ঢাকা ০৩:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারী ২০২৬, ২ মাঘ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হাইকমিশনে গিয়ে খালেদা জিয়ার প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর শ্রদ্ধা মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই শেষ – ৩০০ আসনে বৈধ প্রার্থী ১৮৪২, বাতিল ৭২৩ নতুন বছরে এলপি গ্যাসের দামে ধাক্কা, বাড়ল ৫৩ টাকা ছাতক উপজেলা প্রেসক্লাবের আহবায়ক কমিটি গঠন সিলেটে বর্ণাঢ্য আয়োজনে গ্রাম প্রতিরক্ষা দল (ভিডিপি) দিবস পালিত জুলাই আন্দোল‌নে নি হ ত ৮ জ‌নের পরিচয় শনাক্ত আজমিরীগঞ্জে লাইসেন্স ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলপি গ্যাস সিলিন্ডার ও পেট্রোল বিক্রি চলছে অবাদে শাহ-আরেফিন টিল্লায় পাথর উত্তোলন ঠেকাতে যৌথ বাহিনীর অভিযান- সিলেট-ম্যানচেস্টার রুটে বিমানের ফ্লাইট স্থগিত ইসলামের আলোকে জীবন পরিচালিত করতে হবে

চট্টগ্রামে নির্বাচনি গণসংযোগে হামলা, বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধ

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০১:০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫ ৪৩ বার পড়া হয়েছে

নিহত ‘সন্ত্রাসী’ সারোয়ার হোসেন বাবলা * গুলিবিদ্ধ হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এরফানুল হক শান্তও * জামায়াত-শিবির এই হামলা করেছে-নগর বিএনপি

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে জনসংযোগ চলাকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় এরফানুল হক শান্ত নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আমিনুল হক ও মর্তুজা হক নামে আরও দুজন। তারা বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। হামলায় সারোয়ার হোসেন বাবলা নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। বাবলা শিবিরের সন্ত্রাসী বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানান। বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন হামজারবাগ চালিতাতলী এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে মোটরসাইকেল আরোহী আট দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এরশাদ উল্লাহ এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা শান্ত আইসিইউতে আছেন। কারা, কেন এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের টিম ঘটনাস্থলে যায়। কারা, কী কারণে এই হামলা করেছে তা তারা খতিয়ে দেখছেন। গণসংযোগকালে প্রকাশ্যে একজন প্রার্থী ও তার অনুসারীদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে অন্য প্রার্থীদের মধ্যেও। এদিকে জানা যায়, এর আগে গত ৩০ মার্চ ভোরে বাকলিয়া এক্সেস রোড চকবাজার থানার চন্দনপুরার মুখে প্রাইভেটকারে সারোয়ার বাবলাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল। তবে সে যাত্রায় তিনি বেঁচে যান। তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৯টি মামলা রয়েছে। সারোয়ার ছিলেন চট্টগ্রামে আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের আসামি সাজ্জাদ আলী খানের অন্যতম সহযোগী।

শিবিরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুটি পক্ষের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এই হামলার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছে। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, হামলার ঘটনাটি জামায়াত-শিবির ঘটিয়েছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি যারাই এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। নিহত সারোয়ার হোসেন বাবলার বাবা আবদুল কাদের ঘটনাস্থলে যুগান্তর প্রতিবেদককে বলেন, এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের লোকজন। সাজ্জাদ এ পর্যন্ত ১৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেছেন। তবে বাবলার ভাই দাবি করেছেন, বাবলা সম্প্রতি যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছে। 

এদিকে ঘটনার পর হাসপাতালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মীর ভিড় জমে। হতাহতদের স্বজনরাও হাসপাতালে ছুটে যান। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন লাভ করেছেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। মনোনয়ন পাওয়ার আগে থেকেই তিনি এলাকায় গণসংযোগ করে আসছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর বুধবার বিকালে তিনি বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন হামজারবাগ এলাকায় একটি নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এরপর মাগরিবের নামাজ আদায় করে বের হয়ে পুনরায় গণসংযোগ শুরু করেন। গণসংযোগে সারোয়ার হোসেন বাবলাও ছিলেন। এ সময় চারটি মোটরসাইকেলে এসে আট দুর্বৃত্ত এরশাদ উল্লাহ ও তার আশপাশে থাকা লোকজনকে গুলি করে। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। গুলি ছুড়েই দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল নিয়ে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। গুলিতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এরশাদ উল্লাহসহ কয়েকজন। তাদের উদ্ধার করে অনন্যা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরশাদ উল্লাহ পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ৩নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক শান্তও এ সময় গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর এরশাদ উল্লাহ ও শান্তকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। বাবলাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

জানা গেছে, ৩০ মার্চ ভোরে বাকলিয়া এক্সেস রোড চকবাজার থানার চন্দনপুরার মুখে প্রাইভেটকারে সারোয়ার বাবলাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল। এতে বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লা নামে দুজন নিহত হলেও সারোয়ার হোসেন বাবলা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে বুধবারের হামলায় সন্ত্রাসীদের টার্গেট মিস হয়নি। 

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই রাতে নগরের অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে সহযোগী বাবুলসহ সারোয়ারকে গ্রেফতার করেছিল চান্দগাঁও থানা পুলিশ। ২৮ জুলাই পুলিশ তার সাত দিনের রিমান্ড চাইলে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৯টি মামলা রয়েছে। এইট মার্ডার মামলায় পলাতক শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের অনুসারী বুড়ির নাতি হিসাবে পরিচিত ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে বাবলার দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরেই ছোট সাজ্জাদের লোকজন এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ গণমাধ্যমকে বলেন, বায়েজিদ বোস্তামীর হামজারবাগ এলাকায় গোলাগুলির বিষয়ে ধারণা পেয়েছি। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এ ঘটনা জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

কে এই সারোয়ার : সারোয়ার ছিলেন চট্টগ্রামে আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের অন্যতম আসামি সাজ্জাদ আলী খানের অন্যতম সহযোগী। পরে বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে আলাদা দল গড়েন সরোয়ার। তখন সাজ্জাদের ডান হাত হয়ে ওঠেন ছোট সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি সাজ্জাদ।

চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রায় দেড় দশক আগে আলোচনায় আসে সারোয়ার হোসেন বাবলা ও তার বন্ধু নুরুন্নবী ম্যাক্সনের নাম। সে সময় তারা পরিচিত ছিলেন সাজ্জাদ আলী খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে। সাজ্জাদ চট্টগ্রামের আট খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বিদেশে পালিয়ে আছেন। ২০১১ সালের জুলাইয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিঙ্গারবিল এলাকা থেকে গ্রেফতার হন ম্যাক্সন। তার দেওয়া তথ্যে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে সারোয়ারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তখন সরোয়ার-ম্যাক্সনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি পিস্তল, একটি এলজি, একে-৪৭ রাইফেলের দুটি ম্যাগাজিন ও গুলি। ২০১৭ সালে কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে কাতার চলে গিয়েছিলেন সারোয়ার ও ম্যাক্সন। প্রায় তিন বছর কাতারে ছিলেন সারোয়ার। সেখানে মারামারির এক ঘটনায় পুলিশ তাকে আটক করে এক মাসের সাজা দেয়। সাজা শেষে সারোয়ারকে তারা দেশে পাঠিয়ে দিলে ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিমানবন্দরে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে জামিন পেয়ে বের হন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

চট্টগ্রামে নির্বাচনি গণসংযোগে হামলা, বিএনপি প্রার্থী গুলিবিদ্ধ

আপডেট সময় : ০১:০৭:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৬ নভেম্বর ২০২৫

নিহত ‘সন্ত্রাসী’ সারোয়ার হোসেন বাবলা * গুলিবিদ্ধ হয়েছেন স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা এরফানুল হক শান্তও * জামায়াত-শিবির এই হামলা করেছে-নগর বিএনপি

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

চট্টগ্রাম-৮ (চান্দগাঁও-বোয়ালখালী) আসনে জনসংযোগ চলাকালে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ গুলিবিদ্ধ হয়ে গুরুতর আহত হয়েছেন। এ সময় এরফানুল হক শান্ত নামে স্বেচ্ছাসেবক দলের এক নেতাও গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এ ছাড়া গুলিবিদ্ধ হয়েছেন আমিনুল হক ও মর্তুজা হক নামে আরও দুজন। তারা বিএনপির রাজনীতিতে জড়িত। হামলায় সারোয়ার হোসেন বাবলা নামের এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হয়েছেন। বাবলা শিবিরের সন্ত্রাসী বলে পুলিশ ও সংশ্লিষ্টরা জানান। বুধবার সন্ধ্যায় নগরীর বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন হামজারবাগ চালিতাতলী এলাকায় গণসংযোগ চলাকালে মোটরসাইকেল আরোহী আট দুর্বৃত্ত তাদের লক্ষ্য করে পরপর কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ করে পালিয়ে যায়। পরে রক্তাক্ত অবস্থায় দুজনকে নগরীর এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। রাত ৯টায় এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত এরশাদ উল্লাহ এভারকেয়ারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। স্বেচ্ছাসেবক দলনেতা শান্ত আইসিইউতে আছেন। কারা, কেন এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেনি পুলিশ। বায়েজিদ বোস্তামী থানার ওসি জসিম উদ্দিন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেছেন, খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাদের টিম ঘটনাস্থলে যায়। কারা, কী কারণে এই হামলা করেছে তা তারা খতিয়ে দেখছেন। গণসংযোগকালে প্রকাশ্যে একজন প্রার্থী ও তার অনুসারীদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা তৈরি হয়েছে অন্য প্রার্থীদের মধ্যেও। এদিকে জানা যায়, এর আগে গত ৩০ মার্চ ভোরে বাকলিয়া এক্সেস রোড চকবাজার থানার চন্দনপুরার মুখে প্রাইভেটকারে সারোয়ার বাবলাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল। তবে সে যাত্রায় তিনি বেঁচে যান। তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৯টি মামলা রয়েছে। সারোয়ার ছিলেন চট্টগ্রামে আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের আসামি সাজ্জাদ আলী খানের অন্যতম সহযোগী।

শিবিরের আন্ডারওয়ার্ল্ডের দুটি পক্ষের অন্তর্দ্বন্দ্বের জেরে এই হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে একটি সূত্র দাবি করেছে। তবে চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপি এই হামলার জন্য জামায়াত-শিবিরকে দায়ী করেছে। নগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক নাজিমুর রহমান যুগান্তরকে বলেন, হামলার ঘটনাটি জামায়াত-শিবির ঘটিয়েছে। তিনি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি করেন।

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী যুগান্তরকে বলেন, নির্বাচন বানচালের জন্য এই হামলার ঘটনা ঘটতে পারে। তিনি এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। একই সঙ্গে পুলিশ প্রশাসনের প্রতি যারাই এই ঘটনা ঘটিয়ে থাকুক, তাদের দ্রুত চিহ্নিত করে গ্রেফতারের দাবি জানিয়েছেন। নিহত সারোয়ার হোসেন বাবলার বাবা আবদুল কাদের ঘটনাস্থলে যুগান্তর প্রতিবেদককে বলেন, এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের লোকজন। সাজ্জাদ এ পর্যন্ত ১৩টি হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। তিনি তার ছেলে হত্যার বিচার দাবি করেছেন। তবে বাবলার ভাই দাবি করেছেন, বাবলা সম্প্রতি যুবদলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত হয়েছে। 

এদিকে ঘটনার পর হাসপাতালে বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের শত শত নেতাকর্মীর ভিড় জমে। হতাহতদের স্বজনরাও হাসপাতালে ছুটে যান। পুলিশ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, চট্টগ্রাম-৮ আসনে বিএনপির মনোনয়ন লাভ করেছেন নগর বিএনপির আহ্বায়ক এরশাদ উল্লাহ। মনোনয়ন পাওয়ার আগে থেকেই তিনি এলাকায় গণসংযোগ করে আসছেন। মনোনয়ন পাওয়ার পর বুধবার বিকালে তিনি বায়েজিদ বোস্তামী থানাধীন হামজারবাগ এলাকায় একটি নির্বাচনি সমাবেশে বক্তব্য রাখেন। এরপর মাগরিবের নামাজ আদায় করে বের হয়ে পুনরায় গণসংযোগ শুরু করেন। গণসংযোগে সারোয়ার হোসেন বাবলাও ছিলেন। এ সময় চারটি মোটরসাইকেলে এসে আট দুর্বৃত্ত এরশাদ উল্লাহ ও তার আশপাশে থাকা লোকজনকে গুলি করে। এ সময় উপস্থিত নেতাকর্মীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি শুরু করেন। গুলি ছুড়েই দুর্বৃত্তরা মোটরসাইকেল নিয়ে বীরদর্পে পালিয়ে যায়। গুলিতে রক্তাক্ত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন এরশাদ উল্লাহসহ কয়েকজন। তাদের উদ্ধার করে অনন্যা আবাসিক এলাকায় অবস্থিত এভারকেয়ার হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। এরশাদ উল্লাহ পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছেন বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। ৩নং ওয়ার্ড স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক একরামুল হক শান্তও এ সময় গুলিবিদ্ধ হন। হাসপাতালে নেওয়ার পর এরশাদ উল্লাহ ও শান্তকে চিকিৎসার জন্য ভর্তি করা হয়। বাবলাকে মৃত ঘোষণা করেন কর্তব্যরত চিকিৎসক।

জানা গেছে, ৩০ মার্চ ভোরে বাকলিয়া এক্সেস রোড চকবাজার থানার চন্দনপুরার মুখে প্রাইভেটকারে সারোয়ার বাবলাকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি করা হয়েছিল। এতে বখতেয়ার হোসেন মানিক ও মো. আব্দুল্লা নামে দুজন নিহত হলেও সারোয়ার হোসেন বাবলা প্রাণে বেঁচে গিয়েছিলেন। তবে বুধবারের হামলায় সন্ত্রাসীদের টার্গেট মিস হয়নি। 

সূত্র জানায়, ২০২৪ সালের ২৭ জুলাই রাতে নগরের অনন্যা আবাসিক এলাকা থেকে সহযোগী বাবুলসহ সারোয়ারকে গ্রেফতার করেছিল চান্দগাঁও থানা পুলিশ। ২৮ জুলাই পুলিশ তার সাত দিনের রিমান্ড চাইলে পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। তার বিরুদ্ধে নগরের বিভিন্ন থানায় হত্যা, চাঁদাবাজি, অস্ত্রবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে ১৯টি মামলা রয়েছে। এইট মার্ডার মামলায় পলাতক শিবির ক্যাডার সাজ্জাদের অনুসারী বুড়ির নাতি হিসাবে পরিচিত ছোট সাজ্জাদের সঙ্গে বাবলার দ্বন্দ্ব চলছিল। এর জের ধরেই ছোট সাজ্জাদের লোকজন এই হামলার ঘটনা ঘটিয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সিএমপি কমিশনার হাসিব আজিজ গণমাধ্যমকে বলেন, বায়েজিদ বোস্তামীর হামজারবাগ এলাকায় গোলাগুলির বিষয়ে ধারণা পেয়েছি। জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান চলছে। তবে এ ঘটনা জাতীয় নির্বাচনে কোনো প্রভাব ফেলবে না।

কে এই সারোয়ার : সারোয়ার ছিলেন চট্টগ্রামে আট ছাত্রলীগ নেতা খুনের অন্যতম আসামি সাজ্জাদ আলী খানের অন্যতম সহযোগী। পরে বিভিন্ন সময়ে তাদের মধ্যে বিরোধ দেখা দিলে আলাদা দল গড়েন সরোয়ার। তখন সাজ্জাদের ডান হাত হয়ে ওঠেন ছোট সাজ্জাদ ওরফে বুড়ির নাতি সাজ্জাদ।

চট্টগ্রামে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে প্রায় দেড় দশক আগে আলোচনায় আসে সারোয়ার হোসেন বাবলা ও তার বন্ধু নুরুন্নবী ম্যাক্সনের নাম। সে সময় তারা পরিচিত ছিলেন সাজ্জাদ আলী খানের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসাবে। সাজ্জাদ চট্টগ্রামের আট খুনের মামলায় মৃত্যুদণ্ড মাথায় নিয়ে বিদেশে পালিয়ে আছেন। ২০১১ সালের জুলাইয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিঙ্গারবিল এলাকা থেকে গ্রেফতার হন ম্যাক্সন। তার দেওয়া তথ্যে চট্টগ্রামের বায়েজিদ এলাকা থেকে সারোয়ারকে গ্রেফতার করেছিল পুলিশ। তখন সরোয়ার-ম্যাক্সনের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয় একটি একে-৪৭ রাইফেল, দুটি পিস্তল, একটি এলজি, একে-৪৭ রাইফেলের দুটি ম্যাগাজিন ও গুলি। ২০১৭ সালে কারাগার থেকে জামিনে ছাড়া পেয়ে কাতার চলে গিয়েছিলেন সারোয়ার ও ম্যাক্সন। প্রায় তিন বছর কাতারে ছিলেন সারোয়ার। সেখানে মারামারির এক ঘটনায় পুলিশ তাকে আটক করে এক মাসের সাজা দেয়। সাজা শেষে সারোয়ারকে তারা দেশে পাঠিয়ে দিলে ২০২০ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিমানবন্দরে পুলিশ তাকে আটক করে। পরে জামিন পেয়ে বের হন।