আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে কেউ নিচ্ছে টেবিল, কেউ কমোড, কেউ টাইলস
- আপডেট সময় : ১১:৫৬:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৬ অগাস্ট ২০২৪ ১৪২ বার পড়া হয়েছে
রাজধানী গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে যাচ্ছে একদল লোক। আজ মঙ্গলবার দুপুরে্।
ভিউ নিউজ ৭১ : অনলােইন সংস্করণ :
রাজধানী গুলিস্তানের বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বিভিন্ন মালপত্র নিয়ে যাচ্ছে একদল লোক। এর আগে কার্যালয়ে আগুন লাগানো হয়।
এভাবে মালপত্র নিয়ে যাওয়ার জন্য নানা কারণের কথা বলছেন লোকেরা। কেউ বলছেন, আওয়ামী লীগের লোকদের অত্যাচারে এলাকায় থাকতে পারেননি। কেউ বলছেন, অন্য দল করায় একাধিক মামলা দিয়েছে আওয়ামী লীগ। কেউ বলছেন, অন্যদের দেখে তিনিও একই কাজ করছেন।

কার্যালয়ের ভেতর থেকে যে যা পারছেন নিয়ে যাচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে।
আজ মঙ্গলবার বেলা পৌনে দুইটার দিকে সরেজমিনে গিয়ে এই চিত্র দেখা গেছে। কার্যালয়ের প্রতিটি তলা থেকে মালপত্র খুলে নেওয়ার দৃশ্য শত শত মানুষ মোবাইলে ধারণ করে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন।
গতকাল সোমবার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার পর বিকেলে গুলিস্তান এলাকায় আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আগুন লাগানো হয়েছিল। দ্বিতীয় দফায় আজ দুপুরের দিকে সাড়ে ১২টার দিকে আবার আগুন দেওয়া হয়। এরপরই কার্যালয়ের সব মালপত্র নিয়ে যেতে শুরু করেন একদল মানুষ।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়টি ৮ কাঠা জমির ওপর নির্মিত। পুরোনো ভবন ভেঙে সেখানে ১০ তলা বিশিষ্ট নতুন এই ভবন ২০১৮ সালের ২৩ জুন উদ্বোধন করেন দলের সভাপতি ও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
কার্যালয়ের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলায় আগুন জ্বলছে। এমন পরিস্থিতির মধ্যে যেসব তলায় আগুন নিভে এসেছে সেসবের ভেতরে থাকা সব আসবাবপত্র নিয়ে যাওয়া যাচ্ছে। কেউ কার্যালয়ের ভেতর থেকে রড নিয়ে বের হচ্ছে, কেউ বাথরুমের কমোড খুলে মাথায় নিয়ে বের হচ্ছে। কেউ চেয়ার নিয়ে, কেউ টেবিল নিয়ে যাচ্ছেন। কেউ ইলেকট্রনিক সামগ্রী খুলে নিয়ে যাচ্ছে।

মালপত্র নিয়ে যাওয়ার ছবি তোলেন অনেকে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে।
ঢাকার একটি এলাকার বাসিন্দা হাবিবুর রহমান আওয়ামী লীগ কার্যালয়ের নিচতলা থেকে টাইলস বের করে স্তূপ করছিলেন। শাহবাগে আজ কিছু হচ্ছে কি না তা দেখতে এসেছেন বলে জানালেন হাবিবুর। বললেন, তিনি বাবুর্চির কাজ করেন। তিনি বলেন, গুলিস্তান এলাকায়ও তাঁর কাজ ছিল। এসে দেখেন সবাই মালপত্র নিয়ে যাচ্ছে। তাই ভেতরে ঢুকেছেন। রিকশাচালক, পথচারী এমনকি ভবঘুরে লোকজনকেও কার্যালয় থেকে নানা জিনিস নিয়ে যেতে দেখা গেছে।
আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে নওগাঁ সদর এলাকার বাসিন্দা কামরুল ইসলাম বললেন, বিএনপি করার অপরাধে তাঁর বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দেওয়া হয়েছে। পাঁচ বছর ধরে তিনি এলাকায় যেতে পারেন না। গাজীপুরে একটি প্রতিষ্ঠানে ইলেকট্রিশিয়ানের কাজ করেন। মামলার কারণে তাঁর মাও ঘরে ঘুমাতে পারেন না। দীর্ঘদিনের জমানো ক্ষোভ থেকে আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে ঢুকে তিনি প্লাস্টিকের ছোট কয়েকটি সামগ্রী নিয়েছেন। এলাকায় গিয়ে দেখাবেন আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে এটি নিয়ে এসেছেন।

অনেকে কার্যালয়ের ভেতর থেকে রড নিয়ে যাচ্ছেন। আজ মঙ্গলবার দুপুরে।
আওয়ামী লীগ কার্যালয় থেকে মালপত্র নিয়ে যাওয়ার ছবি কেউ কেউ ফেসবুকে লাইভ করছেন। তাঁরা বলছেন, লুটপাটের টাকায় বানানো কার্যালয়ের মালপত্র সাধারণ জনতা নিয়ে যাচ্ছে।
কার্যালয়ের সামনে মুঠোফোনে মালপত্র নিয়ে যাওয়ার ছবি তুলছেন ঢাকার একটি এলাকার বাসিন্দা আসগর আলী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের লোকদের অত্যাচারে এলাকাতেও শান্তিতে থাকতে পারেননি।
কার্যালয়টির সামনে দলটির কোনো নেতা-কর্মীদের উপস্থিতি না থাকলেও বিএনপির লোকজন সেখানে কিছুক্ষণ পরপর মিছিল নিয়ে স্লোগান দিচ্ছেন। গুলিস্তান এলাকার বিএনপিপন্থী ব্যবসায়ীরা এই মিছিলে শামিল হয়েছেন।
গৌরনদীতে সাবেক মেয়রের বাড়ি ও আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আগুন

গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারিছুর রহমানের বাড়িতে আগুন।
প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর গতকাল সোমবার দিবাগত রাতে গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারিছুর রহমানের বাড়ি ও আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয় অগ্নিসংযোগ এবং চার নেতার বাড়িতে হামলার ঘটনা ঘটেছে।
প্রত্যক্ষদর্শী, স্থানীয় লোকজন ও পুলিশ জানায়, গতকাল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পালানোর খবর ছড়িয়ে পড়লে বিকেল চারটার দিকে গৌরনদী উপজেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে এসে জড়ো হয়। এ সময় ছাত্র–জনতা একটি বিজয় মিছিল বের করে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে।
পৌরসভার টিখাসার গ্রামের মো. মতিউর রহমান জানান, গতকাল রাত তিনটার দিকে হঠাৎ গৌরনদী পৌরসভার সাবেক মেয়র ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হারিছুর রহমানের বাড়িতে আগুন জ্বলতে দেখতে পান। ফায়ার সার্ভিসকে খবর দিলে তারা ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই সম্পূর্ণ বাড়িটি পুড়ে যায়। এর আগে গৌরনদী বাসস্ট্যান্ডে আওয়ামী লীগ অফিসে হামলা করে ব্যাপক ভাঙচুর শেষে অগ্নিসংযোগ করা হয়।
সাবেক মেয়রের ভাতিজা মো. মিন্টু মিয়া জানান, মেয়রের বসতঘরে কেউই ছিলেন না। রাতে দুর্বৃত্তরা আগুন দিলে বাড়িটি সম্পূর্ণ পুড়ে যায়। তবে হতাহতের কোনো ঘটনা ঘটেনি।
একই রাতে একদল দুর্বৃত্ত চাদশী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি চেয়ারম্যান মো. নজরুল ইসলাম, চাদশী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আ. লতিফ, মাহিলাড়া মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক প্রণয় কান্তি অধিকারীর বাড়ি, নলচিড়া ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সদস্য মোহন মণ্ডল, নলচিড়া যুবলীগ নেতা আতাউর রহমানের বাড়িতে দুর্বৃত্তরা হামলা চালিয়ে ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও ভাঙচুর করেছে।
এ প্রসঙ্গে গৌরনদী উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব জহির সাজ্জাদ হান্নান বলেন, ‘পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে সর্বাত্মকভাবে আমরা কাজ করছি। বিক্ষুব্ধ ছাত্র–জনতা বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনা ঘটিয়েছে। তবে এখন শান্তিপূর্ণ ও স্বাভাবিক পরিবেশ রয়েছে।’
গৌরনদী মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পালানোর খবরের পরে দু-একটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছাড়া পরিস্থিতি শান্তিপূর্ণ রয়েছে। শান্তিশৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য পুলিশ সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।


























