ঢাকা ০৫:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ০৬ ডিসেম্বর ২০২৫, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম ::
সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা এখনো আক্রমণের মুখে: সম্পাদক পরিষদ হিউম্যান রাইটস ওয়াচ ট্রাষ্টের মাসবপ্যাপী সেহরি বিতরণ চলমান সিলেটে ইসলামী ৮ দলের সমাবেশ বিএনপির মনোনয়ন পেলেন ১১ নারী, কে কোন আসনে ? আরিফুল হক চৌধুরীকে বয়কট করে মশাল মিছিল সিলেট ওসমানী বিমানবন্দরে বিদেশী সিগারেট ও ৬ আইফোন জব্দ সিলেটের কাষ্টঘর সুইপার কলোনী অভিযান, গ্রেপ্তার ৫ এসএমপি পুলিশ কমিশনার মহোদয়ের শাহপরান (রহঃ) থানা বার্ষিক পরিদর্শন লড়াই করেও হেরে গেল বাংলাদেশ কার্ড ছাপানোর পরও বিয়ে ভেঙেছিল সালমানের, এখন কোথায় সেই পাত্রী? টঙ্গীতে দোয়ার মাধ্যমে শেষ হলো জোড় ইজতেমা ট্রলারসহ ভারতীয় জলসীমায় আটক ২৮ বাংলাদেশি জেলে

সিলেটে হত্যা মামলায় পিতা ও দুই ছেলেসহ যাবজ্জীবন

প্রতিনিধির নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০২৪ ৯৯ বার পড়া হয়েছে

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় কৃষক আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব হত্যা মামলায় পিতা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন (আজীবন) কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদেরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক শায়লা শারমিন চাঞ্চল্যকর এ রায় ঘোষণা করেন। ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ কবির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দন্ড-প্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছেন- সিলেটের বিশ্বনাথ থানার ২ নং খাজাঞ্চী ইউনিয়নের তিলকপুর (গুমরগুল) গ্রামের মৃত আবরু মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া (৬০), তার ছেলে মোঃ এমরান মিয়া (২২) ও কামরান মিয়া (১৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সময় দ-প্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে শুধু আশিক মিয়া আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও অপর সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ এমরান মিয়া ও তার ভাই কামরান মিয়া পলাতক ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, আসামীদের সাথে একই এলাকার মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব (৪০) ও তার সহোদর মোঃ আব্দুল কুদ্দুসের সাথে জায়গা-জমি ও মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে আব্দুর রবের পক্ষের রেকর্ডভুক্ত দখলী ডোবা রকম ভূমিতে আঃ রব ও তার ভাই আঃ কুদ্দুস সেচ মেশিন দিয়ে পানি সেচ করার জন্য পাম্প মেশিন স্থাপন করছিলেন। ওইদিন সকাল ৯ টার দিকে আসামী আশিক মিয়া, তার ছেলে এমরান ও কামরানসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে রামদা, সুলফি, ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আঃ রব ও আঃ কুদ্দুসকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আশিক মিয়া, এমরান মিয়া ও কামরান মিয়াসহ তার লোকজন আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুসের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় আসামীরা রামদা, সুলফি ও ছুরা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুসকে গুরুতর আহত করেন। তাদের শোর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে হামলাকারীদের কবল থেকে আঃ রব ও তার ভাই আঃ কুদ্দুসকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার তিনদিন পর ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬ টার দিকে আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে এ ঘটনায় মোঃ আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং-১৭ (২১-০২-২০১৮)। দায়রা-২৮৬/২০২১।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে বিশ্বনাথ থানার এসআই মোঃ সফিকুল ইসলাম ৩ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র নং- ৫৪) দাখিল করেন। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর থেকে আদালত এ মামলার চার্জগঠন (অভিযোগগঠন) করে বিচার কার্য শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানী ও ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আসামী আশিক মিয়া তার ছেলে মোঃ এমরান মিয়া ও কামরানকে পেনাল কোড এর ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন (আজীবন) কারাদ- ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার দ-াদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুছ ছাত্তার ও আসামীপক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল আলম মামলাটি পরিচালনা করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

আপনার মন্তব্য

Your email address will not be published. Required fields are marked *

আপনার ইমেইল এবং অন্যান্য তথ্য সংরক্ষন করুন

আপলোডকারীর তথ্য
ট্যাগস :

সিলেটে হত্যা মামলায় পিতা ও দুই ছেলেসহ যাবজ্জীবন

আপডেট সময় : ০৮:৫৬:২১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৫ মার্চ ২০২৪

ভিউ নিউজ ৭১ ডেস্ক :

সিলেটের বিশ্বনাথ উপজেলায় কৃষক আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব হত্যা মামলায় পিতা ও দুই ছেলের যাবজ্জীবন (আজীবন) কারাদন্ড দিয়েছেন আদালত। পাশাপাশি দন্ডপ্রাপ্ত আসামীদেরকে ২০ হাজার টাকা জরিমানাও করা হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেটের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ৪র্থ আদালতের বিচারক শায়লা শারমিন চাঞ্চল্যকর এ রায় ঘোষণা করেন। ওই আদালতের বেঞ্চ সহকারী মোঃ কবির হোসেন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

দন্ড-প্রাপ্ত আসামীরা হচ্ছেন- সিলেটের বিশ্বনাথ থানার ২ নং খাজাঞ্চী ইউনিয়নের তিলকপুর (গুমরগুল) গ্রামের মৃত আবরু মিয়ার ছেলে আশিক মিয়া (৬০), তার ছেলে মোঃ এমরান মিয়া (২২) ও কামরান মিয়া (১৮)। গতকাল বৃহস্পতিবার রায় ঘোষণার সময় দ-প্রাপ্ত আসামীদের মধ্যে শুধু আশিক মিয়া আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত থাকলেও অপর সাজাপ্রাপ্ত আসামী মোঃ এমরান মিয়া ও তার ভাই কামরান মিয়া পলাতক ছিলেন।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণে জানা যায়, আসামীদের সাথে একই এলাকার মৃত রশিদ মিয়ার ছেলে আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব (৪০) ও তার সহোদর মোঃ আব্দুল কুদ্দুসের সাথে জায়গা-জমি ও মামলা-মোকদ্দমা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিলো। ২০১৮ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি সকালে আব্দুর রবের পক্ষের রেকর্ডভুক্ত দখলী ডোবা রকম ভূমিতে আঃ রব ও তার ভাই আঃ কুদ্দুস সেচ মেশিন দিয়ে পানি সেচ করার জন্য পাম্প মেশিন স্থাপন করছিলেন। ওইদিন সকাল ৯ টার দিকে আসামী আশিক মিয়া, তার ছেলে এমরান ও কামরানসহ অজ্ঞাতনামা ৪/৫ জন পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে রামদা, সুলফি, ছুরিসহ দেশীয় অস্ত্র-শস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আঃ রব ও আঃ কুদ্দুসকে অকথ্য ভাষায় গালি-গালাজ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আশিক মিয়া, এমরান মিয়া ও কামরান মিয়াসহ তার লোকজন আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুসের উপর অতর্কিত হামলা চালায়।

এসময় আসামীরা রামদা, সুলফি ও ছুরা দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে আব্দুর রব ও আব্দুল কুদ্দুসকে গুরুতর আহত করেন। তাদের শোর চিৎকারে স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে হামলাকারীদের কবল থেকে আঃ রব ও তার ভাই আঃ কুদ্দুসকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। ঘটনার তিনদিন পর ২১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৬ টার দিকে আব্দুর রউফ ওরফে আব্দুর রব চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। পরে এ ঘটনায় মোঃ আব্দুল কুদ্দুস বাদি হয়ে আসামীদের বিরুদ্ধে বিশ্বনাথ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার নং-১৭ (২১-০২-২০১৮)। দায়রা-২৮৬/২০২১।

দীর্ঘ তদন্ত শেষে বিশ্বনাথ থানার এসআই মোঃ সফিকুল ইসলাম ৩ জনকে অভিযুক্ত করে ২০১৯ সালের ৩০ মার্চ এ মামলার চার্জশিট (অভিযোগপত্র নং- ৫৪) দাখিল করেন। ২০২১ সালের ৩ নভেম্বর থেকে আদালত এ মামলার চার্জগঠন (অভিযোগগঠন) করে বিচার কার্য শুরু করেন। দীর্ঘ শুনানী ও ১৩ সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে গতকাল বৃহস্পতিবার আসামী আশিক মিয়া তার ছেলে মোঃ এমরান মিয়া ও কামরানকে পেনাল কোড এর ৩০২/৩৪ ধারায় দোষী সাব্যস্ত করে তাদের প্রত্যেককে যাবজ্জীবন (আজীবন) কারাদ- ও ২০ হাজার টাকা জরিমানার দ-াদেশ প্রদান করেন। রাষ্ট্রপক্ষে এপিপি অ্যাডভোকেট মোঃ আব্দুছ ছাত্তার ও আসামীপক্ষে অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ সাইফুল আলম মামলাটি পরিচালনা করেন।