ঢাকা ০৯:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৬, ২৯ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান বিদেশি গণমাধ্যমকর্মীদের জন্য মিডিয়া গাইড প্রকাশ করল পিআইডি পদত্যাগ করলেন বিচারপতি নাইমা হায়দার ভোটকেন্দ্রে মোবাইল নিতে পারবেন সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকরা হবিগঞ্জ-১ নবীগঞ্জে ড. রেজা কিবরিয়া কর্তৃক এমপিদের অপদার্থ বলার প্রতিবাদ সুনামগঞ্জে ১১লাখ টাকার ১৪টি ভারতীয় গরু আটক কাজের মাধ্যমেই আমি ভালেবাসার প্রতিদান দেবো- আরিফুল সিলেট দাঁড়িপাল্লার সমর্থনে শিবিরের প্রচারমিছিল সিলেটে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দোকানপাট বন্ধ থাকবে বিএনপির শেষ নির্বাচনী গণমিছিল পে স্কেল বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলন জোরদার, নতুন কর্মসূচি ঘোষণা

ইসরাইলি আগ্রাসনের মধ্যেই কুরআনের হাফেজ হলেন ৫০০ ফিলিস্তিনি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫ ২৬ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসনের মধ্যেই গাজা উপত্যকায় ৫০০ ফিলিস্তিনি পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গাজা সিটির আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সম্মাননা জানানো হয়।

এক প্রতিবেদনে টিরআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে হিফজ সম্পন্ন করা সদস্যদের পরিবার, আলেম, শিক্ষক ও বাসিন্দারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই যুদ্ধের সময় একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও বক্তব্যের মাধ্যমে অব্যাহত বোমাবর্ষণ, অবরোধ ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ধৈর্য, বিশ্বাস ও অবিচলতার বার্তা তুলে ধরা হয়।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং স্বজন হারানোর বেদনার মধ্যে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে তারা পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেছেন। অনেকেই বিপুল সংখ্যক লোকের ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্রে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি বা অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষে মোমবাতির আলোতে পড়াশোনা করেছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুদ্ধকালীন সময়ে কুরআন হিফজ কেবল ব্যক্তিগত ধর্মীয় অর্জন নয়, এটি ফিলিস্তিনি পরিচয় ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের একটি সম্মিলিত প্রতিরোধের প্রতীক।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একজন আয়োজক বলেন, ‘যখন ইসরাইল আমাদের জীবন, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ মুছে দিতে চায়, তখন এই হাফেজ ও হাফেজারা আল্লাহর বাণীকে নিজেদের হৃদয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

উপস্থিত ধর্মীয় আলেমরা জানান, দীর্ঘদিনের অবরোধ ও একাধিক সামরিক অভিযানের পরও গাজায় কুরআন শিক্ষার ঐতিহ্য রয়েছে। যুদ্ধের সময় বহু হিফজ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হলেও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ও পারিবারিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম অনানুষ্ঠানিকভাবে চলতে থাকে।

অভিভাবকেরা জানান, বোমা পড়া শব্দের মধ্যে এবং জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠার সময় তাদের সন্তানরা সান্ত্বনা ও শক্তির জন্য  কুরআনের আশ্রয় নিয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

ইসরাইলি আগ্রাসনের মধ্যেই কুরআনের হাফেজ হলেন ৫০০ ফিলিস্তিনি

আপডেট সময় : ০১:০৯:১৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৭ ডিসেম্বর ২০২৫

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর আগ্রাসনের মধ্যেই গাজা উপত্যকায় ৫০০ ফিলিস্তিনি পবিত্র কুরআন মুখস্ত করেছেন। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) গাজা সিটির আল-শাতি শরণার্থী শিবিরে এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তাদের সম্মাননা জানানো হয়।

এক প্রতিবেদনে টিরআরটি ওয়ার্ল্ড জানিয়েছে, স্থানীয় ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোর আয়োজনে এ অনুষ্ঠানে হিফজ সম্পন্ন করা সদস্যদের পরিবার, আলেম, শিক্ষক ও বাসিন্দারা অংশ নেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত অনেকেই যুদ্ধের সময় একাধিকবার বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

কুরআন তেলাওয়াত, দোয়া ও বক্তব্যের মাধ্যমে অব্যাহত বোমাবর্ষণ, অবরোধ ও মানবিক বিপর্যয়ের মুখে ধৈর্য, বিশ্বাস ও অবিচলতার বার্তা তুলে ধরা হয়।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, নিরবচ্ছিন্ন বিমান হামলা, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানির সংকট, নিরাপদ আশ্রয়ের অভাব এবং স্বজন হারানোর বেদনার মধ্যে অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতিতে তারা পবিত্র কুরআন মুখস্থ করেছেন। অনেকেই বিপুল সংখ্যক লোকের ভিড়ের আশ্রয়কেন্দ্রে, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়ি বা অস্থায়ী শ্রেণিকক্ষে মোমবাতির আলোতে পড়াশোনা করেছেন।

অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, যুদ্ধকালীন সময়ে কুরআন হিফজ কেবল ব্যক্তিগত ধর্মীয় অর্জন নয়, এটি ফিলিস্তিনি পরিচয় ও সংস্কৃতি সংরক্ষণের একটি সম্মিলিত প্রতিরোধের প্রতীক।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে একজন আয়োজক বলেন, ‘যখন ইসরাইল আমাদের জীবন, সংস্কৃতি ও ভবিষ্যৎ মুছে দিতে চায়, তখন এই হাফেজ ও হাফেজারা আল্লাহর বাণীকে নিজেদের হৃদয়ে সংরক্ষণ করে রেখেছেন।

উপস্থিত ধর্মীয় আলেমরা জানান, দীর্ঘদিনের অবরোধ ও একাধিক সামরিক অভিযানের পরও গাজায় কুরআন শিক্ষার ঐতিহ্য রয়েছে। যুদ্ধের সময় বহু হিফজ কেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হলেও স্বেচ্ছাসেবী উদ্যোগ ও পারিবারিক নেটওয়ার্কের মাধ্যমে শিক্ষা কার্যক্রম অনানুষ্ঠানিকভাবে চলতে থাকে।

অভিভাবকেরা জানান, বোমা পড়া শব্দের মধ্যে এবং জীবনযাত্রা কঠিন হয়ে ওঠার সময় তাদের সন্তানরা সান্ত্বনা ও শক্তির জন্য  কুরআনের আশ্রয় নিয়েছে।