সিলেটে ২১ আগস্ট চার মামলায় আসামি সহস্রাধিক,গ্রেফতার নেই কেউ
- আপডেট সময় : ০৩:৫৪:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২২ অগাস্ট ২০২৪ ১১৩ বার পড়া হয়েছে
স্টাফ রিপোর্টার :
সারা বাংলায় ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে সরকার পতনের পর সিলেটে এ পর্যন্ত (২১ আগস্ট) চারটি মামলা দায়ের হয়েছে। মামলাগুলোতে সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী ও সিলেটের তিন এমপিসহ প্রভাবশালী নেতা-কর্মীদের আসামি করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আসামি রয়েছেন দেড় হাজার। তবে এসব মামলায় সিলেটের কোন নেতা বা অভিযুক্ত পুলিশকে এখনও গ্রেফতার করা হয়নি।
সর্বশেষ বুধবার (২১ আগস্ট ) ছাত্রদল নেতার দায়ের করা মামলায় সদ্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা ও আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী, খাদ্যমন্ত্রী ও প্রধানন্ত্রীর উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের মতো প্রভাবশালী নেতাদের আসামি করা হয়েছে।
জানা গেছে, হাসিনা সরকার পতনের আগে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় ৮ জুলাই সন্ধ্যায় পুলিশের ধাওয়া খেয়ে পানিতে পড়ে মারা যান সিলেটের শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছাত্র রুদ্র সেন (২২। এ ঘটনায় সোমবার (১৯ আগস্ট) সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হত্যা মামলা দায়ের করেন আন্দোলনের শাবিপ্রবি সমন্বয়ক হাফিজুল ইসলাম।
এ মামলায় মামলায় সাবেক সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও সিলেটের তিন সাবেক এমপিসহ ৭৬ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে আরও ২০০-২৫০ জনকে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, শাবিপ্রবি ভিসি ফরিদ উদ্দিন, মৌলভীবাজারের সাবেক সাংসদ শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সুনামগঞ্জ-১ আসনের সাবেক সাংসদ রনজিৎ সরকার, সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ, অতিরিক্ত উপ-কমিশনার সাদেক কাউসার দস্তগীর, জালালাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান, একই থানার পরিদর্শক (তদন্ত) আবু খালেদ মো. মামুন, সিসিক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ ও কাউন্সিলর জগদীশ চন্দ্র দাশ, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি কিশওয়ার জাহান সৌরভ ও সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ এবং দুজন এসআই ও ৫ জন কনস্টেবল।
একইদিন আন্দোলন চলাকালে ১৯ জুলাই সিলেটে পুলিশের গুলিতে সাংবাদিক এটিএম তুরাব নিহতের ঘটনার নিহতের ভাই আবুল আহসান মো. আযরফ (জাবুর) বাদী হয়ে সিলেট অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেন।
এ মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান কামাল। এজাহারে আসামি হিসেবে পুলিশসহ ১৮ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাত আসামি করা হয়েছে ২০০ থেকে ২৫০ জনকে। শুনানি শেষে মামলার এফআইআর করার নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
মামলায় ২ নম্বর আসামি অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ক্রাইম উত্তর) মো. সাদেক দস্তগীর কাউসার, ৩ নম্বর আসামি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের উপ-কমিশনার আজবাহার আলী শেখ, ৪ নম্বর আসামি সহকারী কমিশনার (কোতোয়ালি) মিজানুর রহমান।
অন্য আসামিরা হলেন- সিলেটের কোতোয়ালি মডেল থানাধীন বন্দরবাজার ফাঁড়ির ইনচার্জ কল্লোল গোস্বামী, থানার সদ্য সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঈন উদ্দিন, পরিদর্শক (তদন্ত) ফজলুর রহমান, থানার এসআই কাজি রিপন সরকার, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ও সিসিকের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর আফতাব উদ্দিন, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি পিযূষ কান্তি দে, সিলেট সিটি করপোরেশনের পিআরও সাজলু লস্কর, সরকারি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি ও সিসিকের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর রুহেল আহমদ, জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক সজল দাস অনিক, নগরের চালিবন্দর নেহার মঞ্জিলের বাসিন্দা শিবলু আহমদ (মো. রুহুল আমিন), এসএমপির কনস্টেবল সেলিম মিয়া, আজহার ও ফিরোজ।
সিলেট মহানগরীর সোবাহানিঘাট এলাকায় বিএনপি-যুবদল-ছাত্রদলের মিছিলে হামলা ও গুলি চালানোর অভিযোগে মঙ্গলবার (২০ আগস্ট) দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের শিক্ষার্থী সাজন আহমদ সাজু সিলেটের অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন আদালতের বিচারক আব্দুল মোমেনের আদালতে মামলা দায়ের করেন।
মামলায় সিলেট মহানগর পুলিশ কমিশনার মো. জাকির হোসেন খান, গোয়েন্দা বিভাগের উপ কমিশনার তাহিয়াত আহমদ চৌধুরী, সিআরটি বিভাগের প্রধান শাহরিয়ার আল মামুন, অতিরিক্ত উপ কমিশনার সাদেক কাওসার দস্তগীর, এসআই পলাশ চন্দ্র দাস, উপ কমিশনার আজবাহার আলী শেখ, এসআই সাইদুর রহমান, বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ কল্লোল গোস্বামীকে আসামী রাখা হয়েছে।
এছাড়া সিসিক কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম, মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সদ্য সাবেক সংসদ সদস্য রনজিত সরকার, মহানগর আওয়ামী লীগের যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক ও সিসিক কাউন্সিলর আজাদুর রহমান আজাদ, মহানগর যুবলীগ সভাপতি আলম খান মুক্তি জেলা ছাত্রলীগ সভাপতি নাজমুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রাহেল সিরাজ, সিলেট-৩ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুর রহমান হাবিব, সিলেট সরকারী কলেজ ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ইমতিয়াজ শোভন, মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু দাশ মিঠু, এমসি কলেজ ছাত্রলীগের সভাপতি দিলোয়ার হোসেন রাহি, সাধারণ সম্পাদক হাবিবুর রহমান হাবিব, মহানগর ছাত্ররীগের সাধারণ সম্পাদক নাইম আহমদ, মহানগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আহমদ আল কবিরসহ অজ্ঞাতনামা আর ৩০০/৪০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে বুধবার (২১ আগস্ট ) সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমদ (৩৫) সিলেট মেট্রোপলিট ম্যাজিস্ট্রেট ১ম ও দ্রুত বিচারিক আদালতে ৮৭ জনের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলায় ৫০০-৬০০ জন অজ্ঞাত লোককে আসামি করা হয়েছে।
মামলার উল্লেখযোগ্য আসামিরা হলেন- সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ প্রধান শেখ হাসিনা, তার বোন শেখ রেহানা, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের, সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল, সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ, সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুর রহমান, সাবেক প্রধানন্ত্রী শেখ হাসিনার উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শফিকুর রহমান চৌধুরী, সাবেক এমপি কামরুল ইসলাম, সাবেক এমপি ও জাসদ সভাপতি হাসানুল হক ইনু, সাবেক এমপি ও ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি রাশেদ খান মেনন, সাবেক আইজিপি আব্দুল্লাহ আল মামুন, সাবেক ডিবি প্রধান হারুন-অর-রশিদ, সিলেটের সাবেক মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী, সিলেট-৩ আসনের সাবেক এমপি হাবিবুর রহমান হাবিব, সাবেক এমপি শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল, সিলেট জেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাড. নাসির উদ্দিন খান।


























