ঢাকা ০৪:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ৮ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ-১ আসনে- অসময়ে শেখ সুজাতের কাছে গেলেন রেজা কিবরিয়া, ফিরলেন খালি হাতে কোষ্ঠকাঠিন্যের সমস্যা এড়াতে যা খাবেন ইরানকে ‘পৃথিবী থেকে মুছে ফেলার’ হুমকি ট্রাম্পের ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন,প্রতীক বরাদ্দ চলছে, প্রচারণার সময় ২০ দিন বাংলাদেশ থেকে কূটনীতিক পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নিচ্ছে ভারত যেভাবে প্রতীক বরাদ্দ দেয় নির্বাচন কমিশন ২০ বছর পর শ্বশুরবাড়ি পূণ্যভূমি সিলেটে আসছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক‘ দুলাভাই’র অপেক্ষায় সিলেট প্রচারণা শুরু করতে রাতেই বিমানযোগে সিলেট আসবেন তারেক রহমান জাতীয়তাবাদী রাজনীতির নিবেদিতপ্রাণ দেশপ্রেমিক প্রবাসীরা বিশ্বের সকল দেশে বিরাজ করছেন- কয়েস লোদী প্রতিদিন করলার রস পান করলে শরীরে যা ঘটে

কে হচ্ছেন হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ? বিচ্ছিন্ন ভাবে চলছে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর প্রচারণা

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫ ৩৮ বার পড়া হয়েছে

হবীগঞ্জ প্রতিনিধি :

আসন্ন ত্রয়োদশ পার্লামেন্ট ইলেকশনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তন্মধ্যে হবিগঞ্জে ৪টি আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি রয়েছে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন। ফলে এ আসনটি নিয়েছে রয়েছে জনমনে নানা আলোচনা।

একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী বিচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। করে নাগাদ ধোঁয়াশার অবসান হবে তা-ও নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না। যারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ সুজাত মিয়া, সাবেক পৌর মেয়র ছাব্বির আহমেদ চৌধুরী, প্রবাসী, শাহ মোজাম্মেল আলী নান্টু, সাবেক ছাত্রনেতা মুখলিছুর রহমান, প্রবাসী তালহা চৌধুরী ও যুবদলের আহ্বায়ক মোশাহিদ আলম মুরাদ। তবে রেজা কিবরিয়ার নাম জোরেশুরে শুনা গেলেও প্রচারণায় নেই।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হবিগঞ্জ-১ আসনটি বহুদিন ধরেই আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালের উপ নির্বাচনে আসনটি ছিনিয়ে নেন বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া। তৎকালীন সময় আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ডাঃ মুশফিক হুসেন চৌধুরীকে হারিয়ে তিনি নির্বাচিত হয়ে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই আসনের রাজনীতি মূলত ঘুরে দাড়িয়েছে তৃণমুল নেতাকর্মীদের ত্যাগ, আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের ওপর ভর করে।

এই আসনে বিএনপির ত্যাগীদের মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা না করে শরিক দলকে আসনটি ছেড়ে দিলে বা নতুন করে কোন হাইব্রিট নেতাকে মনোনয়ন দিলে বিএনপির জনসমর্থন সঙ্কটে পড়বে। বিগত আওয়ামীলীগ শাসনামলে রাজপথে থেকে দলকে শক্ত অবস্থানে রেখেছেন, হামলা-মামলা-গ্রেফতার সহ্য করে সংগঠন ধরে রেখেছেন এমন বহু নেতাকর্মী রয়েছেন। সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করা হলে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা কিভাবে নেবে তা ভেবে দেখার বিষয় রয়েছে।

এছাড়া তৃণমুল বিএনপিসহ এলাকার সাধারণ মানুষের দাবী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়াকে মনোনয়ন দেয়া হউক। এতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে বলে তাদের প্রত্যাশা। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে কে পাচ্ছেন এই আসনে ধানের শীষের প্রতীক। আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে ৩ জন রয়েছেন বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। তারা হলেন, আওয়ামী সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া এবং নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী।

দলীয় মনোনয়নের প্রসঙ্গে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমি দলে যোগদান করেছি তা ঠিক আছে। দল এ আসনে প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে সময় নিচ্ছে। দলের শীর্ষনেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি বলছেন, তাঁরা আরও কিছু স্থানে এখনো প্রার্থী মনোনীত করেননি। বাকিগুলো একসঙ্গে করা হবে। ’শেখ সুজাত মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন কথার জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, ‘শেখ সুজাতকে আসনটি যদি দেওয়া হয়, তা হবে হাস্যকর। এখন বিএনপি কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার অপেক্ষায় আছি আমি। ’ড. রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরে তিনি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক, গণ অধিকার পরিষদ ও বিভক্ত দল আমজনতার দলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই নির্বাচনের পর থেকে ড. রেজা কিবরিয়াকে নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকায় আসতে দেখা যায়নি।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ সুজাত মিয়া ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। উপ-নির্বাচনে ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার দাবিদার তিনি। এখন যদি বাইরের কাউকে দেওয়া হয়, তা দলের নেতা-কর্মীরা মেনে নেবেন বলে মনে হয় না। নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী নির্ণয়ে যে ক্রাইটেরিয়া দিয়েছেন, তার পুরোটাই আমার দ্বারা পূরণ করা সম্ভব। কারণ, আমিই একমাত্র প্রার্থী এলাকায় থেকে দলের জন্য কাজ করছি। বাকিরা সবাই বাইরের লোক। সে হিসেবে দল আমাকেই মনোনয়ন দেওয়ার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে দুটি ভাগ হয়েছে। এক অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া এবং অপর অংমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শেফু। এ দুই বলয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত। তাদের কোন্দলের ফলে ৮ বার পেছানো হয় উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল। পরে গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে শেফু গ্রুপের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে।

এদিকে জুলাই গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এনসিপিও ভোটের মাঠে নামার তোড়জোড় চালাচ্ছে। দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী পলাশ মাহমুদ, সদস্য অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন আহমেদ জাকি, আরিফ তালুকদার ও তুষার পাঠান। এনসিপির জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী মাহবুবুল বারী চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখনই প্রার্থী নিয়ে ভাবছি না, দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে একক প্রার্থী বাছাই করব। তবে দলের নেতাদের অনেকেই নতুন মুখ হলেও আন্দোলনের চেতনা আমাদের শক্তি।’
এ আসনে খেলাফত মজলিস (দেয়াল ঘড়ি) থেকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম জাকী। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) থেকেও একক প্রার্থী ঠিক হয়েছে- জেলা জমিয়তের সেক্রেটারি মুফতি সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ আসনে তাদের প্রার্থী মনোনিত করেছে মুফতি মাওলানা তাজুল ইসলামকে। একই সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন জীবন চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী হবিগঞ্জ-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪২২ জন এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৭ হাজার ৮৭৬ জন, নারী ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৪ এবং হিজড়া ভোটার ২ জন।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সমিতির সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন বলেন, হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির তৃণমূলের অনিশ্চয়তা, জামায়াতের সংগঠিত প্রস্তুতি আর এনসিপির আন্দোলনের স্পিরিট’- এই ৩ মেরুতে দাঁড়িয়েছে ভোটের সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন, আর কে জিতবেন- তা নির্ভর করবে দলীয় কৌশল ও মাঠের লড়াইয়ের ওপর। হবিগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনটি নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ২৩৯ তম আসন।

সংক্ষেপে নির্বাচনী ইতিহাস ঃ পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১৯৯১): জাতীয় পাটির খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি (লাঙ্গল প্রতীক) ৪১ হাজার ৯৫৭ ভোটে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী (নৌকা প্রতীক) পান ৩৮ হাজার ৯২৭ ভোট। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬): বিএনপি প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া বিজয়ী হন। তবে এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ দিন। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ জুন ১৯৯৬): আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী ৫২হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জাতীয় পাটির খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি পান ৪৪ হাজার ১১৩ ভোট। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০০১): আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী ৭৪ হাজার ৬৯৩ ভোট পেয়ে পুনরায় বিজয়ী হন। নিকটতম বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া পান ৬৬ হাজার ১৩৭ ভোট। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০০৮): আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদগাজী ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া পান ৭৯ হাজার ৮৫২ ভোট। ঐতিহাসিক উপ-নির্বাচন : দেওয়ান ফরিদ গাজী ২০১০ সালের নভেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন। এতে ওই আসনটি শুন্য হয়। ২৭ জানুয়ারি ২০১১-এর হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ৮১ হাজার ৩৩০ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী (নৌকা) পেয়েছিলেন ৮০ হাজার ৪৫ ভোট। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সারা দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলেন শেখ সুজাত মিয়া।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০১৪): বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে। জাতীয় পাটির এম,এ মুনিম চৌধুরী বাবু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০১৮): আওয়ামী লীগের গাজী মোঃ শাহনেওয়াজ (নৌকা প্রতীক) ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি গণফোরামের ড. রেজা কিবরিয়া (ধানের শীষ প্রতীক) পান ৮৫ হাজার ৮৮৫ ভোট। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (৭ জানুয়ারি ২০২৪) : স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী এড. আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া (ঈগল প্রতীক) ৭৫ হাজার ৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন জাতীয় পাটির এম,এ মুনিম চৌধুরী বাবু যিনি পান ৩০ হাজার ৭০৩ ভোট। এ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো বর্জন করেছিল।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ আসনে পঞ্চম ও দশম সংসদে জাতীয় পার্টি, ষষ্ঠ ও নবমের উপ-নির্বাচনে বিএনপি এবং সপ্তম, অষ্টম, নবম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারির গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ফলে আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিক ময়দানে কার্যত অনুপস্থিত।
এ দিকে বিএনপি মাঠ গোছাতে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীকে সামনে নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চলছে বিচ্ছিভাবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি প্রচার এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। তবে বিএনপিকে ছাড় দিতে নারাজ জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কয়েকটি ছোট দলও সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছে। এক কথায় দলের মনোনয়ন দৌড়ে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি সাবেক এমপি শেখ সুজাত। ইতিমধ্যে যুব সমাজের আইকন হিসেবে মোশাহিদ আলম মুরাদও রয়েছেন প্রচারনা মাঠে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ফেরত বিএনপি নেতা শাহ্ মোজাম্মেল নান্টু ব্যানার, ফেস্টুন ও জনসংযোগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। সাবেক ছাত্রনেতা মুখলিছুর রহমানও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, দেয়াল লিখন ও ব্যানার-পোস্টারের মাধ্যমে প্রচারণায় সক্রিয়। এছাড়া বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনিত প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে তৃণমূল পর্যায়ে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার পরিচিতি ব্যাপক। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত নারী পুরুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত শেখ সুজাত মিয়া। বিএনপি এই আসনটি ধরে রাখতে চাইলেে শখ সুজাতের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তাদের দাবী এই আসনে শেখ সুজাত মিয়াই হবেন শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের কান্ডারী। এছাড়া আওয়ামীলীগের ভরা যৌবনে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দলকে এই আসটি উপহার দিয়ে সারাদেশে আলোচনায় আসেন। এই আসনে বিএনপি, এনসিপি ব্যতিত সকল দলই তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

কে হচ্ছেন হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির প্রার্থী ? বিচ্ছিন্ন ভাবে চলছে একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশীর প্রচারণা

আপডেট সময় : ০৮:১২:২৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২৫

হবীগঞ্জ প্রতিনিধি :

আসন্ন ত্রয়োদশ পার্লামেন্ট ইলেকশনে ৩০০ আসনের মধ্যে ২৩৭টি আসনে দলীয় প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। তন্মধ্যে হবিগঞ্জে ৪টি আসনের মধ্যে তিনটিতে প্রার্থী ঘোষণা করা হয়েছে। বাকি রয়েছে হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসন। ফলে এ আসনটি নিয়েছে রয়েছে জনমনে নানা আলোচনা।

একাধিক মনোনয়ন প্রত্যাশী বিচ্ছিন্নভাবে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। করে নাগাদ ধোঁয়াশার অবসান হবে তা-ও নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছেন না। যারা প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন তাদের মধ্যে রয়েছেন শেখ সুজাত মিয়া, সাবেক পৌর মেয়র ছাব্বির আহমেদ চৌধুরী, প্রবাসী, শাহ মোজাম্মেল আলী নান্টু, সাবেক ছাত্রনেতা মুখলিছুর রহমান, প্রবাসী তালহা চৌধুরী ও যুবদলের আহ্বায়ক মোশাহিদ আলম মুরাদ। তবে রেজা কিবরিয়ার নাম জোরেশুরে শুনা গেলেও প্রচারণায় নেই।
বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, হবিগঞ্জ-১ আসনটি বহুদিন ধরেই আওয়ামীলীগের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। ২০১১ সালের উপ নির্বাচনে আসনটি ছিনিয়ে নেন বিএনপির প্রার্থী আলহাজ্ব শেখ সুজাত মিয়া। তৎকালীন সময় আওয়ামীলীগের হেভিওয়েট প্রার্থী ডাঃ মুশফিক হুসেন চৌধুরীকে হারিয়ে তিনি নির্বাচিত হয়ে সারাদেশে আলোড়ন সৃষ্টি করেন। এই আসনের রাজনীতি মূলত ঘুরে দাড়িয়েছে তৃণমুল নেতাকর্মীদের ত্যাগ, আন্দোলন ও দীর্ঘ সংগ্রামের ওপর ভর করে।

এই আসনে বিএনপির ত্যাগীদের মধ্যে প্রার্থী ঘোষণা না করে শরিক দলকে আসনটি ছেড়ে দিলে বা নতুন করে কোন হাইব্রিট নেতাকে মনোনয়ন দিলে বিএনপির জনসমর্থন সঙ্কটে পড়বে। বিগত আওয়ামীলীগ শাসনামলে রাজপথে থেকে দলকে শক্ত অবস্থানে রেখেছেন, হামলা-মামলা-গ্রেফতার সহ্য করে সংগঠন ধরে রেখেছেন এমন বহু নেতাকর্মী রয়েছেন। সেই বাস্তবতা উপেক্ষা করা হলে বিএনপির ত্যাগী নেতাকর্মীরা কিভাবে নেবে তা ভেবে দেখার বিষয় রয়েছে।

এছাড়া তৃণমুল বিএনপিসহ এলাকার সাধারণ মানুষের দাবী আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়াকে মনোনয়ন দেয়া হউক। এতে দলীয় নেতাকর্মীসহ সাধারণ মানুষ উপকৃত হবে বলে তাদের প্রত্যাশা। হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে এখনো প্রার্থী ঘোষণা রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে কে পাচ্ছেন এই আসনে ধানের শীষের প্রতীক। আসনটিতে মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মাঝে ৩ জন রয়েছেন বর্তমানে আলোচনার কেন্দ্র বিন্দুতে। তারা হলেন, আওয়ামী সরকারের সাবেক অর্থমন্ত্রী শাহ এ এম এস কিবরিয়ার ছেলে ড. রেজা কিবরিয়া, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়া এবং নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র ছাবির আহমদ চৌধুরী।

দলীয় মনোনয়নের প্রসঙ্গে ড. রেজা কিবরিয়া বলেন, ‘আমি দলে যোগদান করেছি তা ঠিক আছে। দল এ আসনে প্রার্থী ঘোষণার বিষয়ে সময় নিচ্ছে। দলের শীর্ষনেতা সালাহ উদ্দিন আহমেদের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তিনি বলছেন, তাঁরা আরও কিছু স্থানে এখনো প্রার্থী মনোনীত করেননি। বাকিগুলো একসঙ্গে করা হবে। ’শেখ সুজাত মনোনয়ন পাচ্ছেন এমন কথার জবাবে তিনি মন্তব্য করেন, ‘শেখ সুজাতকে আসনটি যদি দেওয়া হয়, তা হবে হাস্যকর। এখন বিএনপি কী সিদ্ধান্ত নেয়, তার অপেক্ষায় আছি আমি। ’ড. রেজা কিবরিয়া ২০১৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে হবিগঞ্জ-১ আসনে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থী হিসেবে বিএনপির ধানের শীষ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। পরে তিনি গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক, গণ অধিকার পরিষদ ও বিভক্ত দল আমজনতার দলের আহ্বায়ক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। ওই নির্বাচনের পর থেকে ড. রেজা কিবরিয়াকে নবীগঞ্জ-বাহুবল এলাকায় আসতে দেখা যায়নি।

এদিকে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা সাবেক সংসদ সদস্য মনোনয়ন প্রত্যাশী শেখ সুজাত মিয়া ১৯৯৬ সালের ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে তিনি প্রথম সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। উপ-নির্বাচনে ২০১১ থেকে ২০১৪ পর্যন্ত তিনি সংসদ সদস্য ছিলেন। তিনি বলেন, মনোনয়ন পাওয়ার দাবিদার তিনি। এখন যদি বাইরের কাউকে দেওয়া হয়, তা দলের নেতা-কর্মীরা মেনে নেবেন বলে মনে হয় না। নবীগঞ্জ পৌরসভার সাবেক মেয়র মনোনয়ন প্রত্যাশী ছাবির আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান প্রার্থী নির্ণয়ে যে ক্রাইটেরিয়া দিয়েছেন, তার পুরোটাই আমার দ্বারা পূরণ করা সম্ভব। কারণ, আমিই একমাত্র প্রার্থী এলাকায় থেকে দলের জন্য কাজ করছি। বাকিরা সবাই বাইরের লোক। সে হিসেবে দল আমাকেই মনোনয়ন দেওয়ার কথা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নবীগঞ্জ উপজেলা বিএনপিতে নেতৃত্ব নিয়ে দুটি ভাগ হয়েছে। এক অংশের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়া এবং অপর অংমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুজিবুর রহমান শেফু। এ দুই বলয়ে দলীয় নেতাকর্মীরা বিভক্ত। তাদের কোন্দলের ফলে ৮ বার পেছানো হয় উপজেলা বিএনপির কাউন্সিল। পরে গোপন ব্যালটে অনুষ্ঠিত কাউন্সিলে শেফু গ্রুপের নিরঙ্কুশ বিজয় হয়েছে।

এদিকে জুলাই গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে গড়ে ওঠা এনসিপিও ভোটের মাঠে নামার তোড়জোড় চালাচ্ছে। দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া চলমান থাকলেও ইতোমধ্যে আলোচনায় এসেছেন জেলার যুগ্ম সমন্বয়কারী পলাশ মাহমুদ, সদস্য অ্যাডভোকেট ফখরুদ্দিন আহমেদ জাকি, আরিফ তালুকদার ও তুষার পাঠান। এনসিপির জেলা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়কারী মাহবুবুল বারী চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এখনই প্রার্থী নিয়ে ভাবছি না, দলের নিবন্ধন প্রক্রিয়া শেষে যোগ্যতার ভিত্তিতে একক প্রার্থী বাছাই করব। তবে দলের নেতাদের অনেকেই নতুন মুখ হলেও আন্দোলনের চেতনা আমাদের শক্তি।’
এ আসনে খেলাফত মজলিস (দেয়াল ঘড়ি) থেকে একক প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা খেলাফত মজলিসের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাওলানা আব্দুল কাইয়ুম জাকী। জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশ (খেজুর গাছ) থেকেও একক প্রার্থী ঠিক হয়েছে- জেলা জমিয়তের সেক্রেটারি মুফতি সিদ্দিকুর রহমান চৌধুরী।

অন্যদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এ আসনে তাদের প্রার্থী মনোনিত করেছে মুফতি মাওলানা তাজুল ইসলামকে। একই সঙ্গে গণঅধিকার পরিষদের কেন্দ্রীয় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবুল হোসেন জীবন চুড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে মনোনিত হয়েছে। নির্বাচন কমিশনের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী হবিগঞ্জ-১ আসনে ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৩১ হাজার ৪২২ জন এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ১৭ হাজার ৮৭৬ জন, নারী ২ লাখ ১৩ হাজার ৫৪৪ এবং হিজড়া ভোটার ২ জন।

এ ব্যাপারে হবিগঞ্জ জেলা ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) চেয়ারম্যান সমিতির সাবেক সভাপতি ও বীর মুক্তিযোদ্ধা মোহাম্মদ আলী মমিন বলেন, হবিগঞ্জ-১ আসনে বিএনপির তৃণমূলের অনিশ্চয়তা, জামায়াতের সংগঠিত প্রস্তুতি আর এনসিপির আন্দোলনের স্পিরিট’- এই ৩ মেরুতে দাঁড়িয়েছে ভোটের সমীকরণ। শেষ পর্যন্ত কে মনোনয়ন পাবেন, আর কে জিতবেন- তা নির্ভর করবে দলীয় কৌশল ও মাঠের লড়াইয়ের ওপর। হবিগঞ্জ-১ সংসদীয় আসনটি নবীগঞ্জ ও বাহুবল উপজেলা নিয়ে গঠিত। এটি জাতীয় সংসদের ২৩৯ তম আসন।

সংক্ষেপে নির্বাচনী ইতিহাস ঃ পঞ্চম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১৯৯১): জাতীয় পাটির খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি (লাঙ্গল প্রতীক) ৪১ হাজার ৯৫৭ ভোটে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী (নৌকা প্রতীক) পান ৩৮ হাজার ৯২৭ ভোট। ষষ্ঠ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১৫ ফেব্রুয়ারি ১৯৯৬): বিএনপি প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া বিজয়ী হন। তবে এ সংসদের মেয়াদ ছিল মাত্র ১১ দিন। সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (১২ জুন ১৯৯৬): আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী ৫২হাজার ৯৪০ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি জাতীয় পাটির খলিলুর রহমান চৌধুরী রফি পান ৪৪ হাজার ১১৩ ভোট। অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০০১): আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদ গাজী ৭৪ হাজার ৬৯৩ ভোট পেয়ে পুনরায় বিজয়ী হন। নিকটতম বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া পান ৬৬ হাজার ১৩৭ ভোট। নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০০৮): আওয়ামী লীগের দেওয়ান ফরিদগাজী ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪০৬ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। নিকটতম বিএনপির শেখ সুজাত মিয়া পান ৭৯ হাজার ৮৫২ ভোট। ঐতিহাসিক উপ-নির্বাচন : দেওয়ান ফরিদ গাজী ২০১০ সালের নভেম্বরে মৃত্যুবরণ করেন। এতে ওই আসনটি শুন্য হয়। ২৭ জানুয়ারি ২০১১-এর হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনের উপ-নির্বাচনে বিএনপি প্রার্থী শেখ সুজাত মিয়া ৮১ হাজার ৩৩০ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। আওয়ামী লীগ প্রার্থী ডাঃ মুশফিক হোসেন চৌধুরী (নৌকা) পেয়েছিলেন ৮০ হাজার ৪৫ ভোট। ওই নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে সারা দেশব্যাপী আলোচনার ঝড় তোলেন শেখ সুজাত মিয়া।

দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০১৪): বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোট নির্বাচন বর্জন করে। জাতীয় পাটির এম,এ মুনিম চৌধুরী বাবু বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (২০১৮): আওয়ামী লীগের গাজী মোঃ শাহনেওয়াজ (নৌকা প্রতীক) ১ লাখ ৬০ হাজার ৮৩৭ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি গণফোরামের ড. রেজা কিবরিয়া (ধানের শীষ প্রতীক) পান ৮৫ হাজার ৮৮৫ ভোট। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন (৭ জানুয়ারি ২০২৪) : স্বতন্ত্র প্রার্থী ও আওয়ামী লীগ নেত্রী এড. আমাতুল কিবরিয়া চৌধুরী কেয়া (ঈগল প্রতীক) ৭৫ হাজার ৫২ ভোট পেয়ে বিজয়ী হন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বি ছিলেন জাতীয় পাটির এম,এ মুনিম চৌধুরী বাবু যিনি পান ৩০ হাজার ৭০৩ ভোট। এ নির্বাচনে বিএনপি, জামায়াতসহ প্রধান বিরোধী দলগুলো বর্জন করেছিল।

সাম্প্রতিক প্রেক্ষাপট পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, এ আসনে পঞ্চম ও দশম সংসদে জাতীয় পার্টি, ষষ্ঠ ও নবমের উপ-নির্বাচনে বিএনপি এবং সপ্তম, অষ্টম, নবম, একাদশ ও দ্বাদশ সংসদে আওয়ামী লীগ বিজয়ী হয়েছে। তবে ২০২৪ সালের ৫ জানুয়ারির গণঅভ্যুত্থানের পর শেখ হাসিনার দেশত্যাগের ফলে আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিক ময়দানে কার্যত অনুপস্থিত।
এ দিকে বিএনপি মাঠ গোছাতে একাধিক হেভিওয়েট প্রার্থীকে সামনে নিয়ে প্রচার-প্রচারণা চলছে বিচ্ছিভাবে। ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের ঘোষিত ৩১ দফা কর্মসূচি প্রচার এবং বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে তাদের উপস্থিতি বাড়ছে। তবে বিএনপিকে ছাড় দিতে নারাজ জামায়াত, গণঅধিকার পরিষদ, জমিয়তে উলামায়ে ইসলামসহ কয়েকটি ছোট দলও সক্রিয়ভাবে মাঠে রয়েছে। এক কথায় দলের মনোনয়ন দৌড়ে হেভিওয়েট প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন বিএনপি সাবেক এমপি শেখ সুজাত। ইতিমধ্যে যুব সমাজের আইকন হিসেবে মোশাহিদ আলম মুরাদও রয়েছেন প্রচারনা মাঠে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ফেরত বিএনপি নেতা শাহ্ মোজাম্মেল নান্টু ব্যানার, ফেস্টুন ও জনসংযোগের মাধ্যমে ইতিমধ্যে এলাকায় সাড়া ফেলেছেন। সাবেক ছাত্রনেতা মুখলিছুর রহমানও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম, দেয়াল লিখন ও ব্যানার-পোস্টারের মাধ্যমে প্রচারণায় সক্রিয়। এছাড়া বিএনপির অভ্যন্তরীন কোন্দলের কারনে জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের মনোনিত প্রার্থী মোঃ শাহাজাহান আলী রয়েছেন সুবিধাজনক অবস্থানে।

হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে তৃণমূল পর্যায়ে সাবেক এমপি শেখ সুজাত মিয়ার পরিচিতি ব্যাপক। শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত নারী পুরুষের কাছে ব্যাপক পরিচিত শেখ সুজাত মিয়া। বিএনপি এই আসনটি ধরে রাখতে চাইলেে শখ সুজাতের বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন দলের ত্যাগী নেতাকর্মীরা। তাদের দাবী এই আসনে শেখ সুজাত মিয়াই হবেন শেষ পর্যন্ত ধানের শীষের কান্ডারী। এছাড়া আওয়ামীলীগের ভরা যৌবনে উপ-নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে দলকে এই আসটি উপহার দিয়ে সারাদেশে আলোচনায় আসেন। এই আসনে বিএনপি, এনসিপি ব্যতিত সকল দলই তাদের প্রার্থীতা ঘোষণা করেছেন।