সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান শায়েস্তাগঞ্জ গরুসহ পিকআপ উদ্ধার, গ্রেপ্তার ২ প্রতিটি নাগরিকের জন্য স্বল্পমূল্যে মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে- সিসিক প্রশাসক সিলেট পুলিশের পৃথক অভিযানে গ্রেফতার ৫৩ জন সাধারণের অভিযোগ ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা, ২-৫ ঘন্টা অপেক্ষার পর দেখা মিলল অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক সিলেট মহানগরীতে বিশেষ অভিযানে গ্রেফতার ৯২ সিলেটের শিক্ষিকার ভিডিও তদন্ত কমিটি নিয়ে হয়নি সিদ্ধান্ত প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজের সাথে সিলেট জেলা সহকারী শিক্ষক সমিতির মতবিনিময় সাংবাদিকতা শুধু পেশা নয়, এটি জনসেবা। সাংবাদিকরা নিজ নিজ অবস্থান থেকে মানুষের কল্যাণে কাজ করেন: বিভাগীয় কমিশনার  সিলেট তাপমাত্রা ৩৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস সিসিক প্রশাসকের সঙ্গে সেলফ্লেস ইউকের চিকিৎসক দলের সাক্ষাৎ

এমপিদের থেকেও সাংবাদিকরা আমার বেশি আপন: ব্যারিস্টার সুমন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৪:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪ ১৩৬ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, এমপিদের থেকেও সাংবাদিকরা তার বেশি আপন। তিনি বলেন, কেননা গত এক সপ্তাহ আমার জীবনের হুমকি নিয়ে যে যন্ত্রণায় ভুগছি, কোনো সংসদ সদস্যকে আমার পাশে পায়নি। কিন্তু আপনারা সবাই জনে জনে এবং আইনজীবীরা খোঁজ-খবর নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার সুমন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি সুপ্রিম কোর্টের সাংবাদিকরা সততার সঙ্গে কাজ করছে। আমি মনে করি, দেশকে সততার সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা তাদের আছে। ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নতুন কমিটি আজ দায়িত্ব নেওয়ার পর আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করি। এ সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকরা বেতন বৈষম্যের শিকার। আজ ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে এ প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি (ডিআরইউ) সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ, এলআরএফের সাবেক সভাপতি এম বদিউজ্জামান, আশুতোষ সরকার, ওয়াকিল আহমেদ হিরন, মাশহুদুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম, আজিজুল ইসলাম পান্নু, হাসান জাবেদ, মুহাম্মদ ইয়াছিন, আহাম্মেদ সরোয়ার হোসেন ভূঁঞা।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী কমিটির সভাপতি শামীমা আক্তার নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি আশরাফ-উল-আলমের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। নবনির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশন ও বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ উভয় (নবনির্বাচিত ও সদ্যবিদায়ী) কমিটির নেতাদের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তর ও দায়িত্ব গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

ফিরে দেখা : —-

হত্যার হুমকি ব্যারিস্টার সুমনের জিডি তদন্তের অনুমতি পায়নি পুলিশ:

হত্যার হুমকি পেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। পরে জিডির তদন্ত চেয়ে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে পুলিশ। তবে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের বিচারক জুলফিকার হায়াতের আদালতে জিডিটি তদন্তের জন্য অনুমতি চেয়ে পুলিশ আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। সাইবার ট্রাইব্যুনালের পেশকার জুয়েল মিয়া বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে হত্যার হুমকি পেয়ে গত শনিবার (২৯ জুন) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ব্যারিস্টার সুমন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৭ জুন ঢাকায় অবস্থানকালে রাত আনুমানিক ২টার সময় তার নির্বাচনী এলাকার চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার সরকারি মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে জানান, ‘আপনাকে হত্যার জন্য অজ্ঞাতপরিচয় একটি শক্তিশালী মহল গত তিনদিন আগে ৪-৫ জনের একটি দল নিয়ে মাঠে নেমেছে। আপনি রাতে বাইরে বের হবেন না এবং সাবধানে থাকবেন।

ব্যারিস্টার সুমন জিডিতে আরও উল্লেখ করেন, ‘তখন আমি ওসির কাছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে ওসি পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেন এবং আমাকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন। এ বিষয়টি জানার পর আমি মারাত্মকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ব্যারিস্টার সুমন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।

প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন ব্যারিস্টার সুমন

অজ্ঞাতনামা একটি শক্তিশালী মহল থেকে আসা প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। সোমবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের ক্যাপশনে তিনি লিখেন,  ‘গভীর মনোযোগ সহকারে শুনলেন আমার প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে। তিনি আবারও মানবিকতার উদাহরণ তৈরি করলেন। অশেষ কৃতজ্ঞতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের এমপি।

স্ট্যাটাসে ক্যাপশনের পাশাপাশি ৪৬ সেকেন্ড আলাপ করেন সায়েদুল হক সুমন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলের সামনে গিয়ে কথা বলছেন সুমন এবং মনোযোগ সহকারে শুনছেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানাসহ আর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

হত্যার হুমকি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন ব্যারিস্টার সুমন:

হত্যার হুমকির বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা দেখে তারা একটি অপমৃত্যু রেকর্ড করার জন্য বসে আছে বলে মন্তব্য করেছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। তিনি বলেন, আগে আমি পিএসের মাধ্যমে হুমকি পেয়েছি। কিন্তু সেগুলো আমলে নেইনি। তবে এবার যখন ওসির মাধ্যমে এসেছে, তখন মনে হয়েছে এবার সিরিয়াস আমলে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে-থ্রেটতো আমি জানি না, আমার আগে জেনেছিলেন ওসি। এরপর এটা এসপি বা ডিআইজিকে জানানো দরকার ছিল এবং আমি জানার আগেই আমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ছিল। এরপর আমাকে জানাতে পারতো যে ওই থ্রেটটা রিয়েল নাকি ফেক। কিন্তু ওসি আমাকে বলেছেন, আমার জিডি করতে হলো। এখন তো আমার জীবনের নিরাপত্তা নিজেকেই দিতে হচ্ছে।

রোববার (৩০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন সায়েদুল হক। এর আগে হত্যার হুমকি পেয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সায়েদুল হক।রোববার সকালে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, অজ্ঞাতপরিচয়ের এক ব্যক্তি আমাকে জানান, সিরিয়াল কিলারের একটি গ্রুপ বর্তমানে সক্রিয়। তারা আমাকে হত্যা করতে চান। আমি যেন আগামী ২-৩ দিন বাসা থেকে বের না হই।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সংসদে থাকাকালীন আমার এলাকার যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন, তিনি আমাকে কল করে জানান, গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। তাই বাড়ি আসার পর তার সঙ্গে যেন আমি একটু বসি।

পরে শুক্রবার (২৯ জুন) বাড়ি যাওয়ার পর দুপুরে আমার সঙ্গে বসেছিলেন ওসি। তখন ওসি আমাকে একটি মেসেজ দেখালেন। সেখানে ওসিকে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ২-৩ দিন কল করেছেন। কিন্তু কলটি আমলে না নেওয়ায় ওই ব্যক্তি ওসিকে একটি মেসেজ করে জানান, তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেতে চান। এছাড়া মেসেজে দেখা গেছে, একটি কন্ট্রাক্ট কিলার গ্রুপ হায়ার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে সক্রিয়।

সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ওসির ফোন দিয়ে আমি পরে অজ্ঞাত সেই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলি। তখন অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি জানায়, তিনি নিজের পরিচয় এবং ঠিকানা দিতে চান না। এছাড়া তিনি নিজেও ওই কিলার গ্রুপের একজন সদস্য ছিলেন। যখন আমাকে হত্যার জন্য তার কাছে নাম আসে এবং সেই কাজ তাকে করতে হবে এমন নির্দেশনা আসে, তখন তিনি ওই কাজে অস্বীকৃতি জানান। কারণ তার বাড়িও সিলেটে। তিনি আমার কাজকর্ম সম্পর্কে সব জানেন, তাই তিনি রাজি হননি বলেও আমাকে জানিয়েছেন।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ফোনকলে ওই ব্যক্তি জানান, আমি যেন আগামী ২-৩ দিন বাসা থেকে বের না হই। কিন্তু এর আগেও আমি মৌখিকভাবে এবং পিএসের মাধ্যমে হুমকি পেয়েছি। কিন্তু সেগুলো আমলে নেইনি। তবে এবার যখন ওসির মাধ্যমে এসেছে তখন আমার কাছে মনে হয়েছে এবার সিরিয়াসভাবে আমলে নিতে হবে।

তিনি জানান, ওই ঘটনার পর আমি শনিবার ঢাকায় চলে আসি। এর মধ্যে আমি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাও বলেছি। পরে আমি শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আমি একজন সংসদ সদস্য। যখন আমার এলাকার ওসি কোনো এক মাধ্যমে জেনেছেন আমার লাইফ রিস্কে আছে, তখনই কিন্তু তার এসপি বা ডিআইজির সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। এটা কি সত্যিই হুমকি নাকি ভুয়া সেটি আমার কাছে আসার আগেই তাদের তদন্ত করে দেখা উচিত ছিল। আমাকে কেন জিডি করতে হলো?

তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হলো-আমার থ্রেট তো আমি জানি না, আমার আগে জেনেছেন ওসি। এরপর এটা এসপি বা ডিআইজিকে জানানো দরকার ছিল এবং আমি জানার আগেই আমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ছিল। এরপর আমাকে জানাতে পারতেন যে, ওই থ্রেটটা রিয়েল নাকি ফেক। কিন্তু ওসি আমাকে বলেন, আমার জিডি করতে হলো। এখন তো আমার জীবনের নিরাপত্তা নিজেকেই দিতে হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, এই দেশে বঙ্গবন্ধুসহ তার পুরো পরিবারকে মেরে ফেলা হয়েছে। হবিগঞ্জের শাহ এএমএস কিবরিয়া মারা গেছেন। আমরা তাদের নিরাপত্তা দিতে পারিনি। আর আমার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে পুলিশ একটি অপমৃত্যু রেকর্ড করার জন্য বসে আছে।

আপনাকে হত্যার জন্য একটি দল মাঠে নেমেছে, ব্যারিস্টার সুমনকে ওসি

হত্যার হুমকি পেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। শনিবার (২৯ জুন) রাতে ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

জিডিতে ব্যারিস্টার সুমন উল্লেখ করেন, গত ২৭ জুন ঢাকায় অবস্থানকালে রাত আনুমানিক ২টার সময় তার নির্বাচনী এলাকার চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার সরকারি মোবাইল থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে জানান, ‌‘আপনাকে হত্যার জন্য অজ্ঞাতনামা একটি শক্তিশালী মহল গত তিনদিন আগে ৪-৫ জনের একটি দল নিয়ে মাঠে নেমেছে। আপনি রাতে বাইরে বের হবেন না এবং সাবধানে থাকবেন।

সুমন জিডিতে আরও উল্লেখ করেন, ‘তখন আমি ওসির কাছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে ওসি ওই ব্যক্তির পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেন এবং আমাকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন। এই বিষয়টি জানার পরে আমি মারাত্মকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ব্যারিস্টার সুমন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।

ব্যারিস্টার সুমন সরকারের মধ্যে ‘রাসেল ভাইপার’ ঢুকে গেছে, ধরার মতো বেজি নেই:

হবিগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক (ব্যারিস্টার সুমন) বলেছেন, ‘রাসেলস ভাইপার’ সাপ সরকারের মধ্যে ঢুকে গেছে। প্রকৃতিতে যখন সাপ আসে তখন বেজিও থাকে। এ বেজি সাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারে বিভিন্ন জায়গায় রাসেলস ভাইপার আছে, কিন্তু সেই সাপকে ধরার মতো বেজি নেই। তাই সাপ বেড়েই চলেছে।

তিনি বলেন, রাসেলস ভাইপারের কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা দুর্বল হয়ে গেছে! একজন ‘ভদ্রলোক’কে দুদক ধরতে পারেনি, এনবিআর ধরতে পারেনি, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ধরতে পারেনি, সেখানে এনবিআরের মতিউর রহমানকে ধরলো একটা ছাগল। ছাগলকাণ্ড না ঘটলে আর ফেসবুক ভাইরাল না হলে এ লোকের বিষয় তো সামনেই আসতো না।

সোমবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি। সৈয়দ সায়েদুল হক বলেন, অর্থপাচার এ সরকারের বড় সমস্যা। কিছুতেই এটা ঠেকানো যাচ্ছে না। দুর্নীতি করলে তো সেই টাকা অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায়। পাচার হয়ে গেলে যেই দেশে যায় সেই দেশের অর্থনীতির বাজেট হয়ে যায়। আমরা তো বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আনতে পারিনি, আর পাচার করা টাকা ফেরত আনবো কীভাবে? অর্থপাচারের কারণে আমাদের বাজেট সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, বেনজীর কাণ্ড! সাবেক আইজিপি! উনি এত বড় হয়ে গেলেন, মন্ত্রণালয় জানলো না, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানলেন না! আর কিছুদিন সময় পেলে পুরো গোপালগঞ্জ কিনে ফেলতেন এ বেনজীর সাহেব। এটার দায় মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। এখন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যদি এমন হয় কিছু জমানো টাকা রয়ে গেছে যেটাকে সাদা করবেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু, এ সুযোগ ব্যবহার করে বেনজীর আর মতিউরের টাকাও যদি সাদা হয়ে যায়, আর এদের আদর্শের উত্তরাধিকারদের টাকাও যদি সাদা হয়ে যায়, এর চেয়ে দুঃখের আর কিছু থাকবে না।

এ সরকারকে কয়েকটা চাপ নিতে হবে। এ বাজেটে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন ব্যয় মেটানো হবে। আড়াই লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। এমপি হওয়ার পর আমি কোটি টাকা দিয়ে গাড়ি কিনেছি। ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়েছি। এতেই রাতে ঘুম হয় না। আড়াই লাখ কোটি টাকা ঋণের চাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে ঘুমাবেন, তা উনিই জানেন। তবে আমি প্রধানমন্ত্রীকে চিনি, বঙ্গবন্ধুকন্যা এমন এক পাখি যিনি বসেন ডালের ওপর, কিন্তু ভরসা রাখেন নিজের পাখার ওপর। এ কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক সরে গেলেও পদ্মা সেতু তৈরি করেছেন।

‘শ্রীলঙ্কা যখন দেউলিয়া হয়, তখন সবাই বলেছিলেন বাংলাদেশের দেউলিয়া হওয়া সময়ের ব্যাপার। পাকিস্তান যখন দেউলিয়ার পথে, তখনও একই কথা বলেছিল সবাই। ভারত অর্থনৈতিকভাবে চাপে পড়লেও একই কথা সামনে এসেছে। কিন্তু, আমাদের অর্থনৈতিকভাবে দাবিয়ে রাখা যায়নি। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সম্পদ আমাদের চেয়ে কম ছিল না, শুধু তাদের হাতে ছিল না একজন শেখ হাসিনা। এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া। সরকার যেমন সংসদে বাজেট দিচ্ছে, এ সরকারকে ব্যর্থ করতে আরও একটা বাজেট আছে। সেই বাজেটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সঙ্গে আছে ডলার।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

এমপিদের থেকেও সাংবাদিকরা আমার বেশি আপন: ব্যারিস্টার সুমন

আপডেট সময় : ০৪:৩২:৫৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ৬ জুলাই ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেছেন, এমপিদের থেকেও সাংবাদিকরা তার বেশি আপন। তিনি বলেন, কেননা গত এক সপ্তাহ আমার জীবনের হুমকি নিয়ে যে যন্ত্রণায় ভুগছি, কোনো সংসদ সদস্যকে আমার পাশে পায়নি। কিন্তু আপনারা সবাই জনে জনে এবং আইনজীবীরা খোঁজ-খবর নিয়েছেন। বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) সুপ্রিম কোর্টের ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নবনির্বাচিত কার্যনির্বাহী কমিটির দায়িত্ব হস্তান্তর অনুষ্ঠানে এমন মন্তব্য করেন ব্যারিস্টার সুমন।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন বলেন, যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনাল থেকে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি সুপ্রিম কোর্টের সাংবাদিকরা সততার সঙ্গে কাজ করছে। আমি মনে করি, দেশকে সততার সঙ্গে নেতৃত্ব দেওয়ার যোগ্যতা তাদের আছে। ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নতুন কমিটি আজ দায়িত্ব নেওয়ার পর আরও এগিয়ে যাবে বলে মনে করি। এ সময় ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সভাপতি সোহেল হায়দার চৌধুরী বলেন, মাঠ পর্যায়ের সাংবাদিকরা বেতন বৈষম্যের শিকার। আজ ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের নতুন কমিটি দায়িত্ব নিয়েছে। সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করে যাবে এ প্রত্যাশা করি।

অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য রাখেন ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের (ডিইউজে) সিনিয়র সহ-সভাপতি নজরুল ইসলাম মিঠু, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি (ডিআরইউ) সৈয়দ শুক্কুর আলী শুভ, এলআরএফের সাবেক সভাপতি এম বদিউজ্জামান, আশুতোষ সরকার, ওয়াকিল আহমেদ হিরন, মাশহুদুল হক, সাবেক সাধারণ সম্পাদক দিদারুল আলম, আজিজুল ইসলাম পান্নু, হাসান জাবেদ, মুহাম্মদ ইয়াছিন, আহাম্মেদ সরোয়ার হোসেন ভূঁঞা।

অনুষ্ঠানে বিদায়ী কমিটির সভাপতি শামীমা আক্তার নবনির্বাচিত কমিটির সভাপতি আশরাফ-উল-আলমের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করেন। নবনির্বাচিত কমিটির সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মিশন ও বিদায়ী কমিটির সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমানসহ উভয় (নবনির্বাচিত ও সদ্যবিদায়ী) কমিটির নেতাদের উপস্থিতিতে দায়িত্ব হস্তান্তর ও দায়িত্ব গ্রহণ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করেন।

ফিরে দেখা : —-

হত্যার হুমকি ব্যারিস্টার সুমনের জিডি তদন্তের অনুমতি পায়নি পুলিশ:

হত্যার হুমকি পেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। পরে জিডির তদন্ত চেয়ে ঢাকার সাইবার ট্রাইব্যুনালে আবেদন করে পুলিশ। তবে ট্রাইব্যুনাল আবেদনটি খারিজ করে দিয়েছেন।

বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) ট্রাইব্যুনালের বিচারক জুলফিকার হায়াতের আদালতে জিডিটি তদন্তের জন্য অনুমতি চেয়ে পুলিশ আবেদন করলে তা খারিজ হয়ে যায়। সাইবার ট্রাইব্যুনালের পেশকার জুয়েল মিয়া বিষয়টি জাগো নিউজকে নিশ্চিত করেছেন। এর আগে হত্যার হুমকি পেয়ে গত শনিবার (২৯ জুন) রাতে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন ব্যারিস্টার সুমন।

জিডিতে তিনি উল্লেখ করেন, গত ২৭ জুন ঢাকায় অবস্থানকালে রাত আনুমানিক ২টার সময় তার নির্বাচনী এলাকার চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার সরকারি মোবাইল ফোন থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে জানান, ‘আপনাকে হত্যার জন্য অজ্ঞাতপরিচয় একটি শক্তিশালী মহল গত তিনদিন আগে ৪-৫ জনের একটি দল নিয়ে মাঠে নেমেছে। আপনি রাতে বাইরে বের হবেন না এবং সাবধানে থাকবেন।

ব্যারিস্টার সুমন জিডিতে আরও উল্লেখ করেন, ‘তখন আমি ওসির কাছে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে ওসি পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেন এবং আমাকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন। এ বিষয়টি জানার পর আমি মারাত্মকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ব্যারিস্টার সুমন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিপুল ভোটের ব্যবধানে বিজয়ী হন।

প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা প্রধানমন্ত্রীকে জানালেন ব্যারিস্টার সুমন

অজ্ঞাতনামা একটি শক্তিশালী মহল থেকে আসা প্রাণনাশের হুমকির ঘটনা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে জানিয়েছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। সোমবার (১ জুলাই) সন্ধ্যায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক স্ট্যাটাসে নিজেই বিষয়টি জানিয়েছেন ব্যারিস্টার সুমন।

ফেসবুক স্ট্যাটাসের ক্যাপশনে তিনি লিখেন,  ‘গভীর মনোযোগ সহকারে শুনলেন আমার প্রাণনাশের হুমকির বিষয়ে। তিনি আবারও মানবিকতার উদাহরণ তৈরি করলেন। অশেষ কৃতজ্ঞতা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী দেশরত্ন শেখ হাসিনা ও ওবায়দুল কাদের এমপি।

স্ট্যাটাসে ক্যাপশনের পাশাপাশি ৪৬ সেকেন্ড আলাপ করেন সায়েদুল হক সুমন প্রধানমন্ত্রীর টেবিলের সামনে গিয়ে কথা বলছেন সুমন এবং মনোযোগ সহকারে শুনছেন প্রধানমন্ত্রী। এসময় উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, আবুল হাসানাত আব্দুল্লাহ, জাহাঙ্গীর কবির নানক, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. রোকেয়া সুলতানাসহ আর অনেকেই উপস্থিত ছিলেন।

হত্যার হুমকি পুলিশের ভূমিকা নিয়ে যা বললেন ব্যারিস্টার সুমন:

হত্যার হুমকির বিষয়ে পুলিশের ভূমিকা দেখে তারা একটি অপমৃত্যু রেকর্ড করার জন্য বসে আছে বলে মন্তব্য করেছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। তিনি বলেন, আগে আমি পিএসের মাধ্যমে হুমকি পেয়েছি। কিন্তু সেগুলো আমলে নেইনি। তবে এবার যখন ওসির মাধ্যমে এসেছে, তখন মনে হয়েছে এবার সিরিয়াস আমলে নিতে হবে।

তিনি বলেন, ‘আমার প্রশ্ন হচ্ছে-থ্রেটতো আমি জানি না, আমার আগে জেনেছিলেন ওসি। এরপর এটা এসপি বা ডিআইজিকে জানানো দরকার ছিল এবং আমি জানার আগেই আমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ছিল। এরপর আমাকে জানাতে পারতো যে ওই থ্রেটটা রিয়েল নাকি ফেক। কিন্তু ওসি আমাকে বলেছেন, আমার জিডি করতে হলো। এখন তো আমার জীবনের নিরাপত্তা নিজেকেই দিতে হচ্ছে।

রোববার (৩০ জুন) সুপ্রিম কোর্ট প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের সঙ্গে এসব কথা বলেন সায়েদুল হক। এর আগে হত্যার হুমকি পেয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন সায়েদুল হক।রোববার সকালে তিনি গণমাধ্যমকর্মীদের বলেন, অজ্ঞাতপরিচয়ের এক ব্যক্তি আমাকে জানান, সিরিয়াল কিলারের একটি গ্রুপ বর্তমানে সক্রিয়। তারা আমাকে হত্যা করতে চান। আমি যেন আগামী ২-৩ দিন বাসা থেকে বের না হই।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, বৃহস্পতিবার (২৭ জুন) সংসদে থাকাকালীন আমার এলাকার যে ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আছেন, তিনি আমাকে কল করে জানান, গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে। তাই বাড়ি আসার পর তার সঙ্গে যেন আমি একটু বসি।

পরে শুক্রবার (২৯ জুন) বাড়ি যাওয়ার পর দুপুরে আমার সঙ্গে বসেছিলেন ওসি। তখন ওসি আমাকে একটি মেসেজ দেখালেন। সেখানে ওসিকে একজন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তি ২-৩ দিন কল করেছেন। কিন্তু কলটি আমলে না নেওয়ায় ওই ব্যক্তি ওসিকে একটি মেসেজ করে জানান, তিনি আমার সঙ্গে কথা বলেতে চান। এছাড়া মেসেজে দেখা গেছে, একটি কন্ট্রাক্ট কিলার গ্রুপ হায়ার করা হয়েছে। তারা বর্তমানে সক্রিয়।

সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, ওসির ফোন দিয়ে আমি পরে অজ্ঞাত সেই ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলি। তখন অজ্ঞাত ওই ব্যক্তি জানায়, তিনি নিজের পরিচয় এবং ঠিকানা দিতে চান না। এছাড়া তিনি নিজেও ওই কিলার গ্রুপের একজন সদস্য ছিলেন। যখন আমাকে হত্যার জন্য তার কাছে নাম আসে এবং সেই কাজ তাকে করতে হবে এমন নির্দেশনা আসে, তখন তিনি ওই কাজে অস্বীকৃতি জানান। কারণ তার বাড়িও সিলেটে। তিনি আমার কাজকর্ম সম্পর্কে সব জানেন, তাই তিনি রাজি হননি বলেও আমাকে জানিয়েছেন।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, ফোনকলে ওই ব্যক্তি জানান, আমি যেন আগামী ২-৩ দিন বাসা থেকে বের না হই। কিন্তু এর আগেও আমি মৌখিকভাবে এবং পিএসের মাধ্যমে হুমকি পেয়েছি। কিন্তু সেগুলো আমলে নেইনি। তবে এবার যখন ওসির মাধ্যমে এসেছে তখন আমার কাছে মনে হয়েছে এবার সিরিয়াসভাবে আমলে নিতে হবে।

তিনি জানান, ওই ঘটনার পর আমি শনিবার ঢাকায় চলে আসি। এর মধ্যে আমি পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাও বলেছি। পরে আমি শেরেবাংলা নগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করি।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, আমি একজন সংসদ সদস্য। যখন আমার এলাকার ওসি কোনো এক মাধ্যমে জেনেছেন আমার লাইফ রিস্কে আছে, তখনই কিন্তু তার এসপি বা ডিআইজির সঙ্গে আলোচনা করা উচিত ছিল। এটা কি সত্যিই হুমকি নাকি ভুয়া সেটি আমার কাছে আসার আগেই তাদের তদন্ত করে দেখা উচিত ছিল। আমাকে কেন জিডি করতে হলো?

তিনি বলেন, আমার প্রশ্ন হলো-আমার থ্রেট তো আমি জানি না, আমার আগে জেনেছেন ওসি। এরপর এটা এসপি বা ডিআইজিকে জানানো দরকার ছিল এবং আমি জানার আগেই আমাকে নিরাপত্তা দেওয়ার কথা ছিল। এরপর আমাকে জানাতে পারতেন যে, ওই থ্রেটটা রিয়েল নাকি ফেক। কিন্তু ওসি আমাকে বলেন, আমার জিডি করতে হলো। এখন তো আমার জীবনের নিরাপত্তা নিজেকেই দিতে হচ্ছে।

সুপ্রিম কোর্টের এই আইনজীবী বলেন, এই দেশে বঙ্গবন্ধুসহ তার পুরো পরিবারকে মেরে ফেলা হয়েছে। হবিগঞ্জের শাহ এএমএস কিবরিয়া মারা গেছেন। আমরা তাদের নিরাপত্তা দিতে পারিনি। আর আমার ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা দেখে মনে হচ্ছে পুলিশ একটি অপমৃত্যু রেকর্ড করার জন্য বসে আছে।

আপনাকে হত্যার জন্য একটি দল মাঠে নেমেছে, ব্যারিস্টার সুমনকে ওসি

হত্যার হুমকি পেয়ে সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন হবিগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক (সুমন)। শনিবার (২৯ জুন) রাতে ডিএমপির শেরেবাংলা নগর থানায় তিনি একটি সাধারণ ডায়েরি করেন।

জিডিতে ব্যারিস্টার সুমন উল্লেখ করেন, গত ২৭ জুন ঢাকায় অবস্থানকালে রাত আনুমানিক ২টার সময় তার নির্বাচনী এলাকার চুনারুঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তার সরকারি মোবাইল থেকে হোয়াটসঅ্যাপে ফোন করে জানান, ‌‘আপনাকে হত্যার জন্য অজ্ঞাতনামা একটি শক্তিশালী মহল গত তিনদিন আগে ৪-৫ জনের একটি দল নিয়ে মাঠে নেমেছে। আপনি রাতে বাইরে বের হবেন না এবং সাবধানে থাকবেন।

সুমন জিডিতে আরও উল্লেখ করেন, ‘তখন আমি ওসির কাছে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে ওসি ওই ব্যক্তির পরিচয় জানাতে অস্বীকার করেন এবং আমাকে সাবধানে থাকার পরামর্শ দেন। এই বিষয়টি জানার পরে আমি মারাত্মকভাবে নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ব্যারিস্টার সুমন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে হবিগঞ্জ-৪ আসন থেকে বিপুল ভোটে বিজয়ী হন।

ব্যারিস্টার সুমন সরকারের মধ্যে ‘রাসেল ভাইপার’ ঢুকে গেছে, ধরার মতো বেজি নেই:

হবিগঞ্জ-৪ আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য সৈয়দ সায়েদুল হক (ব্যারিস্টার সুমন) বলেছেন, ‘রাসেলস ভাইপার’ সাপ সরকারের মধ্যে ঢুকে গেছে। প্রকৃতিতে যখন সাপ আসে তখন বেজিও থাকে। এ বেজি সাপকে নিয়ন্ত্রণ করে। সরকারে বিভিন্ন জায়গায় রাসেলস ভাইপার আছে, কিন্তু সেই সাপকে ধরার মতো বেজি নেই। তাই সাপ বেড়েই চলেছে।

তিনি বলেন, রাসেলস ভাইপারের কারণে আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো কতটা দুর্বল হয়ে গেছে! একজন ‘ভদ্রলোক’কে দুদক ধরতে পারেনি, এনবিআর ধরতে পারেনি, বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ) ধরতে পারেনি, সেখানে এনবিআরের মতিউর রহমানকে ধরলো একটা ছাগল। ছাগলকাণ্ড না ঘটলে আর ফেসবুক ভাইরাল না হলে এ লোকের বিষয় তো সামনেই আসতো না।

সোমবার (২৪ জুন) জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় এ কথা বলেন তিনি। সৈয়দ সায়েদুল হক বলেন, অর্থপাচার এ সরকারের বড় সমস্যা। কিছুতেই এটা ঠেকানো যাচ্ছে না। দুর্নীতি করলে তো সেই টাকা অর্থনীতিতে ফিরিয়ে আনা যায়। পাচার হয়ে গেলে যেই দেশে যায় সেই দেশের অর্থনীতির বাজেট হয়ে যায়। আমরা তো বঙ্গবন্ধুর খুনিদের আনতে পারিনি, আর পাচার করা টাকা ফেরত আনবো কীভাবে? অর্থপাচারের কারণে আমাদের বাজেট সংকুচিত হয়ে যাচ্ছে।

ব্যারিস্টার সুমন বলেন, বেনজীর কাণ্ড! সাবেক আইজিপি! উনি এত বড় হয়ে গেলেন, মন্ত্রণালয় জানলো না, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানলেন না! আর কিছুদিন সময় পেলে পুরো গোপালগঞ্জ কিনে ফেলতেন এ বেনজীর সাহেব। এটার দায় মন্ত্রণালয় এড়াতে পারে না। এখন কালো টাকা সাদা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।

তিনি বলেন, যদি এমন হয় কিছু জমানো টাকা রয়ে গেছে যেটাকে সাদা করবেন, তাতে কোনো অসুবিধা নেই। কিন্তু, এ সুযোগ ব্যবহার করে বেনজীর আর মতিউরের টাকাও যদি সাদা হয়ে যায়, আর এদের আদর্শের উত্তরাধিকারদের টাকাও যদি সাদা হয়ে যায়, এর চেয়ে দুঃখের আর কিছু থাকবে না।

এ সরকারকে কয়েকটা চাপ নিতে হবে। এ বাজেটে ঋণ নিয়ে উন্নয়ন ব্যয় মেটানো হবে। আড়াই লাখ কোটি টাকা ঋণ নেওয়া হবে। এমপি হওয়ার পর আমি কোটি টাকা দিয়ে গাড়ি কিনেছি। ৫০ লাখ টাকা ব্যাংক ঋণ নিয়েছি। এতেই রাতে ঘুম হয় না। আড়াই লাখ কোটি টাকা ঋণের চাপ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী কীভাবে ঘুমাবেন, তা উনিই জানেন। তবে আমি প্রধানমন্ত্রীকে চিনি, বঙ্গবন্ধুকন্যা এমন এক পাখি যিনি বসেন ডালের ওপর, কিন্তু ভরসা রাখেন নিজের পাখার ওপর। এ কারণে পদ্মা সেতু প্রকল্প থেকে বিশ্বব্যাংক সরে গেলেও পদ্মা সেতু তৈরি করেছেন।

‘শ্রীলঙ্কা যখন দেউলিয়া হয়, তখন সবাই বলেছিলেন বাংলাদেশের দেউলিয়া হওয়া সময়ের ব্যাপার। পাকিস্তান যখন দেউলিয়ার পথে, তখনও একই কথা বলেছিল সবাই। ভারত অর্থনৈতিকভাবে চাপে পড়লেও একই কথা সামনে এসেছে। কিন্তু, আমাদের অর্থনৈতিকভাবে দাবিয়ে রাখা যায়নি। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কার সম্পদ আমাদের চেয়ে কম ছিল না, শুধু তাদের হাতে ছিল না একজন শেখ হাসিনা। এখন আমাদের বড় চ্যালেঞ্জ বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়া। সরকার যেমন সংসদে বাজেট দিচ্ছে, এ সরকারকে ব্যর্থ করতে আরও একটা বাজেট আছে। সেই বাজেটে নেতৃত্ব দিচ্ছেন ড. মুহাম্মদ ইউনূস। তার সঙ্গে আছে ডলার।