ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬, ২৯ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান হবিগঞ্জ বানিয়াচঙ্গে ভবনের উপর থেকে ইট পড়ে ভ্যান চালকের মৃত্যু হবিগঞ্জ বাহুবলে ফুলতলী ছাহেব কিবলা (রহ.)-এর স্মরণে ক্বিরাত ও তাজবিদ প্রতিযোগিতা সিলেট মদিনা মার্কেটে বিএসটিআই-এর অভিযান,পরিমাপ যন্ত্রের ভেরিফিকেশন সিলেটে অপরাধ দমনে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান , ২৪ ঘণ্টায় গ্রেফতার ৬৬ সিলেটে ৭৬ বোতল মদসহ গ্রেফতার ২ ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্নে অংশজনের সাথে সিলেট হাইওয়ে পুলিশ সুপারের মতবিনিময় ও ইফতার  সিলেটে নবাগত পুলিশ সুপার  ড. চৌধুরী মোঃ যাবের সাদেক যোগদান পুলিশের রেশন সেন্টারে দু*র্নীতি, মামলা সিলেট সীমান্তে বিজিবির অভিযান- ২ কোটি ৪৫ লাখ টাকার মালামাল আটক সিলেট গোয়াইনঘাটে বিপুল পরিমাণ পণ্যসহ আটক-৮

হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানি

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ১১:৩২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪ ১৭৩ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

গাজায় চলা আগ্রাসনের মাঝে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে উত্তেজনায় জড়িয়েছে ইসরাইল। লেবানন সীমান্তে দুইপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলারও ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে দুই মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি।

যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও তুরস্ক সবাই ইসরাইলের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বার্লিন ও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যুদ্ধ আরো প্রসারিত হলে, তার ফল কী হবে, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

লেবাননকে সমর্থন করে তুরস্ক আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে আবেদন জানিয়েছে, তারাও যেন একইভাবে লেবাননের পাশে দাঁড়ায়। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে সবচেয়ে সিনিয়র কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথস বলেছেন, ‘যুদ্ধের পরিধি ও তীব্রতা বাড়লে তার ফল মারাত্মক হবে। আমি এটাকে ফ্ল্যাশ পয়েন্ট হিসাবে দেখছি।

গত সাত অক্টোবর হামাস ইসরাইলের ভেতরে ঢুকে আক্রমণ করার পর থেকে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের সেনার নিয়মিত সংঘাত চলছে। হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ কয়েকটি দেশ। 

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেয়ারবক বুধবার বলেছেন, আরেকটি যুদ্ধ মানে আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা অভাবনীয়ভাবে বেড়ে যাওয়া।

বেয়ারবক মঙ্গলবার ইসরাইল ও লেবাননের নেতাদের সঙ্গে দেখাও করেছেন। তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধ হলে বিপদ বাড়বে।

বেয়ারবকে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ যাতে না হয়, সেটা আমাদের দেখতে হবে। এখনই দুই দেশের মধ্যে আক্রমণ বাড়ছে। দুই দেশেরই মানুষের বড় অংশ যুদ্ধ চান না। 

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বলেছেন, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ মানে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের আকার নেবে। কূটনৈতিক পথেই এই উত্তেজনা কমাতে হবে।

গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরাইলের বিমান হামলা :

গাজার উত্তর, মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো এসব হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।   

আলজাজিরা জানিয়েছে, হামলায় রাফাহ শহরের দক্ষিণাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে আবাসিক ভবনগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল। গাজা থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান ও কামান হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে।

গাজার সিভিল ডিফেন্স বলছে, উপত্যকার উত্তরে বেইত লাহিয়ায় ইসরাইলের বোমাবর্ষণের পর যে পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে তা ‘কল্পনাকেও হার মানায়’।

গাজার উত্তরাঞ্চলে একটি বাড়িতে বিমান হামলায় অন্তত ১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালায়, আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এ ছাড়া গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে একটি বাড়িতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজা সিটির সাবরা এলাকায় বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গাজা সিটির সুজায়া এলাকায় হাসানাইন পরিবারের একটি বাড়িতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।  আট মাসেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ গাজার স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোকে ধ্বংসস্তূপে ফেলে রেখেছে।

ইসরাইলের অব্যাহত হামলার বিষয়ে আল-আকসা হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবী এবং হাসপাতালের প্রযুক্তিবিদ খালেদ শাকশির বলেন, এটি অসহনীয়। গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে অবস্থিত এই হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জামগুলো ভেঙেচুরে গেছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। সেখানে অভিযানের নামে গত ৮ মাসে কমপক্ষে ৩৭ হাজার ৭১৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৮৬ হাজার ৩৭৭ জন।

‘ইসরাইলের স্পর্শকাতর সব লক্ষ্যবস্তু হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায়’

ইসরাইলের স্পর্শকাতর সব লক্ষ্যবস্তু হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিষদের উপপ্রধান শেখ নাবিল কাউক।  ইসরাইলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের হুমকির মুখে লেবাননের প্রতিরোধকামী সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের যুদ্ধ ইসরাইলের পরাজয় ঠেকাতে পারবে না। 

লেবাননের আরবি ভাষার অনলাইন পত্রিকা আল-নাশরাকে তিনি বলেন, লেবানন ইসরাইলের জন্য এমন জায়গা হিসেবে কাজ করবে না, যেখানে তারা তার পরাজয় ঠেকাতে পারে। বরং দেশটি ইহুদিবাদী শত্রুদের পরাজয়ের একটি ক্ষেত্র এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে বিজয় ও প্রতিরোধের স্থান হয়ে থাকবে।

শেখ নাবিল কাউক সুস্পষ্ট করে বলেন, হিজবুল্লাহ যেখানে চায় তার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনগুলো দিয়ে ইসরাইলের সেইসব স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এদিকে হিজবুল্লাহকে নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

মঙ্গলবার পেন্টাগনে ইসরাইলি প্রতিনিধি ইয়োভ গ্যালান্টের সাথে দেখা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন। এ সময় তিনি সতর্ক করেছেন, ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে। যা দ্রুতই কূটনৈতিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিল তিনি।

গাজায় গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চালাচ্ছে ইসরাইল বাহিনী। যা রুখতে ফিলিস্তিনের হয়ে যুদ্ধ করছে হিজবুল্লাহ। যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করেন অস্টিন। এ নিয়ে অস্টিন বলেন, ‘ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ সহজেই একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। যার পরিণতি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হবে ভয়াবহ। উত্তেজনা এখানেই থামাতে  কূটনীতি হলো সমাধানের সর্বোত্তম উপায়।’

রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট

হামাস ও ইসরাইলের চলমান সংঘাতের মধ্যেই রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ রুশ বার্তাসংস্থা তাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট কবে রাশিয়া যাবেন তা জানাননি উশাকভ। তবে তার সফরের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে বলে জানান তিনি। এর আগে গত বছর নভেম্বরে মস্কো সফরে আসার কথা ছিল আব্বাসের, কিন্তু সেবার ফিলিস্তিনের কর্মকর্তাদের অনুরোধে সেই সফর স্থগিত করেছিলেন তিনি।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এ বর্বরতায় ৩৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৬ হাজারেরও বেশি। ইসরাইলি আগ্রাসনে শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেম— তিন ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ক্ষমতাসীন রয়েছে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ সরকার, যেটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি-পিএ) নামে পরিচিত। ফিলিস্তিনের বৈধ শাসক হিসেবে পিএকেই স্বীকৃত দেয় বহির্বিশ্ব। একসময় গাজায় উপত্যকায়ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সরকার ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু ২০০৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সেই সরকারকে উচ্ছেদ করে সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস।

গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস। সেই হামলার জবাবে সেই দিন থেকেই সেখানে অভিযান শুরু করে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।আইডিএফের অভিযান শুরুর পর থেকে সহিংসতা বেড়েছে পশ্চিম তীরেও। ইসরাইলি পুলিশ ও ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের হাতে নিয়মিত সহিংসতার শিকার হচ্ছেন পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

হিজবুল্লাহর সঙ্গে যুদ্ধ নিয়ে ইসরাইলকে সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র-জার্মানি

আপডেট সময় : ১১:৩২:০৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ জুন ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

গাজায় চলা আগ্রাসনের মাঝে লেবাননের সশস্ত্র সংগঠন হিজবুল্লাহর সঙ্গে উত্তেজনায় জড়িয়েছে ইসরাইল। লেবানন সীমান্তে দুইপক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলারও ঘটনা ঘটেছে। এই পরিস্থিতিতে ইসরাইলকে সতর্ক করেছে দুই মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি।

যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানি ও তুরস্ক সবাই ইসরাইলের পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। বার্লিন ও ওয়াশিংটন জানিয়েছে, যুদ্ধ আরো প্রসারিত হলে, তার ফল কী হবে, তা নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

লেবাননকে সমর্থন করে তুরস্ক আঞ্চলিক শক্তিগুলোর কাছে আবেদন জানিয়েছে, তারাও যেন একইভাবে লেবাননের পাশে দাঁড়ায়। জাতিসংঘের মানবাধিকার সংক্রান্ত বিষয়ে সবচেয়ে সিনিয়র কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথস বলেছেন, ‘যুদ্ধের পরিধি ও তীব্রতা বাড়লে তার ফল মারাত্মক হবে। আমি এটাকে ফ্ল্যাশ পয়েন্ট হিসাবে দেখছি।

গত সাত অক্টোবর হামাস ইসরাইলের ভেতরে ঢুকে আক্রমণ করার পর থেকে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর সঙ্গে ইসরাইলের সেনার নিয়মিত সংঘাত চলছে। হামাসকে সন্ত্রাসবাদী সংগঠন বলে ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরাইলসহ কয়েকটি দেশ। 

জার্মানির পররাষ্ট্রমন্ত্রী বেয়ারবক বুধবার বলেছেন, আরেকটি যুদ্ধ মানে আঞ্চলিক সংঘাতের সম্ভাবনা অভাবনীয়ভাবে বেড়ে যাওয়া।

বেয়ারবক মঙ্গলবার ইসরাইল ও লেবাননের নেতাদের সঙ্গে দেখাও করেছেন। তিনি সাবধান করে দিয়ে বলেছেন, ইসরাইল ও লেবাননের মধ্যে যুদ্ধ হলে বিপদ বাড়বে।

বেয়ারবকে জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ যাতে না হয়, সেটা আমাদের দেখতে হবে। এখনই দুই দেশের মধ্যে আক্রমণ বাড়ছে। দুই দেশেরই মানুষের বড় অংশ যুদ্ধ চান না। 

মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন ওয়াশিংটনে ইসরাইলের প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকের পর বলেছেন, ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ মানে তা আঞ্চলিক যুদ্ধের আকার নেবে। কূটনৈতিক পথেই এই উত্তেজনা কমাতে হবে।

গাজার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় ইসরাইলের বিমান হামলা :

গাজার উত্তর, মধ্যাঞ্চল ও দক্ষিণাঞ্চলের ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় যুদ্ধবিমান থেকে হামলা চালিয়েছে দখলদার ইসরাইল বাহিনী। গত ২৪ ঘণ্টায় চালানো এসব হামলায় বেশ কয়েকজন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।   

আলজাজিরা জানিয়েছে, হামলায় রাফাহ শহরের দক্ষিণাঞ্চলে পরিকল্পিতভাবে আবাসিক ভবনগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল। গাজা থেকে আল জাজিরার সংবাদদাতা জানিয়েছেন, গত ২৪ ঘণ্টায় গাজার উত্তর, মধ্য ও দক্ষিণাঞ্চলে ঘনবসতিপূর্ণ বেসামরিক এলাকায় ইসরায়েলের যুদ্ধবিমান ও কামান হামলায় কয়েক ডজন মানুষ নিহত হয়েছে।

গাজার সিভিল ডিফেন্স বলছে, উপত্যকার উত্তরে বেইত লাহিয়ায় ইসরাইলের বোমাবর্ষণের পর যে পরিমাণ ধ্বংসযজ্ঞ চালানো হয়েছে তা ‘কল্পনাকেও হার মানায়’।

গাজার উত্তরাঞ্চলে একটি বাড়িতে বিমান হামলায় অন্তত ১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। উদ্ধারকর্মীরা কয়েক ঘণ্টা ধরে ধ্বংসস্তূপে জীবিতদের খোঁজে তল্লাশি চালায়, আহতদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।

এ ছাড়া গাজা সিটির কেন্দ্রস্থলে একটি বাড়িতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর হামলায় অন্তত দুইজন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। গাজা সিটির সাবরা এলাকায় বাড়ির ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো মানুষ নিখোঁজ রয়েছে।

স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, গাজা সিটির সুজায়া এলাকায় হাসানাইন পরিবারের একটি বাড়িতে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি সেনাবাহিনী।  আট মাসেরও বেশি সময় ধরে ইসরাইলের অব্যাহত বিমান হামলা ও গোলাবর্ষণ গাজার স্বাস্থ্যসেবা অবকাঠামোকে ধ্বংসস্তূপে ফেলে রেখেছে।

ইসরাইলের অব্যাহত হামলার বিষয়ে আল-আকসা হাসপাতালের স্বেচ্ছাসেবী এবং হাসপাতালের প্রযুক্তিবিদ খালেদ শাকশির বলেন, এটি অসহনীয়। গাজার দেইর আল-বালাহ শহরে অবস্থিত এই হাসপাতালের অ্যানেস্থেশিয়া মেশিনসহ বিভিন্ন সরঞ্জামগুলো ভেঙেচুরে গেছে।

গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের সীমান্তে প্রবেশ করে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এরপরেই গাজায় পাল্টা আক্রমণ শুরু করে ইসরাইলি বাহিনী। সেখানে অভিযানের নামে গত ৮ মাসে কমপক্ষে ৩৭ হাজার ৭১৮ জনকে হত্যা করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছে আরও ৮৬ হাজার ৩৭৭ জন।

‘ইসরাইলের স্পর্শকাতর সব লক্ষ্যবস্তু হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায়’

ইসরাইলের স্পর্শকাতর সব লক্ষ্যবস্তু হিজবুল্লাহর ক্ষেপণাস্ত্রের আওতায় রয়েছে বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির নির্বাহী পরিষদের উপপ্রধান শেখ নাবিল কাউক।  ইসরাইলের পক্ষ থেকে হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে সর্বাত্মক যুদ্ধের হুমকির মুখে লেবাননের প্রতিরোধকামী সংগঠনটি বলেছে, এ ধরনের যুদ্ধ ইসরাইলের পরাজয় ঠেকাতে পারবে না। 

লেবাননের আরবি ভাষার অনলাইন পত্রিকা আল-নাশরাকে তিনি বলেন, লেবানন ইসরাইলের জন্য এমন জায়গা হিসেবে কাজ করবে না, যেখানে তারা তার পরাজয় ঠেকাতে পারে। বরং দেশটি ইহুদিবাদী শত্রুদের পরাজয়ের একটি ক্ষেত্র এবং দখলদারদের বিরুদ্ধে বিজয় ও প্রতিরোধের স্থান হয়ে থাকবে।

শেখ নাবিল কাউক সুস্পষ্ট করে বলেন, হিজবুল্লাহ যেখানে চায় তার ক্ষেপণাস্ত্র এবং ড্রোনগুলো দিয়ে ইসরাইলের সেইসব স্পর্শকাতর লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম। এদিকে হিজবুল্লাহকে নিয়ে কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। 

মঙ্গলবার পেন্টাগনে ইসরাইলি প্রতিনিধি ইয়োভ গ্যালান্টের সাথে দেখা করেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিন। এ সময় তিনি সতর্ক করেছেন, ইসরাইল এবং হিজবুল্লাহর মধ্যে চলমান সংঘাত একটি আঞ্চলিক যুদ্ধের জন্ম দিতে পারে। যা দ্রুতই কূটনৈতিকভাবে সমাধানের আহ্বান জানিয়েছিল তিনি।

গাজায় গত আট মাসেরও বেশি সময় ধরে যুদ্ধ চালাচ্ছে ইসরাইল বাহিনী। যা রুখতে ফিলিস্তিনের হয়ে যুদ্ধ করছে হিজবুল্লাহ। যা এই অঞ্চলে উত্তেজনা বাড়িয়ে তুলেছে বলে মনে করেন অস্টিন। এ নিয়ে অস্টিন বলেন, ‘ইসরাইল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে আরেকটি যুদ্ধ সহজেই একটি আঞ্চলিক যুদ্ধে পরিণত হতে পারে। যার পরিণতি মধ্যপ্রাচ্যের জন্য হবে ভয়াবহ। উত্তেজনা এখানেই থামাতে  কূটনীতি হলো সমাধানের সর্বোত্তম উপায়।’

রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট

হামাস ও ইসরাইলের চলমান সংঘাতের মধ্যেই রাশিয়া সফরে যাচ্ছেন ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক উপদেষ্টা ইউরি উশাকভ রুশ বার্তাসংস্থা তাসকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট কবে রাশিয়া যাবেন তা জানাননি উশাকভ। তবে তার সফরের তারিখ নির্ধারিত হয়েছে বলে জানান তিনি। এর আগে গত বছর নভেম্বরে মস্কো সফরে আসার কথা ছিল আব্বাসের, কিন্তু সেবার ফিলিস্তিনের কর্মকর্তাদের অনুরোধে সেই সফর স্থগিত করেছিলেন তিনি।

গত বছরের ৭ অক্টোবর ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজায় আগ্রাসন শুরু করে ইসরাইলি সেনাবাহিনী। আট মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এ বর্বরতায় ৩৭ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৮৬ হাজারেরও বেশি। ইসরাইলি আগ্রাসনে শুরু থেকেই ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি জানিয়েছে রাশিয়া। যুদ্ধের শুরু থেকেই গাজায় যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে আসছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন।

জর্ডান নদীর পশ্চিম তীর, গাজা উপত্যকা এবং পূর্ব জেরুজালেম— তিন ভূখণ্ড নিয়ে গঠিত ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেমে ক্ষমতাসীন রয়েছে মাহমুদ আব্বাসের নেতৃত্বাধীন ফাতাহ সরকার, যেটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ (প্যালেস্টাইনিয়ান অথরিটি-পিএ) নামে পরিচিত। ফিলিস্তিনের বৈধ শাসক হিসেবে পিএকেই স্বীকৃত দেয় বহির্বিশ্ব। একসময় গাজায় উপত্যকায়ও ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের সরকার ক্ষমতায় ছিল, কিন্তু ২০০৬ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে সেই সরকারকে উচ্ছেদ করে সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হামাস।

গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের ভূখণ্ডে অতর্কিত হামলা চালায় গাজা উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী গোষ্ঠী হামাস। সেই হামলার জবাবে সেই দিন থেকেই সেখানে অভিযান শুরু করে ইসরাইলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।আইডিএফের অভিযান শুরুর পর থেকে সহিংসতা বেড়েছে পশ্চিম তীরেও। ইসরাইলি পুলিশ ও ইহুদি বসতিস্থাপনকারীদের হাতে নিয়মিত সহিংসতার শিকার হচ্ছেন পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনিরা।