ঢাকা ০৪:২৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ-১ আসনে- অসময়ে শেখ সুজাতের কাছে গেলেন রেজা কিবরিয়া, ফিরলেন খালি হাতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতে যা খাবেন ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি ট্রাম্পের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন,প্রতীক বরাদ্দ চলছে, প্রচারণার সময় ২০ দিন বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিক পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারত যেভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেয় নির্বাচন কমিশন ২০ বছর পর শ্বশুরবাড়ি পূণ্যভূমি সিলেটে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক‘ দুলাভাই’র অপেক্ষায় সিলেট প্রচারণা শুরু করতে রাতেই বিমানযোগে সিলেট আসবেন তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী রাজনীতির নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক প্রবাসীরা বিশ্বের সকল দেশে বিরাজ করছেন- কয়েস লোদী প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে যা ঘটে

সিলেটের নরককুন্ডগুলোতে জমজমাট হয়ে উঠে মদ গাঁজার ইয়াবা ফেন্সিডিলের আসর-

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫ ৩৫ বার পড়া হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটের নরক কুন্ডগুলো এখনো সরগরম! প্রতিদিন রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে নানা শ্রেণীর মানুষের আনাগোনা। জমজমাট হয়ে উঠে নানা শ্রেণীর মানুষের আনাগোনা আর মদ গাঁজার গন্ধে ভারী হয়ে উঠে বাতাস। রাত গভীর থেকে এখানে চলে ভোর পর্যন্ত নেশার আড্ডা।

নরক কুন্ডগুলোর কয়েকটার অবস্থান নগরীর অতিগুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, কয়েকটা আবার শহরতলীর বিভিন্ন চা বাগানে। সিলেট মহানগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হচ্ছে বন্দরবাজার এলাকা। এই বন্দরবাজারের মহাজনপট্টি সংলগ্ন কাষ্টঘর সুইপার কলোনি সিলেটের প্রধান নরক কুন্ড হিসাবে কুখ্যাত। ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে মানুষতো থাকেই। কিন্তু সেই ঘরগুলোতেই চলে মদ-গাজা আর ইয়াবা ফেন্সিডিলের জমজমাট আসর।

এখানে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যার দিকে জমতে শুরু করে কাষ্টঘরে নেশার আসর । তারপর মদের গ্লাসে চুমুকে চুমুকে জমে উঠে রাজনীতি সমাজনীতি অর্থনীতিসহ দেশ এবং বিশ্ব পরিস্থিতির নিজস্ব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। গাজার কল্কিতে ধোঁয়া উঠে, উঠে ব্যক্তিগত নানা বিষয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্যর্থ প্রেমের কাহিনী থেকে শুরু করে জীবনের অন্যান্য ব্যর্থতাগুলোও দীর্ঘশ্বাস হয়ে ধরা দেয় এখানে।

আতঙ্কের বিষয়, সিলেট এবং দেশের অনেক বড়বড় দাগি অপরাধীরাও পরিচয় আড়াল করে এখানে বসেই নিজেদের পরিকল্পনা সাজায়। আর এরমধ্যেই জীবন যাপন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিবার পরিজন- নারী ও শিশুরা।

অতোটা জম-জমাট না হলেও সুরমার দক্ষিণপারের সুইপার কলোনিগুলোর অবস্থাও প্রায় একই। আর এসব কলোনিতে মদের যোগান বাইরে, বিশেষ করে মৌলভীবাজার ও সিলেটের চা বাগানগুলো থেকে। বাগানের চা শ্রমিকদের একটি বিশেষ অংশ বিশেষ শ্রেণীর মদ উৎপদানের সাথে জড়িত- এটা প্রায় সবাই জানেন। তাদের উৎপাদিত মদ ‘বাংলা মদ’ হিসাবে পরিচিত এবং যারা মদের নেশা করেন তাদের কাছে এর বিশেষ চাহিদাও রয়েছে।


শুধু উৎপাদন আর বাইরে বিক্রিই নয়, কোনো কোনো বাগানেও কাষ্টঘরের মতো এমন আসর বসে। অবশ্য পরিমাণে কম হলেও কাষ্টঘরেও বাংলা মদ উৎপাদন হয় বলে ওই এলাকার একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সেই কোনকাল থেকেই সরগরম সিলেটের এই নরক কুন্ডগুলো। কালেভদে অভিযান হয়, কখনো পুলিশ, কখনো র‌্যাব আবার কখনো গোয়েন্দা পুলিশ, কখনোবা যৌথ অভিযান। এতে দু’চারজন ধরাও পড়েন। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। কাজের কাজটি আর হয়ে উঠেনা। কাজের কাজটি হচ্ছে নিয়মিত অভিযান বা স্থায়ীভাবে মদ গাজা ইয়াবা বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ। সেটি আর হয়ে উঠেছে না।

এ ব্যাপারে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাদের আগ্রহ, এত এত মাদক বিরোধী অভিযান হয়, অথচ পুলিশের নাকের ডগায় এত বড় মাদকের আস্তানা বহাল তবিয়তে কিভাবে টিকে থাকে যুগ যুগ ধরে? আবার চা বাগানেই বা কিভাবে মাদক উৎপাদন বা নেশার আসর বসে? এগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হচ্ছেনা কেন?

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটের নরককুন্ডগুলোতে জমজমাট হয়ে উঠে মদ গাঁজার ইয়াবা ফেন্সিডিলের আসর-

আপডেট সময় : ১১:৩৬:৪৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫

স্টাফ রিপোর্টার :

সিলেটের নরক কুন্ডগুলো এখনো সরগরম! প্রতিদিন রাত বাড়ার সাথে সাথে বাড়ে নানা শ্রেণীর মানুষের আনাগোনা। জমজমাট হয়ে উঠে নানা শ্রেণীর মানুষের আনাগোনা আর মদ গাঁজার গন্ধে ভারী হয়ে উঠে বাতাস। রাত গভীর থেকে এখানে চলে ভোর পর্যন্ত নেশার আড্ডা।

নরক কুন্ডগুলোর কয়েকটার অবস্থান নগরীর অতিগুরুত্বপূর্ণ এলাকায়, কয়েকটা আবার শহরতলীর বিভিন্ন চা বাগানে। সিলেট মহানগরীর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এলাকা হচ্ছে বন্দরবাজার এলাকা। এই বন্দরবাজারের মহাজনপট্টি সংলগ্ন কাষ্টঘর সুইপার কলোনি সিলেটের প্রধান নরক কুন্ড হিসাবে কুখ্যাত। ছোট ছোট ঘরে গাদাগাদি করে মানুষতো থাকেই। কিন্তু সেই ঘরগুলোতেই চলে মদ-গাজা আর ইয়াবা ফেন্সিডিলের জমজমাট আসর।

এখানে নিয়মিত যাতায়াত করেন এমন একাধিক ব্যক্তির সাথে আলাপকালে জানা যায়, প্রতিদিন সন্ধ্যার দিকে জমতে শুরু করে কাষ্টঘরে নেশার আসর । তারপর মদের গ্লাসে চুমুকে চুমুকে জমে উঠে রাজনীতি সমাজনীতি অর্থনীতিসহ দেশ এবং বিশ্ব পরিস্থিতির নিজস্ব ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ। গাজার কল্কিতে ধোঁয়া উঠে, উঠে ব্যক্তিগত নানা বিষয়ের অনেক গুরুত্বপূর্ণ দিক। ব্যর্থ প্রেমের কাহিনী থেকে শুরু করে জীবনের অন্যান্য ব্যর্থতাগুলোও দীর্ঘশ্বাস হয়ে ধরা দেয় এখানে।

আতঙ্কের বিষয়, সিলেট এবং দেশের অনেক বড়বড় দাগি অপরাধীরাও পরিচয় আড়াল করে এখানে বসেই নিজেদের পরিকল্পনা সাজায়। আর এরমধ্যেই জীবন যাপন করে পরিচ্ছন্নতাকর্মীদের পরিবার পরিজন- নারী ও শিশুরা।

অতোটা জম-জমাট না হলেও সুরমার দক্ষিণপারের সুইপার কলোনিগুলোর অবস্থাও প্রায় একই। আর এসব কলোনিতে মদের যোগান বাইরে, বিশেষ করে মৌলভীবাজার ও সিলেটের চা বাগানগুলো থেকে। বাগানের চা শ্রমিকদের একটি বিশেষ অংশ বিশেষ শ্রেণীর মদ উৎপদানের সাথে জড়িত- এটা প্রায় সবাই জানেন। তাদের উৎপাদিত মদ ‘বাংলা মদ’ হিসাবে পরিচিত এবং যারা মদের নেশা করেন তাদের কাছে এর বিশেষ চাহিদাও রয়েছে।


শুধু উৎপাদন আর বাইরে বিক্রিই নয়, কোনো কোনো বাগানেও কাষ্টঘরের মতো এমন আসর বসে। অবশ্য পরিমাণে কম হলেও কাষ্টঘরেও বাংলা মদ উৎপাদন হয় বলে ওই এলাকার একাধিক সূত্রে জানা গেছে। সেই কোনকাল থেকেই সরগরম সিলেটের এই নরক কুন্ডগুলো। কালেভদে অভিযান হয়, কখনো পুলিশ, কখনো র‌্যাব আবার কখনো গোয়েন্দা পুলিশ, কখনোবা যৌথ অভিযান। এতে দু’চারজন ধরাও পড়েন। কিন্তু ঐ পর্যন্তই। কাজের কাজটি আর হয়ে উঠেনা। কাজের কাজটি হচ্ছে নিয়মিত অভিযান বা স্থায়ীভাবে মদ গাজা ইয়াবা বিক্রি বন্ধের উদ্যোগ গ্রহণ। সেটি আর হয়ে উঠেছে না।

এ ব্যাপারে সচেতন মহলে নানা প্রশ্ন রয়েছে। তাদের আগ্রহ, এত এত মাদক বিরোধী অভিযান হয়, অথচ পুলিশের নাকের ডগায় এত বড় মাদকের আস্তানা বহাল তবিয়তে কিভাবে টিকে থাকে যুগ যুগ ধরে? আবার চা বাগানেই বা কিভাবে মাদক উৎপাদন বা নেশার আসর বসে? এগুলো স্থায়ীভাবে বন্ধ করা হচ্ছেনা কেন?