলুন এক নজরে জেনে নেওয়া যাক কে এই নূর জাহান বেগম-
মিসেস নূর জাহান বেগম ২০১০ সালে গ্রামীণ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হিসেবে নিযুক্ত হন। এর আগে তিনি নোবেল বিজয়ী প্রতিষ্ঠান গ্রামীণ ব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন, যে দায়িত্ব তিনি পেয়েছিলেন ব্যাংকের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যাপক মুহাম্মদ ড. ইউনূসের কাছ থেকে। তিনি এখন গ্রামীণ পরিবারের একটি অলাভজনক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্রামীণ শিক্ষার ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
১৯৭৬ সালে যখন নূর জাহান বেগম গ্রামীণ ব্যাংকের প্রকল্প শুরু করেন তখন তিনি ড. ইউনূসের প্রথমসারির সহযোগীদের একজন ছিলেন। মিসেস নুরজাহান, যিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ছিলেন, গ্রামীণ ব্যাংকের তৃণমূল গোষ্ঠীতে দরিদ্র গ্রামীণ মহিলাদের সংগঠিত ও প্রশিক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। ব্যাংকের শুরুর দিকে এবং সবচেয়ে চ্যালেঞ্জিং দিনে তিনি গ্রামীণ ব্যাংক ট্রেনিং ইনস্টিটিউটের প্রথম ‘প্রিন্সিপাল’ ছিলেন।
নূর জাহান বেগম অনেক দেশে মাইক্রো-ক্রেডিট প্রোগ্রামের পরামর্শদাতা, প্রশিক্ষক এবং মূল্যায়নকারী হিসেবে কাজ করেছেন এবং বিভিন্ন দেশে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়, সম্মেলন এবং সেমিনারে বক্তৃতা দিয়েছেন। তিনি গ্রামীণ ফাউন্ডেশন, ইউএসএসহ বেশ কয়েকটি সংস্থার বোর্ডেও দায়িত্ব পালন করছেন।
তিনি ২০০৮ সালে গ্রামীণ ফাউন্ডেশন কর্তৃক সুসান এম. ডেভিস লাইফটাইম অ্যাচিভমেন্ট অ্যাওয়ার্ড লাভ করেন। এ ছাড়াও তিনি ওয়ার্ল্ড সামিট মিলেনিয়াম ডেভেলপমেন্ট গোলস অ্যাওয়ার্ড ২০০৯ এবং ভিশন অ্যাওয়ার্ড ২০০৯-এ ভূষিত হন। তিনি ২০০৭ সালে লস অ্যাঞ্জেলেসে অনুষ্ঠিত ফরচুন মোস্ট পাওয়ারফুল উইমেন সামিটে অংশগ্রহণ করেন এবং স্পেনের ভ্যালেন্সিয়ায় অনুষ্ঠিত ফাউন্ডেশন ফর জাস্টিস পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে সভাপতি নিযুক্ত হন ২০০৭ সালে।
অন্তর্বর্তী সরকারে জায়গা পেলেন প্রথম আলেম, কে এই খালিদ হোসেন

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা হিসেবে শপথ নিয়েছেন শান্তিতে নোবেলজয়ী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
বৃহস্পতিবার বঙ্গভবনে দরবার হলে প্রায় ৪০০ অতিথির উপস্থিতিতে শপথ নেন তিনি। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তাকে শপথ পাঠ করান।
ড. ইউনূসের পর শপথ নেন ১৩ উপদেষ্টা। তারা হলেন- ড. সালেহ উদ্দিন আহমেদ, ড. আসিফ নজরুল, আদিলুর রহমান খান, হাসান আরিফ, তৌহিদ হোসেন, সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, মো. নাহিদ ইসলাম (ছাত্র প্রতিনিধি), আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া (ছাত্র প্রতিনিধি), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) এম সাখাওয়াত হোসেন, ফরিদা আখতার, ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন, নুরজাহান বেগম এবং শারমিন মুরশিদ।
অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হিসেবে স্থান পাওয়া প্রখ্যাত আলেম আ ফ ম খালিদ হোসেন যিনি বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথম আলেম উপদেষ্টা হলেন।
প্রখ্যাত এ আলেমের পুরো নাম আবুল ফয়েজ মুহাম্মদ খালিদ হোসেন। তবে তিনি ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন নামেই বেশি পরিচিত। তিনি ১৯৫৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি চট্টগ্রাম জেলার অন্তর্গত সাতকানিয়া উপজেলার মাদার্শা ইউনিয়নের মক্কার বাড়ির এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা মুহাম্মদ হাবিবুল্লাহ একজন ইসলামি পণ্ডিত ছিলেন।
সুন্নি দেওবন্দি ইসলামি পণ্ডিত খালিদ হোসেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ছিলেন। বর্তমানে তিনি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিক্ষা উপদেষ্টা, মাসিক আত তাওহিদের সম্পাদক, বালাগুশ শরকের সহকারী সম্পাদক এবং আন্তর্জাতিক ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় চট্টগ্রামের কোরআনিক সায়েন্সেস অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অতিথি শিক্ষক হিসেবে দায়িত্বরত আছেন।
এ ছাড়া তিনি ওমরগণি এমইএস কলেজের ইসলামের ইতিহাস বিভাগের অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, এশিয়ান ইউনিভার্সিটি অব বাংলাদেশের খণ্ডকালীন অধ্যাপক এবং নেজামে ইসলাম পার্টির ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রসমাজের কেন্দ্রীয় সভাপতি ছিলেন। বিশ্ব মুসলীম লীগের মুখপাত্র দ্য ওয়ার্ল্ড মুসলিম লীগ জার্নালসহ বিভিন্ন সাময়িকীতে তার দুই শতাধিক গবেষণাধর্মী প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে।
বাবুনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ভর্তির মাধ্যমে খালিদ হোসেনের শিক্ষাজীবন শুরু। এখানে তিনি তৃতীয় শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। ১৯৬৯ থেকে ১৯৭১ পর্যন্ত তিনি আল জামিয়া আল ইসলামিয়া পটিয়ায় লেখাপড়া করেন। ১৯৭১ সালে সাতকানিয়া আলিয়া মাহমুদুল উলুম মাদ্রাসা থেকে প্রথম বিভাগে আলিম ও ১৯৭৩ সালে ফাজিল পাস করেন। ১৯৭৩ থেকে ১৯৭৫ পর্যন্ত চট্টগ্রাম চন্দনপুরা দারুল উলুমে হাদিস অধ্যয়ন করেন। ১৯৭৫ সালে বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড থেকে কামিল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
আশরাফ আলী থানভীর শিষ্য মুহাম্মদ আমিনের কাছে সহীহ বুখারী, চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার নিজামপুর এলাকার বাসিন্দা মতিউর রহমান নিযামীর কাছে সহীহ মুসলিম, ইসমাইল আরাকানী কাসেমীর কাছে সুনান আত-তিরমিজি, নাওয়াব হাসান কাসেমীর কাছে সুনানে আবু দাউদ পড়েছেন। ১৯৮২ সালে তিনি চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগ থেকে বিএ (অনার্স) ও ১৯৮৩ সালে একই বিষয়ে এমএ পাশ করেন। পরে ২০০৬ সালে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কলারশিপ নিয়ে ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর খুতবা : একটি সামাজিক-সাংস্কৃতিক গবেষণা’র ওপর পিএইচডি করেন খালিদ হোসেন।
অন্তর্বর্তী সরকারে বীরপ্রতীক, কে ফারুক ই আজম

নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে গঠন করা হয়েছে ১৭ সদস্যের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টায় বঙ্গভবনের নতুন সরকারকে শপথবাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অন্যতম সদস্য নৌকমান্ডো ফারুক-ই আজম বীরপ্রতীক। তার বাড়ি চট্টগ্রাম জেলার হাটহাজারীতে। ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সূচনাকালে উচ্চমাধ্যমিক পাস করেন ফারুক-ই-আজম। সে সময় খুলনায় ছিলেন তিনি।
যুদ্ধ শুরু হলে অনেক বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে চট্টগ্রামে পৌঁছান ফারুক-ই-আজম। ৬ মে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভারতের হরিণা ইয়ুথ ক্যাম্পে আশ্রয় নেন তিনি। এসময় একদিন শুনলেন, পাকিস্তানি হানাদারদের বিরুদ্ধে নৌবাহিনীর জন্য মুক্তিযোদ্ধা সংগ্রহ করা হচ্ছে। লাইনে দাঁড়িয়ে যান তিনি। পলাশীতে দুই মাসের প্রশিক্ষণ শেষে ১৯৭১ সালের ১ আগস্ট ‘অপারেশন জ্যাকপট’এর জন্য তাকে মনোনীত করা হয়। অপারেশন জ্যাকপটে চট্টগ্রামের বন্দর আক্রমণকারী অভিযানিক দলের উপঅধিনায়ক ছিলেন ফারুক-ই আজম।
প্রসঙ্গত, ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের সময় নৌ-সেক্টর পরিচালিত সফলতম গেরিলা অভিযান ছিল অপারেশন জ্যাকপট। ১৯৭১ সালের ১৫ আগস্ট রাত ১২টার পর অর্থাৎ ১৬ আগস্টের প্রথম প্রহরে চট্টগ্রাম ও মংলা সমুদ্র বন্দর এবং চাঁদপুর ও নারায়ণগঞ্জ নদী বন্দরে একই সময়ে পরিচালিত হয় এই আত্মঘাতী গেরিলা অভিযান। এই অভিযানে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর অস্ত্র ও রসদবাহী জাহাজ ধ্বংস করতে সক্ষম হন মুক্তিযোদ্ধারা।
ধ্বংস হওয়া জাহাজগুলোর মধ্যে বেশকিছু বিদেশি জাহাজও ছিল, যেসব জাহাজ পাকিস্তানি বাহিনীকে সাহায্য করছিল। ফলে অপারেশন জ্যাটপটের খবর সারা বিশ্বের ছড়িয়ে পড়ে এবং বিশ্ববাসী বুঝতে পারে, বাংলাদেশের মানুষ পাকিস্তানের সঙ্গে মরণপণ লড়াইয়ে লিপ্ত হয়েছে। ফলে বাংলাদেশের ইতিহাসে অপারেশন জ্যাকপট খুবই গুরুত্বপূর্ণ মিশন হিসেবে পরিগণিত হয়।
আলোচনায় না থেকেও উপদেষ্টা শারমিন মুরশিদ

শেখ হাসিনার পতন পরবর্তী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠন করা হয়েছে। নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন ১৬ সদস্য বিশিষ্ট এ অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপদেষ্টা পরিষদে জায়গা পেয়েছেন ইসলামি ব্যক্তিত্ব শারমিন মুরশিদসহ আলোচনায় না থাকা বেশ কয়েকজন সদস্য। যাদের ঘিরে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা কৌতূহল। অনেকেই তাদের নিয়ে জানতে দ্বারস্থ হচ্ছেন গুগলসহ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের বিভিন্ন সাইটে।
বৃহস্পতিবার রাত ৯টা ২১ মিনিটে প্রধান উপদেষ্টা এবং ৯টা ২৮ মিনিটে বাকি উপদেষ্টাদের শপথ বাক্য পাঠ করান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
শারমিন মুরশিদ এ তালিকায় যুক্ত হবেন এমনটি হয়ত কেউই ভাবেননি। তিনি বাংলাদেশসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে নির্বাচন পর্যবেক্ষণকারী হিসেবে কাজ করেছেন। তিনি শেখ হাসিনা সরকারের সময় নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার নানা অনিয়ম নিয়ে কথা বলেন। দেশী-বিদেশি গণমাধ্যমে তার মতামত ও পরামর্শ গুরুত্ব সহকারে প্রচার হয়।
সবশেষ ৭ জানুয়ারি ২০২৪ এর নির্বাচন বিষয়ে আমেরিকার একটি গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিতে গিয়ে তিনি বলেছিলেন, আমি এই নির্বাচনকে নির্বাচন বলি না। বিষয়টি ব্যাপক আলোচিত হয়।



























