অনলাইনে জঙ্গি তৎপরতা পুলিশের বড় চ্যালেঞ্জ: ডিএমপি কমিশনার
- আপডেট সময় : ০৯:১৭:২৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১ জুলাই ২০২৪ ১২৩ বার পড়া হয়েছে
ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :
ডিএমপি কমিশনার হাবিবুর রহমান বলেছেন, অনলাইনে জঙ্গি তৎপরতা পুলিশের বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ অনলাইনের মাধ্যমে অল্প সময়ের ভেতরে অল্প খরচে বেশি মানুষকে সংক্রমিত করা যায়। এ ক্ষেত্রে পুলিশের তৎপরতার পাশাপাশি সমাজের সব শ্রেণির মানুষকে এগিয়ে আসতে হবে।
সোমবার সকালে রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিসানে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মরণে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।
ডিএমপি কমিশনার বলেন, মিডিয়া ব্যক্তিত্ব, সচেতন শ্রেণির মানুষ ও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে তার সন্তান কীভাবে চলছে, কার সঙ্গে চলছে, কতক্ষণ তার সন্তান মোবাইলে থাকছে, একা একা থাকছে সবকিছু খেয়াল রাখতে হবে।
তিনি বলেন, জঙ্গিবাদ একটি বৈষয়িক সমস্যা। বাংলাদেশেও এর থেকে মুক্ত নয়। এরপরও পুলিশের সিটিটিসি, এটিইউ ও জঙ্গি দমনে অন্যান্য বাহিনীর দক্ষতা ও দূরদর্শিতা বাংলাদেশকে সুন্দর অবস্থায় রেখেছে। জঙ্গি দমনে বিশ্বে রোল মডেল পরিচিত পেয়েছে।
হাবিবুর রহমান বলেন, বর্তমানে যে কোনো ঘটনার চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় পুলিশের সক্ষমতা রয়েছে। আশা করি, চলমান শান্তিপূর্ণ অবস্থা সংরক্ষণ করতে সক্ষম হবো।
অপরদিকে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম বলেছেন, বর্তমানে দেশে জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে। এ ছাড়া র্যাব মহাপরিচালক ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ দাবি করেছেন, বাংলাদেশে আর জঙ্গিবাদ উত্থান হবে না।
জঙ্গিবাদ নিয়ন্ত্রণে আছে, দাবি এসবি প্রধানের :

বর্তমানে দেশে জঙ্গিবাদ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে বলে জানিয়েছেন পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চ (এসবি) প্রধান ও অতিরিক্ত আইজিপি মনিরুল ইসলাম।
সোমবার গুলশানে দীপ্ত শপথ ভাস্কর্যে হোলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
মনিরুল ইসলাম বলেন, ২০১৬ সালে হোলি আর্টিজান বেকারিতে সন্ত্রাসী হামলার পর জঙ্গি দমনে পুলিশ ব্যাপক কার্যক্রম পরিচালনা করেছে। আজ থেকে ৮ বছর আগে গুলশানের হোলি আর্টিজান বেকারিতে নারকীয় জঙ্গি হামলা হয়েছিল। ওই ঘটনায় দুই পুলিশ সদস্যসহ বিদেশি নাগরিকরা নিহত হয়েছিলেন। এটি শুধু বাংলাদেশে নয়, আন্তর্জাতিক বিশ্বেও আলোচিত ঘটনা হিসেবে বিবেচিত হয়। তারা মনে করেছিল, ওই জঙ্গি হামলার পর বাংলাদেশ আর ঘুরে দাঁড়াতে পারবে না। জঙ্গি হামলা দিয়ে বাংলাদেশকে আফগানিস্তানে পরিণত করার একটি পায়তারা করেছিল। তাদের এ কার্যক্রমকে আমরা রুখতে সক্ষম হয়েছি।
তিনি বলেন, হোলি আর্টিজানে হামলার পর আমরা জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে সর্বাত্মক অভিযানে নামি। গোয়েন্দা তথ্যের ওপর অভিযানের পাশাপাশি সচেতনতাসহ জঙ্গিদের বিরুদ্ধে নানা কৌশল গ্রহণ করেছি। হোলি আর্টিজানের পরপরই শোলাকিয়াতে একটি হামলা হয়। এরপর থেকে জঙ্গিরা ছোট কিংবা বড় আর কোনও হামলা করতে পারেনি। জঙ্গিরা সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করলে আমরা গোয়েন্দা তথ্য সংগ্রহ করে তাদের বিরুদ্ধে আগেই অভিযান পরিচালনা করি। ফলে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে ছিল এবং এখনও আছে।
এসবি প্রধান আরও বলেন, জঙ্গিরা একটি ভুল মতাদর্শ নিয়ে কাজ করে। ফলে এটি দমন করতে অনেক লম্বা সময় প্রয়োজন ও জটিল প্রসেস। এই মতাদর্শ এখনও রয়েছে। তাই তারা অনলাইন ও বিচ্ছিন্নভাবে সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করে। জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী গোয়েন্দা তথ্য, গবেষণা ও ক্ষেত্র বিশেষে অভিযান পরিচালনা করছে। জঙ্গিবাদ এখন পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আছে।
বাংলাদেশে আর জঙ্গিবাদের উত্থান হবে না: র্যাব :

বাংলাদেশে আর জঙ্গিবাদ উত্থান হবে না বলে দাবি করেছেন র্যাব মহাপরিচালক (ডিজি) ব্যারিস্টার মো. হারুন অর রশিদ। সোমবার হলি আর্টিজানে জঙ্গি হামলায় নিহতদের স্মৃতিতে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে গুলশান মডেল থানার সামনে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
র্যাব মহাপরিচালক বলেন, জঙ্গি তৎপরতা নিয়ন্ত্রণে র্যাব অনেক আধুনিক হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জঙ্গিরা তৎপর আছে। ভার্চুয়াল ওয়ার্ল্ডেও তৎপর র্যাব। পলাতক জঙ্গিদের নজরদারি মধ্যে রাখা হয়েছে।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাজধানীর গুলশানে হলি আর্টিজান বেকারিতে জঙ্গি হামলা স্তম্ভিত করেছিল গোটা দেশকে। সুনাম ক্ষুণ্ন হয় বহির্বিশ্বেও। সেনা অভিযানে নিহত হয় হোলি আর্টিজান বেকারিতে হামলার প্রধান পরিকল্পনাকারী তামিম চৌধুরীসহ আট জঙ্গি।
হলি আর্টিজান বেকারিতে ওই নৃশংস জঙ্গি হামলার ৮ বছর আজ। হাইকোর্টের রায়ের পর ৮ মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো তা প্রকাশ হয়নি। রাষ্ট্রের প্রধান আইন কর্মকর্তা বলছেন, পূর্ণাঙ্গ রায় হাতে পাওয়ার পর ফাঁসির দণ্ড থেকে আমৃত্যু কারাদণ্ডপ্রাপ্তদের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। কারাগারে রয়েছেন আরও ৮ জন।
নৃশংস ওই হামলার ঘটনায় করা মামলায় ২০১৯ সালের ৭ ডিসেম্বর ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনাল ৭ জঙ্গিকে মৃত্যুদণ্ড ও একজনকে খালাস দেন। পরে রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন আসামিরা। গেল বছর অক্টোবরে ডেথ রেফারেন্স ও আপিল শুনানি শেষে বিচারপতি সহিদুল করিমের নেতৃত্বাধীন হাইকোর্ট বেঞ্চ ৭ জঙ্গির মৃত্যুদণ্ড কমিয়ে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেন। কিন্তু এখনো প্রকাশ হয়নি সেই পূর্ণাঙ্গ রায়।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, সম্পূর্ণ নিরীহ কতগুলো মানুষকে তারা ধর্মের নাম ও উগ্রবাদীতার নামে হত্যা করেছে। এখন যাদের আদেশগুলো হয়েছে তারা কিন্তু পেছনে ছিল, তারাই কিন্তু ওদের মদদ দিয়েছে অস্ত্র দিয়ে, টাকা দিয়ে। মূল পরিকল্পনার অনেকাংশে ওরা ছিল। যার ফলে ওদের প্রতি বিন্দুমাত্র অনুকম্পা দেখানোর কোনো সুযোগ নেই বলে আমি মনে করি।
তিনি বলেন, জঙ্গি হামলায় যারা জড়িত তাদের মৃত্যুদণ্ড হওয়া প্রয়োজন ছিল। এ সময় পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে আপিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন বলেন, পুরো রায় পাওয়ার পর আমরা রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলবো, যোগাযোগ করবো। ওনাদের নির্দেশনা অনুযায়ী আমরা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবো। কিন্তু এখন আমরা রায় পুরোটা পাইনি, সেটা পাওয়ার পর আমরা কি করবো সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবো।
পুলিশের তদন্ত বলছে, ওই হামলায় জড়িত নব্য জেএমবি যারা ঘটনার পর নিজেদের আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন আইএস বলে দাবি করেছিল।


























